আবার এলো যে সন্ধ্যা...

ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
হ্যাপী আখন্দ

হ্যাপী আখন্দ

  • Font increase
  • Font Decrease

বেঁচে থাকলে তিনি হতেন মধ্য পঞ্চাশের পরিণত তরুণ। তরুণই হতেন তিনি। যত বয়সই হতো, তারুণ্য কখনো ছেড়ে যেতো না হ্যাপী আখন্দকে।

শুক্রবার (১২ অক্টোবর) জন্মদিন শেষে হ্যাপী নিশ্চয় গাইতেন তার অবিস্মরণীয় গান 'আবার এলো যে সন্ধ্যা...।'

১৯৬৩ সালের ১২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন হ্যাপী আখন্দ।

অকাল প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী, যিনি আশি দশকের আধুনিক বাংলাদেশের গানে সংযোজন করেছিলেন ভিন্নতর যোজনা।

নগর ঢাকার সংগীত মানচিত্রে আলাদা ভূগোল হয়ে বেঁচে ছিলেন মাত্র ২৪ বছর।

তাতেই স্পর্শ করেন তিনি সমকাল ও সমপ্রজন্মকে।

আশি দশকের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের স্মৃতিতে হ্যাপী আখন্দ নিবিড় আলিঙ্গনে মিশে আছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কোণে কোণে মিশে আছে তার সাঙ্গীতিক ছোঁয়া।

আর্ট কলেজের হোস্টেল, নিউমার্কেটের পেছনে শহীদ শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাস, এমন অনেক জায়গায় এখনো মনে হয় তার আবছায়া দেখা যায়। বাতাসে ভাসে গিটারের ঝংকার, দরদী গলার সুরধ্বনি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/12/1539342553705.jpg

খুব বেশি গান করেননি হ্যাপী।

১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

স্বাধীনতা-পরবর্তী আজম খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফিরোজ সাঁই, ফকির আলমগীরদের গানের বৈশিষ্ট্যগুলোকে ছাড়িয়ে মুগ্ধ, ব্যক্তিগত ও রোমান্টিক গানের জগত তৈরি করছিলেন হ্যাপী।

ভাই লাকী আখন্দের সঙ্গে তিনি সময়ের সমাজ ও মানুষের ব্যক্তিক যন্ত্রণা ও চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলো গানে নিয়ে এসেছিলেন তিনি।

বেদনা ও হাহাকার বড় অন্য রকম বেজেছিল তার স্প্যানিশ গিটারের তারে। বড় তীব্র হয়েছিল না পাওয়ার নস্টালজিয়া তার তরুণ কণ্ঠস্বরে।

তার নামের সঙ্গে তার জীবনের ছিল বিস্তর তফাত।

হ্যাপী নামের ছেলেটি মোটেও হ্যাপী ছিলেন না।

সুখী বলতে যে নাদুসনুদুস চেহারা, তা-ও তার ছিল না।

ছিল অপচয়, অনিয়ম, বিষাদ।

কাছ থেকে যারা তাকে দেখেছে, তারা জানে, দারুণ সম্ভাবনার হ্যাপী কেমন করে হয়ে গেলো তারুণ্যের বেদনাদীর্ণ আগাম বিদায়।

শুক্রবার হ্যাপীর অনুপস্থিতিতে তার জন্মদিনটিও বড়ই বেদনাব্যঞ্জক। থেমে থেমেই বৃষ্টি হচ্ছে। যারা তার কথা মনে রেখেছে, হয়তো একান্ত উচ্চারণে বলছে শুভ জন্মদিন।

ভাবছে, হোক বৃষ্টি, তবুও কিন্তু সন্ধ্যায় হ্যাপী আবার গিটার হাতে গাইবে ‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে, যেখানে নদী এসে থেমে গেছে, আবার এলো যে সন্ধ্যা, শুধু দু'জনে, ঝাউ বনে হাওয়াগুলো খেলছে, সাঁওতালি মেয়েগুলো চলছে...

আপনার মতামত লিখুন :