Alexa

ভালোবাসা প্রীতিলতা

ভালোবাসা প্রীতিলতা

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হওয়া বাঙালি নারী প্রীতিলতা, ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম শহর কেমন যেন মায়া জড়ানো! সবুজ বৃক্ষরাজির সারি সারি মিছিল; মাঝে মাঝে পাহাড়, টিলার ঢাল বেয়ে জনপদ। সমুদ্র এখানে মেঘের সাথে মিতালী করে। লতা-গুল্ম, ফুল, পাখি, পত্রালী, বিহঙ্গ ও প্রজাপতির অনিন্দিত শহর এই চট্টগ্রাম। যার শ্যামল বুক মাঝে মাঝে লাল হয়-বিপ্লবের লেলিহান রঙে।

এই সবুজ ও প্রাকৃতিক শহর চট্টগ্রামে একদা উত্থিত হয়েছিল বিপ্লব-বিদ্রোহ স্পন্দিত এক লাল অগ্নিশিখার। নাম তার রানী, কিংবা ফুলতারা, এবং শেষ পর্যন্ত প্রীতিলতা। সব নাম ছাপিয়ে তিনি হয়ে আছেন ইতিহাসের বৈপ্লবিক মানবী, ভালোবাসার লাল অগ্নিশিখা, প্রীতিলতা। ইতিহাস তাকে চেনে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হওয়া বাঙালি নারীর অম্লান পরিচয়ে।

১৯১১ সালের ৫ মে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাটে জন্ম হয়েছিল বিপ্লবের এই সূর্যকন্যার। দক্ষিণের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে তিনি চিরায়ত বিপ্লবের অগ্নিবালিকা হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন সমগ্র চট্টগ্রামে, বিশাল বঙ্গদেশে, তাবৎ ভারতবর্ষে। এই বিখ্যাত নারী ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী নারী শহীদ ব্যক্তিত্ব।

তৎকালীন ব্রিটিশ বাংলায় জন্ম নেওয়া এই বাঙালি নারী বিপ্লবী সূর্য সেনের নেতৃত্বে তখনকার ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং জীবন বিসর্জন দেন। স্বাধীনতার বেদিমূলে আত্মোৎসর্গকারী প্রীতিলতা চেতনার শাণিত প্রবাহের মতো কর্ণফুলীর সমান্তরালে আজও চির প্রবহমান।

সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন প্রীতি মতাদর্শিক চৈতন্যে। দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদের লেলিহান শিখা প্রজ্বলিত হয়েছিল তার সর্ব-অস্তিত্বে। মিশে ছিলেন সমকালের দেশপ্রেমিক বিপ্লবী নেতা ও দলের সঙ্গে। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়েন সাম্রাজ্যবাদী-ঔপনিবেশিক আগ্রাসন কবলিত দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে।

১৯৩২ সাল। তিনি তখন কুড়ি বয়সের টগবগে মানুষ। চট্টগ্রামের রেল-এলাকা পাহাড়তলীতে তখন লুটেরা ইংরেজদের আড্ডা। পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব দখলের জন্য অভিযানে অংশ নিলেন তিনি। তিনি ১৫ জনের একটি বিপ্লবী দল পরিচালনা করেন সেই কুখ্যাত সাম্রাজ্যবাদী আস্তানায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/05/1557045269177.jpg
সবুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্রোহের লাল প্রতীক হয়ে আছেন প্রীতিলতা/ ছবি: সংগৃহীত

গণবিরোধী এই ক্লাবটিতে একটি সাইনবোর্ড লাগানো ছিল, যাতে লেখা ছিল ‘কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’। প্রীতিলতার দলটি ক্লাবটি আক্রমণ করে এবং পরবর্তীতে পুলিশ তাদের আটক করে। পুলিশের হাতে আটক এড়াতে প্রীতিলতা সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। দিনটি ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ সাল।

প্রীতিলতার আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে আছে বিপ্লবের ইতিহাসে। কালান্তরের প্রীতিলতা হয়ে তিনি ছড়িয়ে গেছেন সাহসিনী-প্রতিবাদী নারী প্রজন্মের প্রতিটি সদস্যের মর্মমূলে। সবুজ-শ্যামলিম বাংলাদেশে দ্রোহের রক্তিম লাল প্রতীক হয়ে উড্ডীন আশা ও ভালোবাসার প্রীতিলতা।

আপনার মতামত লিখুন :