Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রাচীন মিশরের যে আবিষ্কারগুলো ছিল আধুনিক সভ্যতার ভবিষ্যদ্বাণী

প্রাচীন মিশরের যে আবিষ্কারগুলো ছিল আধুনিক সভ্যতার ভবিষ্যদ্বাণী
মিশরীয় সভ্যতা : মানব ইতিহাসের এক সন্ধিঃক্ষণ
আহমেদ দীন রুমি
কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

নৃতাত্ত্বিক এবং গবেষকদের কাছে প্রাচীন মিশর একটা বিস্ময়। ক্যালেন্ডার থেকে লেখার ধারণা, অপারেশনের যন্ত্রপাতি থেকে আকাশচুম্বি নির্মাণ—মিশরীয় সভ্যতাকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় উন্নীত করেছে। ঠিক কিভাবে পিরামিড কিংবা মমি তৈরি করা হতো, এ নিয়ে এখনো দ্বিধাবিভক্ত গবেষকরা।

প্রাচীনকালে সভ্যতাগুলো গড়ে উঠেছে নদীকে কেন্দ্র করে। ভারতে সিন্ধু নদ, মেসোপটেমিয়ায় টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর উপকূল এবং চীনে ইয়োলো নদী। মিশরীয় সভ্যতাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। নীল নদের তীরে জন্ম নেওয়া এই সভ্যতা অনেক দিক দিয়েই পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করেছে। সভ্যতার কেন্দ্র বলে যে গ্রিকদের কদর করা হয়, সেই গ্রিকরাও মিশরীয়দের কাছে ঋণী। থেলিস, পিথাগোরাস কিংবা খোদ এরিস্টটলের বহু ধারণাই প্রাচীন মিশরীদের থেকে গৃহীত।

যে সব আবিষ্কার মানবসভ্যতার গতিমুখ বদলে দিয়েছে মিশরীয় সভ্যতার এমন কিছু অবদান নিয়েই আজকের আয়োজন।

ধাতব যন্ত্রপাতি

আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগেই মিশরীয়রা টিন এবং তামাকে মিশ্রিত করে ব্রোঞ্জ তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিল। ব্রোঞ্জ অন্যান্য ধাতু থেকে অধিক স্থায়ী এবং মজবুত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এই যুগ ব্রোঞ্জ যুগ বলে স্বীকৃত। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565255025861.jpg
◤ বিশেষ করে ব্রোঞ্জের ব্যবহারে তাদের দক্ষতা বিস্ময়কর ◢


ব্রোঞ্জের নির্মিত আসবাবপত্র, অস্ত্র, নির্মাণ কিংবা প্রসাধনী সামগ্রীর হদিস পাওয়া গেছে। আনুপাতিক মিশ্রণ এবং নির্মাণের নিখুঁত পরিকল্পনায় তাদের দক্ষতা প্রমাণিত।

লেখালেখি

প্রাচীন মিশরীয়রাই প্রথম সাংগঠনিকভাবে লেখালেখি করেছে। আর সেই সাথে লেখাগুলিকে জমা করে রেখেছে পরবর্তী কোনো পাঠকের জানার জন্য। জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেবার ইতিহাসের পত্তন সেখান থেকেই। মিশরীয়রা লেখার জন্য ব্যবহার করত হায়ারোগ্লিফিক। শব্দগুলো ছবির মতো এই ভাষায়। নৃতাত্ত্বিকেরা ১০০০ পৃথক অক্ষরকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565255161961.jpg
◤ প্রাচীন মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক ◢


হায়ারোগ্লিফিক থেকেই উদ্ভুত হয়েছে হায়ারেটিক এবং ডেমোটিক লিপি। পরবর্তী আরমায়িক এবং গ্রিক লিপির জন্মও সেখান থেকে। এ কারণেই মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিককে আধুনিক অনেক ভাষারই পূর্বপুরুষ বলে গণ্য করা যায়।

প্যাপিরাস

প্যাপিরাস গাছের মজ্জা থেকে কাগজ তৈরির কৌশল মিশরীয়রাই প্রথম বের করেছে। পরবর্তীতে তাদের এই অবদান পুরো ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কারণ ভূমধ্যসাগর ছিল উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্বের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। কাগজে লিখে পেঁচিয়ে স্ক্রল করে সংগ্রহ করা হতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লেখা।

