কেন আলাদা নাম নেই আমাদের চাঁদ ও সূর্যের



ফিচার ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টফোর.কম
চাঁদ ও সূর্যের নিজস্ব নাম নেই

চাঁদ ও সূর্যের নিজস্ব নাম নেই

  • Font increase
  • Font Decrease

সকল গ্রহেরই নাম দেওয়া হয়েছে শক্তিমান গ্রিক দেবতা ও দেবীদের নামে। এদের চাঁদগুলোরও নাম দেওয়া হয়েছে এসব দেব-দেবীর সাথে জড়িত পৌরাণিক চরিত্র অনুসারে। এমনকি বিভিন্ন তারা বা নক্ষত্র পেয়েছে ‘সিরিয়াস’ বা ‘বিটালজিউস’-এর মতো ‘কুল’ নাম। কিন্তু আমাদের নিজ তারা ও উপগ্রহ পায়নি আলাদা কোনো নাম। আমাদের সূর্য আর চাঁদের নাম কেবলই চাঁদ আর সূর্য; অথচ কোনো তারকার বা উপগ্রহের সাধারণ নামই হলো চাঁদ বা সূর্য। কোনো আলাদা নাম নেই আমাদের চাঁদ বা সূর্যের।

প্রতিটি বাবা-মাই জানে নাম কারো জীবনযাপনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। নামের সাথে জড়িয়ে থাকে কারো পরিচিতি, লিঙ্গ, এমনকি ব্যক্তিত্বের ব্যাপারটাও। সন্তানের সঠিক নামটি দেওয়ার ব্যাপারে খুবই চিন্তিত থাকেন অনেক বাবা-মা।

সন্তানের নাম দেয় যেমন বাবা-মা, তেমনি মহাজাগতিক বস্তুগুলোর নাম দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কেবল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল ইউনিয়নের (আইএইউ)। আজ থেকে ১০০ বছর আগে ১৯১৯ সালে এর প্রতিষ্ঠা। এই প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণা অনুযায়ী ২০০৬ সালে বাতিল হয় প্লুটোর গ্রহ-পদমর্যাদা। তারাই বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ, বামন গ্রহ, ধূমকেতু, গ্রহাণু ইত্যাদি মহাজাগতিক বস্তুর নাম দেয়। কিন্তু, চাঁদ ও সূর্যের নাম দেওয়ার ব্যাপারে তারাও নিষ্ক্রিয়।

চাঁদ আর সূর্যের বেলায় আইএইউ-এর মন্তব্য হচ্ছে, এদের নামের বেলায় ক্যাপিটাল অক্ষর আছে, যা দিয়ে এদেরকে প্রপার নাউন বা নামবাচক বিশেষ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। বড় হাতের অক্ষর থাকায় এটিই এদের নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যকিছু নয়। তাই চাঁদ বলতে একমাত্র চাঁদকেই বোঝায়, যে কোনো চাঁদকে নয়।

নাসার কাছে এই কারণটা একদমই সাধারণ। ১৬১০ সালে প্রখ্যাত ইতালিয়ান জোতির্বিদ গ্যালিলিও গ্যালিলেই বৃহস্পতির উপগ্রহ আবিষ্কার করার আগ পর্যন্ত আমরা জানতামই না যে আমাদের চাঁদ ছাড়াও অন্যান্য গ্রহেরও চাঁদ আছে। তাই আমাদের চাঁদটাই ছিল একমাত্র চাঁদ। ইউরোপা, গ্যানিমিড, ক্যালিস্টোর মতো নাম দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতির চাঁদগুলোকে। এতে করে ওগুলোকে আলাদা করা যায় আমাদের চাঁদ থেকে।

যে কারণে আমরা এখনো আমাদের বাবা-মাকে ‘বাবা’ বা ‘মা’ বলে ডাকি, সেই একই কারণে চাঁদকে ‘চাঁদ’ আর সূর্যকে ‘সূর্য’ই ডাকি, যদিও প্রকৃত অর্থে, চাঁদ বা সূর্য আসলে সাধারণ বিশেষ্য পদই। তবে, এতে তাদের গুরুত্ব হ্রাস পায় না।