Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

এসএসসির ফল প্রকাশ

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস
ফল প্রকাশের পর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেন দুই সহপাঠী, ছবি: সুমন শেখ
ফয়েজুল ইসলাম
নিউজরুম এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই স্কুলের প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে। ছবিতে দেখুন শিক্ষার্থীদের উল্লাস...

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

যেন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আগেই প্রস্তুত ছিল তারা। ফল প্রকাশের পরই এভাবেই বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ-উদযাপন করেছেন ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা। 

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখা মাত্রই নিজেদের আনন্দ সবার কাছে পৌঁছে দিতে একটুও দেরি করেনি এই শিক্ষার্থীরা।

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

ভালো ফলাফলের আনন্দ উদযাপনে পিছিয়ে নেই রাজশাহীর মেয়েরা। স্কুল ক্যাম্পাসের সামনেই বাদ্য বাজিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিল আমরা ভালো ফল করেছি।

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

ভালো ফল করেই রাজ্য জয়ের উৎসবে মাতলেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

আনন্দে স্কুলের পুরো মাঠজুড়ে লাফিয়ে বেড়ালের এই শিক্ষার্থীরা।

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

কোন অংশে কম যান না খুলনার মেয়েরা। উল্লাসিত হাসির সাথে 'জয়ের' চিহ্ন দেখিয়ে জানিয়ে দিলেন আমরাও ভালো ফল করেছি।

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

ভালো ফল করেছি সেলফি হবে না তা কি করে হয়! এই বলেই যেন বান্ধবীকে নিয়ে সেলফিতে ব্যস্ত এই শিক্ষার্থী।

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস 

আকাশছোঁয়া ফলাফল করেছে। এবার উল্লাসে লাফিয়ে আকাশছোঁয়া যাক।

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

ফলাফলের আনন্দ সহপাঠীরা মিলে উদযাপন করল চট্টগ্রামের এই শিক্ষার্থীরা। এ সময় আঙুল উঁচিয়ে বিজয়ের চিহ্ন দেখাতেও ভুল করেনি।

ছবিতে ফলাফলের বাঁধভাঙা উল্লাস

শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, সন্তানের কৃতিত্বে অভিভাবকরাও আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। এ সময় এক অভিভাবককে অশ্রুসিক্ত হতেও দেখা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

গুজব মন্ত্রী গোয়েবলস

গুজব মন্ত্রী গোয়েবলস
হিটলার এবং গোয়েবলস

গুজব শব্দটার সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে নানা কারণে নানা প্রকারের গুজব ছড়ানো হয়েছে। আর এসব কিছুই ব্যবহার করা হয়েছে কোনো বিশেষ দলের বা মহলের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য। কখনো কাউকে চাঁদে দেখতে যাওয়ার গুজব আবার কারো মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে একটা মহল তার স্বার্থসিদ্ধি করতে চেয়েছে সবসময়। আবার কখনো সত্য ঘটনাকে গুজব বলে গুজব ছড়িয়েছে কেউ কেউ। কিন্তু এই গুজব ছড়ানোতে যেই ব্যক্তি সবচেয়ে ওস্তাদ ছিলেন তার নাম গোয়েবলস। যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের হয়ে নানা প্রকার গুজব ছড়ানোর দায়িত্বে ছিলেন।

‘এটি গোয়েবলসীয় মিথ্যা’ কিংবা ‘এটি গোয়েবলসীয় মিথ্যাকেও হার মানাবে’—এমন একটা কথা আমরা প্রায়ই লোকমুখে বা বই পুস্তকে শুনে থাকি। প্রশ্ন আসতে পারে কে এই গোয়েবলস? অবাক হলেও সত্যি তিনি ছিলেন একজন “গুজব পরিচালনা” মন্ত্রী। আর তাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ঘাতক এডলফ হিটলার। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন “মিনিস্ট্রি অব পাবলিক এনলাইটেনমেন্ট এন্ড প্রোপাগান্ডা” নামে একটি আলাদা বিভাগ তৈরি করেন হিটলার। আর এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকে গোয়েবলসের ওপর।