প্যাপিরাসের সবচেয়ে প্রাচীন নজির আবিষ্কৃত হয় ২০১২ সালে। লোহিত সাগরের উপকূলে ওয়াদি আল জারফ নামের প্রাচীন অঞ্চলে। আবিষ্কৃত প্যাপিরাস ২৫৬০-২৫৫০ খ্রিস্টপূর্বব্দের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। গিজা পিরামিডে খননকার্য চালানোর সময়েও পাওয়া গেছে এর নিদর্শন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565255521789.jpg

◤ কাগজ, কালি এবং লেখাতে আছে মিশরীদের অবদান ◢


মিশরীয়রা লাইব্রেরির ব্যবহারও সভ্যতাকে উপহার দিয়েছে। সময়ের ব্যবধানে টিকে থাকা একমাত্র লাইব্রেরি টেবটিউনিস মন্দির লাইব্রেরি। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায়।

কালি

খালি কাগজে তো আর লেখা যায় না। সে কথা চিন্তা করেই প্রাচীন মিশরীয়রা প্রথমবারের মতো প্রস্তুত করেছিল কালি। গাছের আঠা, সবজির রস, কিংবা মোম দিয়ে কালি তৈরি করা হতো। আঠা বা রসের সাথে আবার অন্য এক বা একাধিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হতো বিভিন্ন রঙ।

ষাঁড়ে টানা লাঙল

নদী তীরবর্তীতে সভ্যতা গড়ে ওঠার পেছনে প্রধানতম কারণ তাদের কৃষি নির্ভরতা। মিশরীরাও ব্যতিক্রম ছিল তাদের থেকে। তবে মিশরীয়দের অগ্রসরতার প্রমাণ, কৃষির জন্য ব্যবহৃত লাঙলের আবিষ্কার। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দের দিকে মাটি চাষের জন্য মানুষকে লাঙল টানতে হয়নি; সেই স্থান নিয়েছে ষাঁড়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565255715359.jpg
◤ মিশরীয়দের প্রাচীন কৃষি ব্যবস্থা ◢


মিশরীয়রা সবজি এবং গম চাষে বেশ সফলতা দেখিয়েছে। ফসল কাটা কিংবা মাড়াইয়ের জন্যও নিজস্ব ব্যবস্থার উদ্ভাবন ঘটিয়েছিল।

খাল এবং নালা

সেচব্যবস্থার ক্ষেত্রে মিশরীয়রা পালন করেছে পথিকৃতের ভূমিকা। নীল নদ থেকে সবসময় পানি সবখানে পাবার জন্য খাল এবং নালা খনন করা হয়েছিল। তার ফলে নদ থেকে বহু দূরেও জন্ম নিয়েছিল বিশাল চারণভূমি ও ফসলের মাঠ। পানিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছিল গেইট। খরার সময় যেন পানির অভাবে বিপর্যয়ে পড়তে না হয়, তার জন্য রাখা হয়েছে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565256241207.jpg
◤ প্রাচীন মিশরীয় সেচ ব্যবস্থায় শাদুফের ব্যবহার ◢


মিশরীয়রা জলচক্র আবিষ্কার করেছিল, যার নাম শাদুফ। জলচক্রের একপাশে থাকত বালতি আর অন্য পাশে একটা ভারী বস্তু। বালতিটি নীল নদে ফেলে পূর্ণ করা হতো আগে। তারপর চাকা ব্যবহার করে উত্তোলন করা এবং ঘুরিয়ে নালার উপরে গিয়ে খালি হতো। এভাবে চলত সেচ।

ক্যালেন্ডার

মানবসভ্যতাকে সৌরপঞ্জিকার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার ক্ষেত্রে মিশরীয়দের অবদান অনন্য। কৃষি সম্পৃক্ততার দরুণই ঋতু সম্পর্কে বেখবর থাকা হয়ে উঠেনি। নির্দিষ্ট দিন পরপর পূর্ব আকাশে লুব্ধক নক্ষত্রের আগমন এবং সেই সাথে নীল নদে জোয়ারের মিলে যাওয়ার ঘটনা তাদের আগ্রহী করে তোলে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565256339937.jpg

