Alexa

খাবার যখন পোকামাকড়!

খাবার যখন পোকামাকড়!

বৈশ্বিক খাদ্য শিল্প ইতোমধ্যে প্রকৃতির উপর চাপ সৃষ্টি করে ফেলেছে৷ মোটের উপর জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতে খাবারের চাহিদা মেটাতে বিকল্প ভাবা জরুরি হয়ে পড়েছে৷ এক্ষেত্রে আহারযোগ্য পোকামাকড় একটা ভূমিকা রাখতে পারে৷ বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে চাষাবাদের উপযোগী জমিও কমছে৷ ফলে গোটা বিশ্বের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে৷ আর মাংস উৎপাদনের কারণেও পরিবেশের ওপর চাপ পড়ছে৷ এই চাপ কমাতে অনেকে কীটপতঙ্গ খাওয়ার কথা ভাবছেন৷ টোকিওতে ডিমের সঙ্গে পঙ্গপাল হরহামেশাই খাচ্ছেন অনেকে৷ খাদ্য হিসেবে কীটপতঙ্গ খাওয়া হচ্ছে বহুকাল ধরে৷ তবে এই চর্চা গোটা বিশ্বে ছড়ায়নি৷ এক দেশে যেটা খাওয়া হয়, অন্য দেশে হয়ত সেটা খাওয়ার কথা ভাবাই যায় না৷ কঙ্গোতে অলিভ অয়েলের সঙ্গে পোড়া শুঁয়োপোকা খাওয়া হয়৷ ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় খাদ্য হিসেবে পোকামাকড়ের ব্যবহার এখনো দুর্লভ এবং মানুষের মধ্যে এক্ষেত্রে এক ধরনের সঙ্কীর্ণতা কাজ করে৷ তবে পরিবেশবিদরা বিষয়টি জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছেন৷ টেকসই খাদ্যের উৎস হিসেবে পোকামাকড়কে বিবেচনা করছেন তারা৷ সিডনিতে ঝিঁঝিঁ পোকা দিয়ে রান্না করা হচ্ছে খাবার। ইন্দোনেশিয়ার স্টার্টআপ বাইটব্যাক পাম অয়েলের বিকল্প হিসেবে কীটপতঙ্গ ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে৷ ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদনের এক বিতর্কিত বিষয়, কেননা, এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে কীটপতঙ্গ ব্যবহার এক ভালো বিকল্প হতে পারে বলে মনে করেন স্টার্টআপটির প্রতিষ্ঠাতারা৷ ২০৫০ সাল নাগাদ মাংসের চাহিদা বর্তমানের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে৷ তবে এই পরিমান মাংস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষিজমি এবং প্রাণীখাদ্য তখন থাকবে কিনা তা এক বড় প্রশ্ন৷ এক্ষেত্রে মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে কীটপতঙ্গ৷ তাই কীট এবং ঝিঁঝিঁপোকার ললিপপ তৈরি হচ্ছে৷ কীটপতঙ্গ বিকল্প খাদ্য হতে পারে সত্যি, তবে সেটাকে সার্বজনীন রূপ দিতে আরো সময় এবং উদ্যোগ প্রয়োজন৷ যেসব দেশে এ ধরনের খাদ্যের চর্চা এখনো শুরু হয়নি, সেসব দেশে এই বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি৷ বার্লিনে রোস্ট করা মৌমাছি দেওয়া কেক খাচ্ছেন অনেকেই।

আপনার মতামত লিখুন :