Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘ডার্ক মোডে’ মিলবে চোখের শান্তি?

‘ডার্ক মোডে’ মিলবে চোখের শান্তি?
ডার্ক মোডেই স্মার্টফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে
সাফাত জামিল
কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

আপনি নিশ্চয়ই অতিসম্প্রতি এমন কোনো নতুন স্মার্টফোন বা পিসি অ্যাপ ব্যবহার করেছেন, যেখানে শুরুতেই ছিল ‘ডার্ক মোড’-এ সুইচ করবার অপশন। তাৎক্ষণিকভাবে আপনি হয়তো সাদরে গ্রহণ করেছেন এই আহ্বান, সাথে আপনার চোখজোড়া অনুভব করেছে প্রশস্তি। কিংবা সুইচ না করে ভাবতে শুরু করেছেন এই গাঢ় আবহ আপনার চোখজোড়ায় আদৌ কোনোরূপ আরাম নিশ্চিত করে কিনা। এককথায় এর যথার্থ উত্তর কিন্তু এখনো অজানা।

উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস—সব অপারেটিং সিস্টেমে বর্তমানে ভীষণ জনপ্রিয় এই ডার্ক মোড বা ডার্ক থিম ফিচার। শুধু এই অপারেটিং সিস্টেমগুলো দ্বারা পরিচালিত ডিভাইসগুলোই নয়, ডার্ক মোড পৌঁছে গেছে এ সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলোতেও। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, টুইটার, ইউটিউব, অপেরা, ফায়ারফক্সসহ নিত্যব্যবহার্য অ্যাপ, সাইট ও ব্রাউজারে যুক্ত হওয়া এই ডার্ক থিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। একসময়কার নগন্য এই ফিচার বর্তমান সময়ের প্রায় সকল মাধ্যমের এক বিল্ট-ইন অপশন, ভাবা যায়?

যান্ত্রিক পর্দার এই উজ্জ্বলতা ও অন্ধকারাচ্ছন্নতার মধ্যকার সম্পর্কের পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে একাধিক বিষয়। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হচ্ছে দিনের বিভিন্ন ভাগে কাজের পরিমাণ ও ধরনের পরিবর্তন। ধরা যাক, খুব ভোরে কিংবা সূর্যোদয়েরও আগে আপনি ট্যাব, ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোনে পড়ছেন অনলাইন কোনো পত্রিকা। অর্থাৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ ও উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ড। আবার দিনের কোনো সময় হয়তো কাজ করছেন উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ডের ওয়ার্ড বা স্প্রেডশিটে। আর দিনশেষে আবারও অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ, যেখানে আপনার নেটফ্লিক্সের ব্যাকগ্রাউন্ডটাও বেশ আবছা।

ভিন্ন ভিন্ন এসব পরিস্থিতি নানাভাবে আপনার চোখে চাপ প্রয়োগ করে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা দিনের মধ্যভাগের ওপর ভিত্তি করেই নানারূপ নিরীক্ষা করেছেন। আলোকিত পর্দা, গাঢ় লেখা আর উজ্জ্বল পরিবেশ—ডার্ক মোড প্রচলনের আগে কমবেশি এমনই ছিল সবার ব্যবহৃত ডিভাইসের পর্দা। এ বিষয়ক অল্প কিছু গবেষণার মধ্যে একটি বলছে, দিনের মধ্যভাগে আশপাশের উজ্জ্বলতার মাঝে স্মার্টফোনের টেক্সট বা অক্ষরগুলোয় গাঢ়ভাব থাকলে তাতে ব্যবহারকারীর জন্য লেখা পড়তে ও বুঝতে অধিক কার্যকরী হয়। এছাড়াও রঙের এই বৈপরীত্য পাঠযোগ্য যে কোনো কিছুর সকল খুঁটিনাটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/07/1565188683956.jpg
◤ টুইটারের ‘ডিম থিমে’ প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে নীল রংয়ের অক্ষর ◢

 

তবে অন্ধকার ঘরের ক্ষেত্রে চিত্রটি একদমই উল্টো। সাদা পর্দার সাথে গাঢ়রঙা টেক্সটের কম্বিনেশন তখন নিশ্চিতভাবেই চোখের জন্য সৃষ্টি করে অতিরিক্ত চাপ। এক্ষেত্রে রাতের বেলায় গেমিং, ই-বুক কিংবা টুইটারে ব্যস্ত থাকা মানুষদের জন্য ডার্ক মোড যেন এক আশীর্বাদ—অন্য প্রায় সবার জন্য যা এখন হয়ে গেছে অপরিহার্য এক ফিচার।