◤ মিশরীয়দের ব্যবহৃত ক্যালেন্ডার ◢


এভাবে উদ্ভাবিত হয় ৩৬৫দিনের ক্যালেন্ডারের ধারণা, যা বিভক্ত ১২ মাসে। প্রত্যেক মাসে ছিল আবার ৩০দিন করে। বছর শেষে পাঁচ দিন উৎসবের দিন বলে গণ্য করা হতো। সামান্য কিছু ত্রুটি থাকলেও পঞ্জিকার ইতিহাসে তাদের এই প্রচেষ্টা তাৎপর্যপূর্ণ।

ঘড়ি

সূর্যঘড়ির জন্য মিশরীয়রা বিশেষভাবে বিখ্যাত। সূর্যঘড়ি হলো একটা দণ্ড পুতে রেখে তার ছায়ার হ্রাস-বৃদ্ধি হিসাব করে সময় বের করার প্রক্রিয়া। দিনের বিভিন্ন সময়কেই নির্দিষ্ট করা সম্ভব হলো না শুধু এর মাধ্যমে; সেই সাথে জানা গেল দিনের দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565256516740.jpg
◤ সূর্যঘড়ি ◢


খ্রিস্টপূর্ব ১৬ শতকের দিকের এক শিলালিপি পাওয়া গেছে মিশরীয় সমাধিতে। সেই সাথে মিলেছে ‘আমেনেমহেট’ নামের তৎকালে বহুল প্রচলিত জলঘড়ি। পাথরের পাত্রের তলায় ক্ষুদ্র ফুটো তৈরি করলে একটা নির্দিষ্ট অনুপাতে পানি এই পাত্র থেকে কমে যেতে। আগে থেকেই পাত্রের গায়ে চিহ্ন আঁকা থাকত। সেই চিহ্ন নির্দেশ করত সময়ের। যাজকেরা রাতে এই ঘড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্ধারণ করত ধর্মীয় আচার পালনের সময়।

খিলান

আধুনিক নির্মাণে খিলানের জনপ্রিয়তা এর প্রয়োজনের জন্যই। দেয়ালের মাঝখানে খালি স্থান রাখার কথা চিন্তা করেই মূলত খিলানের উদ্ভাবন। রোমান সভ্যতায় খিলানের প্রভূত চমৎকারিত্ব আমাদের বিস্মিত করে। তারও আগে খিলানের ব্যবহার করেছে মিশরীয়রা। পাথরের ওপর পাথর রেখে উপরের দিকে কেন্দ্রে মিলিত হতো দুই পাশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565257117538.jpg
◤ মিশরীয়দের খিলান ◢


তাদের এই প্রক্রিয়া অতোটা আধুনিক না হলেও প্রভাবশালী। পরবর্তী সভ্যতাগুলো নিজেদের মতো করে গ্রহণ ও উন্নত করেছে একে।

কাচ তৈরি

খ্রিস্টপূর্ব পনের শতকের দিকেই মিশরীয়রা কাচ উৎপাদন এবং ব্যবহার শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেছে। তৈরি হতো বিভিন্ন রঙের কাচের পাত্র এবং আসবাবপত্র। চীনামাটি, বালি কিংবা অনুরূপ পদার্থসমূহকে উত্তপ্ত করে গলিয়ে ফেলা হতো প্রথম দফায়। আকৃতি দেওয়ার জন্য রাখা হতো অনুরূপ মজ্জার চারপাশে। তারপর বেড় এবং হাতল যোগ করার পর সরিয়ে ফেলা হতো ব্যবহৃত মজ্জা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565257220504.jpg

◤ কাচ উৎপাদনকে তারা নিয়েছিল শিল্পের পর্যায়ে ◢


এই কাচপাত্র চলে যেত ফিনিশীয়, হিব্রু কিংবা গ্রিকদের কাছে। মিশরীয় কাচের সুনাম ছিল গোটা ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল জুড়েই।

