Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট আমি ছাড়বো না: ঊর্মি রহমান

বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট আমি ছাড়বো না: ঊর্মি রহমান
ঊর্মি রহমান, ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লাল-সবুজে চিত্রিত পতাকার পবিত্র ভূমি বাংলাদেশ তার প্রিয় জন্মভূমি। কর্মসূত্রে, পেশা ও পারিবারিক প্রয়োজনে দীর্ঘ বছর বসবাস করেছেন বিশ্বের নানা দেশে। তবু অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেন নি তিনি। একবারের জন্যও বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার কথা ভাবেন নি পর্যন্ত।

তিনি ঊর্মি রহমান। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকতার অগ্রণী একজন। এখন থাকেন কলকাতায়। প্রতি ছয় মাস অন্তর বাংলাদেশে আসেন। বললেন, 'বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট আমি ছাড়বো না।'

মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত রণাঙ্গনের স্মৃতিবাহী মার্চে বার্তা২৪.কমকে ঊর্মি রহমান বললেন এই স্বাদেশিকতায় দীপ্ত প্রতীতির কথা। শোনালেন বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু খণ্ডচিত্র, যার কেন্দ্রস্থলে সবসময় অবস্থান করছে বাংলাদেশ নামক প্রিয় জন্মভূমির প্রত্যয়।

শৈশবের পার্বত্য চট্টগ্রাম 

শৈশবের কিছুটা সময় আমার কেটেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। রাঙামাটি, কাপ্তাই, চন্দ্রঘোনায়। আমার বাবা চন্দ্রঘোনা পেপার মিল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তখনো কাপ্তাই লেক হয় নি। লোকালয় থেকে তিন দিন নৌকায় চেপে আমাদের পৌছাতে হতো গহীন অরণ্যময় পিতার কর্মস্থলে। সাত দিনে একবার গ্রাম্য হাট বসতো। পাহাড়িরা নানা জিনিষ নিয়ে আসতেন। ঐ দিনেই পুরো সপ্তাহের বাজার কিনে রাখতে হতো। রাস্তাঘাট হয় নি সে সময়। নদীপথই একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। রাঙামাটির কাপ্তাই অঞ্চলে তখনো কিছু ইংরেজ শিক্ষক, মিশনারি ছিলেন।

চট্টগ্রাম শহরের নন্দনকানন

ছবির মতো সুন্দর ছিলো ৫০/৬০ দশকের চট্টগ্রাম শহর। আব্বার অফিস ছিলো কাটাপাহাড়-নন্দনকাননে। আমরা থাকতাম পাশের জে.এম. সেন লেনে। পার্বত্য-অরণ্যময়ী শহর ঘুরে বেড়াতাম। নাগরিক সমাজে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানরা ছিলেন। তাদের বিচিত্র পোষাক ও ইংরেজি কথাবার্তা আকর্ষণীয় ছিল। ছোট্ট ও ছিমছাম চট্টগ্রাম শহরের স্মৃতি আজো আমার কাছে অমলিন। আমার আব্বার মৃত্যুও হয়েছে এ শহরে। পরে চট্টগ্রামের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও জড়িয়েছি। চট্টগ্রাম আমার প্রিয় শহরগুলোর একটি।

চট্টগ্রাম ভার্সিটি ও ইউনূস ভাই

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভর্তি হই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি)। আমরাই মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী। আমি বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়ে হলে উঠি। শহর থেকে বাসে বড় রাস্তায় নেমে রিকসায় ক্যাম্পাসে যেতে হতো। চবি ক্যাম্পসের সঙ্গে শহরের ট্রেন যোগাযোগ ছিল না ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে। ইউনূস ভাই (ড. মুহম্মদ ইউনূস) তখন গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল নিয়ে কাজ করছিলেন ক্যাম্পাসের পাশে জোবরা গ্রামে। আমি তার প্রজেক্টে জড়িয়ে পড়ি। মহিলাদের সাক্ষাতকার নিতে ক্যাম্পাসের পাশের গ্রামগুলোর প্রায়-প্রতিটি ঘরে গিয়েছি সে সময়।

সাংবাদিকতায় আমরা ক'জন 

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে সংবাদ পত্রিকায় যোগ দিই। তখন পুরো বাংলাদেশে আমরা ৫/৬ জন নারী সাংবাদিকতায় ছিলাম। আমি ছাড়াও ছিলেন বেবী মওদুদ, নিনি, জলি প্রমুখ। কলকাতায় তখনো কোনো নারী সাংবাদিকতায় আসেন নি। 'সংবাদ'-এ আমরা কাজ করেছি রণেশ দাশগুপ্ত, সন্তোষ গুপ্ত, মন্টু ভাইয়ের সঙ্গে। দারুণ ছিল সেসব দিনগুলো।

