Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

জাতির পিতার যোগ্য সহচর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব

জাতির পিতার যোগ্য সহচর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনেরও অনুপ্রেরণার উৎস
শেহজাদ আমান
কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

একজন সাধারণ মানুষ থেকে বঙ্গবন্ধু যে হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক, সেই পথ পরিক্রমা সম্ভব হয়েছে তাঁর জীবনে কিছু মানুষের সোনালি স্পর্শ ও অবদানের কারণে। আর এক্ষেত্রে যেসব মানুষের নাম করতে হবে, তাঁদের মধ্যে সবার আগে আসবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নাম। বঙ্গবন্ধুর এই সহধর্মিনী বিয়ের পর বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিটি সংগ্রামে তাঁর পাশে থেকে জুগিয়ে গিয়েছেন নিরন্তর সাহস ও অনুপ্রেরণা এবং করে গেছেন সহযোগিতা। আজ ৮ অগাস্ট এই মহান নারীর ৮৯তম জন্মবার্ষিকী।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ১৯৩০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গমাতার পিতা শেখ মোহাম্মদ জহুরুল হক যশোরে কো-অপারেটিভ ডিপার্টমেন্টে অডিটর পদে চাকরি করতেন। ৫ বছর বয়সী বড়মেয়ে জিন্নাতুন্নেছা এবং ২ বছর বয়সী ছোট মেয়ে ফজিলাতুন্নেছা, ডাকনাম রেণুকে রেখে বাবা শেখ মোহাম্মদ জহুরুল হক এবং পরে মাতা হোসনে আরা বেগম পরপারে পাড়ি জমান। তখন এই দুই নাবালিকা অনাথ মেয়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব এসে বর্তায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ দাদা শেখ মো. আবুল কাসেমের ওপর। পিতৃমাতৃহারা হয়ে শিশু ফজিলাতুন্নেছা বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফুর রহমান আর মাতা সায়েরা খাতুনের আদরে বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য ভাইবোনের সঙ্গে খেলার সাথী হয়ে বড় হয়েছেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন শেখ মুজিবের সঙ্গে। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়—“বিয়ে কী তা তো বুঝলাম না। শুনলাম, রেণুর দাদা আমার আব্বাকে এক রকম হুকুম জারি করেছিলেন। মুরব্বিরা তাঁর কথা অবহেলা করার অবকাশ পাননি। সুতরাং বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়ে গেল।’ ফজিলাতুন্নেছা বঙ্গবন্ধুর স্কুল জীবনের সাথী হলেও প্রকৃত জীবন সাথী হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর এন্ট্রান্স পাস করার পর। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, তাঁদের বিয়ের ফুলশয্যা হয়েছিল ১৯৪২ সালে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565260763291.gif
◤ জাতির জনক ও বঙ্গমাতার পারিবারিক মুহূর্তগুলো ছিল এমনই সহজ স্বাভাবিক ◢

 

এরপর থেকে বঙ্গমাতাও যেন ধীরে ধীরে হয়ে যান বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সহচর। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ১২ বছরই কাটাতে হয়েছে কারাগারে। তাঁর অনুপস্থিতিতে নিজের পরিবারের হাল ধরা, দলীয় নেতাকর্মীদের পরামর্শ ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার মতো কাজগুলো বঙ্গমাতা করে গিয়েছেন হাসিমুখেই। সুখে-দুঃখে বঙ্গবন্ধুর পাশে তিনি সবসময়ই ছিলেন; এর পাশাপাশি কিছু দারুণ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি সুযোগ্য পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে।

