Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বার্গারের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর শিঙারা!

বার্গারের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর শিঙারা!
সেন্ট্রাল ডেস্ক ৩


  • Font increase
  • Font Decrease
‘জাঙ্ক ফুড’, কথাটা শুনলেই ডিভে জল আসে। স্বাস্থ্যের পক্ষে সে খাবার কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, সে সময় তা অনেকেরই মাথায় আসে না। আর যদি স্বাস্থ্য সচেতনদের মাথায় নেহাত এসেও যায় সেই ভাবনা, সেক্ষেত্রে অনেকেই মাথার কথা না শুনে মনের কথাতেই কান দেন। কিন্তু যদি এমন সঙ্কট তৈরি হয় যখন বার্গার আর শিঙাড়ার মধ্য যেকোনো একটা বেছে নিতে হবে, তখন কী করবেন? একদল গবেষক দাবি করছেন, বার্গার নয়, মুচমুচে দেশি শিঙারা খান! কারণ, শিঙাড়া 'তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর'। সম্প্রতি সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (সিএসই) একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, শিঙাড়ায় প্রিজার্ভেটিভ হিসেবে কেমিক্যাল থাকে না। শিঙাড়ায় যে সবজি ব্যবহার করা হয়, তাতে রাসায়নিক পদার্থ থাকার সম্ভাবনাও কম। এছাড়া, শিঙাড়াতে মশলার ব্যবহারও খুব কম এবং যেটুকু থাকে তা ক্ষতিকর নয় বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। তাদের আরও দাবি, শিঙাড়া খেলে কিছুটা হলেও মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তা বার্গারের মতো ততটাও ক্ষতিকর নয়। বার্গার ও স্যান্ডউইচের মতো খাবারগুলোতে অসম্পৃক্ত চর্বি অর্থাৎ ট্রান্স ফ্যাট থাকে। এই খাবারগুলি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ধমনিতে ব্লক তৈরি হয়। এছাড়াও বেশি লবন, টেস্টিং সল্ট, মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট ও কৃত্রিম রং থাকায় উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে এই সমীক্ষার ফল কিছুটা হলেও খুশির খবর খাদ্যরসিক বাঙালিদের কাছে। তাই কম্বলের হালকা পরশ...বন্ধুদের সঙ্গে জমাটি আড্ডা...আর ডুবো তেলে ভাজা গরম গরম শিঙাড়া, এবারের শীতের সন্ধ্যায় এভাবে নিশ্চিন্তে মজতে পারেন, আশ্বাস গবেষকদের।
আপনার মতামত লিখুন :

একজন অসামান্য পর্বতারোহী তেনজিং

একজন অসামান্য পর্বতারোহী তেনজিং
একজন অসামান্য পর্বতারোহী তেনজিং/ছবি: সংগৃহীত

দিনটি শুধু তেনজিং-এর কাছে নয়, সারা বিশ্বের জন্যই স্মরণীয়। এদিন বেলা সাড়ে এগারোটায় শীর্ষভূমিতে পা রাখেন এডমন্ড হিলারি। ঠিক তার পেছনেই তেনজিং নোরগে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে এই প্রথম মানুষের পদচিহ্ন। দুই অভিযাত্রী তখন নিছক ব্যক্তি নন, সমগ্র মানব সমাজের প্রতিনিধি।

হিমালয়ের দুর্গম ও অধরা এভারেস্ট শৃঙ্গ বিজয়ের ঘটনা সারা বিশ্বে তীব্র আলোড়ন জাগিয়েছিল। কিছুদিন আগেও সে সময় পৃথিবীর প্রায়-অর্ধেক অংশের শাসক ছিল ব্রিটিশরা। ব্রিটেন ছাড়াও সাবেক উপনিবেশগুলোকেও আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন ব্রিটিশরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্ত, মৃত্যু ও ক্ষতের প্রলঙ্করী ঘটনার পরপরই এভারেস্ট বিজয় ছিল মানব সভ্যতার এক গৌরবময় অর্জন।

শৃঙ্গজয়ের খবর আসার পর অভিযানের নেতা জন হান্ট আর হিলারিকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে ব্রিটেন। তেনজিং পেলেন প্রয়াত রাজা ষষ্ঠ জর্জের নামাঙ্কিত মেডেল। এর বাইরে সংবর্ধনা ও অভিনন্দনের তো হিসাবই ছিল না।