আসবাবপত্র

হাওয়ার্ড কার্টার ১৯২৩ সালে তুনেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার করেন। মজার ব্যাপার হলো, সেখানে পাওয়া গেছে অনেক ফার্নিচার। প্রাচীন মিশরীয়রা যে টেবিল, বিছানা, বসার টুল প্রভৃতির সাথে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত ছিল; তা প্রমাণিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565257492943.jpg
◤ প্রাচীন মিশরীয় আসবাবপত্র ◢


প্রথমদিকের টেবিলগুলো ওপরে কিছু রাখার জন্য ব্যবহৃত হলেও পরের দিকে বেশিরভাগ ছিল সেনেতের জন্য। সেনেত ইতিহাসের সবচেয়ে পুরাতন ঘরোয়া খেলার মধ্যে একটা। খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ সালের লিখিত হায়ারোগ্লাফিকেও এর উল্লেখ আছে।

শল্যচিকিৎসার যন্ত্রপাতি

খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ সালের চিকিৎসার প্রণালি লেখা প্যাপিরাসের লিপি পাওয়া গেছে। সেখানে ব্যথা, কাটা, হাড়ভাঙা, স্থানচ্যুতি, ফোঁড়ার মতো ৪৮ প্রকার শল্যচিকিৎসার বিশ্লেষণ, রোগীর পথ্য ও কর্তব্য নিয়ে লেখা আছে। ব্যথাগুলো মূলত বেশির ভাগ মাথা, কাঁধ, গলা, বুক এবং পাঁজর সম্পর্কিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565257716892.jpg
◤ শল্যচিকিৎসাতেও তাদের অবদান পৃথিবীর বাঁক ঘুরিয়ে দেবার মতো ◢


অপারেশনের সময় কর্তব্য এবং বিভিন্ন যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়েছে। বাদ যায়নি ব্যান্ডেজ কিংবা প্লাস্টারের কথাও। কালো আর লাল কালির মিশেলে লেখা লিপিটি কায়রো জাদুঘরে রক্ষিত আছে। তার সাথে আছে ক্ষুর, শল্যছুরি, ফর্সেপস্, হুক, পিতলের নিডল এবং অন্যান্য অনেক চিকিৎসা বিষয়ক যন্ত্রপাতি।

টুথপেস্ট

মিশরীয়রা টুথপেস্ট আবিষ্কার করেছিল ষাঁড়ের খুড়, ছাই, পোড়া ডিমের খোসা থেকে। এছাড়া রক সল্ট, পুদিনা এবং কিছু নির্দিষ্ট ফুলকে শুকনো করে কাজে লাগানো হতো। সেই সময়ে তাদের এই প্রচেষ্টাই বর্তমানে টুথপেস্ট হিসাবে রূপান্তরিত হয়ে পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565258065483.jpg
◤ এমনকি টুথব্রাশও তাদের আবিষ্কার ◢


মানব সভ্যতার ইতিহাস আবিষ্কারের ইতিহাস। যে সমাজের আবিষ্কারের ঝুলি যত বেশি সমৃদ্ধ, তারা ততো বেশি অগ্রসর। আধুনিক ইউরোপ কিংবা আমেরিকার দিকে তাকালেই সেকথা উপলব্ধি করা সম্ভব। সেই আবিষ্কারের ইতিহাসে মিশরীয়দের অবদান নির্ধারণ করেছে পরবর্তী পৃথিবীর ভাগ্য। আধুনিক মানব তার দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুর জন্যই মিশরীয়দের কাছে ঋণী।

আপনার মতামত লিখুন :

কফি সমাচার

কফি সমাচার
বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি

কফি নামটা শুনলেই অনেকের মধ্যে চাঙ্গাভাব চলে আসে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা কিংবা একঘেয়ে ভাব দূর করতে কফির বিকল্প নেই। আর এই কারণেই বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি। জেগে থাকতে হলে কফি চাই এমনই নিয়ম। অনেকের যেমন দিন শুরু হয় না, তেমনি অনেকের রাতজাগাও অসম্পূর্ণ থেকে যায় কফি ছাড়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641523098.jpg
কফি মূলত একটি ফল