পল জোসেফ গোবলসের জন্ম ২৯ অক্টোবর ১৮৯৭ সালে জার্মানির রিদত শহরে। ১৯২১ সালে তিনি হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেন। এছাড়া ব্যাংকের করণিক পদেও দায়িত্ব পালন করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি একজন লেখক হতে চাইতেন। তার লেখার হাতও ছিল চমৎকার। যে কোনো সধারণ বিষয়কে মাখন লাগিয়ে খুবই সুস্বাদু করে উপস্থাপন করতে পারতেন। রস, রঙহীন যে কোনো বিষয়কে তিনি তার দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা দিয়ে রাঙিয়ে দিতে পারতেন। উপন্যাস এবং বেশ কয়েকটি নাটকও রচনা করেছিলেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563264828462.jpg
সন্তানদের সঙ্গে গোয়েবলস ◢

 

প্রোপাগান্ডা বা গুজব শব্দটি শুরুতে একটি ইতিবাচক শব্দ ছিল। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা পরিকল্পিতভাবে তাদের সেনা এবং জনগণের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রেষণা যোগানোর জন্যে এর ব্যবহার শুরু করে। এডলফ হিটলারও বুঝতে পেরেছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানদের এমন পরাজয়ের কারণ আর কিছু নয় বরং ব্রিটিশদের এমন গুজব ছড়ানো। তাই হিটলার আলাদা মন্ত্রণালয় খোলেন এই প্রোপাগান্ডা রুখতে। নাম দেন “মিনিস্ট্রি অব পাবলিক এনলাইটেনমেন্ট এন্ড প্রোপাগান্ডা”। আর এর প্রধান করেন তার সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী “দ্য লিটল ডক্টর” নামে পরিচিত গোয়েবলসকে, যিনি প্রোপাগান্ডা শব্দটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়। আর তাই এখনো পৃথিবীজুড়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক জনপ্রিয় “গোয়েবলসীয় কায়দা”।

তিলকে তাল বানানোতে ওস্তাদ এই ব্যক্তি ছোটবেলা থেকেই দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। তার ডান পা ছিল বাম পা অপেক্ষা মোটা এবং ছোট। আর এই শারীরিক অক্ষমতার জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে পারেননি। কিন্তু তিনি সেই দুর্বলতা দূর করেছিলেন তার তুখোড় ভাষণ ও লেখনী শক্তি দ্বারা।

১৯২২ সালে অ্যাডলফ হিটলারের বক্তৃতা শুনেই তার জীবনের ধারা পাল্টে যায়। যোগ দেন হিটলারের ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে (নাৎসি পার্টি)। যোগদান করেই শুরু করেন তার ম্যাজিক দেখানো। যা কস্মিনকালেও ঘটার সম্ভাবনা নেই, এমন ঘটনা ঘটেছে রব তুলতে তার জুড়ি ছিল না। বাচনশৈলি ও অন্যান্য যোগ্যতা দিয়ে সামান্য একটা বিষয়কে তিল থেকে তাল বানিয়ে ফেলতেন তিনি। আর তা করতেন অত্যন্ত গোপনভাবে। বিষয়গুলো এতই গোপন থাকত যে তার একান্ত সচিবও এসব জানতেন না। গোয়েবলসের সচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা ব্রুনহিল্ড পমসেল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি জানি, এখন আমাদের আর কেউ বিশ্বাস করে না। সবাই মনে করে আমরা সব গুজবের ব্যাপারে জানতাম। আসলে তা না। আমরা কিছুই জানতাম না। সবকিছুই আমাদের থেকে গোপন রাখা হতো।

এখনকার এই ইন্টারনেটের যুগে গুজব ছড়ানো কোনো কঠিন বিষয় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মুহূর্তেই তিলকে তাল বানিয়ে পৌঁছে দেওয়া যায় হাজার হাজার মানুষের কাছে। কিন্তু তখন এত সহজ ছিল না। তাই হিটলার আর গোয়েবলস মিলে আঁটলেন এক বিশাল ফন্দি। তারা সবাইকে বিনামূল্যে রেডিও উপহার দিতে শুরু করেন। আর তার পরেই শুরু হয় আসল খেলা। রেডিওতে গুজবের বেসাতি ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দেওয়া আর স্বজাতির মনে সরকারের আনুগত্য সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে নিত্য নতুন গল্প বানাতে থাকেন তিনি। এভাবেই ক্রমান্বয়ে হিটলারের একজন বিশ্বস্ত সহযোগীতে পরিণত হন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563264583854.jpg
ফ্রি রেডিও বিতরণ ◢

