Alexa

'১০ টাকা দিন সিনেমা বানাবো'

'১০ টাকা দিন সিনেমা বানাবো'

এস এম নজরুল ইসলাম ও আসিফ নূর, ছবি: রুদ্র আজাদ

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, যে যার কাজে ব্যস্ত কেউবা উদাস মনে হেঁটে চলেছেন আবার কেউবা মুক্তমঞ্চের গানে মেতেছেন, কেউবা কোরাসের পর কোরাসে সুর মিলিয়ে চলছেন। মানুষের আসা যাওয়ার পথের একপাশে দুজন উদ্যমী তরুণ দাঁড়িয়ে আছেন। মাথায় টুপি, মুখে হালকা হালকা দাড়ি হাতে একটা বক্স।

বাক্সটি বুকের সাথে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। মনে হচ্ছে এই বাক্সটিতেই যত সম্বল। বাক্সের গায়ে লেখা রয়েছে '১০ টাকা দিন সিনেমা বানাবো’। কৌতূহল বশত তাদের কাছে গেলাম। দেখতে পেলাম পাশে একটা ব্যানারও আছে। সেখানে একই কথা লেখা। এছাড়া একটি সিনেমা নিয়ে নানা তথ্য দেয়া আছে। কৌতূহলের মাত্রা আরও বেড়ে গেল। জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম অকপটে হাসিমাখা মুখে উত্তর দিতে থাকল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য শেষ হওয়া হিম উৎসবে এভাবেই কথা হয় দুই তরুণ সিনেমা নির্মাতার সাথে। একজন হলেন এস এম নজরুল ইসলাম, ঢাকা কলেজে দর্শন থেকে মাস্টার্স করেছেন। অন্যজন হলেন আসিফ নূর, ফুডেড ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর ডিপ্লোমা করছেন নরসিংদী পলিটেকনিক থেকে।

জানালেন তারা দুইজন দুইদিকের মানুষ হলেও তাদের সিনেমা স্বপ্ন এক পথে এনে দিয়েছে। চলচ্চিত্রের ধারণাটি তখনই মাথায় আসলো, যখন দেখলো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। আর এটাই সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী মাধ্যম। তারা চান সিনেমার মাধ্যমে সমাজকে অন্যায্য অনাচার মুক্ত করে শোষণ মুক্ত করে তুলতে। সেই লক্ষ্যে সিনেমা বানানোর প্রয়াস। তবে বানাতে চাইলেই তো আর হয় না। প্রয়োজন অর্থের, লোকবলের যা তাদের নেই।

কথা বলতে চাইলে গল্পের পসরা সাজিয়ে বসলেন এস এম নজরুল ইসলাম বললেন, ‘আসলে আমরা একটা ফিচার ফিল্ম বানাতে চাচ্ছি সেটা হবে ফুল লেন্থের। শামসুল হক স্যারের একটি ছোট গল্প আছে ‘মোমবাতি’ আর সেটির ছায়া অবলম্বনেই হবে আমাদের সিনেমাটি। এটার দিয়েছি ন্যাম্পো। এটা আসলে একটা রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক রচনা।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/21/1548086897416.gif

তিনি আরও বলেন, ‘সিনেমার মাধ্যমে আমরা আসলে বলতে চাই যে মানুষের আসল স্বাধীনতা কি। কেন মানুষ না খেয়ে মরে? মানুষ রাস্তায় ঘুমাচ্ছে, ফুটপাতে ছোট শিশুরা ভিক্ষা করছে। অথচ শাসকগোষ্ঠী বলছে দেশে কোন গরীব মানুষ নাই। এ দেশে কেউ না খেয়ে থাকে না। আমরা শাসকগোষ্ঠীর এসব মিথ্যাচার তুলে এনেছি। আমরা প্রশ্ন ছুড়ে দিতে চাই সবার কাছে। আমি চাই সিনেমার মাধ্যমে দেশের প্রতিটা মানুষের কাছে যেতে। তেমন সিনেমা হচ্ছে না এমনটা নয় তবে বিশ্লেষণের বিষয় হলো সিনেমাটি কতটুকু মানুষের প্রয়োজনের দিকগুলো তুলে ধরছে। আমরা সেটা চাই।’

১০ টাকা দিন সিনেমা বানাবো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘১০টাকা দিন সিনেমা বানাবো এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা এ সিনেমার জন্য ফান্ডিং করার চেষ্টা করছি। গত তিনদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালাচ্ছি। এর আগে ঢাকা লিট ফেস্টে, নবান্ন উৎসবে, শিল্পকলা একাডেমিতে গণচাঁদা তুলেছিলাম। এ পর্যন্ত আমাদের সংগ্রহ ২০ হাজার টাকা।’

আমাদের সিনেমা বানাতে মোট ৪০ লাখ টাকা লাগবে। আর এই টাকা সংগ্রহ করার জন্য আমরা ২০১৯ সাল পুরোটা ক্যাম্পেইন করতে চাই। সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। যে যেভাবে পারছে আমাদের সাহায্য করছে। আমরা চাচ্ছি পুরা ফান্ডিংটা এভাবে করতে। যদি  একজনের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে থাকি তাহলে ৪০ লাখ টাকা যোগাড় করতে হলে ৪০ হাজার মানুষের কন্ট্রিবিউশন লাগবে। সেক্ষেত্রে দেখা যায় যারা টাকা দিচ্ছে সবাই প্রডিউসার। সেই হিসেবে আমাদের সিনেমাটার প্রডিউসার হবে ৪০ হাজার।’

আপনার সিনেমার জন্য কেউ যদি অনুদানের ব্যবস্থা কওে তবে নিবেন কিনা? এমন প্রশ্নে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দশ টাকা নেওয়ার মাধ্যমে এই ম্যাসেজ দিতে চাই যে মানুষের স্বপ্ন থাকলে সবকিছু সম্ভব। নতুন প্রযোজকরা আমাদের দেখে উৎসাহিত হবে। এই মেসেজটা আমরা সকলের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’

এছাড়া সিনেমাটি বানানোর জন্য দেশের নামকরা প্রযোজকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কোন ব্যবস্থা হয় নি। এজন্য সাধারণ মানুষের টাকায় সিনেমাটি বানানোর সিদ্ধান্ত নেন তারা।