১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে ৩৫ জন বাঙালি নৌ ও সেনাবাহিনীর সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে পাকিস্তানি সরকার। বঙ্গবন্ধু এ মামলায় বিচলিত না হয়ে আইনিভাবে মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আইনজীবীদের অর্থ জোগানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেন। এ মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলে বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি দাবিতে বাঙালি রাস্তায় নামে। পূর্ব পাকিস্তানের রাজপথ বিক্ষোভে পরিণত হয়। পূর্ব পাকিস্তানে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকেও গ্রেফতারের হুমকি দেয়। আন্দোলনের তীব্রতায় পিছু হটে সরকার। পাকিস্তান সরকার এ সময় লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জোরালো আপত্তি জানান। পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবকে প্যারোলে নয়; নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হবে। তিনি কারাগারে শেখ মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাত করে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লাহোর বৈঠকে যেতে নিষেধ করেন। তিনি আরো বুঝতে পেরেছিলেন, শেখ মুজিবের ব্যাপারে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ। পাকিস্তান সরকার বাধ্য হবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে। ফজিলাতুন্নেছার পরামর্শে অনড় থাকেন শেখ মুজিব। প্যারোলে মুক্তির ক্ষেত্রে অসম্মতি প্রকাশ করেন তিনি। ইতোমধ্যে শেখ মুজিবের মুক্তি আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি লাভ করেন। পরদিন অর্থাৎ ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি তাদের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়ে বরণ করে নেয়। ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের এই অসামান্য দূরদর্শিতা নিঃসন্দেহে বাংলার রাজনীতির একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে থাকবে।

বঙ্গমাতার অপর অনন্যসাধারণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। আমরা জেনেছি, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের নেপথ্যে বঙ্গমাতার সঠিক পরামর্শ ছিল। বঙ্গবন্ধুকে সেই সময় তাঁর সহচররা ৭ মার্চের ভাষণের ব্যাপারে নানা পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন। বঙ্গমাতা এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে যা মন থেকে বলতে ইচ্ছে করে, যা বলা উচিত, তা-ই বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। “এবারের সংগ্রাম—আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম—স্বাধীনতার সংগ্রাম” বলে বঙ্গবন্ধুর সেদিনের স্বাধীনতার ডাকে বঙ্গমাতার মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন বঙ্গবন্ধুকে সাহস জুগিয়েছিল।

এইভাবে বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকেছেন বঙ্গমাতা। বঙ্গবন্ধুকে সাহায্য করেছেন নতুন ইতিহাস রচনায়। আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকেছেন এই মহীয়সী নারী। ১৯৭৫-এর সেই ভয়াল কালরাতে নির্মম, অপরিণামদর্শী ঘাতকের বুলেট বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের অন্যান্যদের সাথে তাঁর জীবনটাও নেয় কেড়ে। কিন্তু, সারাজীবন একজন যোগ্য সহচরের মতো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে তিনি যেন বাস্তবে প্রমাণ করে গিয়েছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই অসাধারণ কবিতার মর্মবাণীকে—“কোনো কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারী, / প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয় লক্ষ্মী নারী।”

আপনার মতামত লিখুন :

কফি সমাচার

কফি সমাচার
বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি

কফি নামটা শুনলেই অনেকের মধ্যে চাঙ্গাভাব চলে আসে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা কিংবা একঘেয়ে ভাব দূর করতে কফির বিকল্প নেই। আর এই কারণেই বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি। জেগে থাকতে হলে কফি চাই এমনই নিয়ম। অনেকের যেমন দিন শুরু হয় না, তেমনি অনেকের রাতজাগাও অসম্পূর্ণ থেকে যায় কফি ছাড়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641523098.jpg
কফি মূলত একটি ফল


কফি মূলত একটি ফল। আমরা যে কফি পান করি, তা কফির বীজ বা বিন, গুঁড়ো করেই তবে তৈরি হয় কফি। ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে ডাচ koffie শব্দের মাধ্যমে coffee শব্দটি ইংরেজি ভাষায় গৃহীত হয়। এই ডাচ শব্দটি আবার তুর্কি শব্দ kahve থেকে উদ্ভূত; তুর্কি শব্দটি আরবি qahwa শব্দেরই পরিবর্তিত রূপ। এই শব্দান্তরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে কফির বিস্ময়কর ইতিহাস।