এভারেস্ট অভিযানের পরে নেপালি বংশজাত তেনজিং বসবাস করতে থাকেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং-এ। তিনি আর ফিরে যাননি জন্মভূমিতে। ১৯১৪ সালে নামগ্যাল ওয়াংদি নামের নেপালে জন্ম নেওয়া লোকটিকে আর কেউ মনে রাখেনি। সবাই জেনেছে নতুন ও বিজয়ী এক মানুষকে, যার নাম তেনজিং।

পরিবার তেনজিংকে বানাতে চেয়েছিল ধর্মযাজক। বাড়ি পালিয়ে তিনি হলেন অভিযাত্রী। পর্বতারোহণের সর্বোচ্চ বিজয় অর্জন ছাড়াও তিনি নতুন অভিযাত্রীদের গাইড ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন পরবর্তী জীবনে। পর্বতারোহণ ইনস্টিটিউট তৈরি হলে তাতেও জড়িত থাকেন তিনি। মোট কথায়, হিমালয়ের পাদদেশে দার্জিলিং  শহরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় এই এভারেস্ট বিজয়ীর জীবন ও কর্মকাণ্ড।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561616768646.jpg
তেনজিং স্মৃতি স্মারক, দার্জিলিং/ছবি: সংগৃহীত

তার কাছে হিমালয় ছিল এক দুর্নিবার নেশার মতো, যে নেশার কাছ থেকে দূরে গিয়ে তিনি থাকতে পারেননি। আজীবন পর্বত বিষয়ক নেশায় বুঁদ হয়ে ছিলেন তেনজিং। একজন অসামান্য পর্বতারোহী হয়েই তিনি ইতিহাসে বেঁচে আছেন।

অনেকগুলো ছেলেমেয়ে ছিল তার। তাদেরকে আর হিমালয়কে নিয়েই তিনি ছিলেন চরম সুখী। এমনিতে তেনজিং ‘ছাং’ খেতে খুব ভালবাসতেন। স্কচ-হুইস্কি প্রায় ছুঁতেনই না। প্রথম জীবনে নস্যি নিতেন। সেটাও ছেড়ে দেন। খাবারের মধ্যে স্ত্রীর হাতে তৈরি পাহাড়ি অঞ্চলের প্রসিদ্ধ খাবার মোমো ছিল অসম্ভব প্রিয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561616852583.jpg
এভারেস্ট বিজয় ছিল মানব সভ্যতার এক গৌরবময় অর্জন/ছবি: সংগৃহীত

অবাক ব্যাপার হলো, তুষারাবৃত-বরফময় হিমালয়ের এভারেস্ট জয়ীর শেষ বয়সে দার্জিলিংয়ের ঠাণ্ডা হাওয়া-বাতাস সহ্য হত না। অন্তত শীতের মাস ক’টা আরও নিচে নেমে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির মহানন্দা নদীর পাশে থাকতে পছন্দ করতেন তিনি।

বিষয়টি এতোই ভালো লেগেছিল যে, সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য একটি বাড়িও ঠিক করেছিলেন তিনি। কিন্তু সে বাড়িতে শেষ পর্যন্ত তার যাওয়া হয়ে ওঠেনি। পাহাড়ের বীর জাতক পাহাড়েরই এক অন্তিম শয্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৮৬ সালের ৯ মে এই পার্বত্য বীর যখন মারা যান, তখন তার বয়স ছিল ৭১।

চোখ জুড়ানো বৃক্ষমেলা

চোখ জুড়ানো বৃক্ষমেলা
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলছে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা/ছবি: বার্তা২৪.কম

'শিক্ষায় বন প্রতিবেশ, আধুনিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা। বৃক্ষ মেলাকে ঘিরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে বিশাল মাঠে তৈরি হয়েছে ঘন সবুজের সমারহ। মেলায় স্থান পাওয়া নানা প্রজাতির গাছ, থোকায় থোকায় ধরে থাকা চেনা-অচেনা ফল, প্রস্ফুটিত ফুলের সৌন্দর্য্যে চোখ জুড়িয়ে যায়। বনজ, ফলজ, ঔষধি গাছ কিংবা ঘর সাজানোর অর্কিড, বনসাই-কী নেই মেলায়!