বাংলাদেশে টুইটারের জনপ্রিয়তা তুলনামূলক কম হলেও অন্যান্য দেশগুলোয় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এর নতুন দুই ডিসপ্লে মোড—‘ডিম’ ও ‘লাইটস আউট’। গাঢ় নীলাভ ব্যাকগ্রাউন্ডের ডিম মোড পছন্দ না হলে চাইলেই সুইচ করতে পারবেন পুরোপুরি কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের লাইটস আউটে। উভয় ফিচারেই রয়েছে টেক্সটের রঙ নির্ধারণে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন অপশন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/07/1565188768964.jpg
◤ বেশ সাড়া ফেলেছে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের ডার্ক মোডও ◢

 

চলতি বছরের শুরুতে এই আলোচিত ফিচার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার অ্যাপে আসার পর তা সাদরে গ্রহণ করেছে সবাই। বিশ্বব্যাপী এখন প্রায় নব্বই শতাংশ ম্যাসেঞ্জার ব্যবহারকারীর প্রথম পছন্দ এই ডার্ক মোড—যা অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস উভয় অপারেটিং সিস্টেমেই পাওয়া যাচ্ছে।

যদিও উজ্জল ব্যাকগ্রাউন্ডে গাঢ় অক্ষরের ব্যবহার এখন পর্যন্ত আদর্শ পদ্ধতি বলেই বিবেচিত, টেক জায়ান্ট গুগলের ভাষ্যমতে এই ডার্ক ফিচার স্বল্প দৃষ্টিশক্তির অধিকারী ও উজ্জ্বল আলোর প্রতি সংবেদনশীল ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী হবে। যেমন, ‘ফটোফোবিয়া’ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে পর্দার অতি উজ্জ্বল আলো মাইগ্রেনের ব্যথার উদ্রেক ঘটাতে পারে। ডার্ক মোড এমন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে। তবে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী এটি নিতান্তই এক নতুন স্টাইলিশ লুক হিসেবে বিবেচনা করছেন। প্রচলিত উজ্জ্বল আলোর পর্দার একঘেয়েমি থেকে নিস্তার পেতেই অনেকের পছন্দের শীর্ষে এই ডার্ক মোড।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/07/1565188829879.jpg
◤ ডার্ক মোডের সুবিধাজনক দিকগুলোই প্রাধান্য দিচ্ছে গুগল ◢

 

এছাড়াও ব্যাটারি লাইফ সাশ্রয়ের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবাইকে পেছনে ফেলেছে এই ডার্ক ফিচার। ওএলইডি ডিসপ্লেতে পরিচালিত ডিভাইসগুলোর ব্যাটারি ব্যাকআপ অক্ষুণ্ণ রাখতে এটি দারুণ কার্যকরী। এধরনের ডিসপ্লেতে সাদা টেক্সটযুক্ত কালো পর্দার প্রদর্শনে গাঢ় টেক্সটযুক্ত উজ্জ্বল পর্দার থেকে কম ব্যাটারিশক্তি খরচ হয়। পর্দার উজ্জ্বলতার তারতম্যভেদে ইউটিউবের ডার্ক মোড ১৫ হতে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাটারি সাশ্রয় করতে সক্ষম—এমনটাই জানিয়েছে গুগল। যদিও গুগলের পিক্সেল ফোন, স্যামসাং-এর ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসগুলো ছাড়া খুব কম স্মার্টফোনেই রয়েছে এমন ওএলইডি ডিসপ্লে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/07/1565189122533.jpg
◤ ইউটিউবের ডার্ক মোড ১৫%-৬০% ব্যাটারি সাশ্রয় করতে সক্ষম ◢

 