কফির আবিষ্কার

কফির আবিষ্কার নিয়ে বেশ কিছু মতবাদ রয়েছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গল্পটি একজন মেষ পালককে ঘিরে। নবম শতকে ইথিওপিয়ায় বাস করত খালদি নামের এক দরিদ্র মেষপালক। একদিন খেয়াল করল তার ছাগলগুলো অন্যদিনের চেয়ে আজ একটু বেশি লাফালাফি করছে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখল লাল জামের মতো একটি ফল খাচ্ছে ছাগলগুলো। ঘটনার বর্ণনাসহ কারণ জানতে ফলগুলো সে নিয়ে যায় মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে। তারপর সেই ইমাম এবং তার ছাত্ররা মিলে এই ফল থেকে তৈরি করে পানীয়, যা আজ কফি হিসেবে পরিচিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641883872.jpg
পাখি কফি খাচ্ছে


অন্য আরেকটি মত অনুযায়ী, কফি মূলত ইয়েমেনে আবিষ্কার হয়। সেখানে ঘোতুল আব্দুল নুরুদ্দীন আবুল আল-হাসান আল-সাদিলি নামে একজন সুফি ছিলেন। তিনি একবার ইথিওপিয়া সফর করতে গেলে একটি পাখিকে লাল রঙের একটি ফল খেতে দেখে কৌতূহলবশত নিজেও তা খেয়ে দেখেন। এরপর আগের সেই গল্পের মতোই তিনিও চাঙ্গা অনুভব করেন এবং আবিষ্কার হয় কফির।

বিক্রির দিক থেকে তেলের পরেই রয়েছে কফি

বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে তেল। আর এরপরই যে বস্তু সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় তা হলো কফি। সারা পৃথিবীতে বছর জুড়ে প্রায় ৫০০ বিলিওন কাপ কফি তৈরি হয়। তবে কফিপানের পরিমাণের দিক থেকে আমেরিকানদের ধারেকাছেও কেউ নেই। আমেরিকানরা গড়ে প্রতিদিন ৪০০ মিলিওন বা ৪০ কোটি কাপ কফি পান করে। বছর শেষে যার পরিমাণ প্রায় ১৪৬ বিলিওন। এরমধ্যে শুধু নিউইয়র্ক শহরে সারা পৃথিবীর তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি কফি পান করা হয়।

পাপের বাহন কফি

কফি আবিষ্কারের পেছনে মুসলমানদের অবদান থাকলেও একটা সময় সৌদি কিংবা মিশরের মতো দেশে ফতোয়া জারি করে কফিপান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একই পরিস্থিতি দেখা দেয় ইউরোপেও। ইতালির ভেনিসেও পৌঁছে গিয়েছিল কফি। কিন্তু এই কফি মুসলমানদের আবিষ্কার হওয়ার কারণে এবং রেড ওয়াইনের জায়গা গ্রহণ করে ফেলায় কট্টর ক্যাথলিকেরা একে শয়তানের তিক্ত আবিষ্কার বলে মন্তব্য করেন। যদিও পরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সবখানেই কফি জায়গা করে নেয় সগৌরবে।

সারা বিশ্বে প্রায় ৫০টির মতো দেশ কফি উৎপাদনের সাথে জড়িত। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছে প্রায় ৫ কোটি মানুষ। আবিষ্কার অন্যত্র হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বে মোট উৎপাদিত কফির ৪০ শতাংশ আসে ব্রাজিল থেকে। বিভিন্ন দেশে ও স্থানে কফি উৎপাদিত হলেও আমেরিকার হাওয়াই-এর কফি সবচেয়ে দামি এবং সর্বোৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

কফির প্রকারভেদ

পৃথিবীব্যাপী যত কফি আছে তাকে মূলত দুইভাগে ভাগ করা যায়—এরাবিকা এবং রোবুস্টা। এরাবিকাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। রোবুস্টা খুব তিতকুটে হওয়ার ফলে এর চাহিদা খুব বেশি নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642015176.jpg
এরাবিকা এবং রোবুস্টা কফির দুই জাত


