Alexa

দাদা সাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড পেলেন জাগরণী চক্রের আরজু

দাদা সাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড পেলেন জাগরণী চক্রের আরজু

ছবি: সংগৃহীত

সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ভারতের সম্মানজনক সম্মাননা ‘দাদা সাহেব ফালকে ফিল্ম ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ পেয়েছেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আজাদুল কবির আরজু।

দাদা সাহেব ফালকের ১৫০তম জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ১১ মে সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের স্বামী সমরথ নগরের নিঊ মাহাদা গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরজুর হাতে পুরস্কার তুলে দেন খ্যাতিমান অভিনেতা গজেন্দ্র চৌহান।

সম্মানজনক এই পুরস্কার পেয়ে আরজু বলেন, “আমি ৪৩ বছর ধরে খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এই প্রাপ্তি সেইসব প্রান্তিক মানুষদের, যাদের জন্য আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।”

সমাজটাকে একটু বদলে দেওয়ার ইচ্ছে নিয়ে আরজু ১৯৭৫ সালে যশোর শহরের কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘জাগরণী চক্র’ নামে একটি সংগঠন। তার প্রজ্ঞা ও পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই সংস্থাটি সমাজ উন্নয়নে ব্যতিক্রমী ও উদ্ভাবনী কাজের জন্য আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সুপরিচিত। গতানুগতিক উন্নয়ন কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠী হরিজনদের নিয়ে কাজ করেছেন। যৌনকর্মীর সন্তানদের জন্য গড়ে তুলেছেন সেল্টার হোম। শহরের বস্তি ও গ্রামের দরিদ্র নারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। যার মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৫০০২ জন নারী সুস্থ হয়ে ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনে।

প্রতিদিনের আয় ১ ডলারের নিচে এ রকম হতদরিদ্র পরিবারকে সাবলম্বী করতে রংপুর, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরা জেলার ৪৩ হাজার ৬৩০ জন নারীকে আয়বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি ও উৎপাদনমুখী সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মনির্ভর করেছেন। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে গড়ে তুলেছেন ‘অধ্যাপক শরীফ হোসেন শিক্ষাবৃত্তি তহবিল’।

এর আওতায় ২০০৮ থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে অধ্যয়নরত ৭৯ জন দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের দায়িত্ব নিয়েছে সংস্থা। ‘ত্রিশ লক্ষ শহিদের স্মরণে সারা দেশে ৩০ লক্ষ বৃক্ষরোপণ’ মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মরণে প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১৮ সালে দেশের ৩৪টি জেলায় ২১ লাখ ৩ হাজার ৩৮২টি গাছের চারা রোপণ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :