Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘লালজমিন’ নাটকের ২০০তম মঞ্চায়ন আজ

‘লালজমিন’ নাটকের ২০০তম মঞ্চায়ন আজ
মোমেনা চৌধুরী
বিনোদন ডেস্ক


  • Font increase
  • Font Decrease

মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনয়ের নাটক ‘লালজমিন’-এর ২০০তম মঞ্চায়ন হচ্ছে আজ (১৯ মার্চ)। বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের উদ্যোগে রাজধানীর বিএটিসি অডিটরিয়ামে সন্ধ্যায় ‘লালজমিন’ নাটকটির ২০০তম মঞ্চায়ন হবে।

শুন্যন রোপার্টরি থিয়েটারের প্রথম প্রযোজনা ‘লালজমিন’ নাটকটি রচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার মান্নান হীরা। এর নির্দেশনা দিয়েছেন তরুণ প্রতিভাবান নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী। এই নাটকে অভিনয়গুণে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন মোমেনা চৌধুরী।

মোমেনা চৌধুরী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে দীর্ঘ ২৫বছর কর্মরত ছিলেন। তাই মোমেনা চৌধুরীর এই বিশাল অর্জনকে উদযাপন করতে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স ‘লালজমিন’ নাটকের ২০০তম মঞ্চায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

‘লালজমিন’ নাটকের ২০০তম মঞ্চায়নের অনুভূতিতে অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরী বলেন, “আমার জীবনের অনেক বড় পাওয়া ‘লালজমিন’। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমার অভিনীত নাটক ‘লালজমিন’ ২০০তম প্রদর্শনী আমার কাছে অপার্থিব আনন্দের। এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই নাট্যকার মান্নান হীরা, নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী, মঞ্চায়ন সহযোগিতার জন্য জুলফিকার চঞ্চল, রাজু নভেরা, নীলা, আতিক, জয়, সাকিব, জুয়েল, সানি, মেহেদী, নিথর মাহবুব, মামুন, জিহাদ, সাজিদ, বাসার, মাহবুবকে। যাদের সহযোগিতায় ‘লালজমিন’ ২০০তম প্রদর্শনীর দ্বারপ্রান্তে তাদের প্রতি আমার অনেক অনেক ভালবাসা। ২০০তম মঞ্চায়নের এ আয়োজনে যারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন সবাইকে জানাই রক্তিম শুভেচ্ছা।”

‘লালজমিন’ নাটকটির গল্প মুক্তিযুদ্ধের একটি খণ্ডচিত্রের বয়ান। মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন কিশোরীর অংশগ্রহণ, গল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের ভয়াবহতা, মেয়েটির ত্যাগ- সবশেষে স্বাধীনতা অর্জন দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখে দাঁড় করিয়ে দেয় ‘লালজমিন’।

‘লালজমিন’ কিশোরীর রক্তরাঙা অভিজ্ঞতার মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর এক নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্য প্রকাশ। ‘লালজমিন’ নাটকের গল্প তেরো পেরিয়ে চৌদ্দ বছর ছুঁই ছুঁই এক কিশোরী কন্যার। কিশোরীর দু’চোখ জুড়ে মানিক বিলের আটক লাল পদ্মের জন্য প্রেম। সে কৈশোরেই শোনে বাবা-মায়ের মধ্যরাতের গুঞ্জন। শুধু দুটি শব্দ কিশোরীর মস্তকে আর মনে জেগে রয়, মুক্তি-স্বাধীনতা। ওই বয়সে কিশোরী এক ছায়ার কাছ থেকে প্রেম পায়। বাবা যুদ্ধে চলে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/19/1552993865619.jpg
মান্নান হীরা ও সুদীপ চক্রবর্তী

 

অগোচরে কিশোরী নানা কৌশলে যুদ্ধে যাওয়ার আয়োজন করে, সশস্ত্র যুদ্ধ। কিন্তু বয়স তাকে অনুমোদন দেয় না। এক পর্যায়ে কিশোরীর সেই ছায়া প্রেম সম্মুখে দাঁড়ায়। সে তার সেনাপতিকে চিনতে পারে। তারপর যুদ্ধযাত্রা। লক্ষ্যে পৌঁছবার আগেই পুরুষ যোদ্ধারা কেউ শহীদ হোন, কেউ নদীর জলে হারিয়ে যান। পাঁচ যুবতীসহ যুদ্ধযাত্রী এই কিশোরীর জীবনে ঘটে নানা অভিজ্ঞতা। চৌদ্দ বছরের কিশোরীর ধবধবে সাদাজমিন যুদ্ধকালীন নয় মাসে রক্তরাঙা হয়ে ওঠে।