পিআইবি'র দিনগুলো 

যোগ দিয়েছিলাম প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এ। প্রতিষ্ঠানটি সবে গড়ে উঠছে। ডিজি ছিলেন ড. আনিসুজ্জামানের শ্বশুর আবদুল ওয়াহাব সাহেব। পরিচালক ছিলেন তোয়াব ভাই। তোয়াব ভাইকে পরে দৈনিক বাংলায়ও পেয়েছি। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মহীরুহ তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/03/1551618158530.jpg

বিচিত্রা-দৈনিক বাংলায় 

বিচিত্রায় কাজ করে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। স্বাধীনভাবে লেখালেখি করেছি। সাপ্তাহিক বিচিত্রা-দৈনিক বাংলায় তোয়াব ভাই ছাড়াও এখানে পেয়েছি তৎকালের বাংলাদেশের সেরা ও মেধাবী লেখক-সাংবাদিকদের। এদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে পারিবারিক পর্যায়েও সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। আহমেদ হুমায়ূনের ছেলে ইরাজ আহমেদ সে সূত্রে এখনো যোগাযোগ রাখে। ফজল শাহাবুদ্দীনের স্ত্রী আজমেরী আমার সহপাঠী ছিল। বিচিত্রার শাহাদত ভাই ছিলেন। সবার কথা বলেও শেষ করা যাবে না।

বিবিসি'তে 

দশ বছরের বেশি ছিলাম বিলাতে। বিবিসিতে কাজ করেছি। বাংলাদেশি কমিউনিটিকে কাছ থেকে দেখেছি। তখন ইচ্ছা করলেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেওয়া যেতো। আইন-কানুন এতো কঠিন ছিল না। সবাই অবাক হয় এটা শুনে যে, দশ বছর বিলাতে থেকেও আমি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিই নি।

কলকাতায় থাকি বাংলাদেশি পাসপোর্টে 

এখন আমি কলকাতায় থাকি। দক্ষিণ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের সাউথ সিটি মল অ্যাপার্টমেন্টে। পারিবারিক কারণে আমাকে কলকাতা থাকতে হয় বলে আমার পক্ষে ভারতীয় নাগরিকত্ব নেওয়া সম্ভব। বহুবার আমাকে বলাও হয়েছে। কিন্তু আমি তো আমার বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট ছাড়বো না।

মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আমি 

বাংলাদেশের ফরিদপুরের মানুষ আমি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনায় বড় হয়েছি। বাংলাদেশের পুরোটা আমার মুখস্ত। ইউরোপের ব্রিটেনে, দক্ষিণ এশিয়ার ভারতে কাজ ও বসবাস করেছি। এখন থাকছি কলকাতায়। ছয় মাস পর পর বাংলাদেশে এসে ভিসা নিয়ে আবার যাই। বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে এদেশের নিসর্গ, প্রকৃতির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছি। মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আমি। পৃথিবীর যেখানেই যাই, যেখানেই থাকি, বাংলাদেশই আমার আসল ঠিকানা।

নোট: বিলেতে ঊর্মি রহমান ১০ বছরের বেশি ছিলেন। সময়ের হিসাবে তা প্রায় ৩০ বছর। তাকে ছ’মাস পর পর ভিসা নিতে হয় না, কিন্তু ভারতের বাইরে যেতে হয়। পাঁচ বছরের ভিসার শর্ত সেটি।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলা ব্যান্ড ও রক সংগীতের প্রাণপুরুষ আইয়ুব বাচ্চু

বাংলা ব্যান্ড ও রক সংগীতের প্রাণপুরুষ আইয়ুব বাচ্চু
শুভ জন্মদিন আইয়ুব বাচ্চু!

