Barta24

সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

‘আমি থাকব মাটির ঘরে, আমার চোক্ষে বৃষ্টি পরে’

‘আমি থাকব মাটির ঘরে, আমার চোক্ষে বৃষ্টি পরে’
সুবীর নন্দী
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

যেমন প্রত্যাশা তিনি করেছিলেন প্রিয় গানের কথামালায়, জীবনের অবসানে তেমনই হলো অবশেষে। চিরদিনের মতো চলে গেলেন তিনি অদেখা-অতল গভীর ঠিকানায়। তার মৃত্যুর সংবাদে তারই কণ্ঠ যেন কানে বাজছে: ‘ও আমার উড়ালপঙ্খীরে/যা যা তুই উড়াল দিয়া যা/আমি থাকব মাটির ঘরে/আমার চোক্ষে বৃষ্টি পরে…।’

দূর প্রবাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এই শিল্পী বুধবার (৮ মে) নিথর দেহে স্বদেশে ফিরে আসছেন। গানের উড়াল পঙ্খী হয়ে তিনি আসছেন জন্মভূমির প্রিয় মাটির ঘরে, চোখে নিয়ে বৃষ্টির বেদনাদীর্ণ অশ্রুমালা।

সত্তরের শেষে আশির দশকের সূচনায় সুদূর বৃহত্তর সিলেট থেকে এক কণ্ঠশিল্পী দুরুদুরু বক্ষে বাংলাদেশের সংগীত জগতে স্থান পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তখন নিজেকে প্রকাশ করার এতো মিডিয়া ছিল না। ‘সবে ধন নীলমণি’র মতো ডিআইটি ভবনের ছোট্ট পরিসর থেকে রামপুরার নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত ‘বিটিভি’ ছিল একমাত্র মাধ্যম আর ছিল বাংলাদেশ বেতার।

‘বিটিভি’ তখন সারা দিনের চ্যানেল নয়। বিকেল-সন্ধ্যার আয়োজন। যাতে খবর, কার্টুন, ইংরেজি সিরিয়াল, নাটক ইত্যাদির পর গানের খুব একটা সুযোগ ছিল না। মাসে বা সপ্তাহে গানের প্রোগ্রাম হয়েছে, তাতে ঢাকার নামজাদা বা কর্তৃপক্ষের খাতিরের তথাকথিত শিল্পীদের ঠেলে নতুন কেউ জায়গা পেতো না সহজে।

এমন বিরূপতার মুখোমুখি হয়েও সিলেটের নবাগত শিল্পী মোটেও দমে গেলেন না। মফস্বলের সীমাবদ্ধ অতীত থেকে রাজধানীতে নিজের বৃহত্তর বর্তমান নির্মাণ করলেন। দিনে দিনে পুরো বাংলাদেশ, এমনকি, বৈশ্বিক বাঙালির সুপরিচিতি, প্রিয় শিল্পী হলেন তিনি। তিনিই সুবীর নন্দী।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/07/1557241713187.jpg

সুবীর নন্দীর ষাটোর্ধ বছরের জীবনের ৫০ বছরই কেটেছে গান নিয়ে। সুদীর্ঘ শিল্পী জীবনের ইতিহাসে তিনি প্রায় আড়াই হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার সংগীত জীবন আসলে একজন শিল্পীর লড়াইয়ের কাহিনী। নিজেকে শিল্প ও সংগীতের ঈর্ষণীয় জায়গায় উত্তীর্ণ করার ক্ষেত্রে সুবীর নন্দী তার লড়াই থেকে এক মুহূর্তের জন্য সরে আসেননি। যে কারণে শূন্য থেকে শুরু করলেও জীবনের পরিণতিতে তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হয়েছেন।

সিনেমা ও অ্যালবামে যে বিপুল গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন, সেসবের অনেকগুলোই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার কিছু গান তো জনপ্রিয়তায় তুঙ্গস্পর্শী হয়েছে। সুবীর নন্দীর সেরা ১০ গান শিরোনামে বার্তা২৪.কমের ভিডিও কনটেন্টে সে ছোঁয়া রয়েছে।

কিন্তু কেন তার জনপ্রিয়তা? গানের কথা ও সুরের জন্য তো বটেই। এবং সুবীর নন্দীর দুঃখজাগানিয়া গায়কীর জন্যও। তার গানে অভ্রভেদী আর্তনাদ ছিল না। দুঃখের তীব্র মর্মবেদনা ছিল না। ছিল পরিশীলিত কণ্ঠে ব্যাথার জাগরণ। বুকের মাঝখানে মৃদু টোকা দিয়ে যাওয়া শিশিরের টুপটাপ শব্দের মতো বেদনারা সুবীরের গলায় খেলা করেছে।

বৃহত্তর সিলেটের যে অপরূপ রহস্যময়তা ও মায়াজাদুর পরশ নিয়ে সুবীর নন্দী বাংলাদেশের গানের জগতে এসেছিলেন, তাকে আরও ঋদ্ধ করেন হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূনের চলচ্চিত্র ও নাটকে বৃহত্তর সিলেট-ময়মনসিংহের হাওর পরিবেষ্টিত ভাটিবাংলার যে মায়াবী সুর উচ্চারিত হয়েছে সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ভর করে, তা বাংলা গানের অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পী সুবীর নন্দীকে পরিণত করেছে শাশ্বত বাংলার চিরায়ত গায়কে। অনাদি বাংলার সংগীত পরম্পরায় যে গায়ক নীলপাখির প্রতীকে গেয়ে যাবেন বেদনার ধ্বনি।

আপনার মতামত লিখুন :

অন্যের গান বাণিজ্যিকভাবে কিভাবে ব্যবহার করছেন নোবেল?

