জমকালো আয়োজনে চলছে তারকা বহুল ‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠান , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠান , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছু সময় পর বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী মিলনায়তনে শুরু হয় টিএম ফিল্মস নিবেদিত ‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস (বিবিএফএ)’র প্রথম আসর। এরপর দেখানো হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র।

এর মাঝে নবরাত্রী মিলনায়তন ভর্তি হয়ে গেছে দুই বাংলার তারকায়। সন্ধ্যা হতেই মিলনায়তনে একে একে হাজির হতে থাকেন দুই বাংলার কিংবদন্তি সব অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে টিএম ফিল্মসের চেয়ারপার্সন ফারজানা মুন্নী বলেন, ‘দুই বাংলার সেরা শিল্পীদের সম্মান জানাতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। দুই বাংলায় চলচ্চিত্রে এখন সংকট চলছে, ঠিক এই সময়ে চলচ্চিত্রের পথে পা বাড়িয়েছে আমাদের টিএম ফিল্মস। নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলার প্রয়াসে আমরা প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বপ্ন দেখছি দেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দেওয়ার।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা একই ভাষায় কথা বলি। আমরা একই পাখির কলতান শুনি। কিন্তু রাজনৈতিক সীমারেখা আমাদেরকে বিভক্ত করেছে। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি জলবায়ু ও কিন্তু একই। কিন্তু আমাদের মধ্যে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিশ্চয় আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দৃঢ় করবে। এ কারণেই আজকের আয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সংস্কৃতি চর্চা চলচ্চিত্র নির্মাণের চর্চার দিক থেকে আমাদের সংস্কৃতিকে আরও বেগবান করবে। চলচ্চিত্র জীবনের কথা বলে, মানুষকে কাঁদায়, হাসায়, চলচ্চিত্র চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়। আমার বিশ্বাস এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমাদের সম্পর্ক আরেক নতুন এক মাত্রা উন্মোচন করবে।’

কলকাতার জনপ্রিয় নির্মাতা গৌতম ঘোষ বলেন, ‘সিনেমার যে সময় সেটা আশ্চর্য ম্যাজিক। যেটা এক হাজার বছরের গল্প দু বছরে বলা যায়। পাঁচ মিনিটের গল্প দুই ঘণ্টায় বলা যায়। সিনেমায় আমরা সময়কে সংকুচিত করতে পারি। আবার প্রসারিত করতে পারি। এক আশ্চর্যজনক মাধ্যমে আমরা কাজ করি। সিনেমা কি সত্যি দুই বাংলার মানুষের মধ্যে প্রীতি ও মিলন বয়ে আনতে পেরেছে কি? এটা নিয়ে একটা লেখা আরও আগেই লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সময়ের কারণে হয়ে উঠেনি। সিনেমা আমাদের একত্রিত করে দিবে, মানুষের মধ্যে আর কোন বিভেদ থাকবে না। সিনেমা যে কাজটা করতে পারে সেটা হলো আমাদের স্মৃতিমালাকে একত্রিত করতে পারে। আর সেই প্রত্যাশাই রইলো।’

পশ্চিমবঙ্গের পর্যটক মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই বাংলার দারুণ এক সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। আমাদের দুই বাংলার ইতিহাস ও সম্প্রীতি এ আয়োজনের মধ্য আরও দৃঢ হবে। এই ঢাকা শহরে ১৯৬৫ সালে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন হয়েছিল। যেখানে সত্যজিৎ রায় উপস্থিত ছিলেন। এই শহরেই আবার তেমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। এটা বেশ আনন্দের। দুই বাংলার সংস্কৃতিতে একটা সময় অস্থিরতা ছিল। কিন্তু সেটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূর হয়ে গিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে তা আরও দৃঢ হবে। সিনেমা তো শিল্পী, একে চর্চা করতে হয়। এছাড়া তো একে আর সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কেন পথ নেই। আগে কিন্তু একটা সময় ছিল, ভালো কাজ হলে দুই বাংলাতেই টের পাওয়া যেত। কিন্তু এখন অর সেটা হয় না। এক ধরনের ভালো কাজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে রাখেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড.মাহফুজুর রহমান, ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ফিরদাউসুল হাসান ও বিবিএফএ এর সমন্বয়ক তপন রায়।

এরপর মঞ্চে আসেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় উপস্থাপক মীর আফসার আলি ও বাংলাদেশের শাহরিয়ার নাজিম জয়। একে একে মঞ্চে ডাকা হয় দুই বাংলার তারকাদের। বাংলাদেশি তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ওমর সানী, সিয়াম আহমেদ, নিরব হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মামনুন ইমন, অভিনেত্রী মৌসুমী, জয়া আহসান, বিদ্যা সিনহা মিম, নুসরাত ফারিয়া, পরীমনি ও পূজা চেরিসহ অনেকে। ভারতীয় তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, আবির চ্যাটার্জি, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা ঘোষ, তনুশ্রী, পাওলি দাম, নির্মাতা গৌতম ঘোষ, সৃজিত মুখার্জি প্রমুখ।

এর কিছুক্ষণ পর মাইক্রোফোনে ভেসে এলো আজীবন সম্মাননার ঘোষণা। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম ও ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এদিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই বাংলার শিল্পীদের আয়োজনে নাচ ও গানের মাধ্যমে জমকালো আয়োজনে চলছে তারকাবহুল ‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠান।

‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস (বিবিএফএ)’ যৌথভাবে আয়োজন করছে ফিল্ম ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া ও বসুন্ধরা গ্রুপ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করছে টি. এম. ফিল্মস। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকছে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড। অন্যদিকে ব্রডকাস্ট পার্টনার হিসেবে আছেন ভারতের জি-বাংলা এবং বাংলাদেশের এটিএন বাংলা ও গানবাংলা। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে আছে ওয়ান মোর জিরো।

আপনার মতামত লিখুন :