গুগল এডসেন্স কিভাবে অর্থ আয়ের সুযোগ দেয়

নিশীথ দাস, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
গুগল এডসেন্স

গুগল এডসেন্স

  • Font increase
  • Font Decrease

অনলাইনে অর্থ আয়ের বিষয়টি এখন অনেকেরই জানা। গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আপনিও আয় করতে পারেন। গুগল এডসেন্সের বিজ্ঞাপন পেতে হলে অবশ্যই একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট, ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে।

গুগল এডসেন্স

গুগল এডসেন্স গুগলের কার্যক্রমের একটি অংশ। এ কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেলে গুগলকে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া সাপেক্ষে ওইসব সাইট গুগলের কাছ থেকে অর্থ পেয়ে থাকে। এডসেন্সের কাজই হলো ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানো ও যাদের সাইটে দেখানো হয় তাদের অর্থ দেওয়া। গুগল এজন্য গুগল এডওয়ার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠান কিংবা পণ্যের প্রচারের উদ্দেশ্যে চুক্তিভিত্তিক টাকা গ্রহণ করে থাকে। প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৩২ ভাগ গুগল রেখে দেয়। বাকি ৬৮ ভাগ পাবলিশারদের অর্থাৎ যাদের সাইটে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় তাদের দেওয়া হয়।

যেভাবে এডসেন্স থেকে এড পাবেন

গুগল এডসেন্স থেকে আয়ের জন্য আপনার একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে। এডসেন্স পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই গুগল এডসেন্সের ওয়েবসাইটে গিয়ে সাইন আপের মাধ্যমে ফরম ফিলআপ করে এডসেন্সের একাউন্টের জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে যে আপনার সাইটটি একসেপ্ট হবে তাও নয়। অনেক সময় একাধিকবারও আবেদন করতে হতে পারে। তবে একথা মনে রাখতে হবে যে, এডসেন্সের শর্তাবলি মেনেই আপনাকে আবেদন করতে হবে। আবেদন গ্রহণ কিংবা বাতিল হলে গুগল অবশ্যই মেইলে জানিয়ে দেবে। আবেদনের আগে খেয়াল করতে হবে, ব্লগ বা ওয়েবসাইটের বয়স কমপক্ষে ছয়মাস হয়েছে কিনা। কারো কারো ক্ষেত্রে ছয়মাসও লাগে আবার কারো তিন-চার মাস লাগতে পারে। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট ভালো হলে অল্প সময়েই এডসেন্স পাওয়া যায়।

গুগল এডসেন্স একাউন্ট এপ্রুভ হওয়ার প্রধান প্রধান শর্ত

▶ কমপক্ষে ১০টি মান সম্পন্ন কন্টেন্টসহ ২০টির অধিক কন্টেন্ট থাকতে হবে।
▶ ব্লগে বা ওয়েবসাইটে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের এড থাকা যাবে না।
▶ বিদ্যমান কন্টেন্ট কপি-পেস্ট টাইপের হওয়া যাবে না
▶ কপিরাইট আইন অমান্য করার মতো বিষয় রাখা যাবে না।
▶ কোনো জাতি বা গোষ্ঠীকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক কোনো কন্টেন্ট রাখা যাবে না।
▶ ওয়েবসাইটের টপ লেভেল ডোমেইন হতে হবে। অর্থাৎ সাব-ডোমেইন হলে একাউন্ট এপ্রুভ হবে না। তবে ব্লগস্পট-এর ক্ষেত্রে বিচেনায় রাখা হয়।
▶ গুগল এডসেন্স পেতে হলে ব্লগে কখনো বীভৎস ছবি রাখা যাবে না।
▶ সেই সাথে কোনো ড্রাগস নিয়ে আলোচনা করা যাবে না।
▶ যেসব মুভি পিকচারে অস্ত্র বা বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্য রয়েছে তা রাখা যাবে না।

তাছাড়া এডসেন্স পেতে হলে ব্লগ বা ওয়েবসাইটের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ট্রাফিক বা ভিজিটর থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, ওই সাইটে ভিজিটরকে ধরে রাখাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি ভিজিটর বেশি সময় না থাকে তবে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার সম্ভাবনা কমে যায়। এজন্য মানসম্মত কন্টেন্ট আপলোড করতে হবে। কোনো সাইটে যদি ভিজিটর বেশি থাকে তাহলে সেখানে থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।

গুগল এডসেন্স এড্রেস ভেরিফিকেশন

গুগল এডসেন্স এড্রেস ভেরিফিকেশন একটি বাধ্যতামূলক বিষয়। এডসেন্স একাউন্টে যে এড্রেস দেওয়া হয়েছে তা ভেরিফিকেশন করার আগে পেমেন্টের জন্য ব্যাংক একাউন্ট নম্বর এড করা যায় না। এই এডসেন্স একাউন্টে প্রথম ১০ ডলার জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এডসেন্স পাবলিশারের এড্রেস ভেরিফিকেশনের জন্য একটি গোপন পিন নম্বর জেনারেট হয়ে থাকে। নম্বরটি গুগল বাই পোস্টে পাবলিশারের এড্রেসে পাঠিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট নিয়মে পিন নম্বরটি বসিয়ে নিজের এড্রেস ভেরিফাই করতে হয়। কোনো কারণে প্রথমবার চিঠি না পেলে ঘাবড়ানোর তেমন কিছু নেই। সর্বোচ্চ তিনবার চিঠি পাঠানো হয়। এরপরও চিঠি না পেলে নিজের ভোটার আইডি কার্ডের স্ক্যান কপি কিংবা ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি দিয়েও এড্রেসটি ভেরিফিকেশন করতে পারেন। যদি এডসেন্স একাউন্টে মোট ১০০ ডলার হয় তবে গুগল আপনার ব্যাংক একাউন্টে তা পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।

আপনার মতামত লিখুন :