Alexa

সত্যজিৎ রায়: কিশোরগঞ্জ থেকে অস্কারে

সত্যজিৎ রায়: কিশোরগঞ্জ থেকে অস্কারে

সত্যজিৎ রায়, ছবি: সংগৃহীত

মাত্র দুই বছর পরেই পালিত হবে তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী। কিশোরগঞ্জের রায় পরিবারের এই রত্নের নাম সারা দুনিয়া জানে। সত্যজিৎ রায়- চলচ্চিত্রের এক বিস্ময়কর প্রতিভা তিনি।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার মসুয়া গ্রামে ছিল রায় পরিবারের বসতি। পুরনো ব্রহ্মপুত্রের তীরে বৃহত্তর ময়মনসিংহের সর্বদক্ষিণের এই গ্রামটির অপর তীরেই বৃহত্তর ঢাকা জেলা, যা অধুনা নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলাভুক্ত।

ঔপনিবেশিক অবিভক্ত বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারায় রায় পরিবারও নানা উত্থান-পতন, বিকাশ-ক্ষয়ের মধ্য দিয়ে চলেছে। ক্ষুদ্র পরিবার থেকে বংশ বাড়িয়েছে, অপুত্রক হলে সন্তান দত্তক নিয়েছে।

এমনই বহু ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রবহমান রায় পরিবারে যুক্ত হন এক সদস্য, তাকে নতুন নাম দেওয়া হয় উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী। সত্যজিতের পিতামহ তিনি।

উপেন্দ্র কিশোর কিশোরগঞ্জ থেকে কলকাতায় গমন করেন ব্রিটিশ শাসনের আদি যুগে। তখন চলছে হিন্দু ধর্মীয় সংস্কার ও কলকাতা কেন্দ্রিক ইংরেজি শিক্ষা আর সংস্কৃতির বিকাশ, যাতে অগ্রণী ছিলেন রামমোহন রায় প্রবর্তিত ব্রাহ্ম সমাজের সদস্যগণ।

উপেন্দ্র কিশোর আত্মীয়তা করেন কিশোরগঞ্জের আরেক মেধাবী আনন্দমমোহন বসুর সঙ্গে, পরে যিনি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি। উপেন্দ্র ছাপাখানা, প্রকাশনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। তার পরিবারের অপরাপর সদস্যরাও নানা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হন। বিশেষত তার পুত্র সুকুমার রায় ছড়া সাহিত্যে নাম করেন, যার পুত্র সত্যজিৎ রায় ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায় জন্ম নেন।

প্রসঙ্গত, শুধু সত্যজিৎ নন, ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের মুখোজ্জ্বলকারী তিন প্রতিভার আদি ভিত্তি পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশ, বাকী দুজন হলেন ফরিদপুরের মৃণাল সেন আর ঢাকা-মুন্সীগঞ্জের ঋত্বিক ঘটক।

সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট ও বহুমুখী। ঘটনা ও চিত্রাবলীকে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপনে পারঙ্গম। ক্যামেরার কাজ, দৃশ্য বিন্যাস, রূপসজ্জা, সঙ্গীত ইত্যাদির সুসমন্বয়ে তিনি নির্মাণ করেছে অনবদ্য ৩৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/02/1556786244642.jpg
১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে ‘পথের পাঁচালী’

 

সাহিত্যকে সিনেমায় রূপায়িত করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫) ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে। এর মধ্যে অন্যতম ১৯৫৬ কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া ‘শ্রেষ্ঠ মানব দলিল’ পুরস্কার। ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’ (১৯৫৬) ও ‘অপুর সংসার’ (১৯৫৯), এই তিনটি একত্রে অপু ত্রয়ী নামে পরিচিত এবং এই চলচ্চিত্র সত্যজিতের জীবনের শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে স্বীকৃত।

চলচ্চিত্র নির্মাণের বাইরে তিনি ছিলেন একাধারে গোয়েন্দা ও কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক্স নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক। বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যে তালিকায় ১৯৯২ সালে পাওয়া একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার (অস্কার) অন্যতম। এছাড়াও ৩২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

২৩ এপ্রিল ১৯৯২ সালে তিনি পরলোকগমন করেন।

আপনার মতামত লিখুন :