Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ভারতের নির্বাচনে 'তৃতীয় লিঙ্গ'

ভারতের নির্বাচনে 'তৃতীয় লিঙ্গ'
ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতীয় সরকারি পরিসংখ্যান সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে তৃতীয় লিঙ্গের মোট ভোটার ছিল ২৮ হাজার ৫২৭ জন, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৩২৫-এ। এই সংখ্যার নিরিখে শীর্ষ স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। তার পরেই কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশ।

প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে অরুণাচল প্রদেশ, গোয়া, হরিয়ানা, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং লক্ষদ্বীপ থেকে এক জন ভোটারও নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গ বলে চিহ্নিত করেননি।

ভারতীয় রাজনীতির ময়দানেও ইতোমধ্যেই পা রেখেছেন তৃতীয় লিঙ্গের রূপান্তরকামীরা। ২০১৮ সালে কংগ্রেসের মহিলা শাখার জাতীয় সম্পাদক হিসেবে রূপান্তরকামী অপ্সরা রেড্ডিকে নিয়োগ তারই উদাহরণ।

গত লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ৯ জন রূপান্তরকামী। যাদের কেউ উত্তরপ্রদেশ, আবার কেউ তামিলনাড়ু বা কর্ণাটকের বাসিন্দা।

নিয়মানুযায়ী, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হতে হলে প্রথমে চিকিৎসক এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সার্টিফিকেট নিয়ে নাম পরিবর্তন করতে হবে কোনো হিজড়ে, রূপান্তরকামী বা রূপান্তরিতকে। তার পরেই মিলবে ভোটার তালিকায় তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি, যা যথেষ্ট সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ।

তাই এত কাণ্ড করার চেয়ে ভোটার কার্ডে নিজেকে নারী বা পুরুষ হিসেবে দেখানো সহজ বলেই মনে করেন অনেকে। কেউ কেউ আবার লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচারের পরে নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গ না বলে নারী বা পুরুষের পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। ফলে বাস্তব ও পরিসংখ্যানে ফারাক বাড়তে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গেও তৃতীয় লিঙ্গ প্রসঙ্গে পরিসংখ্যানগত পরিবর্তন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন মাত্র ৪৯৯ জন। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে সেই সংখ্যাটা ছিল ৭৫৭। এ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪২৬ জন।

ভোটার তালিকায় তৃতীয় লিঙ্গের উপস্থিতির এই পরিসংখ্যানে ভারতীয় জনসংখ্যার একটি বিশেষ দিক ফুটে উঠেছে। কারণ সেদেশে ট্রান্সজেন্ডার বিল নিয়ে লেখালিখি এবং ৩৭৭ ধারা বাতিল হওয়ায় অনেকেরই মানসিকতা বদলাচ্ছে। সমাজের কাছে তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। এ কারণে নিজেদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন অনেকে।

২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, ভারতে রূপান্তরকামীদের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৮৮ হাজার। আগের লোকসভা নির্বাচনেই প্রথম বার নিজেদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভোট দিতে পেরেছিলেন এ দেশের রূপান্তরকামীরা। পাঁচ বছরে তাদের ভোটের সংখ্যা বেড়েছে অনেকটাই। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সারা দেশে তৃতীয় লিঙ্গভুক্ত ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।

মনে করা হচ্ছে, ভারতে তৃতীয় লিঙ্গের জনসংখ্যা এবং ভোটারের প্রকৃত হিসাবে আরও বেশি। কারণ অনেকেই হিসেবের তালিকায় আসতে পারছেন না নানা কারণে। বিশেষত সামাজিক ছুতমার্গ কাটাতে পারছেন না অনেকেই। পারিবারিক চাপও থাকে অনেক ক্ষেত্রে। এ ছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহে যারা আসেন, তারা কতটা সংবেদনশীল, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে অনেকের মধ্যে।

তবে তথ্য-পরিসংখ্যান অনুযায়ী দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতের সমাজে ও ভোটের রাজনীতিতে তৃতীয় লিঙ্গ একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করতে চলেছে। ক্রমেই তৃতীয় লিঙ্গের সংখ্যা ও উপস্থিতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এমনটি মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

ইভেন-বরিলিয়ান আউট, হিলারি-তেনজিং ইন

ইভেন-বরিলিয়ান আউট, হিলারি-তেনজিং ইন
এভারেস্ট আজ মানুষের হাতের মুঠোয়/ ছবি: সংগৃহীত

১৯৫৩ সালের মে মাসে দক্ষিণ দিক দিয়ে এভারেস্টে আরোহণের ‘সাউথ কল’-এর ২৫ হাজার ৯০০ ফুট ওপরে তৈরি হয় সামিট ক্যাম্প। এতদিন আবহাওয়া মোটামুটি খারাপ হলেও সহনীয় ছিল।

কিন্তু সামিট ক্যাম্প তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া গেল বিগড়ে। শুরু হল প্রচণ্ড তুষার ঝড়। প্রাকৃতিক বিরূপতা পাগলা মোষের মতো চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলো অভিযাত্রী দলকে।