পরিশেষে বলা যায়, এই ফিচার ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে পুরোপুরি আপনার ওপর। হালের জনপ্রিয় এই ডার্ক মোড বা থিম যে চোখের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আরামদায়ক ফিচার—তার স্বপক্ষে এখনো মেলেনি শক্ত কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি। বিশেষ করে উজ্জ্বল পরিবেশে এখনো উজ্জ্বল আলোকিত পর্দাই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত। তাই আপনি যদি ডার্ক মোডের একান্তই অন্ধভক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সঠিক সমাধান হচ্ছে দিনে-রাতে অদলবদল করে সাধারণ মোড এবং ডার্ক মোড ব্যবহার করা। প্রায় সবকটি অপারেটিং সিস্টেমে এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ডার্ক থিম চালু করার সুবিধা রয়েছে, ব্যাটারি সেভারের পাশাপাশি যেখানে আপনার বেঁধে দেওয়া সময়ে স্মার্টফোন বা পিসির ডিসপ্লে চলে যাবে গাঢ় আঁধারের জাদুকরী রাজ্যে।

আপনার মতামত লিখুন :

শুভ জন্মদিন, মিস্টার ফিফটি

শুভ জন্মদিন, মিস্টার ফিফটি
তাঁর মাঠে নামা মানেই ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব স্কোরের নিশ্চয়তা

এদেশের ক্রিকেটের সোনালি অতীতে নির্ভরতার অন্যতম প্রতীক কাজী হাবিবুল বাশার সুমন আজ পা রাখলেন ৪৭ বছর বয়সে। ১৯৭২ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার নাগকান্দায় জন্ম নেওয়া এই ডানহাতি টাইগার গ্রেটের হাত ধরেই বহু গৌরবময় অর্জনের সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গুরু ডেভ হোয়াটমোরের সাথে অধিনায়ক বাশারের দারুণ যুগলবন্দীতে অর্জিত হয়েছে অনেক মাইলফলক।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে বাশারের আবির্ভাব ১৯৮৯ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ দলে অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে। ছোটদের এশিয়া কাপের সেই আসরে আরো ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী, অজয় জাদেজা, মারভান আত্তাপাতু ও মঈন খান। এর আগে ও পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলে ডাক পান ১৯৯৫ সালে—এবার ‘বড়দের’ এশিয়া কাপে। সেবার শারজাহতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে অভিষেকও হয় তাঁর।

তবে শুরুতেই ইনজুরি হানা দেয় তাঁর ক্যারিয়ারে। পুরো ফিটনেস ফিরে না পাওয়া হাবিবুল বাদ পড়েন ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফির দল থেকে। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় তরুণ টাইগার বাহিনী। তবে সেবছরের এশিয়া কাপেই দলে ফিরে আসেন বাশার। কিন্তু বিধি বাম—ইনজুরি পরবর্তী ধারাবাহিক ব্যর্থতার মাশুল হিসেবে হাবিবুল বাশার জায়গা হারান ১৯৯৯ আইসিসি বিশ্বকাপ দলে। তবে হাল ছাড়েননি বাশার, এডি বারলোর সাহচার্যে কঠোর পরিশ্রম আর ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে বিস্তর গবেষণায় বিশ্বকাপের পরই ফিরে আসেন দলে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক হতে শুরু করেন দ্রুতই। ২০০০ সালের শুরুতে বেশ কয়েকটি ম্যাচে অনবদ্য ব্যাটিংয়ে নজর কাড়েন সবার। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচ। চোখ বন্ধ করে যেটা বাশারের নিজেরও প্রথম টেস্ট হওয়ার কথা, ঠিক তখনই বেঁকে বসেন নির্বাচকেরা। আকস্মিকভাবে সেই প্রথম টেস্টের দলে ঠাঁই হয়নি বাশারের। তবে তাঁর ব্যাটের ধারাবাহিক সাফল্য কথা বলেছে তাঁর পক্ষে। ফর্মে থাকা পুরোপুরি ফিট একজনকে বাদ দেওয়ার এমন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি গণমাধ্যমের নিন্দার মুখে পড়া নির্বাচকেরা বাধ্য হয়ে ফের ঘোষণা করেন হাবিবুলসহ নতুন দল। ভারতের বিপক্ষে নিজের ও দেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচে দুর্দান্ত এক ফিফটিতে হাবিবুল যেন সে সিদ্ধান্তের যথার্থতাই প্রমাণ করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566050114840.jpg
◤ টেস্টের আঙিনায় বাংলাদেশের অভিষেকে প্রথম ফিফটি করেন হাবিবুল বাশার ◢