‘চলো বদলে যাই বলে’ ডাক দিয়ে সংগীতপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে ঝড় তুলেছেন তিনি। ‘হাসতে দেখো, গাইতে দেখো’ বলে গান গেয়ে মিশে গিয়েছেন শ্রোতাদের নিত্য-আবেগের সাথে। ‘রুপালি গিটার’-এর জাদুকর তিনি। বাংলাদেশের ব্যান্ড ও রক সংগীতাঙ্গনের অন্যতম প্রবাদপুরুষ। তিনি আইয়ুব বাচ্চু। গত বছরের ১৮ অক্টোবর ‘ঘুমভাঙা শহর’ ছেড়ে অন্যভুবনে পাড়ি জমানো এই কিংবদন্তির ৫৭তম জন্মদিন আজ।

আইয়ুব বাচ্চুর বেড়ে ওঠা ও সংগীতের হাতেখড়ি চট্টগ্রামে। ১৯৭৬ সালে কলেজ জীবনে ‘আগলি বয়েজ’ নামে ব্যান্ড গঠনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তাঁর সংগীত-জীবন। ১৯৭৭ সালে যোগদান করেন ফিলিংস (বর্তমানে ‘নগর বাউল’) ব্যান্ডে। ব্যান্ডটির সাথে কাজ করেছিলেন ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। একই বছরে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড সোলসে প্রধান গিটারবাদক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। সোলসের সাথে থাকার সময় ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সুপার সোলস (১৯৮২), কলেজের করিডোরে (১৯৮৫), মানুষ মাটির কাছাকাছি (১৯৮৭) এবং ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট (১৯৮৮) এই চারটি অ্যালবামে কাজ করেছিলেন। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565950779278.jpg
◤ বাচ্চু যখন ছিলেন আরেক কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘সোলস’-এর সাথে (দ্বিতীয় সারিতে, ডান থেকে দ্বিতীয়) ◢


তবে, আইয়ুব বাচ্চুর লক্ষ্য ছিল নিজে উদ্যোগী হয়ে বড় কিছু করা। সে কারণে ১৯৯১ সালে আরো তিনজন ব্যান্ড মেম্বার নিয়ে গঠন করেন নিজের ব্যান্ড এলআরবি (লিটল রিভার ব্যান্ড)। পরে অবশ্য সংক্ষিপ্ত রূপ ঠিক রেখে বদলে ফেলা হয় নামের পূর্ণাঙ্গ অর্থ। হয়ে যায় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ (এলআরবি)। এই ব্যান্ড থেকে জন্ম হয়েছে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গানের। ১৯৯২-তে ‘এলআরবি-১’ ও এলআরবি-২’ নাম দিয়েই তারা বের করে সেলফড টাইটেল অ্যালবাম। বাংলাদেশে প্রথম সেলফ টাইটেটেলড অ্যালবাম বের করে এলআরবিই। আরো উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একসাথে ডাবল অ্যালবাম রিলিজ দেওয়ার প্রথম উদাহরণও এটি। এরপরে, সেই বছরই ব্যান্ডের তৃতীয় অ্যালবাম ‘সুখ’ মুক্তি পায়। এই অ্যালবামের ‘চলো বদলে যাই’ গানটি পরিণত হয়েছিল বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় গানগুলোর একটিতে, যা আজও ঘুরেফেরে সংগীতপ্রেমীদের মুখে মুখে।

এছাড়াও, ব্যান্ডটি উপহার দিয়েছে ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘পেনশন’, ‘হকার,’ ‘বাংলাদেশ’-এর মতো অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গান। এরপরে আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে ব্যান্ড থেকে বের হয় ‘স্বপ্ন’, ‘মন চাইলে মন পাবে’সহ আরো বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় অ্যালবাম। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবরে পরলোকে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জড়িত ছিলেন তাঁর এই প্রাণপ্রিয় ব্যান্ডটির সাথেই। বাংলা হার্ড রক ঘরানার গান তরুণ প্রজন্মের মাঝে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে আইয়ুব বাচ্চুর এলআরবির এই অ্যালবামগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565950935258.jpg
◤ বাংলা হার্ড রক সংগীতে প্রাণসঞ্চার করেছিল আইয়ব বাচ্চুর নিজ হাতে গড়া ব্যান্ড এলআরবি ◢


ব্যান্ডদল সফলভাবে পরিচালনা ও এক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করা ছাড়াও একক ক্যারিয়ারেও তিনি ছিলেন দারুণ সফল। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্ত গোলাপ’ বের হয়েছিল ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’ বের হয়েছিল ১৯৮৮-তে। মোটামুটি জনপ্রিয়তা প্রায় অ্যালবামগুলো। এরপর, তাঁর তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’ বের হয় ১৯৯৫-তে। রীতিমতো বাজার মাত করে দেয় অ্যালবামটি! শিরোনাম গান ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি’ ছড়িয়ে পড়ে সবার মুখে মুখে। জনপ্রিয়তা পায় এই অ্যালবামের ‘অবাক হৃদয়’, ‘বহুদূর যেতে হবে’, ‘আমার একটা নির্ঘুম রাত’সহ অন্যান্য গানও। বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামেও তিনি উপহার দিয়েছেন ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো,’ ‘তারা ভরা রাতে,’ ‘কেউ সুখী নয়’-এর মতো অসম্ভব জনপ্রিয় গান। ২০০৭ সালে দেশের প্রথম বাদ্যযন্ত্রগত অ্যালবাম ‘সাউন্ড অফ সাইলেন্স’ প্রকাশ করেন তিনি।