তবে পানীয় হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় কফি হলো এসপ্রেসো। “এসপ্রেসো” শব্দের অর্থ আক্ষরিকভাবেই “জোর করে কিছু বের করে দেওয়া!” এটি তৈরি করা হয় ফুটন্ত পানি কফির গুঁড়োর ভেতর দিয়ে চালনা করে। জেনে অবাক হবেন সাধারণ কফির তুলনায় প্রতি একক ঘনত্বে ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642084888.jpg
ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে


অন্যদিকে ডিকেইফ নামে একধরনের কফি আছে যেটাকে বলা হয় ক্যাফেইনমুক্ত কফি। এই কফি বানানোর সময় বেশি রোস্ট করা হয় বলে অনেক ক্যাফেইন উড়ে যায়।

দামি কফি

দুনিয়ার অন্যতম দামি কফি—“Kopi Luwak”—এর প্রতি আউন্স বীজের দাম ৬০০ ডলার! অবাক হলেন? এখানেই শেষ না। অবাক হওয়ার এখনো অনেক বাকি। সুমাত্রান নামে এক জাতের জংলি বিড়াল আছে যাদের এই কফির বীজগুলো খাওয়ানো হলেও হজম হয় না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642179467.jpg
দামি কফির নেপথ্য নায়ক সুমাত্রান বিড়াল ◢


ফলে আংশিক পরিবর্তিত হয়ে বেরিয়ে আসে বিষ্ঠার সাথে। বলা ভালো সুমাত্রান বিড়ালের বিষ্ঠা থেকে উদ্ধারকৃত বীজগুলো থেকেই তৈরি করা হয় পৃথিবীর অন্যতম দামি কফি “Kopi Luwak”।

রোগ মুক্তি এবং আক্রান্ত হওয়ার বাহন কফি

কফি একই সাথে রোগমুক্তির এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে। কাউকে মেরে ফেলেতে চাইলে তাকে একাধারে প্রায় ১০০ কাপ কফি খাওয়ালেই চলবে। আবার একই সাথে পরিমিত কফি পান হতে পারে আপনার জন্য আশীর্বাদ। এতে যেমন অবসাদ কাটে তেমনি এতে পাওয়া গেছে নারীদের স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধের উপাদান, আছে ডায়াবেটিস টাইপ ২ এবং বয়ঃবৃদ্ধদের আলঝেইমার রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে সক্ষম নানান উপাদান। কফিপানে হৃদপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরে উদ্যম ও উৎসাহ তৈরি করে।

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে
বিশ বছর বয়সেই ডমিঙ্গো নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা

সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় স্টিভ রোডসকে ছাঁটাইয়ের পর যখন বিসিবি নতুন কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিল, তাতে সাড়া দিয়ে অন্য সবার আগে ঢাকায় এসেছিলেন এক দক্ষিণ আফ্রিকান। সব যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪ বছর বয়সী সেই দক্ষিণ আফ্রিকানকেই নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। বলা হচ্ছে বাংলাদেশ দলের নতুন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কথা—বাইশ গজে ব্যাট-বলের লড়াই ছেড়ে বিশ বছর বয়সেই যিনি নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা।

১৯৭৪ সালে পোর্ট এলিজাবেথে জন্ম নেওয়া ডমিঙ্গোর খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ থেকেছে ইস্টার্ন প্রভিন্সের যুবদলের মধ্যেই। সিনিয়র দলে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ রাসেল মাত্র বাইশ বছর বয়সেই পেয়ে যান প্রথম কোচিং সনদ, আর ২৫ বছর বয়সে সেই ইস্টার্ন প্রভিন্সে ফিরে আসেন যুবদলের কোচ হিসেবে।