সেই পারফর্মেন্সের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাশারকে। ক্রিজে দ্রুতই থিতু হওয়ার সক্ষমতায় অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকলেও অর্ধশতকের ইনিংসগুলোকে শতকে রূপান্তরের ধারাবাহিক ব্যর্থতা তাঁকে তাড়া করেছে ক্যারিয়ারজুড়েই। সব সংস্করণ মিলিয়ে নামের পাশে ২৪টি হাফ সেঞ্চুরি থাকলেও সেঞ্চুরির সংখ্যা তাই মাত্র ৩, যার প্রতিটিই আবার টেস্ট ফরম্যাটে। মজার তথ্য—তাঁর খেলা টেস্ট ম্যাচের সংখ্যাও ঠিক ৫০, যেখানে ইনিংস সংখ্যা আবার ঠিক ৯৯! একের পর এক ফিফটিতে পাকাপাকিভাবেই তাই পেয়ে যান মিস্টার ফিফটি ডাকনামটি। দলের ত্রাণকর্তা হয়ে সেট হয়ে যেতেন দ্রুতই, মাঠে নামা মানেই ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব স্কোরের নিশ্চয়তা। টেস্টে তাই বাংলাদেশের হয়ে ত্রিশোর্ধ্ব গড়ের অধিকারীদের তালিকায় তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমের পরপরই রয়েছেন হাবিবুল বাশার সুমন।

প্রথাগত টেস্ট ব্যাটিংয়ের জন্য মানানসই প্রায় সব স্ট্রোকের নিদর্শন পাওয়া যেত মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের ভক্ত বাশারের ইনিংসগুলোয়। তাঁর ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ রানই এসেছে মিডউইকেট বরাবর খেলা নান্দনিক ড্রাইভ শটে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশিবার আউট হয়েছেন হুক শট চেষ্টা করতে গিয়ে। ভারতের বিপক্ষে সেই অভিষেক টেস্টের আগে বাশার একরকম প্রতিশ্রুতিই দেন যে এই হুকের নেশা দ্রুতই ত্যাগ করবেন। বলা বাহুল্য, ৭১ ও ৩০ রানের ইনিংস দুটি খেলার পথে ঠিকই দু-দুবার সফলতার সাথে হুকের লক্ষ্যে ব্যাট চালিয়েছেন নাছোড়বান্দা হাবিবুল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566050277732.jpg
◤ প্রায় সব স্ট্রোকের নিদর্শন পাওয়া যেত বাশারের ইনিংসগুলোয় ◢


কারো কারো মতে, বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়কও তিনি। যদিও পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে এগিয়ে আছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, তবু সময় ও পরিস্থিতির বিচারে অধিনায়ক হাবিবুলের অবদান অনস্বীকার্য। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে দলের অধিনায়কত্ব লাভ করার পরপরই বাশার ব্যাট হাতে হয়ে ওঠেন দুর্ধর্ষ। তৎকালীন টাইগার কোচ ডেভ হোয়াটমোরকে নিয়ে হাবিবুল শুরু করেন দলের ব্যাটিং মেরুদণ্ডের পুনর্গঠন। এছাড়া শূন্য অভিজ্ঞতার তরুণদের সাথে খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ, মোহাম্মদ রফিকদের মতো অভিজ্ঞদের দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ এক মেলবন্ধন সৃষ্টি করেন তিনি। নিজের স্মরণীয় ইনিংসটিরও দেখা পান অধিনায়ক হবার বছরেই। সেন্ট লুসিয়ায় নিজের তৃতীয় ও সর্বশেষ সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিশ্চিত করেন দারুণ এক ড্র। ১১৩ রানের সেই কাব্যিক ইনিংস ছিল তাঁর ক্যারিয়ার-সেরা স্কোর।

তবে বাংলাদেশের অনেক ‘প্রথম’-এর সাক্ষী হাবিবুলের হাত ধরে সেরা সাফল্য আসে ঠিক তার পরের বছরই। ২০০৫ সালে সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ দল দেখা পায় প্রথম টেস্ট ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের। শুধু তাই নয়, সেবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়টিও ছিল দেশের ইতিহাসে প্রথম। সব মিলিয়ে মোট ১৮টি টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাবিবুল বাশার, চারটি ড্রয়ের পাশে যেখানে জয় শুধু সেই একটিই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566050398915.jpg
◤ দেশের প্রথম টেস্ট ও সিরিজ জয়ের উদযাপন 


সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও অধিনায়ক হিসেবে দারুণ সফল ছিলেন হাবিবুল। মোট ৬৯টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন তিনি, আর জয়লাভ করেন ২৯টি ম্যাচে। জিম্বাবুয়ে বা কেনিয়ার মতো দুর্বল প্রতিপক্ষদের অনায়াসে হারাতে থাকা বাংলাদেশ তাঁর অধিনায়কত্বেই ‘জায়ান্ট কিলার’-এর তকমা পায়। প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের বছর অর্থাৎ ২০০৫ সালের জুনে কার্ডিফে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর অনির্বচনীয় স্বাদ লাভ করে টাইগাররা।

পরবর্তীতে ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে পা রাখেন হাবিবুল, যেটি ২০১৫-এর আগ পর্যন্ত ছিল দেশের শ্রেষ্ঠতম বিশ্বকাপ আসর। সেবার ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ে বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করে সুপার এইট পর্ব। ১৩.১২ গড়ে সর্বোচ্চ ৩২ রান করে ব্যক্তিগতভাবে চরম ব্যর্থ হাবিবুল অধিনায়কত্ব পালন করেছেন যথাযথভাবেই। তবে ব্যাটসম্যান বাশারের সেই অধঃপতনের ধারা বজায় থাকে পরবর্তী সিরিজগুলোতেও। বিশ্বকাপের পরপরই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ হেরে নিজে থেকেই ইস্তফা দেন ওয়ানডে অধিনায়কত্ব। ব্যাটিংয়ে আরেকটু মনোযোগী হয়ে থাকতে চেয়েছিলেন ওয়ানডে দলের অংশ হিসেবে, ছাড়তে চাননি টেস্ট ক্রিকেটও। ১৯ ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি ছুঁতে না পারার ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রথম টেস্টের পরই জায়গা হারান দলে। এমন নড়বড়ে অবস্থায় বোর্ড বাতিল করে তাঁর টেস্ট অধিনায়কত্ব, দুই সংস্করণেই সেই জায়গায় আসেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এর পরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান দেশের ক্রিকেটের হার না মানা এক নাবিক হাবিবুল। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566050500823.jpg
◤ তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ দেখা পায় প্রথম টেস্ট ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের ◢


২০০৮ সালে নিষিদ্ধ ও স্বীকৃতিহীন তৎকালীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগ—আইসিএলের দ্বিতীয় আসরে দেশের মোট ১৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে যোগ দেন হাবিবুল। ঢাকা ওয়ারিয়র্স নামের দলটিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, লাভ করেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। তবে এই আইসিএলে খেলার বিদ্রোহী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানায়নি বিসিবি। সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত হন বাশারসহ ঢাকা ওয়ারিয়র্সের সব সদস্য। পরে তা প্রত্যাহার করা হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটসহ সব ফরম্যাট থেকেই ২০০৯ সালে নিজেকে গুটিয়ে নেন বাশার। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করা দুই পুত্রসন্তানের জনক হাবিবুল বাশার সুমন বর্তমানে যুক্ত আছেন বিসিবির অন্যতম নির্বাচক ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পরামর্শক হিসেবে।

বাংলাদেশ দলকে নিয়েও যে বাজি ধরা যায়, তাঁর হাত ধরেই সেটা জেনেছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। হাঁটি হাঁটি পায়ের অনেক স্মরণীয় বিজয় উল্লাসের উপলক্ষ এনে দেওয়া মিস্টার ডিপেন্ডেবল হাবিবুল বাশারের প্রতি রইলো জন্মদিনের শুভেচ্ছা!

বাংলা ব্যান্ড ও রক সংগীতের প্রাণপুরুষ আইয়ুব বাচ্চু

বাংলা ব্যান্ড ও রক সংগীতের প্রাণপুরুষ আইয়ুব বাচ্চু
শুভ জন্মদিন আইয়ুব বাচ্চু!

