loader
শিল্পী গফুর হালীকে একুশে পদ দেওয়া উচিত : চবি উপাচার্য

ঢাকা: চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, মাইজভান্ডারী ও মরমী গানে দেশখ্যাত শিল্পী গফুর হালীকে একুশে পদকে ভূষিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।


শিল্পী গফুর হালীর জন্মদিন উপলক্ষে সুফী মিজান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। এসময় তিনি শিগগিরই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ‘গফুর হালী কর্নার’ প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দেন।’


বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আবদুল গফুর হালী একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যান ও মাইজভান্ডারী মরমী গোষ্ঠীর সভাপতি মো.সিরাজুল মোস্তফার এতে সভাপতিত্ব করেন।

সুফী মিজান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক আনোয়ারুল হক চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় আবদুল গফুর হালীর ৩০০ গানের স্বরলিপিসহ তিনটি গীতিকাব্য ‘সুরের বন্ধন, শিকড় ও দিওয়ানে মাইজভান্ডারী’ এবং নাটকসংগ্রহ ‘আবদুল গফুর হালীর চাটগাঁইয়া নাটকসমগ্র’ প্রকাশিত হয়েছে। চট্টগ্রামের কিংবদন্তী শিল্পীদের মধ্যে একমাত্র গফুর হালীর ৩০০ গানের স্বরলিপিসহ গীতিকাব্য প্রকাশিত হয়েছে যা চাটগাঁইয়া গানের হাজার বছরের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/09/1533831284791.jpg

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, দৈনিক আজাদী বার্তা সম্পাদক, গীতিকবি একেএম জহুরুল ইসলাম, সংগীতজ্ঞ সঞ্জিত আচার্য্য, নোয়াখালীর এডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী। বিশেষ আলোচক ছিলেন দৈনিক সমকালের সিনিয়র সাব এডিটর ও আবদুল গফুর হালী একাডেমির সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন হায়দার।

চবি উপাচার্য বলেছেন, ‘আবদুল গফুর হালীর গানে প্রেম, প্রকৃতি ও মানবতার জয়গান বহুমাত্রিকতায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, মাইজভান্ডারী ও মরমী গানকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন। গফুর হালী মোহছেন আউলিয়ার গান নামে স্বতন্ত্র একটি সংগীত ধারা সৃষ্টি করেছেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নাটক লিখে এবং তা মঞ্চায়ন করে শহরের পাশাপাশি গ্রামীন জনপদে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু গফুর হালীর রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন হয়নি, এটা দুঃখজনক। শিল্পীকে একুশে পদকে ভূষিত করা উচিত।

ড. আবুল কাসেম বলেন, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা এখন অবহেলিত। এই ভাষার চর্চা দিনদিন কমছে। সেক্ষেত্রে গফুর হালীর মতো কিংবদন্তী শিল্পীদের গান চাটগাঁইয়া ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখবে।’

ড. ফরিদ উদ্দিন আহামদ বলেন, ‘জীবদ্দশায় গফুর হালীর মতো দেশখ্যাত শিল্পীর মূল্যায়ন হয়নি। এখন অনেকে একুশে পদক পান। কিন্তু গফুর হালীর মতো শিল্পী একুশে পদক পাননি।’তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগ চালুর মাধ্যমে গফুর হালী চর্চা বেগবান করার দাবি জানান।

গীতিকবি একেএম জহরুল ইসলাম বলেন, ‘আবদুল গফুর হালীর গানে মাটির ঘ্রাণ আছে। তিনি মাটি থেকে উঠে আসা শিল্পী। এই দেশের প্রকৃতির সুর, নরনারীর প্রেম, মানবপ্রেম এবং আধ্যাত্মিকতা তার গানকে বিশিষ্টতা দিয়েছ।’

লোকসংগীত গবেষক নাসির উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘আবদুল গফুর হালী চাটগাঁইয়া গানের প্রধানতম রূপকার। তিনি আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারী গানে নবযুগের প্রবর্তক। কিন্তু তার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।

শিল্পী সঞ্জিত আচার্য্য বলেন, গফুর হালীর ‘ন যাইও ন যাইও আঁরে ফেলাই বাপর বাড়িত ন যাইও’ দ্বৈত গান দিয়ে শেফালী ঘোষ-শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব জুটির উত্থান।’

সভাপতির বক্তব্যে সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘চট্টগ্রামের লিজেন্ড শিল্পীদের গান সংরক্ষণে সরকার ও সংগীতপ্রেমী বিত্তশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। শিল্পীরা বয়সকালে দুঃস্থ হয়ে যান। ওইসময় তাদের পরিবারের সহায়তায় সবাইকে হাত বাড়াতে হবে।

দ্বিতীয় পর্বে সংগীতানুষ্ঠানে আবদুল গফুর হালীর গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী সঞ্জিৎ আচার্য্য, কল্যাণী ঘোষ, মোহছেন আউলিয়ার গানের জনপ্রিয় শিল্পী শিমুল শীল, গীতা আচার্য্য, ফেরদৌস হালী, নয়ন শীল, জাবেদ হালী প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ সংগীত পরিবেশন করবেন মাইজভাণ্ডারী মরমী গোষ্ঠীর শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দিয়েছেন আবদুল গফুর হালীর ছেলে আবদুল খালেক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আবদুল হালিম মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্রাবণী দাশ।

Author:   স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম

barta24.com is a digital news outlet

© 2018, Copyrights Barta24.com

Emails:

[email protected]

[email protected]

Editor in Chief: Alamgir Hossain

Email: [email protected]

+880 173 0717 025

+880 173 0717 026

8/1 New Eskaton Road, Gausnagar, Dhaka-1000, Bangladesh