জাতীয় দলে কিংবা ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়াই কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সুনাম কুড়ানোর ঘটনা বিরলই বটে। হিলটন অ্যাকারম্যানের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় একাডেমিতে কাজ করা ডমিঙ্গো বাংলাদেশে পা রাখেন ২০০৪ সালে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেই আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে কাজ করা রাসেল ডমিঙ্গো ঠিক তার পরের বছর শীর্ষ ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ওয়ারিয়র্সের হেড কোচ হিসেবে যোগ দেন। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী পাঁচ মৌসুমে প্রায় ৬ জন ক্রিকেটারের ডাক পড়ে জাতীয় দলে। ২০০৯-১০ মৌসুমে ঘরোয়া ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের সিংহাসনে বসার পাশাপাশি টানা দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টুয়েন্টি আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ওয়ারিয়র্স। ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডমিঙ্গোর ওয়ারিয়র্স অবশ্য ফাইনালে হেরে যায় আইপিএল শিরোপাধারী চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632079923.jpg
ডমিঙ্গো বাংলাদেশে প্রথম পা রাখেন ২০০৪ সালে


জাতীয় পর্যায়ে কোচিংয়ের সুযোগ লুফে নিতে কখনো দ্বিধা করেননি। ২০১০ সালে ফের বাংলাদেশ যাত্রায় রাসেল দায়িত্ব পান দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের। এর পরের বছর নিজভূমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ফিরতি সফরেও একই পদে বহাল থাকা ডমিঙ্গো সে বছরের জুনেই ডাক পান সিনিয়র দলের কোচিং ইউনিটে। হেড কোচ গ্যারি কারস্টেনের সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডমিঙ্গোকে এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে অবশেষে সহকারীর তকমা ঝেড়ে ফেলেন রাসেল ডমিঙ্গো। টি-টুয়েন্টি দলের হেড কোচ হিসেবে কারস্টেনের স্থলাভিষিক্ত হন নিউজিল্যান্ড সিরিজের ঠিক আগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে সময় শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট না খেলে কোনো জাতীয় দলের হেড কোচ হওয়ার কীর্তি এই ডমিঙ্গো আর একই সিরিজের কিউই কোচ মাইক হেসনের ছাড়া ছিল না আর কারোই। বেশ ভালোভাবেই সে দায়িত্ব পালন করতে থাকা ডমিঙ্গোর কোচিং ক্যারিয়ারের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয় ঠিক তার পরের বছরেই। ২০১৩ সালের মে মাসে সব ফরম্যাট থেকে গ্যারি কারস্টেনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় পুরো জাতীয় দলের দায়িত্বই বর্তায় ডমিঙ্গোর কাঁধে।

পরে রাসেলের চুক্তির মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ায় প্রোটিয়া বোর্ড। তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা এরপর ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ করে সেমিফাইনালে পৌঁছে। ২০১৭ পর্যন্ত হেড কোচের দায়িত্ব পালন করা রাসেল ডমিঙ্গো পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে সাড়া পাননি বোর্ডের। ওটিস গিবসন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলে ডমিঙ্গো আবার ফিরে যান নিজভূমে, ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ম্যাভেরিকসকে নিয়ে কাটান ব্যস্ত সময়। পাশাপাশি বহাল ছিলেন প্রোটিয়াদের ‘এ’ দলের কোচের পদে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632115903.jpg
তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছায়


আর দশজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতো অবসরের পর খেলাটিকে ভিন্ন স্তরে নিয়ে যাবার চেষ্টা নয়, বরং পুরোদস্তুর পেশাদার এক কোচ হবার লক্ষ্য অনুসরণেই নিজেকে গড়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো। প্রধান কোচের ভূমিকায় সাধারণত প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সাফল্য বিশেষভাবে পরিলক্ষিত বলে তা ডমিঙ্গোর জন্যও সবসময় ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং—“যেহেতু শীর্ষ পর্যায়ে খেলবার কোনো শংসাপত্র আমার নেই, তাই নিশ্চিতভাবেই সেই মর্যাদাটা আমাকে অর্জন করে নিতে হতো। হয়তো এটা এভাবেই হবার কথা, তাই আমাকে সবচেয়ে কঠিন পথটি বেছে নিতে হয়েছিল আর হতে হয়েছিল খেলাটির এক মনোযোগী ছাত্র।”