‘চলো বদলে যাই বলে’ ডাক দিয়ে সংগীতপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে ঝড় তুলেছেন তিনি। ‘হাসতে দেখো, গাইতে দেখো’ বলে গান গেয়ে মিশে গিয়েছেন শ্রোতাদের নিত্য-আবেগের সাথে। ‘রুপালি গিটার’-এর জাদুকর তিনি। বাংলাদেশের ব্যান্ড ও রক সংগীতাঙ্গনের অন্যতম প্রবাদপুরুষ। তিনি আইয়ুব বাচ্চু। গত বছরের ১৮ অক্টোবর ‘ঘুমভাঙা শহর’ ছেড়ে অন্যভুবনে পাড়ি জমানো এই কিংবদন্তির ৫৭তম জন্মদিন আজ।

আইয়ুব বাচ্চুর বেড়ে ওঠা ও সংগীতের হাতেখড়ি চট্টগ্রামে। ১৯৭৬ সালে কলেজ জীবনে ‘আগলি বয়েজ’ নামে ব্যান্ড গঠনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তাঁর সংগীত-জীবন। ১৯৭৭ সালে যোগদান করেন ফিলিংস (বর্তমানে ‘নগর বাউল’) ব্যান্ডে। ব্যান্ডটির সাথে কাজ করেছিলেন ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। একই বছরে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড সোলসে প্রধান গিটারবাদক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। সোলসের সাথে থাকার সময় ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সুপার সোলস (১৯৮২), কলেজের করিডোরে (১৯৮৫), মানুষ মাটির কাছাকাছি (১৯৮৭) এবং ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট (১৯৮৮) এই চারটি অ্যালবামে কাজ করেছিলেন। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565950779278.jpg
◤ বাচ্চু যখন ছিলেন আরেক কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘সোলস’-এর সাথে (দ্বিতীয় সারিতে, ডান থেকে দ্বিতীয়) ◢


তবে, আইয়ুব বাচ্চুর লক্ষ্য ছিল নিজে উদ্যোগী হয়ে বড় কিছু করা। সে কারণে ১৯৯১ সালে আরো তিনজন ব্যান্ড মেম্বার নিয়ে গঠন করেন নিজের ব্যান্ড এলআরবি (লিটল রিভার ব্যান্ড)। পরে অবশ্য সংক্ষিপ্ত রূপ ঠিক রেখে বদলে ফেলা হয় নামের পূর্ণাঙ্গ অর্থ। হয়ে যায় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ (এলআরবি)। এই ব্যান্ড থেকে জন্ম হয়েছে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গানের। ১৯৯২-তে ‘এলআরবি-১’ ও এলআরবি-২’ নাম দিয়েই তারা বের করে সেলফড টাইটেল অ্যালবাম। বাংলাদেশে প্রথম সেলফ টাইটেটেলড অ্যালবাম বের করে এলআরবিই। আরো উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একসাথে ডাবল অ্যালবাম রিলিজ দেওয়ার প্রথম উদাহরণও এটি। এরপরে, সেই বছরই ব্যান্ডের তৃতীয় অ্যালবাম ‘সুখ’ মুক্তি পায়। এই অ্যালবামের ‘চলো বদলে যাই’ গানটি পরিণত হয়েছিল বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় গানগুলোর একটিতে, যা আজও ঘুরেফেরে সংগীতপ্রেমীদের মুখে মুখে।

এছাড়াও, ব্যান্ডটি উপহার দিয়েছে ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘পেনশন’, ‘হকার,’ ‘বাংলাদেশ’-এর মতো অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গান। এরপরে আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে ব্যান্ড থেকে বের হয় ‘স্বপ্ন’, ‘মন চাইলে মন পাবে’সহ আরো বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় অ্যালবাম। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবরে পরলোকে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জড়িত ছিলেন তাঁর এই প্রাণপ্রিয় ব্যান্ডটির সাথেই। বাংলা হার্ড রক ঘরানার গান তরুণ প্রজন্মের মাঝে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে আইয়ুব বাচ্চুর এলআরবির এই অ্যালবামগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565950935258.jpg
◤ বাংলা হার্ড রক সংগীতে প্রাণসঞ্চার করেছিল আইয়ব বাচ্চুর নিজ হাতে গড়া ব্যান্ড এলআরবি ◢


