কানাডায় দাফন করা হলো কাদের খানকে

বিনোদন ডেস্ক
কাদের খান

কাদের খান

  • Font increase
  • Font Decrease

গত ৩১ ডিসেম্বর কানাডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলিউড অভিনেতা কাদের খান। এরপরই কাদের খানের মরদেহ মুম্বাই না আনার ঘোষণা দিয়ে তার ছেলে সারফরাজ বলেছিলেন- ‘মুম্বাই নয়, বাবাকে টরন্টোতে দাফন করা হবে। এখানে আমাদের পুরো পরিবার রয়েছে। আমরা সবাই এখানেই থাকি। তাই বাবার শেষ কাজও এখানেই হবে।’

বুধবার (০২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে কাদের খানকে দাফন করা হয়। শেষ যাত্রায় আগা সম্প্রদায়ের স্থানীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৩৭ সালের ২২ অক্টোবর বর্তমান আফগানিস্তানের কাবুলের এক সম্ভ্রান্ত পশতু পরিবারে জন্ম হয় কাদের খানের। সেখানেই পড়াশোনা। পরে ইসমাইল ইউসুফ কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। ভারতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। এরপর মুম্বইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষকতা করতে করতেই সিনেমা জগতে ঢুকে পড়া। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অনুষ্ঠানে নাটকে অংশ নিয়ে বিখ্যাত অভিনেতা দিলীপ কুমারের নজর কাড়েন কাদের খান। সেখানেই ‘জওয়ানি দিওয়ানি’ সিনেমার চিত্রনাট্যকার হিসেবে বলিউডে তার হাতেখড়ি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/03/1546510982377.jpg
কাদের খানের পরিবারের সদস্য

 

এরপর মুম্বাইয়ে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন কাদের খান। চিত্রনাট্য লেখা, অভিনয়ের সুদীর্ঘ ইনিংস। ‘দাগ’(১৯৭৩) কাদের অভিনীত প্রথম ছবি। একের পর এক ২৫০ ছবির চিত্রনাট্য লেখা, ৩শ’ বেশি হিন্দি ও উর্দু ছবিতে অভিনয় করে গিয়েছেন।

‘পারভারিশ’, ‘ধনদৌলত’, ‘কুরবানি’, ‘মেরি আওয়াজ শুনো’, ‘সানাম তেরি কাসাম’-এর মতো ছবিতে খলনায়কের চরিত্র তাকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিলো। বেশ কয়েকটি উর্দু ছবিতেও অভিনয় করেন কাদের খান। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ‘মাস্টারজি’, ‘দোস্তি দুশমনি’, ‘ঘর সংসার’, ‘খুন ভরি মাং’, ‘সোনে পে সুহাগ’-এর মতো ছবিতে রেখে গিয়েছেন অসামান্য অভিনয়ের ছাপ।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/03/1546511153292.jpg

এরপর ‘কিষেণ কানহাইয়া’, ‘বোল রাধা বোল’, ‘আঁখে’, ‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি’, ‘কুলি নং ১’, ‘দুলহে রাজা’, ‘বড়ে মিঞা ছোটে মি়ঞ ‘, ‘জুদাই’-এর মতো ছবিতে কাদের খানের কমেডি মন জয় করে নিয়েছে আট থেকে আশির। এর মধ্যে অনেক ছবির চিত্রনাট্যকার তিনি নিজেই।

১৯৮২, ৯১, ৯৩-এ তিনবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ২০১৩ সালে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে অবদানের জন্য সাহিত্য শিরোমনি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় তার হাতে।
পরবর্তী সময়ে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন কাদের খান। ভারতের পাট চুকিয়ে ছেলে সারফরাজের সঙ্গে কানাডায় চলে যান।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/03/1546511174652.jpg

আপনার মতামত লিখুন :