কফি মূলত একটি ফল। আমরা যে কফি পান করি, তা কফির বীজ বা বিন, গুঁড়ো করেই তবে তৈরি হয় কফি। ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে ডাচ koffie শব্দের মাধ্যমে coffee শব্দটি ইংরেজি ভাষায় গৃহীত হয়। এই ডাচ শব্দটি আবার তুর্কি শব্দ kahve থেকে উদ্ভূত; তুর্কি শব্দটি আরবি qahwa শব্দেরই পরিবর্তিত রূপ। এই শব্দান্তরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে কফির বিস্ময়কর ইতিহাস।

কফির আবিষ্কার

কফির আবিষ্কার নিয়ে বেশ কিছু মতবাদ রয়েছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গল্পটি একজন মেষ পালককে ঘিরে। নবম শতকে ইথিওপিয়ায় বাস করত খালদি নামের এক দরিদ্র মেষপালক। একদিন খেয়াল করল তার ছাগলগুলো অন্যদিনের চেয়ে আজ একটু বেশি লাফালাফি করছে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখল লাল জামের মতো একটি ফল খাচ্ছে ছাগলগুলো। ঘটনার বর্ণনাসহ কারণ জানতে ফলগুলো সে নিয়ে যায় মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে। তারপর সেই ইমাম এবং তার ছাত্ররা মিলে এই ফল থেকে তৈরি করে পানীয়, যা আজ কফি হিসেবে পরিচিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641883872.jpg
পাখি কফি খাচ্ছে


অন্য আরেকটি মত অনুযায়ী, কফি মূলত ইয়েমেনে আবিষ্কার হয়। সেখানে ঘোতুল আব্দুল নুরুদ্দীন আবুল আল-হাসান আল-সাদিলি নামে একজন সুফি ছিলেন। তিনি একবার ইথিওপিয়া সফর করতে গেলে একটি পাখিকে লাল রঙের একটি ফল খেতে দেখে কৌতূহলবশত নিজেও তা খেয়ে দেখেন। এরপর আগের সেই গল্পের মতোই তিনিও চাঙ্গা অনুভব করেন এবং আবিষ্কার হয় কফির।

বিক্রির দিক থেকে তেলের পরেই রয়েছে কফি

বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে তেল। আর এরপরই যে বস্তু সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় তা হলো কফি। সারা পৃথিবীতে বছর জুড়ে প্রায় ৫০০ বিলিওন কাপ কফি তৈরি হয়। তবে কফিপানের পরিমাণের দিক থেকে আমেরিকানদের ধারেকাছেও কেউ নেই। আমেরিকানরা গড়ে প্রতিদিন ৪০০ মিলিওন বা ৪০ কোটি কাপ কফি পান করে। বছর শেষে যার পরিমাণ প্রায় ১৪৬ বিলিওন। এরমধ্যে শুধু নিউইয়র্ক শহরে সারা পৃথিবীর তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি কফি পান করা হয়।

পাপের বাহন কফি

কফি আবিষ্কারের পেছনে মুসলমানদের অবদান থাকলেও একটা সময় সৌদি কিংবা মিশরের মতো দেশে ফতোয়া জারি করে কফিপান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একই পরিস্থিতি দেখা দেয় ইউরোপেও। ইতালির ভেনিসেও পৌঁছে গিয়েছিল কফি। কিন্তু এই কফি মুসলমানদের আবিষ্কার হওয়ার কারণে এবং রেড ওয়াইনের জায়গা গ্রহণ করে ফেলায় কট্টর ক্যাথলিকেরা একে শয়তানের তিক্ত আবিষ্কার বলে মন্তব্য করেন। যদিও পরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সবখানেই কফি জায়গা করে নেয় সগৌরবে।

সারা বিশ্বে প্রায় ৫০টির মতো দেশ কফি উৎপাদনের সাথে জড়িত। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছে প্রায় ৫ কোটি মানুষ। আবিষ্কার অন্যত্র হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বে মোট উৎপাদিত কফির ৪০ শতাংশ আসে ব্রাজিল থেকে। বিভিন্ন দেশে ও স্থানে কফি উৎপাদিত হলেও আমেরিকার হাওয়াই-এর কফি সবচেয়ে দামি এবং সর্বোৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