শুধু যে একজন ভোকাল বা কণ্ঠশিল্প হিসেবেই তাঁর জনপ্রিয়তা ও ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, এমনটি নয়। গিটার হাতেও তিনি ছিলেন সত্যিকার এক জাদুকর। হার্ডরক সংগীতের তালে তালে তাঁর দ্রুতলয়ের গিটার বাদনের স্টাইল অনুপ্রাণিত করেছে পুরো একটি প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল গিটারিস্টদের। ‘দ্য টপ টেনস’ তাকে বাংলাদেশের ‘শ্রেষ্ঠ ১০ জন গিটারবাদক’-এর তালিকায় রেখেছিল ২য় স্থানে (১ম স্থানটি ‘ওয়ারফেজ’-এর ইব্রাহীম আহমেদ কমলের)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565951023494.jpg
◤ বাচ্চুর তুমুল জনপ্রিয় ‘কষ্ট’ অ্যালবামের ফ্ল্যাপ 


রক ও ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি হলেও, তিনি আসলে ছিলেন বহুমাত্রিক একজন শিল্পী। গান গেয়েছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের জন্যও। আম্মাজান ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘আম্মাজান, আম্মজান’, লুটতরাজ ছবিতে ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, সাগরিকা ছবিতে ‘সাগরিকা’সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্যেও।

এলআরবির সাথে মিলে তিনি জিতেছেন ছয়টি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার এবং একটি সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস। ২০০৪ সালে বাচসাস পুরস্কার জিতেছিলেন সেরা পুরুষ ভোকাল বিভাগে। ২০১৭ সালে জিতেছেন টেলে সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে আইয়ব বাচ্চু ছিলেন সুখী একজন মানুষ। বাচ্চু তার বান্ধবী ফেরদৌস চন্দনাকে বিয়ে করেছিলেন ১৯৯১ সালের ৩১ জানুয়ারিতে। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দুই সন্তান তাঁদের ঘরে। ছয় বছর ধরে ফুসফুসে পানি জমার অসুস্থতায় ভোগার পর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় মারা যান আইয়ুব বাচ্চু।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565951073794.jpg
◤ ব্যান্ড সংগীতের অন্য দুই কিংবদন্তী জেমস ও হাসানের সাথে আইয়ুব বাচ্চু ◢


মাত্র ৫৬ বছয় বয়সে তিনি মারা যান, যেটাকে অনেকেই বলতে পারেন আকাল মৃত্যু। তবে, বাংলা ব্যান্ড ও রক সংগীতে তাঁর মতো বিশাল অবদান রেখেছেন, এমন মানুষ আরেকটাও খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই নিজের কাজের মাধ্যমেই আইয়ুব বাচ্চু ভক্ত, শ্রোতা ও সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে টিকে থাকবেন চিরকাল। কোনো এক ‘মায়াবী সন্ধ্যায়’ বা ‘তারা ভরা রাতে’ অনুরণিত হতে থাকবে ‘এবি-দ্য বস’-এর গান বা গিটারের সুর রকগানপ্রেমী ও ভবিষ্যত প্রজন্মের সংগীতকারদের মনে।

এসেছে ঋতুর রানি শরৎ

এসেছে ঋতুর রানি শরৎ
শরৎ ঋতুতে কাশ বাগানে কিশোর-কিশোরীদের দুরন্তপন

কাশফুল, নীলাকাশ, সবুজ মাঠের চিরায়ত বাংলায় এসেছে ঋতুর রানি শরৎ। বাংলার প্রকৃতিতে আলোকিত মুগ্ধতা ছড়িয়ে আজ শুক্রবার (১৬ আগস্ট) শুরু হলো শরৎকালের।

বাঙালির সামনে শরতের অপার সৌন্দর্য উপস্থাপন করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বলেছেন, ‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি, ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি৷'। শরৎ যে এত অনিন্দ্য-সুন্দর, প্রতিটি বাঙালি তা অনুভব করে মর্মে মর্মে।

