Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সবুজবাগ বরদেশ্বরী মন্দির শ্মশানে হবে সুবীর নন্দীর শেষকৃত্য

সবুজবাগ বরদেশ্বরী মন্দির শ্মশানে হবে সুবীর নন্দীর শেষকৃত্য
ছবি: সুমন শেখ/ বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। মঙ্গলবার (৭ মে) সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ‘একুশে পদক’ জয়ী এই শিল্পী।

বুধবার (৮ মে) সকালে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। পরে সকাল ১১টায় তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। যেখানে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে সর্বস্তরের মানুষ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুবীর নন্দীর মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হয় এফডিসিতে। সেখান থেকে নেওয়া হবে রামকৃষ্ণ মিশনে। দুপুরে সবুজবাগে বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশানে একুশে পদক পাওয়া সংগীতশিল্পীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সুবীর নন্দীর একমাত্র মেয়ে মৌ নন্দী।

সেই সঙ্গে সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং তার বাবার আত্নার শান্তি কামনা করেন তিনি বলেন, আমার বাবার প্রতি আপনাদের ভালোবাসা ও তার প্রতি আপনাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে আমি প্রণাম জানাচ্ছি- তিনি ব্যক্তিগতভাবে টেক্সট করে আমাদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফুলে ফুলে সুবীর নন্দীকে শেষ শ্রদ্ধা

যোগ করে মৌ বলেন, সবাই আমার বাবার সঙ্গে ছিলেন কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। এই ২৪ দিন যথেষ্ট ফাইট করেছেন সে। কিন্তু একটা সময় আর পারেনি। কিছুক্ষণ পরে আমার বাবার শেষকৃত্য করবো আমার বাবার জন্য প্রার্থনা করবেন।

গত ১৪ এপ্রিল রাতে সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ট্রেনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সুবীর নন্দী। এরপরই তাকে ঢাকার সিএমএইচে নেওয়া হয়। সিএমএইচের জরুরি বিভাগে থাকাকালীন হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। পরে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩০ এপ্রিল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পীকে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের এমআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় সুবীর নন্দীর জন্ম। তিনি সিলেট বেতারে প্রথম গান করেন ১৯৬৭ সালে। এরপর ঢাকা রেডিওতে সুযোগ পান ১৯৭০ সালে। রেডিওতে তার প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’।

বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় আজিজুর রহমানের ছবি ‘অশিক্ষিত’। এ সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিন আর সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

সুবীর নন্দী ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এফডিসিতে ১৫ শিল্পী স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

এফডিসিতে ১৫ শিল্পী স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জুলাই মাস যেন শিল্পী হারানোর মাস। এই মাসে বাংলা সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫ জন শিল্পী পাড়ি জমিয়েছেন ওপারে।

বুলবুল আহমেদ, দিলদারসহ প্রয়াত এই ১৫ জন শিল্পীর স্মরণে সোমবার (১৫ জুলাই) এফডিসিতে বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

বাদ আসর সমিতির স্টাডি রুমে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক ফারুক, আলমগীরসহ শিল্পী ও কলাকুশলীরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে ১৫ জন শিল্পীর স্মরণে সকাল থেকে কোরআন খতম দেয়া হয়।

এই আয়োজনের ব্যাপারে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষে অভিনেতা জায়েদ খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'এই মাসে আমরা এতো শিল্পী হারিয়েছি যে সবার আলাদা করে দোয়ার অনুষ্ঠান করাটা কঠিন হয়ে যাবে। সে কারণে একদিনেই করলাম। এর বাইরে আমরা প্রতি মাসে একবার করে প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে এই আয়োজন করে থাকি। যাদের কাজ দেখে বড় হয়েছি, তাদের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে। নতুনরাও অনুপ্রাণিত হয়। আর তাদের ব্যাপারে জানতে পারে।'

হাসপাতালে বসে সম্মাননা পদক পেলেন এটিএম শামসুজ্জামান

হাসপাতালে বসে সম্মাননা পদক পেলেন এটিএম শামসুজ্জামান
এটিএম শামসুজ্জামান

গত দুই মাস ধরে হাসপাতালে আছেন এটিএম শামসুজ্জামান। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি রয়েছেন। আর সেখানে বসেই সম্মাননা পদক পেলেন বাংলা সিনেমার এই গুণী অভিনেতা।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে বুলবুল আহমেদ স্মৃতি সম্মাননা পদক প্রদান করা হয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। ফাউন্ডেশনের পক্ষে বুলবুল আহমেদের সহধর্মিণী ডেইজি আহমেদ ও কন্যা তাহসিন ফারজানা তিলোত্তমা পদক তুলে দেন এটিএম শামসুজ্জামানের হাতে।

সম্মাননা পদক পেয়ে এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, ‘এখন যারা বুলবুল আহমেদকে সরাসরি পাবে না, তারা তার সিনেমা দেখো। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন।’

আজ বুলবুল আহমেদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১০ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। সেই থেকে তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে এবং প্রবীণ বরণীয় শিল্পীদের স্মরণীয় করে রাখতে বুলবুল আহমেদের পরিবার ও বুলবুল আহমেদ ফাউন্ডেশনের পক্ষে প্রতি বছর সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র