কফির প্রকারভেদ

পৃথিবীব্যাপী যত কফি আছে তাকে মূলত দুইভাগে ভাগ করা যায়—এরাবিকা এবং রোবুস্টা। এরাবিকাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। রোবুস্টা খুব তিতকুটে হওয়ার ফলে এর চাহিদা খুব বেশি নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642015176.jpg
এরাবিকা এবং রোবুস্টা কফির দুই জাত


তবে পানীয় হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় কফি হলো এসপ্রেসো। “এসপ্রেসো” শব্দের অর্থ আক্ষরিকভাবেই “জোর করে কিছু বের করে দেওয়া!” এটি তৈরি করা হয় ফুটন্ত পানি কফির গুঁড়োর ভেতর দিয়ে চালনা করে। জেনে অবাক হবেন সাধারণ কফির তুলনায় প্রতি একক ঘনত্বে ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642084888.jpg
ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে


অন্যদিকে ডিকেইফ নামে একধরনের কফি আছে যেটাকে বলা হয় ক্যাফেইনমুক্ত কফি। এই কফি বানানোর সময় বেশি রোস্ট করা হয় বলে অনেক ক্যাফেইন উড়ে যায়।

দামি কফি

দুনিয়ার অন্যতম দামি কফি—“Kopi Luwak”—এর প্রতি আউন্স বীজের দাম ৬০০ ডলার! অবাক হলেন? এখানেই শেষ না। অবাক হওয়ার এখনো অনেক বাকি। সুমাত্রান নামে এক জাতের জংলি বিড়াল আছে যাদের এই কফির বীজগুলো খাওয়ানো হলেও হজম হয় না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642179467.jpg
দামি কফির নেপথ্য নায়ক সুমাত্রান বিড়াল ◢


ফলে আংশিক পরিবর্তিত হয়ে বেরিয়ে আসে বিষ্ঠার সাথে। বলা ভালো সুমাত্রান বিড়ালের বিষ্ঠা থেকে উদ্ধারকৃত বীজগুলো থেকেই তৈরি করা হয় পৃথিবীর অন্যতম দামি কফি “Kopi Luwak”।

রোগ মুক্তি এবং আক্রান্ত হওয়ার বাহন কফি

কফি একই সাথে রোগমুক্তির এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে। কাউকে মেরে ফেলেতে চাইলে তাকে একাধারে প্রায় ১০০ কাপ কফি খাওয়ালেই চলবে। আবার একই সাথে পরিমিত কফি পান হতে পারে আপনার জন্য আশীর্বাদ। এতে যেমন অবসাদ কাটে তেমনি এতে পাওয়া গেছে নারীদের স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধের উপাদান, আছে ডায়াবেটিস টাইপ ২ এবং বয়ঃবৃদ্ধদের আলঝেইমার রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে সক্ষম নানান উপাদান। কফিপানে হৃদপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরে উদ্যম ও উৎসাহ তৈরি করে।

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে
বিশ বছর বয়সেই ডমিঙ্গো নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা

সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় স্টিভ রোডসকে ছাঁটাইয়ের পর যখন বিসিবি নতুন কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিল, তাতে সাড়া দিয়ে অন্য সবার আগে ঢাকায় এসেছিলেন এক দক্ষিণ আফ্রিকান। সব যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪ বছর বয়সী সেই দক্ষিণ আফ্রিকানকেই নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। বলা হচ্ছে বাংলাদেশ দলের নতুন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কথা—বাইশ গজে ব্যাট-বলের লড়াই ছেড়ে বিশ বছর বয়সেই যিনি নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা।

১৯৭৪ সালে পোর্ট এলিজাবেথে জন্ম নেওয়া ডমিঙ্গোর খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ থেকেছে ইস্টার্ন প্রভিন্সের যুবদলের মধ্যেই। সিনিয়র দলে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ রাসেল মাত্র বাইশ বছর বয়সেই পেয়ে যান প্রথম কোচিং সনদ, আর ২৫ বছর বয়সে সেই ইস্টার্ন প্রভিন্সে ফিরে আসেন যুবদলের কোচ হিসেবে।