তবুও দমেনি এই দলটি। গতি কমিয়ে, থেমে থেমে এগিয়ে যেতে থাকে হিমালয়ের আরও গভীরে। পৌঁছে যায় সর্বোচ্চ শৃঙ্গের পাদদেশে। দিনটি ছিল মে ২৬। ডেপুটি লিডার ইভেন, তার সঙ্গী বরিলিয়ানকে নিয়ে অন্তিম আরোহণের জন্য চূড়ার দিকে যাত্রা শুরু করলেন। তখন আবহাওয়া ভাল-মন্দ মিশিয়ে। আরও কিছুটা কষ্ট করে সামনে এগিয়ে যেতে পারলেই এবার জয় প্রায় নিশ্চিত। এভারেস্ট হাতের মুঠোয় আসবেই। আশাবাদী হলেন দলের সবাই। ইভেন আর বরিলিয়ানকে জানালেন শুভেচ্ছা ও সমর্থন।

কিন্তু কে জানতো, শেষ মুহূর্তে দৃশ্যপট থেকে সম্ভাব্য শৃঙ্গজয়ী ইভেন-বরিলিয়ান জুটি ব্যর্থ হয়ে আউট হবেন আর হিলারি-তেনজিং জুটি ইন করবেন বিজয়ীর গৌরবে।

Evarest
অদম্য অভিযাত্রী জয় করেছে হিমালয়/ ছবি: সংগৃহীত

 

প্রথম এভারেস্ট জয়ের নেপথ্যে হিমালয়ের চরম বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে লেখা হয়ে যাবে অন্য রকম ইতিহাস, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

তখনই ভাগ্য নামক বিষয়টি সবার অলক্ষ্যে হেসেছিল, যা সবার দেখার কথা নয়। ইভেন-বরিলিয়ান জুটিও তা দেখেন নি। বরং তারা জয়ের উচ্ছ্বাস ও রোমাঞ্চে টগবগ করছিলেন।

ঠিক তখনই ঘটলো মহাবিপত্তি। অক্সিজেন সিলিন্ডার শুরু করলো ভীষণ গোলমাল। চূড়ার মাত্র তিনশো ফুট থেকে একান্ত বাধ্য হয়ে ব্যর্থ মনোরথে ফিরে এলেন ইভানরা। এছাড়া কোনও উপায়ও ছিল না। অক্সিজেন ছাড়া এতো উঁচুতে বেঁচে থাকা যায় না। শৃঙ্গ জয়ের চেয়ে জীবন রক্ষার পথই বেছে নিয়ে শৃঙ্গ জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে পিছিয়ে এলেন ইভেন-বরিলিয়ান জুটি।

দলনেতা জন হান্ট বুদ্ধিমান। শক্ত ধাতুতে তৈরি ইংরেজ তিনি। ব্যর্থতায় আবেগতাড়িত হয়ে বসে থাকার লোক নন মোটেও। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে কালক্ষেপণ না করে তেনজিং-হিলারিকে পাঠিয়ে দিলেন শৃঙ্গ জয়ের জন্য এগিয়ে যেতে।

Evarest
এডমুন্ড হিলারি (বাঁয়ে), দলনেতা জন হান্ট (মাঝে) ও শেরপা তেনজিং / ছবি: সংগৃহীত

 

দলনেতার সিদ্ধান্ত পেয়ে দ্রুতই দ্বিতীয় গ্রুপ হিসেবে সামিট ক্যাম্প দখলে নিলেন তেনজিং-হিলারি জুটি। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হওয়ার জন্য এই গ্রুপটিও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারলেন না।

দু’তিনদিন ক্যাম্পে বন্দী রইলেন দলবলসহ। ততক্ষণে সবার অলক্ষ্যে ইতিহাসের অংশ হওয়ার মুখোমুখি তারা।

তেনজিংয়ের মনে তখন আবার ভয়। খুব ভেঙে পড়লেন তিনি। বয়সও বেড়ে যাচ্ছে। তখনই তিনি আটত্রিশ। এরপর শরীর যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এবারও কি হিমালয় খালি হাতে ফিরিয়ে দিবে তাকে?

হান্ট এবার আস্তিনের শেষ তাসটি ফেললেন। ২৮ মে তিনজনের একটি সহযোগী দল পাঠালেন। তারা সামিট ক্যাম্প থেকে এগিয়ে ২৭ হাজার ৯০০ ফুটে একটি তাঁবু গেড়ে নিচে বেস ক্যাম্পে ফিরে এলেন।

আরও পড়ুন: ১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং!

১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং!