ব্যান্ডদল সফলভাবে পরিচালনা ও এক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করা ছাড়াও একক ক্যারিয়ারেও তিনি ছিলেন দারুণ সফল। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্ত গোলাপ’ বের হয়েছিল ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’ বের হয়েছিল ১৯৮৮-তে। মোটামুটি জনপ্রিয়তা প্রায় অ্যালবামগুলো। এরপর, তাঁর তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’ বের হয় ১৯৯৫-তে। রীতিমতো বাজার মাত করে দেয় অ্যালবামটি! শিরোনাম গান ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি’ ছড়িয়ে পড়ে সবার মুখে মুখে। জনপ্রিয়তা পায় এই অ্যালবামের ‘অবাক হৃদয়’, ‘বহুদূর যেতে হবে’, ‘আমার একটা নির্ঘুম রাত’সহ অন্যান্য গানও। বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামেও তিনি উপহার দিয়েছেন ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো,’ ‘তারা ভরা রাতে,’ ‘কেউ সুখী নয়’-এর মতো অসম্ভব জনপ্রিয় গান। ২০০৭ সালে দেশের প্রথম বাদ্যযন্ত্রগত অ্যালবাম ‘সাউন্ড অফ সাইলেন্স’ প্রকাশ করেন তিনি।

শুধু যে একজন ভোকাল বা কণ্ঠশিল্প হিসেবেই তাঁর জনপ্রিয়তা ও ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, এমনটি নয়। গিটার হাতেও তিনি ছিলেন সত্যিকার এক জাদুকর। হার্ডরক সংগীতের তালে তালে তাঁর দ্রুতলয়ের গিটার বাদনের স্টাইল অনুপ্রাণিত করেছে পুরো একটি প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল গিটারিস্টদের। ‘দ্য টপ টেনস’ তাকে বাংলাদেশের ‘শ্রেষ্ঠ ১০ জন গিটারবাদক’-এর তালিকায় রেখেছিল ২য় স্থানে (১ম স্থানটি ‘ওয়ারফেজ’-এর ইব্রাহীম আহমেদ কমলের)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565951023494.jpg
◤ বাচ্চুর তুমুল জনপ্রিয় ‘কষ্ট’ অ্যালবামের ফ্ল্যাপ 


রক ও ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি হলেও, তিনি আসলে ছিলেন বহুমাত্রিক একজন শিল্পী। গান গেয়েছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের জন্যও। আম্মাজান ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘আম্মাজান, আম্মজান’, লুটতরাজ ছবিতে ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, সাগরিকা ছবিতে ‘সাগরিকা’সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্যেও।

এলআরবির সাথে মিলে তিনি জিতেছেন ছয়টি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার এবং একটি সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস। ২০০৪ সালে বাচসাস পুরস্কার জিতেছিলেন সেরা পুরুষ ভোকাল বিভাগে। ২০১৭ সালে জিতেছেন টেলে সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে আইয়ব বাচ্চু ছিলেন সুখী একজন মানুষ। বাচ্চু তার বান্ধবী ফেরদৌস চন্দনাকে বিয়ে করেছিলেন ১৯৯১ সালের ৩১ জানুয়ারিতে। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দুই সন্তান তাঁদের ঘরে। ছয় বছর ধরে ফুসফুসে পানি জমার অসুস্থতায় ভোগার পর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় মারা যান আইয়ুব বাচ্চু।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565951073794.jpg
◤ ব্যান্ড সংগীতের অন্য দুই কিংবদন্তী জেমস ও হাসানের সাথে আইয়ুব বাচ্চু ◢


মাত্র ৫৬ বছয় বয়সে তিনি মারা যান, যেটাকে অনেকেই বলতে পারেন আকাল মৃত্যু। তবে, বাংলা ব্যান্ড ও রক সংগীতে তাঁর মতো বিশাল অবদান রেখেছেন, এমন মানুষ আরেকটাও খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই নিজের কাজের মাধ্যমেই আইয়ুব বাচ্চু ভক্ত, শ্রোতা ও সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে টিকে থাকবেন চিরকাল। কোনো এক ‘মায়াবী সন্ধ্যায়’ বা ‘তারা ভরা রাতে’ অনুরণিত হতে থাকবে ‘এবি-দ্য বস’-এর গান বা গিটারের সুর রকগানপ্রেমী ও ভবিষ্যত প্রজন্মের সংগীতকারদের মনে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র