জাতীয় দলে কিংবা ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়াই কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সুনাম কুড়ানোর ঘটনা বিরলই বটে। হিলটন অ্যাকারম্যানের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় একাডেমিতে কাজ করা ডমিঙ্গো বাংলাদেশে পা রাখেন ২০০৪ সালে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেই আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে কাজ করা রাসেল ডমিঙ্গো ঠিক তার পরের বছর শীর্ষ ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ওয়ারিয়র্সের হেড কোচ হিসেবে যোগ দেন। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী পাঁচ মৌসুমে প্রায় ৬ জন ক্রিকেটারের ডাক পড়ে জাতীয় দলে। ২০০৯-১০ মৌসুমে ঘরোয়া ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের সিংহাসনে বসার পাশাপাশি টানা দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টুয়েন্টি আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ওয়ারিয়র্স। ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডমিঙ্গোর ওয়ারিয়র্স অবশ্য ফাইনালে হেরে যায় আইপিএল শিরোপাধারী চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632079923.jpg
ডমিঙ্গো বাংলাদেশে প্রথম পা রাখেন ২০০৪ সালে


জাতীয় পর্যায়ে কোচিংয়ের সুযোগ লুফে নিতে কখনো দ্বিধা করেননি। ২০১০ সালে ফের বাংলাদেশ যাত্রায় রাসেল দায়িত্ব পান দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের। এর পরের বছর নিজভূমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ফিরতি সফরেও একই পদে বহাল থাকা ডমিঙ্গো সে বছরের জুনেই ডাক পান সিনিয়র দলের কোচিং ইউনিটে। হেড কোচ গ্যারি কারস্টেনের সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডমিঙ্গোকে এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে অবশেষে সহকারীর তকমা ঝেড়ে ফেলেন রাসেল ডমিঙ্গো। টি-টুয়েন্টি দলের হেড কোচ হিসেবে কারস্টেনের স্থলাভিষিক্ত হন নিউজিল্যান্ড সিরিজের ঠিক আগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে সময় শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট না খেলে কোনো জাতীয় দলের হেড কোচ হওয়ার কীর্তি এই ডমিঙ্গো আর একই সিরিজের কিউই কোচ মাইক হেসনের ছাড়া ছিল না আর কারোই। বেশ ভালোভাবেই সে দায়িত্ব পালন করতে থাকা ডমিঙ্গোর কোচিং ক্যারিয়ারের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয় ঠিক তার পরের বছরেই। ২০১৩ সালের মে মাসে সব ফরম্যাট থেকে গ্যারি কারস্টেনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় পুরো জাতীয় দলের দায়িত্বই বর্তায় ডমিঙ্গোর কাঁধে।

পরে রাসেলের চুক্তির মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ায় প্রোটিয়া বোর্ড। তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা এরপর ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ করে সেমিফাইনালে পৌঁছে। ২০১৭ পর্যন্ত হেড কোচের দায়িত্ব পালন করা রাসেল ডমিঙ্গো পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে সাড়া পাননি বোর্ডের। ওটিস গিবসন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলে ডমিঙ্গো আবার ফিরে যান নিজভূমে, ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ম্যাভেরিকসকে নিয়ে কাটান ব্যস্ত সময়। পাশাপাশি বহাল ছিলেন প্রোটিয়াদের ‘এ’ দলের কোচের পদে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632115903.jpg
তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছায়


আর দশজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতো অবসরের পর খেলাটিকে ভিন্ন স্তরে নিয়ে যাবার চেষ্টা নয়, বরং পুরোদস্তুর পেশাদার এক কোচ হবার লক্ষ্য অনুসরণেই নিজেকে গড়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো। প্রধান কোচের ভূমিকায় সাধারণত প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সাফল্য বিশেষভাবে পরিলক্ষিত বলে তা ডমিঙ্গোর জন্যও সবসময় ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং—“যেহেতু শীর্ষ পর্যায়ে খেলবার কোনো শংসাপত্র আমার নেই, তাই নিশ্চিতভাবেই সেই মর্যাদাটা আমাকে অর্জন করে নিতে হতো। হয়তো এটা এভাবেই হবার কথা, তাই আমাকে সবচেয়ে কঠিন পথটি বেছে নিতে হয়েছিল আর হতে হয়েছিল খেলাটির এক মনোযোগী ছাত্র।”