১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং!
১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং/ ছবি: সংগৃহীত

অসংখ্য অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর পৃথিবীর বিশালাকায় পর্বত হিমালয়ের শীর্ষ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট মানুষের পদানত হয় ১৯৫৩ সালের মে মাসে। পুরো মে মাস হিমালয়ে অভিযান চালিয়ে অবশেষে আসে চূড়ান্ত বিজয়। তারও এক বছর আগে অভিযাত্রী দলকে নিতে হয় প্রস্তুতি ও অন্যান্য কার্যক্রম। প্রথম এভারেস্ট বিজয়ের মাধ্যমে সফল হয় এক বছর মেয়াদী হিমালয় অভিযান। মানব ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয় সাফল্যের ইতিহাস।

স্বয়ং শেরপা তেনজিং নোরগে ১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন এভারেস্ট বিজয়ের অভিযানে। ব্যর্থ হয়েও অদম্য ছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে আরেকটি অভিযানের প্রস্তুতির কথা জেনে এগিয়ে আসেন তিনি। এ অভিযানকে তিনি গ্রহণ করলেন নিজের জীবনে এক চরম পরীক্ষা রূপে।

১৯৫২ সালে শুরু হওয়া যে অভিযানে ১৯৫৩ সালের মে মাসে হিলারি ও তেনজিং এভারেস্ট জয় করেন, সেই দলের নেতা ছিলেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কর্নেল এইচ সি জন হান্ট। তার নেতৃত্বে এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতি চলছে জেনে তেনজিং ঘরে বসে থাকতে পারেন নি। কথাগুলো তিনি নিজেই জানিয়েছেন আত্মজীবনীতে।

তেনজিংয়ের জীবনে এটি ১৭তম এভারেস্ট অভিযান হলেও দলের অনেকেরই ছিল প্রথম অভিজ্ঞতা। চারশো সদস্যের এই অভিযানে ছিলেন ৩৮২ জন মালবাহক এবং ২০ জন শেরপা। এই দলের সদস্য ছিলেন এডমন্ড হিলারি, পরবর্তীতে এভারেস্টের অন্যতম বিজয়ী হিসাবে স্যার উপাধি প্রাপ্ত।

অভিযাত্রী দলে হিলারি ও তেনজিংয়ের জুটিটি তৈরি হয়েছিল চরম নাটকীয়ভাবে। বলা যায়, ভাগ্যের টানেই এই দুইজন কাছকাছি এসেছিলেন। হয়ত ভাগ্যের নির্দেশে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্যই অচেনা দুই জন নিবিড় সঙ্গী ও স্বজনে পরিণত হন অভিযাত্রার দিনগুলোতে।

১৯৫৩ সালের মে মাসে হিলারি ও তেনজিং এভারেস্ট জয় করেন/ ছবি: সংগৃহীত
১৯৫৩ সালের মে মাসে হিলারি ও তেনজিং এভারেস্ট জয় করেন/ ছবি: সংগৃহীত

 

ঘটনাটি ছিল এই যে, অভিযান চলাকালীন একটা দুর্ঘটনায় হিলারি হঠাৎ বরফখাদে পড়ে যান। কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত প্রচেষ্টায় মৃত্যুর গহ্বর থেকে হিলারিকে ফিরিয়ে আনেন পর্বতারোহণে অভিজ্ঞ তেনজিং।

তেনজিংয়ের তড়িৎ-সাহসী পদক্ষেপে প্রাণে বাঁচেন হিলারি। সেদিন থেকে তেনজিংয়ের প্রতি চির কৃতজ্ঞ ছিলেন হিলারি। এরপর থেকে হিলারি-তেনজিং একই দড়িতে ক্লাইম্বিং পার্টনার হিসেবে নতুন উদ্যমে অভিযান শুরু করলেন। ফল হলো অভিযান শেষে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।

আশাবাদী অভিযাত্রী এগিয়ে চলেন দুর্গম হিমালয়শৃঙ্গ পানে/ ছবি: সংগৃহীত
আশাবাদী অভিযাত্রী এগিয়ে চলেন দুর্গম হিমালয়শৃঙ্গ পানে/ ছবি: সংগৃহীত

 

১৯৫৩ সালের শুরুর দিকে এভারেস্ট অভিযানের বেস ক্যাম্প তৈরি হয় বরফ খাদে ভরা খুম্বু হিমবাহের নিচে। শুরু হয় পরবর্তী অভিযানের ক্যাম্প তৈরির কাজ। প্রায় এক হাজার পাউন্ডের মালপত্র নিয়ে মালবাহকরা ধীরে ধীরে এভারেস্টের দিকে এগোতে থাকেন। অধরা এক শৃঙ্গকে মানুষের পদানত করার অনেক ব্যর্থ অভিযানের মতো না হয়ে এটি যে সফল হবেই, দলের কেউ তা ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবতে পারেন নি।

বিশেষত হিমালয়ের বিরূপ আবহাওয়ার ভেতর শৃঙ্গ জয়ের আশাবাদী আলো খুবই কম দেখতে পেয়েছিলেন দলের সদস্যরা। এমনকি, তুষারঝড়ে পর্বত আর শৃঙ্গকেও দেখাচ্ছি ঝাপসা এবং অস্পষ্ট। তবুও একদল আশাবাদী অভিযাত্রী অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে চলেন দুর্গম হিমালয়ের গিরি-কন্দর পেরিয়ে শীর্ষ শৃঙ্গের দিকে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র