Alexa

সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার

সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার

ছবি: বার্তা২৪

আগামী ১২ এপ্রিল থেকে দেশের সিনেমা হলগুলো বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে হল মালিকদের সংগঠন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি।

মঙ্গলবার (০২ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকের পর চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ এবং প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস এ সিদ্ধান্ত জানান।

এর আগে বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিনেমা হলই যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সিনেমা দেখানো হবে কোথায়? সে কারণে দেশের চলচ্চিত্র বাঁচাতে হলে সিনেমা হল বাঁচাতে হবে। এক সময় সপ্তাহে দুইটির বেশি সিনেমাও মুক্তি পেতো। এখন তা হয় না।’

হল মালিকদের দাবি প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, “হল মালিকেরা বিদ্যুৎ বিলের বাণিজ্যিক হার এবং ‘পিক আওয়ার’ হার রেয়াতের দাবি জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বেই এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছে, নতুন করে আবারও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। দেশী একটি ছবি রপ্তানির বিপরীতে ভারতীয় একটি সিনেমা আমদানির ছাড়পত্র পেতেও যে বিলম্ব হতো, তা দূর করা হবে।’

‘নির্দিষ্ট সংখ্যক উপমহাদেশীয় ভিন্ন ভাষার অর্থাৎ মূলত: হিন্দি ছবি আমদানির যে দাবি তারা রেখেছেন, চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী-কলাকুশলী সকলের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’ বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, ‘তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক শেষে আমরা সিনেমা হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছি। চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণাটি কার্যকর করা এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক হিন্দি সিনেমা আমদানির করলে মানুষ যেমন হলমুখী হবে, তেমনি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটবে। সরকার যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাবে বলে আমরা আশা করি।’

এসময় বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার কোনো বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করেনি। দেশে ডাউনলিংক করে বিদেশি চ্যানেল প্রচারে প্রচলিত আইন প্রয়োগ করছে মাত্র।’

‘ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন-২০০৬ এর ১৯ (১৩) উপধারা অনুযায়ী বিদেশি চ্যানেলে কোনো ধরণের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না’

উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশি দেশগুলো এমনকি ইউরোপের সকল দেশেই একই নিয়ম। আইনটি এতদিন মানা হচ্ছিল না। ফলে এদেশের টিভি চ্যানেলগুলো বছরে প্রায় ৫শত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘বিদেশি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনমুক্ত বা ক্লিন-ফিড হিসেবে চাইতে হবে অথবা ফিল্টার করে সম্প্রচার করতে হবে। এদেশের টেলিভিশন, টিভি সাংবাদিক, অনুষ্ঠান নির্মাতা, শিল্পী, কলাকুশলী সকলের স্বার্থে এ আইন মানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সকলে সহযোগিতা করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

আপনার মতামত লিখুন :