 

হিটলার ছিলেন প্রতিশোধের নেশায় মত্ত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হেরে গিয়ে তখনকার পরাশক্তি ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডের কাছে এই মর্মে নাকে খত দিয়েছে যে তারা আর যুদ্ধ করবে না। এখন থেকে শান্তির পথে চলবে তারা। এই অপমান সইতে পারেননি হিটলার। হিটলার এবং গোয়েবলস দুজনেই বিশ্বাস করতেন, ভালো এবং সময়োপযোগী একটি স্ক্রিপ্ট এবং একটি দৃষ্টিনন্দন ছবি যে কোনো আদর্শ প্রচারের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। কেননা ব্রিটিশরা এই অস্ত্র ব্যবহার করেই হারিয়ে দিয়েছিল জারমানদের। মূলত এ কারণেই, প্রোপাগান্ডাকে তারা প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন। গোয়েবলস বিশ্বাস করতেন, শুধুমাত্র হিটলারের মেধাবী এবং অতুলনীয় নেতৃত্বের মাধ্যমেই জার্মানির হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়া সম্ভব।

গোয়েবলস তার লেখাগুলো জনসম্মুখে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে নানা রকম উপায় ব্যবহার করতেন। এরমধ্যে অন্যতম হলো বিশাল জনসমাবেশ করা। তার অসাধারণ লেখনিগুলো পৌঁছে দেওয়ার জন্য সেই বিশাল সমাবেশের আয়োজনও করা হতো বিশালভাবে। নানা রকম আতশবাজি, প্যারেড, জাতীয় সঙ্গীতের সাথে থাকত ব্যাপক আলোকসজ্জা, আর বাহারি রঙের পোস্টার। ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন এমন জায়গায় স্থাপন করা হতো যাতে হিটলার এবং তার ভাষণ দেশের প্রতিটা মানুষের কানে পৌঁছে যেতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563264655343.jpg
নাৎসি পার্টির বিশাল সমাবেশের একটি চিত্র ◢

 

তার সবচেয়ে বড় প্রপাগান্ডা ছিল হিটলারকে সকল জার্মানবাসীদের কাছে একজন ত্রাণকর্তা হিসেবে পৌঁছে দেওয়া। আর তাই তিনি হিটলারের নামে এমন সব স্তুতি গাইতেন যেগুলো শুনতে সত্যের মতোই মনে হতো। গুয়েবলসের একটি বিখ্যাত উক্তি ছিল, “আপনি যদি একটি বিশাল মিথ্যা বলেন এবং সেটা বারবার সবার সামনে বলতে থাকেন, তাহলে মানুষজন একসময় সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করবে।” আর তাই তিনি বারবার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমাবেশে হিটলার এবং জার্মান বাহিনীকে নিয়ে নানা মিথ্যা গুজব ছড়াতেন যেগুলাতে হিটলারকে একজন কিংবদন্তি এবং জার্মান বাহিনীকে যুদ্ধে অবশ্যই বিজয়ী বলে মনে হতো সকলের।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে হিটলার প্রায় ষাট লক্ষ ইহুদি নিধন করেন। যেটাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণহত্যা বলে আখ্যা দেওয়া হয়। সেই ইহুদি হত্যার জন্য কিন্তু জার্মানরা হিটলারকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। তার পেছনেও ছিল এই গোয়েবসের প্রপাগান্ডা। ১৯২৪ সালের ৪ জুলাই তিনি লেখেন, “জার্মানিতে এখন একজন শক্ত মানুষের দরকার। জার্মানিকে নিয়ে সব রকমের নিন্দা আর অন্যায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ হওয়া দরকার। আমাদের এখন সর্বস্ব উজাড় করে কাজ শুরু করতে হবে। এই ইহুদিদের আমরা চাই না। কারণ তারা কখনো সত্যিকার জার্মান নয়। ওদের কঠিন শাস্তি দেওয়া দরকার। এরা কেবল সমস্যাই তৈরি করছেন।” তিনি হিটলারের গুণগান গেয়ে বলেন, “দারুণ খরায় পৃথিবী যেমন হাহাকার করে বৃষ্টির জন্য, তেমনি জার্মানিও এখন এমন এক মানুষের জন্য হাহাকার করছে যে তাদেরকে এই দৈন্যদশা থেকে উদ্ধার করবে। আর তিনি অন্য কেউ নন, তিনি আমাদের মহামতি স্যার এডলফ হিটলার।” এরপরেই মেরে ফেলা হয় লাখো ইহুদিকে, বিনা প্রশ্নে, বিনা বাধায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563264965543.jpg