সৌভাগ্যক্রমে ডমিঙ্গো সে লক্ষ্য অনুসরণে নিজেকে চেনান একেবারে শুরুতেই, আর ২০০০ সালের গোড়ার দিকে অংশ নেন মনোযোগী ছাত্র হবার জন্য আদর্শ এক আয়োজনের। তাঁকে কোচ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রোটিয়া বোর্ডের নেওয়া উদ্যোগে রাসেল শিক্ষানবিশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ড্রেসিংরুমে সময় কাটান বব উলমার ও গ্রাহাম ফোর্ডের সাথে। সেখানে শক্ত বন্ধন গড়েন মাত্র সাতটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে প্রায় একইরকম আড়ম্বরহীন ক্যারিয়ার কাটানো ফোর্ড ও কারস্টেনের সঙ্গে।

কোচ হিসেবে গ্রাহাম ফোর্ডকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মনে করতেন রাসেল। দারুণ জয়ের উদযাপনে বাঁধ দেওয়া কিংবা অপ্রত্যাশিত হারে বিচলিত না হবার দীক্ষা যে তাঁর থেকেই পেয়েছিলেন। যুবদল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সবসময়ই আলাদা রেখেছে অন্য যে কোনো কোচ থেকে। এমনকি ইয়োহান বোথা, রবিন পিটারসনদের মতো তারকাদের নিজ হাতে গড়েছিলেন রাসেল। নিজের অধীনে শুধু পাননি গ্রায়েম স্মিথ আর এবি ডি ভিলিয়ার্সদের।

রাসেল ডমিঙ্গো দক্ষিণ আফ্রিকার খোলনালচে পাল্টে দেবার মিশনে প্রয়োগ করেছিলেন নিজের জীবন থেকে নেওয়া সব শিক্ষা। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াও বিনয় ও পরিণতিবোধের সাহায্যে যে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, সেটি প্রমাণেই নিরলস কাজ করে গেছেন তিনি। সেই ধারায় এবার নিয়োগ পেলেন টাইগারদের হেড কোচ হিসেবে। কোচিং ইউনিটে যেখানে সাথে পাচ্ছেন নিল ম্যাকেঞ্জি, শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট, রায়ান কুকের মতো অভিজ্ঞ স্বদেশীদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632201027.jpg
আপাতত দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশের কোচ হয়েছেন ডমিঙ্গো


দায়িত্ব পেলে পরের দিনই নেমে পড়বেন কাজে—রাসেলের এমন প্রতিশ্রুতিতে প্যাশনের আঁচ পেয়েছে বিসিবি। বোর্ডকে তেমন কোনো শর্তের বেড়াজালেও ফেলেননি বলেই তালিকার বাকি দুজনকে হটিয়ে রোডস-উত্তর বাংলাদেশ দলের গুরু নিযুক্ত হলেন কদিন বাদেই ৪৫-এ পা রাখতে যাওয়া সদা হাস্যোজ্জ্বল এই অভিজ্ঞ কোচ। শুধু জাতীয় দলই নয়, রাসেলের কর্মপরিকল্পনায় থাকবে ‘এ’ দল, হাইপারফরমেন্স এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলও। আপাতত আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করলেও ডমিঙ্গো প্রথম পরীক্ষায় বসছেন আসছে সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজটি দিয়ে।

“উপমহাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দিতে নয়, বরং এই ধারার সাথে মানিয়ে বদলে যেতে এসেছি”—রাসেল ডমিঙ্গোর এমন আশাবাদে নতুন যুগে পা রাখতে যাচ্ছে সাকিব-তামিম-মুশফিকরা। জীবনে বহু চরাই-উৎরাই পার করে আসা এই দক্ষিণ আফ্রিকানের নতুন মিশনে রইল শুভকামনা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র