নানা বয়সী, শ্রেণি পেশার ক্রেতাদের পদচারণায় বেশ জমে উঠেছে বৃক্ষমেলা। আষাঢ়ের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও ঢাকার আকাশে রোদের তেজ এখনও প্রখর। ভ্যাপসা গরমে তাই সকালের দিকে মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কম থাকলেও দুপুরের পর থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। এই সময় ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় থেকে যতটা না গাছ কিনছেন তার চেয়ে বেশি ঘুরে দেখছেন। কারো পছন্দ হলে গাছ কিনে খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561614680905.jpg

বুধবার (২৬ জুন) বৃক্ষ মেলা ঘুরে এ চিত্রই দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্টলগুলো অর্কিড, বনসাই, বীজ, সার, ছোট কৃষিযন্ত্রপাতি দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। স্টলের সামনের জায়গায় থরে থরে সাজানো নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছ। ফলের চারাগুলোতেও ধরেছে মৌসুমী ফল। বিশেষ করে গাছে ঝুলনো রসালো টসটেস আম চোখে পড়ার মত। এছাড়াও পাকা কাঁঠাল, জাম্বুরা, কমলা, বেদেনা, মাল্টার -ঘ্রাণ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। গোলাপ, গাঁদা, কনকচাঁপা, নয়নতারা, টুগর, জুঁই আপনাকে সম্ভাষণ জানাবে। দমকা বাতাসের তালে পাতা, ফুল ও ফলের দুলে ওঠা যেকোনো বৃক্ষপ্রেমীর মনকেও দুলিয়ে যাবে। স্টলের ডিসপ্লেতে সাজানো ক্যাকটাস আর অর্কিডও নজর কেড়ে নিবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561614696708.jpg

মেলা ঘুরে চেনা অচেনা নানা প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ দেখতে পাওয়া যাবে। এদের মধ্যে আছে-ডুরিয়ান, অলিভ, কাউ, পিচ, কিউই ফল, অ্যাভোকেডো, আলমন্ডা, ড্রাসিনা, চেরী ফল, পার্সিমন ফল, ড্রাগন, ট্যাং ফল, অ্যাপ্রিকট ফল, আদা জামির, স্ট্রবেরি পেয়ারা, বিলাতি গাব, রাম্বুটান, জয়ফল, সাদা নাশপতি, রাবাবা, মাল বেরি , লোকাট ফল, এবিউ ফল কালোজাম, সাতকরা, সফেদা, কদবেল, আতা, কুল, বড়ই, ডালিম, করমচা, বেল, জাম্বুরা, কাঁঠাল, লাল কাঁঠাল, চাম কাঠাল, ডুমুর, কাজু বাদাম, জবা ফুল, ম্যান্ডেভিলা, ফুল, হাসনাহেনা, পলাশ, কনকচাপা, বাসন্তি, মালতী, নয়নতারা, আঁশফল, ঘৃতকুমারী, লটকনসহ নাম জানা-অজানা হাজারো  ফল ও ফলের দেশি-বিদেশি গাছ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561614739933.jpg

মেলায় স্টলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর দাম প্রজাতি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন। ২০ টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকার চারা এখানে স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বনসাইয়ের। চায়না প্রজাতির কোনো কোনো বনসাইয়ের সর্বোচ্চ দাম ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। এরপর ফলজ উদ্ভিদের চারা যেগুলোতে ফল ধরে আছে সেগুলোর সর্বোচ্চ দাম ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, ফুলের চারা, ওষধি গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যেই।

খাঁন নার্সারির ম্যানেজার সোহেল শিকদার বার্তা২৪.কম’কে জানান, ‘তাদের স্টলে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা দামের গাছের চারা আছে। বেশি দামের চারার বিক্রি কিছুটা কম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561614802324.jpg

মেলায় ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সকলেই ঘুরতে এসেছেন। নারায়নগঞ্জ থেকে মেলায় গাছ কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘বাগান করব বলে এখানে গাছ কিনতে এসেছি। এখানে এসে নানা প্রজাতির গাছ দেখতে পাচ্ছি। ভালো জাতের গাছ পেলে কিছু গাছ কিনে নিয়ে যাব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অহিদুজ্জামান অভি বলেন, গাছ আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এই মেলায় এলে আমরা নানা প্রজাতির গাছের সঙ্গে পরিচিত হতে পারি। তাই সময় পেলেই প্রতিবছরই বৃক্ষ মেলায় আসি।

আশুলিয়া গার্ডেন সেন্টারের মালিক সানী সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, বৃক্ষপ্রেমীরা বছরজুড়ে এই মেলার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। এত বড় বৃক্ষমেলা আর কোথাও হয় না। বৃক্ষমেলা ঘুরে দেখতে অনেকেই দেশ বিদেশ থেকে মেলায় আসেন। এবারের বিক্রি এখন পর্যন্ত ভালোই।

উল্লেখ্য, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী এই বৃক্ষমেলা চলবে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত। মেলায় মোট ১০৫ টি স্টল রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য বৃক্ষমেলায় প্রবেশ একদম ফ্রি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র