গোয়েবলস এবং তার পরিবার ◢

 

তার এসব প্রপাগান্ডার ফলে জার্মানরা ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শুরু করে একমাত্র হিটলার পারেন জার্মানের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু গোয়েবলস জানতেন, তারা যদি পরাজিত হন তবে বিশ্ববাসী তাদের আর কখনো এমন চোখে দেখবে না। তাই তিনি বলেন, “আমরা ইতিহাসে ঠাঁই পাব হয় সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র অধিনায়ক অথবা সর্বশ্রেষ্ঠ অপরাধী হিসেবে।”

হিটলারকে প্রচণ্ড রকম ভালোবাসতেন তিনি। “সত্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ শত্রু” বিবেচনা করা এই লোক মারা যান হিটলারের মৃত্যুর ঠিক পরের দিন। পরাজয় নিশ্চিত জেনে অবশেষে ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে হিটলার সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেন। ঠিক তার পরের দিনই ১ মে গোয়েবলস তার মেয়ের জন্মদিনে প্রথমে তার ছয় সন্তান এবং স্ত্রীকে হত্যা করেন। পরে নিজেও তার প্রিয় নেতা হিটলারের পন্থা অবলম্বন করে আত্মহত্যা করেন।

গোয়েবলস সম্পর্কে তার সচিব পমসেল বলেন, দেখতে খাটো এই লোকটি ছিলেন প্রচুর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। দামি কাপড়ের স্যুট পরতেন, নখের যত্ন নিতেন, ভাষায় ছিলেন খুবই মার্জিত এবং পরিমিত। কে জানত এমন গোছালো একটা ভালো মানুষের আড়ালে এমন একজন ভয়ানক ব্যক্তি ঘাপটি মেরে বসে আছে!

নেটফ্লিক্সের আদ্যোপান্ত

নেটফ্লিক্সের আদ্যোপান্ত
সারা বিশ্বে নেটফ্লিক্স এখন পরিচিত নাম

Today we are witnessing the birth of new global internet TV network.
-Reed Hastings
Chairman and CEO, Netflix

বিমানবন্দরে এলিজাবেথ চলে যাচ্ছে হয়তো কোনো কারণে অভিমান করে। চেক পোস্ট পেরিয়ে তার পিছু পিছু ছুটে আসতে দেখা যায় স্টিফেনকে। সে যখন এলিজাবেথের সামনে এসে দাঁড়ায় তখনই এলিজাবেথ অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে চমকে ওঠে, আবার আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে ওঠে—“আমি জানতাম তুমি আসবে।”
তখনই স্টিফেন বলে, “আমি আসছি একটা প্রশ্ন করতে।”
এলিজাবেথ বলে, “তুমি আমাকে যে কোনো প্রশ্ন করতে পারো।”
স্টিফেন বলে, “নেটফ্লিক্সের পাসওয়ার্ড কী বলো।”
২০১৫ সালের দিকে এরকম একটা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে নেটফ্লিক্সের প্রয়োজনীয়তা, ক্রেইজ ও প্রায়োরিটি মুভি লাভারদের কাছে তুলে ধরে হয়—যা ধীরে ধীরে এখন মোটামুটি সবারই বোধগম্য।