সৌভাগ্যক্রমে ডমিঙ্গো সে লক্ষ্য অনুসরণে নিজেকে চেনান একেবারে শুরুতেই, আর ২০০০ সালের গোড়ার দিকে অংশ নেন মনোযোগী ছাত্র হবার জন্য আদর্শ এক আয়োজনের। তাঁকে কোচ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রোটিয়া বোর্ডের নেওয়া উদ্যোগে রাসেল শিক্ষানবিশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ড্রেসিংরুমে সময় কাটান বব উলমার ও গ্রাহাম ফোর্ডের সাথে। সেখানে শক্ত বন্ধন গড়েন মাত্র সাতটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে প্রায় একইরকম আড়ম্বরহীন ক্যারিয়ার কাটানো ফোর্ড ও কারস্টেনের সঙ্গে।

কোচ হিসেবে গ্রাহাম ফোর্ডকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মনে করতেন রাসেল। দারুণ জয়ের উদযাপনে বাঁধ দেওয়া কিংবা অপ্রত্যাশিত হারে বিচলিত না হবার দীক্ষা যে তাঁর থেকেই পেয়েছিলেন। যুবদল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সবসময়ই আলাদা রেখেছে অন্য যে কোনো কোচ থেকে। এমনকি ইয়োহান বোথা, রবিন পিটারসনদের মতো তারকাদের নিজ হাতে গড়েছিলেন রাসেল। নিজের অধীনে শুধু পাননি গ্রায়েম স্মিথ আর এবি ডি ভিলিয়ার্সদের।

রাসেল ডমিঙ্গো দক্ষিণ আফ্রিকার খোলনালচে পাল্টে দেবার মিশনে প্রয়োগ করেছিলেন নিজের জীবন থেকে নেওয়া সব শিক্ষা। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াও বিনয় ও পরিণতিবোধের সাহায্যে যে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, সেটি প্রমাণেই নিরলস কাজ করে গেছেন তিনি। সেই ধারায় এবার নিয়োগ পেলেন টাইগারদের হেড কোচ হিসেবে। কোচিং ইউনিটে যেখানে সাথে পাচ্ছেন নিল ম্যাকেঞ্জি, শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট, রায়ান কুকের মতো অভিজ্ঞ স্বদেশীদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632201027.jpg
আপাতত দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশের কোচ হয়েছেন ডমিঙ্গো


দায়িত্ব পেলে পরের দিনই নেমে পড়বেন কাজে—রাসেলের এমন প্রতিশ্রুতিতে প্যাশনের আঁচ পেয়েছে বিসিবি। বোর্ডকে তেমন কোনো শর্তের বেড়াজালেও ফেলেননি বলেই তালিকার বাকি দুজনকে হটিয়ে রোডস-উত্তর বাংলাদেশ দলের গুরু নিযুক্ত হলেন কদিন বাদেই ৪৫-এ পা রাখতে যাওয়া সদা হাস্যোজ্জ্বল এই অভিজ্ঞ কোচ। শুধু জাতীয় দলই নয়, রাসেলের কর্মপরিকল্পনায় থাকবে ‘এ’ দল, হাইপারফরমেন্স এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলও। আপাতত আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করলেও ডমিঙ্গো প্রথম পরীক্ষায় বসছেন আসছে সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজটি দিয়ে।

“উপমহাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দিতে নয়, বরং এই ধারার সাথে মানিয়ে বদলে যেতে এসেছি”—রাসেল ডমিঙ্গোর এমন আশাবাদে নতুন যুগে পা রাখতে যাচ্ছে সাকিব-তামিম-মুশফিকরা। জীবনে বহু চরাই-উৎরাই পার করে আসা এই দক্ষিণ আফ্রিকানের নতুন মিশনে রইল শুভকামনা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র