Alexa

কাশ্মীরের হাউজ বোট

কাশ্মীরের হাউজ বোট

সন্ধ্যার আলো-আঁধারীতে কাশ্মীরের হাউজ বোট। ছবি: মাজেদুল নয়ন।

শ্রীনগর, কাশ্মীর থেকে: এখানে এক রাতের জন্য ভাড়া গুনতে হবে কমপক্ষে ২ হাজার রুপি (২ হাজার ৫০০ টাকা) থেকে শুরু করে ৮ হাজার রুপি পর্যন্ত। এতো টাকা ভাড়া দিয়েতো হোটেল-মোটেলেই থাকা যায়। তবে নৌকায় এতো টাকা দিয়ে থাকতে হবে কেন! নৌকাতো নৌকাই, লঞ্চ বা জাহাজ বলা যাবে না, একেবারে কাঠের নৌকা।

কাশ্মীরে ডাল লেকের উত্তর পাড় ধরে এমন অসংখ্য নৌকার বাড়ি। যেগুলোকে বলা হয় হাউজ বোট। এখানে আসার আগে ভেবেছিলাম, হাউজ বোট হয়তো পানিতে চলতে পারে। তবে ধারণা ভুল। বরং পানির ওপর স্থির নৌকার ওপরই বানানো হয়েছে হোটেল। সেখানে বাথ টাব বা ঝকমকে ড্রয়িং রুম, অভ্যর্থনা কক্ষ, পরিস্কার ডাইনিং রুম, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ থেকে সবই রয়েছে। তবে সবগুলোই কাঠের তৈরি এবং কারুকাজ করা দরজা রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/24/1535126857078.jpg

২০ মিটার থেকে শুরু করে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের হাউজ বোট রয়েছে৷ আলিশানের ওপর নির্ভর করে রুম ভাড়া দেয়া হয়। এসব বোটের ভেতরে রয়েছে বিজনেস অথবা এক্সিকিউটিভ স্যুট পর্যন্ত। বৃটিশ শাসনামলে কাশ্মীরের রাজা বৃটিশ কর্মকর্তাদের অবকাশ যাপনের জন্যে ডাল লেকে এই ধরনের হাউজ বোট নির্মাণ করে দেন। এরপর গত কয়েক দশক ধরে আবারো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হাউজ বোট।

নেহারু পার্কেই ঘাট রয়েছে। সন্ধ্যায় এখানকার ফুটপাথ ধরে মানুষ আড্ডা দেয়। ঈদের দিন হওয়াতে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা অনেক। পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রায় দেড় কিলোমিটার ধরে ১৫ টি ঘাট। সব হাউজ বোটেরই নিজস্ব ডিঙ্গি নৌকা বা শিখার রয়েছে লেক পার হওয়ার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/24/1535126879723.jpg

হাউজ বোট এমনভাবে তৈরি করা যেন নৌকার পেছনের দিক আপনার যাতায়াতের পথ। আমরাও একটা মাঝারি মানের হাউজ বোট ভাড়া করলাম। ১৫ নং ঘাট ধরে ৫ মিনিট নৌকা চালালেই ইয়াং স্নো হাউজ বোট।

রফিক এবং বেলাল ২ ভাই মূলত পারিবারিক এই হাউজ বোট দেখভাল করেন৷ পুরো হাউজ বোট দামী কার্পেটে মোড়ানো। দেয়ালে সুন্দর সব চিত্রকর্ম। এখানে সব হাউজ বোটেই মশা যেন ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হয়েছে। দরজা জানালা সবখানেই নেট রয়েছে৷

ডিঙ্গি নৌকা থেকে ৩ ধাপের সিড়ি বেয়ে উঠলেই হাউজ বোটের পেছনের বারান্দা। সেখানে দাঁড়িয়ে বসে ডাল লেক আর পারিমহল পাহাড়কে উপভোগ করা যায় অায়েশি ভঙ্গিতে৷

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/24/1535126911743.jpg

রফিকদের বাসা আর এই হাউজবোট একসঙ্গেই। বললো, এখানে পারিবারিকভাবেও হাউজবোট রয়েছে। তাদের বাসায় রান্না করে এখানে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এরপর বসার রুম। সেখানে সুন্দর সুন্দর সব চিত্রকর্ম আর শো-পিচ। এরপর ডাইনিং কক্ষে টেবিলের পার্শ্বে ওয়্যারড্রব আর ফ্রিজ৷ সেটিকে পেছনে ফেলে কয়েক কদম এগোলেই একটি বেড রুম। এখানে তিনজনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে৷ এরপরের রুমে কুইন সাইজ বেড। সব রুমেই আলাদা আলাদা বাথরুম রয়েছে। গোসলের জন্য রয়েছে বাথটাব। এখানকার টেবিল চেয়ার কিছুতেই কারুকার্যের ছোঁয়া রয়েছে।

বড় হাউজ বোটগুলোর একটিতেই ৬ থেকে ১০ টি রুম পর্যন্ত থাকে। আর সব বোটের সঙ্গেই রয়েছে একটি করে বাগান আর ফুল গাছের সমারোহ। সকালে ঘুম ভেঙে হাউজ বোটের বারান্দায় দাঁড়ালে স্থানীয় রঙিন সব ফুল আর টিউলিপ বোঝাই নৌকা আসবে। ফুল বা ফুলের বীজ বিক্রি করতে চায় তারা।

আপনার মতামত লিখুন :