নেটফ্লিক্স সম্পর্কে বলার আগে অনলাইন স্ট্রিমিং কী জিনিস সেটা একটু ক্লিয়ার থাকা ভালো। অনলাইন স্ট্রিমিং বলতে মূলত সে সার্ভিসকে বোঝায় যেটা ক্যাবল এবং স্যাটেলাইটের বদলে শুধুমাত্র অনলাইনে দেখার ব্যবস্থা আছে। যেখানে গ্রাহক কিছু অর্থের বিনিময়ে বা অর্থ ছাড়া সার্ভিসটি উপভোগ করতে পারে। পেমেন্টের ধরন একেক দেশে একেক রকমের হয়ে থাকে। অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে যত ধরনের এন্টারটেইনমেইন্ট আছে যেমন ফিল্ম, ডকুমেন্টারি, টিভি শো, ওয়েবসিরিজ ইত্যাদি সব দেখতে পারবে গ্রাহক তার ইচ্ছে মতো যে কোনো সময় যে কোনো মুহূর্তে। এই সার্ভিস প্রভাইড করা হয় ক্লাউড বেইজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563180724379.jpg
নেকফ্লিক্সের প্রতিষ্ঠাতা রিড হ্যাসটিংস ◢

 

নেটফ্লিক্সের নাম কিন্তু শুরুতে নেটফ্লিক্স ছিল না। এর নাম ছিল “কিবল”, শুরুতে তারা ডিভিডি ভাড়া দিত। কোম্পানিটি ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিস শুরু করে নেটফ্লিক্স নাম জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর থেকে।

১৯৯৭ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু করে নেটফ্লিক্স। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লোশ গ্যাটস শহরে নেটফ্লিক্সের সদর দপ্তর। তারা তাদের ডিভিডি রেন্টালের কাজ শুরু করে ১৪ এপ্রিল, ১৯৯৮ সালে। মাত্র ৩০ জন কর্মচারী দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে ২০০০ সালের দিকে প্রায় ৩ লাখ গ্রাহক হয়ে যায় নেটফ্লিক্সের। ১০ বছর পরে অর্থাৎ ২০০৭ সাল থেকে নিবন্ধনকৃত গ্রাহকদের জন্য ভিডিও অন ডিম্যান্ড অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করে নেটফ্লিক্স। এই সেবা পাওয়ার জন্য গ্রাহককে নেটফ্লিক্স সাইটে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। ওই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেই এর সেবার ফি পরিশোধ করতে হয়। নেটফ্লিক্স ছাড়া আর কারো এর থেকে আয় করার কোনো সুযোগ নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563180921106.jpg
লোশ গ্যাটস শহরে নেটফ্লিক্সের সদর দপ্তর ◢

 

বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ১৯০টি দেশে জনপ্রিয় অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা চালু করেছে নেটফ্লিক্স। এই দেশগুলোতে নিবন্ধিত গ্রাহকেরা যে কোনো স্থান থেকে খুব সহজে টিভি শো, মুভি অথবা সিরিজ উপভোগ করতে পারছেন। মাসিক ৮ থেকে ১২ ডলার সাবস্ক্রিপশন চার্জ হলেও বাংলাদেশে এটি কম জনপ্রিয় নয় বরং বিনোদনের যে বিশাল সাম্রাজ্য আপনার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সেই তুলনায় অনেকের বিবেচনায় এ খরচ কমই। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনুষ্ঠান দেখার মাঝখানে অযথা বিজ্ঞাপন হজম করতে হবে না কাউকে। চীন, উত্তর কোরিয়া, ক্রিমিয়া, সিরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে নেটফ্লিক্সের সেবা নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা যে কেউ ভাঙছে না ব্যাপারটা এরকম নয়। এগুলো ডিজিটাল দুনিয়ার দৈনন্দিন ঘটনা।

২০১৬ সালে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নেটফ্লিক্স বাংলাদেশসহ আরো বিভিন্ন দেশে তাদের বিজনেস ছড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশে বিগত দুই বছরের অধিক সময় ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে নেটফ্লিক্স যার গ্রাহক সংখ্যা ইতোমধ্যে দুই লক্ষাধিক। এই দুই লক্ষ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি মাসে অন্তত ১৮ কোটি টাকা যা এক বছরের হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা, দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং আটকানোর কোনো উপায়ও নেই।

সারা বিশ্বে তাদের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১৫৮ মিলিয়ন। যার মধ্যে ৬১.৯৭ মিলিয়ন গ্রাহকের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে। ২১টি দেশে অনুষ্ঠান নির্মাণের সাথে জড়িত নেটফ্লিক্স। সারা বিশ্বে নেটফ্লিক্সের গ্রাহকরা প্রতি সেকেন্ডে বিশ্বের ১৫ ভাগ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ নেটফ্লিক্সের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