শরৎ হলো চমৎকার মেঘের ঋতু, স্পষ্টতার ঋতু, আলো ও উজ্জ্বলতার রূপসী ঋতু। শরতের আকাশ থাকে ঝকঝকে ও পরিষ্কার।

আরও পড়ুন: 'শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি'

বর্ষা শেষে শরতের নীল আকাশের মাঝে টুকরো টুকরো সাদা মেঘ যেন ভেসে বেড়ায় মনের আনন্দে। মাঠে মাঠে কাশফুলের দোলা আর সবুজের সমারোহে শরৎকাল প্রকৃতিকে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়৷

উৎসবমুখর বাঙালি শরতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের হাত ধরে মিলিত হয় গানে, ছন্দে, রঙে ও আনন্দে। শরতের এক পর্যায়ে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গোৎসবের আয়োজন হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565937325096.jpg

শরতের চিরকালীন রূপ ও বৈচিত্র্য পরিবর্তমান আবহাওয়ার তোড়ে খানিকটা বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিখ্যাত ষড়ঋতু এখন ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শরতের দিনগুলোর ভেতর চলে আসছে বর্ষার ছোয়া। সুস্পষ্ট শরতের আবির্ভাবের জন্য অপেক্ষা করতে হয়ে কিছুদিন।

একই ভাবে না-শীত, না-গরমের মখমল কোমল ঋতু হেমন্তও বিলীয়মান। স্পষ্ট অবয়বে হেমন্তকে পাওয়া যায় খুবই কম দিন।

শাশ্বত বাংলায় শত বছরে যে আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠেছে, তাপ বিকিরণ, জ্বালানি ক্ষয়, পরিবেশ হানির কারণে তা বদলে যাচ্ছে। সারা দুনিয়াই এখন আবহাওয়া বিপর্যয়ের মুখোমুখি। শীতের দেশে গরম পড়ছে। গরমের দেশে বাড়ছে উষ্ণতা। চরম ভাবাপন্নতা আচ্ছন্ন করছে তাবৎ পৃথিবী ও পৃথিবীর মানবমণ্ডলীকে।

সন্দেহ নেই, মানুষের অবিমৃশ্যতায় আবহাওয়া হচ্ছে বিরূপ। প্রকৃতি হয়ে যাচ্ছে বৈরী। বসবাসের পরিবেশ ও পরিস্থিতি হচ্ছে বিক্ষুব্ধ।

বৃক্ষ ও বনাঞ্চল নিধন, জীববৈচিত্র্য হনন ও প্রকৃতিকে নানাভাবে আঘাত করে মানুষই বিপন্ন করছে পরিবেশ, যার কুফল ঝড়, ঝঞ্ঝা, দুর্যোগের মাধ্যমে আঘাত হানছে পৃথিবীতে। আমরা হারাচ্ছি নিরাপত্তা। হারাচ্ছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের বর্ণবহুল আবহ।

কে জানে, ক্রমে ক্রমে কখন হারিয়ে যাবে ঋতুর বহুমাত্রিক  বিভা ও অপার সুষমা। আমরা যদি আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুন্দর ও নিরাপদ না রাখি, তবে প্রকৃতি ও পরিবেশ আমাদেরকে নিরাপদ রাখবে কেন? এই বোধ ও বিবেচনা প্রতিটি ঋতুতে ও প্রকৃতির পালাবদলের সময় আমাদেরকে অনুভব করতে হবে। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যকে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ ও সমাজের সম্পর্ককে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুসমন্বিত করতে হবে। তাহলেই আমরা নিরাপদ থাকবো প্রকৃতির সুন্দরতম ছায়াতলে।

এই যে ঋতুর রানি শরৎ এলো, যা থাকবে ভাদ্র ও আশ্বিন মাসব্যাপী, তাকে উপভোগ ও অনুভবের মাধ্যমে আমাদের প্রকৃতিপ্রেম ও পরিবেশচেতনাকে ঋদ্ধ করতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা ও আনন্দকে নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে নিরাপদ ও নিষ্কলুষ রাখার শপথ নিতে হবে। চিরায়ত বাংলাকে বর্ণ, গন্ধ, রূপে, রসে সুন্দর ও আলোকিত রাখতে হবে আমাদেরকেই।                     

বাংলার, বাঙালির সংবাদ সারথি বার্তাটোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে সবাইকে শারদ শুভেচ্ছা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র