Alexa

সুবীর নন্দীর শেষকৃত্য সম্পন্ন

সুবীর নন্দীর শেষকৃত্য সম্পন্ন

ছবি: সুমন শেখ/ বার্তা২৪.কম

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর মরদেহের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের পর তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (৮ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর সবুজবাগ বরদেশ্বরী কালিমাতা মন্দির প্রাঙ্গণের শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুবীর নন্দীর পরিবারের সদস্য, কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, এন্ড্রু কিশোরসহ প্রমুখ।

সুবীর নন্দী দীর্ঘ পাঁচ দশক সংগীত জগতে তার সুরের মূর্ছনায় লখো ভক্তের মনে স্থান করে নিয়েছে। ভক্তদের উপহার দিয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি গান।

মঙ্গলবার (৭ মে) সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ‘একুশে পদক’ জয়ী এই শিল্পী।

বুধবার (৮ মে) সকালে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। পরে সকাল ১১টায় তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। যেখানে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে সর্বস্তরের মানুষ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুবীর নন্দীর মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হয় এফডিসিতে।

গত ১৪ এপ্রিল রাতে সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ট্রেনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সুবীর নন্দী। এরপরই তাকে ঢাকার সিএমএইচে নেওয়া হয়। সিএমএইচের জরুরি বিভাগে থাকাকালীন হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। পরে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩০ এপ্রিল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পীকে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের এমআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় সুবীর নন্দীর জন্ম। তিনি সিলেট বেতারে প্রথম গান করেন ১৯৬৭ সালে। এরপর ঢাকা রেডিওতে সুযোগ পান ১৯৭০ সালে। রেডিওতে তার প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’।

বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় আজিজুর রহমানের ছবি ‘অশিক্ষিত’। এ সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিন আর সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

আপনার মতামত লিখুন :