অনেকে মনে করেন নেটফ্লিক্সের প্রযোজিত প্রথম প্রোগ্রাম “হাউজ অব কার্ডস”, আসলে কিন্তু তা নয়, এটি তাদের প্রথম বাণিজ্যিক প্রোগ্রাম হলেও তাদের অরিজিনিয়াল প্রথম প্রোগ্রাম ছিল “এক্সাম্পল শো”। ২০১০ সালে নেটফ্লিক্স “এক্সাম্পল শো” নামে একটা প্রোগ্রাম করে। এটি তাদের প্রথম প্রযোজিত প্রোগ্রাম। এগার মিনিটের এই প্রোগ্রাম ছিল অনেকটা কমেডি ঘরানার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563181227656.jpg
নেটফ্লিক্স নির্মিত প্রথম বাণিজ্যিক প্রোগ্রাম হাউজ অব কার্ডস ◢

 

নেটফ্লিক্স কিভাবে সিনেমা হল বা টেলিভিশন বিজনেস কেড়ে নিচ্ছে? একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে নেটফ্লিক্স গ্রাহকেরা প্রতি বছরে গড়ে ৮২টি করে ফিচার ফিল্ম দেখতে পান। আর হলিওডের ওয়ারনার ব্রাদারস একই সময়সীমার মধ্যে মুক্তি দিতে পারে মোট ২৩টি সিনেমা। সবচেয়ে ব্যবসাসফল স্টুডিও হিসেবে পরিচিত ডিজনি সিনেমা হলে দেয় আরো কমসংখ্যক সিনেমা, মাত্র ১০টি।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে নেটফ্লিক্সের বিশ্বব্যাপী গ্রাহক বেড়েছে ৭৪ লক্ষ। নতুন গ্রাহকরা এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দিচ্ছে ১২ কোটি ডলার। বিখ্যাত ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর ভাষ্যমতে, ২০২২ সালের মধ্যে নেটফ্লিক্স অনুষ্ঠান বাবদ খরচ করতে পারে বছরে ২ হাজার ২৫০ কোটি ডলার। তবে দিনে দিনে তাদের প্রোগ্রামের সংখ্যা বেশ বেড়ে যাচ্ছে তাছাড়া বাড়ছে গ্রাহক, তাতে করে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করতে হচ্ছে নতুন নতুন সব প্রোগ্রাম।

তবে নেটফ্লিক্সের সুদিনের জোয়ারে দিন দিন ভাটার টানও দেখা দিচ্ছে। কারণ এতদিন ধরে খালি মাঠে গোল দিয়ে আসছিল নেটফ্লিক্স, ছিল না কোনো জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী। এবার মাঠে আসছে অ্যামাজন, অ্যাপল, ফেসবুক, ইউটিউব, ডিজনিসহ সব বড় বড় রথী-মহারথী ও টেক জায়ান্টরা। এরই মধ্যে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার মতো সক্ষমতায় পৌঁছে গিয়েছে অ্যামাজন। অন্তত যেসব জায়গায় নেটফ্লিক্স দেখা যায় সেসব জায়গায় অ্যামাজনও তার উপস্থিতি মোটামুটি নিশ্চিত করছে। অনুষ্ঠান নির্মাণের পেছনে গত বছর ৪০০ কোটি ডলার খরচ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। হুট করে প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় নেটফ্লিক্স। যেসব সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্সের জন্য ভিডিও নির্মাণ করত, তারাই এখন প্রতিদ্বন্দ্বী রূপে দেখা দিয়েছে। হলিউডের কিছু স্টুডিও গ্রুপ নেটফ্লিক্স থেকে তাদের সিরিজ বা সিনেমা সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এরা যদি আরো আক্রমণাত্মক আচরণ করে তবে তা সামাল দেওয়া নেটফ্লিক্সের জন্য কঠিন হয়ে যেতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563181776622.png
নেটফ্লিক্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো সক্ষমতায় পৌঁছে গিয়েছে অ্যামাজন ◢

 