‘লালজমিন’ কিশোরীর রক্তরাঙা অভিজ্ঞতার মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর এক নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্য প্রকাশ। দেশের বরেণ্য নাট্যাভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর প্রাণবন্ত অভিনয় নাটকটি নিমিষেই দর্শকদের আকৃষ্ট করে। চরিত্রানুযায়ী কণ্ঠের সূক্ষ্ম কাজ যেমন দেখিয়েছেন তেমনি নাচ এবং কোরিওগ্রাফিতে নিজেকে মিলিয়ে দিয়েছেন গল্পের বুনুনিতে। নাটকের পোশাক সেট আলো সবই যেন মোমেনা চৌধুরীকে নিয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ে। মঞ্চে মোমেনা চৌধুরী যেন হয়ে ওঠেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দলিল।

‘লালজমিন’ নাটকের পোশাক পরিকল্পনা করেছেন ওয়াহিদা মল্লিক। সঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন জুলফিকার চঞ্চল ও রামিজ রাজু। সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন বারী সিদ্দিকী, রামিজ রাজু ও নীলা সাহা। মঞ্চায়নের নেপথ্য কারিগররা হলেন আতিকুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, মীর্জা শাকিব, মোসাম্মৎ মমতাজ, জুয়েল মিজি, তানভীর সানি ও নিথর মাহবুব।

অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর অভিনয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৭ সালে ‘বগুড়া থিয়েটার’-এ যোগদানের মধ্য দিয়ে। দলের একটি নাটকের রিহার্সেল চলাকালীন সে বছরই তার চাকরী হয়ে যায় গাজীপুরের ‘টাঁকশাল’-এ। চাকরিকালীন সেখানে তিনি ‘অবশিষ্ট মঞ্চায়ন পরিষদ’র সাথে যুক্ত হন। সেই দলের হয়ে ‘প্রত্যাশিত প্রলাপ’ নাটকের তিনটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন। এর পরপরই তিনি ‘আরণ্যক’ নাট্যদলের সাথে যুক্ত হন ১৯৯০ সালে। ‘ইবলিশ’ নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে শুরু হয় মোমেনার আরন্যক যাত্রা। এরপর থেকে আজ অবধি এই দলেরই হয়ে আছেন। ‘আরণ্যক’র হয়ে মোমেনা অভিনয় করেছেন ‘সংক্রান্তি’, ‘ময়ূর সিংহাসন’, ‘এবং বিদ্যাসাগর’, ‘প্রাকৃত জনকথা’ ইত্যাদি নাটকে। তবে তার অভিনয় জীবনের সেরা অর্জনের একটি ‘লালজমিন’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটম-লে ২০১১ সালের ১৯ মে শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটারের প্রথম প্রযোজনা ‘লালজমিন’ নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

ঢাকার ফুটপাত ও ওভারব্রিজ চেনাচ্ছেন ডিপজল

ঢাকার ফুটপাত ও ওভারব্রিজ চেনাচ্ছেন ডিপজল
ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে সচতেনতামুলক প্রচারে ডিপজল/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

এক সময়ের বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় খলনায়ক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। তাকে এখন দেখা যাচ্ছে ঢাকার রাস্তার ফুটপাত ও ফুট ওভারব্রিজের সামনে। ফুটপাত ব্যবহারকারীদের বলছেন, 'খারাও ভাতিজা! এইডা ফুটপাত মোটরসাইকেল চালানোর জায়গা না।'

আবার ফুট ওভারব্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে বলছেন, 'ভাতিজা ওই যে ফুট ওভারব্রিজ। একটু কষ্ট কইয়া দু কদম হাঁটো।'

তবে সিনেমার সত্যিকারের ডিপজল এসব কথা বলছেন না। ডিপজলের ছবি দিয়ে প্ল্যাকার্ডে এসব লিখে সচেতন করা হচ্ছে ঢাকাবাসীদের। সম্প্রতি ঢাকার বাড্ডা লিংক রোডসহ বিভিন্ন সড়কে দেখা মিলছে ডিপজলের এসব প্ল্যাকার্ডের। জানা গেছে, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের 'দেশ আমার দোষ আমার' শিরোনামে সামাজিক সচেতনতার ক্যাম্পেইনের জন্য এসব প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563634109539.jpg

এর আগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সামাজিক সচেতনতার ক্যাম্পেইনে সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে বার্তা প্রচারের বিজ্ঞাপনেও দেখা গিয়েছিল ডিপজলকে। বিজ্ঞাপনটিতে দেখানো হয়েছিল, রং সাইডে গাড়ি চালানো চালককে ‘ভাতিজা’ সম্বোধন করে ডিপজল বলছেন, 'কী ভাতিজা, নবাব হইছো, রং সাইডে গাড়ি চালাও, রাস্তা চেনো না। ফিডার খাও?' যা ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

১৯৫৮ সালে মিরপুরের বাগবারিতে জন্মগ্রহণ করেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছিলেন এই অভিনেতা। তবে ২০০৮ সালে নায়ক মান্নার মৃত্যুর পর তার ক্যারিয়ারের সফলতা কমতে থাকে। এর বাইরে 'দাদীমা', 'চাচ্চু'সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে ডিপজলকে ইতিবাচক চরিত্রে দেখা গেছে।

বরগুনার ঘটনা নিয়ে সজল-শখের ‘দোটানায়’

বরগুনার ঘটনা নিয়ে সজল-শখের ‘দোটানায়’
সজল ও শখ

সজল-শখ জুটির ভক্তদের জন্য সুখবর। আসন্ন ঈদুল আজহার জন্য একটি নতুন নাটকে জুটিবদ্ধ হয়েছেন তারা।

মাহতাব হোসেনের গল্পে ‘দোটানায়’ শিরোনামের নাটকটির চিত্রনাট্য লিখেছেন শামীমুল ইসলাম শামীম। এটি পরিচালনা করেছেন আকাশ নিবির। প্রযোজনায় রয়েছে চৌধুরী এন্টারটেইনমেন্ট।

বর্তমান সময়ের আলোচিত বরগুনার সেই ঘটনার আদলেই নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘দোটনায়’। বাস্তবে যা কিছু ঘটে যায় তা আসলে পুরোটা নাটকে দেখানো সম্ভব না হলেও দর্শকরা এই নাটকের মাধ্যমে কিছু সত্য কাহিনী দেখতে পারবেন। আগামী ২৭ তারিখ থেকে নাটকটির শুটিং শুরু হবে।

‘দোটানায়’ নাটকটি সম্পর্কে সজল বলেন, ‘অসাধারণ একটি গল্পে নাটকটি নির্মিত হচ্ছে। তবে এতে যোগ করা হয়েছে ফেসবুকেরও কিছু বাস্তবচিত্র। আশা করি দর্শকের মনে দাগ কাটবে। শখের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। আশা করছি, এই নাটকটিও দর্শকের ভালো লাগার মতো একটি কাজ হবে।’

এ প্রসঙ্গে আনিকা কবির শখ জানান, ‘পরিচালকের সাথে আমার এসএমএস এ নাটকটি নিয়ে কথা হয়েছে। এতে আমার সহকর্মী হিসেবে থাকবেন সজল ভাই। আশাকরি নাটকটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করবে।’

নাটকের নির্মাতা আকাশ নিবির বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশে টিভি নাটক বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। ঘটনার আড়ালে অনেক সত্যই ধামাচাপা পরে যায়। তখন দর্শকরা আমাদের মতো অনেক পরিচালকদের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছু সত্য ঘটনা অবলম্বনে নাটক দেখার জন্য। দর্শকের এই ধরনের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ‘দোটানায়’ নাটকটি র্নিমাণে আগ্রহী হয়েছি।”

সজল-শখের পাশাপাশি নাটকে একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা ডিএ তায়েবকে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘দোটানায়’ নাটকটি প্রচারিত হবে একুশে টিভিতে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র