অন্যের গান বাণিজ্যিকভাবে কিভাবে ব্যবহার করছেন নোবেল?
সুরকার ও গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ ও সা রে গা মা পা খ্যাত শিল্পী নোবেল

আলোচনায় মাঈনুল আহসান নোবেল। আলোচনার মঞ্চ ভারতীয় চ্যানেল জি বাংলায় প্রচারিত গানের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‌‌‘সা রে গা মা পা’। মঞ্চে কখনো যার গান গাইছেন নোবেল সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না, কখনো বা গানটির গীতিকার ও সুরকারের নাম বলছেন না আবার কখনো শিল্পীর নাম বলছেন ঠিকই কিন্তু শ্রদ্ধা নেই সে বাচন ভঙ্গিতে।

এসবের বাইরে নোবেলকে নিয়ে আরও আলোচনা আছে। অন্যের গান অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন নোবেল। জি বাংলায় প্রচারিত ‘সা রে গা মা পা’র মঞ্চে গাওয়া প্রতিটি গান নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুকে আপলোড করছেন বাংলাদেশি এই তরুণ শিল্পী।

অন্যের গাওয়া এসব গান গায়ক, গীতিকার কিংবা সুরকারের অনুমতি না নিয়ে নিজে সুরারোপিত করে বাণিজ্যিকভাবে কি ব্যবহার করতে পারেন নোবেল? বাংলাদেশের কপি রাইট আইন বলছে, 'যেকোনো গান সুরকার ও গীতিকারের সম্পদ। কেউ তাঁদের অনুমতি ছাড়া গানের বাণিজ্যিক ব্যবহার করলে তা আইনের লঙ্ঘন হবে।'

তাহলে এসব গান কিভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুকে আপলোড করছেন নোবেল?

‘সা রে গা মা পা’র মঞ্চে বাংলাদেশের সংগীতের কালজয়ী গীতিকার প্রিন্স মাহমুদের একাধিক লেখা ও সুর করা গান গেয়েছেন নোবেল। তবে এসব গান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য কোনো প্রকার অনুমতি নেননি প্রিন্স মাহমুদের।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে প্রিন্স মাহমুদ বলেন, 'নোবেল আমার যেসব গান ‌‌‘সা রে গা মা পা’তে গেয়েছে সেগুলোর মালিক আমি। সে এসব গান আমার অনুমতি না নিয়ে ফেসবুকে বা ইউটিউবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে। যা বাংলাদেশের কপি রাইট আইন লঙ্ঘন করে।'

আইন লঙ্ঘনের ব্যাপারে আপনি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নে প্রিন্স মাহমুদ বলেন, 'আমি এখনই এ ব্যাপারে মক্তব্য করতে চাইনা। পরে বিস্তারিত জানাবো। তবে আমি এই ব্যাপারে দ্রুতই আমার আইনজীবীর সঙ্গে বসবো এই টুকু বলতে পারি।'

এই প্রসঙ্গে কথা বলতে নোবেলের মোবাইল নম্বরে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

'বীর' এর সাদামাটা মহরত

'বীর' এর সাদামাটা মহরত
কাজী হায়াৎ ও শাকিব খান

পরিচালক কাজী হায়াতের ৫০ তম সিনেমা 'বীর'। আর এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মত দেশসেরা নায়ক শাকিব খানকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে যাচ্ছেন এই গুনী পরিচালক। আজ ছিল সিনেমাটি শুভ মহরত। কিন্তু অনেকটা সাদামাটা ভাবেই কাজী হায়াতের ৫০তম সিনেমার মহরত হল।

এফডিসির কড়ইতলায় সিনেমাটির পরিচালক, প্রযোজক ইকবাল, সাদেক বাচ্চু ও কিছু শিশু শিল্পীর নিয়ে সিনেমাটির মহরত হয় সকাল ৯ টায়। মহরত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না সিনেমাটির নায়ক ও অন্যতম প্রযোজক শাকিব খান। দেখা যায়নি তেমন কোন গণমাধ্যমকেও।

জানা গেছে, আজ সিনেমাটির সাদেক বাচ্চু ও কিছু শিশু শিল্পীর সিক্যুয়েন্স দিয়ে দৃশ্য ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে শাকিব খান শুটিংয়ে অংশ নেবেন। গত বছরের ডিসেম্বরে একটি গানের রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে শাকিবের এই সিনেমার কাজ শুরু হয়। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন শাকিব নিজেই।

সে সময় পরিচালক কাজী হায়াৎ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে আজ মহরতের মাধ্যমে শুটিং ফ্লোরে গিয়েছে ‘বীর’। যদিও এতে শাকিবের সঙ্গে কে জুটি বাঁধবেন তা এখনো অনিশ্চিত।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র