স্বাভাবিকভাবেই এই বাজার-প্রতিযোগিতায় খুশি অনুষ্ঠান নির্মাতারা কারণ আগে যেখানে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম ছিল এখন সেখানে দর কষাকষির সুযোগ রয়েছে। নেটফ্লিক্সের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে অ্যামাজন কারণ এই প্রতিষ্ঠানের বাজার মূল্য নেটফ্লিক্সের তুলনায় ৬ গুণ বেশি। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৯ সালের মধ্যেই বাজারে নামবে টেক জায়ান্ট অ্যাপল, যা চলতি প্রতিযোগিতায় যোগ করবে অন্য মাত্রা।

এমন অবস্থায় মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতে গ্রাহকদের ধরে রাখতে চাইছে নেটফ্লিক্স। একই সঙ্গে নতুন নতুন গ্রাহক টেনে আনতে এসব পুরস্কারকে ব্যবহার করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৮ সালে কান উৎসবে নেটফ্লিক্সের ফিল্ম নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। কান কর্তৃপক্ষ মনে করছে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি ছাড়া কোনো সিনেমা তারা গ্রহণ করবে না। ফলে ওই উৎসবে নেটফ্লিক্সের কোনো সিনেমা কানে যেতে পারেনি। অথচ বড় বড় পরিচালকেরা এখন নেটফ্লিক্সের অর্থায়নে ফিল্ম বানাচ্ছে। পরবর্তীতে কান কর্তৃপক্ষ নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। ফলে আলফানসো কোয়ারনের মতো ডিরেক্টদের নেটফ্লিক্সের মুক্তি দেওয়া সিনেমা “রোমা” কানে পুরস্কৃত হয় এবং অস্কারও পায়। শুধু তাই নয় মার্টিন স্করসিসের মতো ডিরেক্টররা পর্যন্ত এখন নেটফ্লিক্সে তাদের সিনেমা মুক্তি দিচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563182075208.jpg
নেটফ্লিক্সের মুক্তি দেওয়া সিনেমা “রোমা” কানে পুরস্কৃত হয় এবং অস্কারও পায় ◢

 

২০১৭ সালের এপ্রিলে নেটফ্লিক্স মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর “পিঁপড়াবিদ্যা” ও “টেলিভিশন” সিনেমা দুটি কিনে নেয়। ২০১৭ সালের ১৫ মে সিনেমা দুটি প্রকাশ করে নেটফ্লিক্স। সিনেমা দুটি কিনে নেওয়ার সময় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার মতামত দেন এইভাবে—“শুধু প্রদর্শনই নয়, চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করছে নেটফ্লিক্স। দুনিয়াজোড়া এন্টারটেইনমেন্ট ওয়ার্ল্ডের মোঘল হয়ে উঠছে তারা। তাদের সর্বশেষ বিগ বাজেট প্রোডাকশন হচ্ছে মার্টিন স্করসেসি’র পরবর্তী ছবি এবং এবারের কান উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত বং জুন হো’র ‘ওকজা’! তো এই নেটফ্লিক্স ভারতের ছবি কিনছে বেশ কিছুদিন ধরে। ভারতে প্রযোজনাও করছে। আমি ভাবতাম, তারা বাংলাদেশের কনটেন্ট নেবে কবে। অবশেষে বলতে পারছি, নেটফ্লিক্স বাংলাদেশের দুইটা ছবি নিয়েছে। ছবি দুটি এই অধমের বানানো ‘টেলিভিশন’ এবং ‘পিঁপড়াবিদ্যা’।”

এই বছর নেটফ্লিক্স কিনে নেয় নূর ইমরান মিঠুর “কমলার রকেট”।

একটা মজার ঘটনা দিয়ে শেষ করতে পারি। ডিভিডি ও ভিডিও রেন্টাল সার্ভিস ব্লকবাস্টারকে ৫০ মিলিয়ন ডলারে নেটফ্লিক্স কিনে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল কো-ফাউন্ডার রিড হ্যাসটিংস। কিন্তু ব্লকবাস্টারের কাছে এটাকে তেমন সম্ভাবনাময় মনে হয়নি। তখন আসলে সম্ভাবনাময় মনে না হওয়ারই কথা কিন্তু পরবর্তীতে এই নেটফ্লিক্স যখন ব্লকবাস্টার থেকে অনেকগুণ এগিয়ে আছে তখন ব্লকবাস্টার অনেকটাই ডুবন্ত অবস্থায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র