Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাজনীতি: তুর্কিতৃষ্ণা ও পাপের ফল

রাজনীতি: তুর্কিতৃষ্ণা ও পাপের ফল
শুভ কিবরিয়া, ছবি: বার্তা২৪
শুভ কিবরিয়া


  • Font increase
  • Font Decrease

এক. 

ঢাকা শহরের যানজটের ওপর এখন আর গোস্বা করা মানায় না। বরং নিয়তির মতো মেনে নেওয়াই লাভজনক। তাতে মনের দুঃখ কমবে। শরীরের ওপরও চাপ বাড়বে না। এছাড়া উন্নয়নের একটা বাড়তি চাপও আছে যানজটের ওপর। উন্নয়ন এখন অনেক কিছু খেয়েও ফেলে। আমরা যেহেতু উন্নয়ন চাই, যে কোনো মূল্যেই চাই, যে কোনো কিছুর বিনিময়েই চাই কিংবা সেই চাওয়াটাই জীবনের জন্য নিরাপদ, তাই ঢাকা শহরের সর্বত্র যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া আছে তাতে যানজট আরও অসহনীয় হয়ে উঠলেও তার সাথে মানিয়ে নেয়াটা জরুরি। কেননা নাগরিক হিসাবে আমাদের কাজ হচ্ছে অসহ্য সব কিছুকে সহ্যসীমায় নিয়ে নেবার অভ্যেস করা । সেটা স্বাস্থ্যপ্রদ এমনকি নিরাপদ-নিরুদ্বেগ জীবনের জন্যও উপাদেয়।

তাই নাগরিক হিসেবে, এই শহরের বাসিন্দা হিসেবে আমি কিছু নিত্যনতুন অভ্যেস রপ্ত করেছি। ঢাকার গণপরিবহনে উঠে, যত অনিময়ই দেখি না কেন, যতই অনাচার চোখের সামনে ঘটুক না কেন, মনকে অন্য দিকে সরিয়ে দিতে ঋষির মত নীরব ও ধ্যানমগ্ন থাকি। অভিজ্ঞতায় বুঝেছি সেটাই লাভজনক।

আর একটা অভ্যেস খুব কাজে লাগে সেটা হচ্ছে পছন্দসই কিছু পড়া। গণপরিবহন এখন যতটা চলে তার চাইতে অনেক বেশি থেমে থাকে নানা অজুহাতে। সেখানে কপালগুণে পেছনের দিকে একটা সিট পেয়ে বসে পড়তে পারলে পড়াশোনা চালিয়ে নেয়াটা খুব কঠিন কিছু নয়। আজ এমনিভাবেই পড়ছিলাম বিখ্যাত ও আলোড়িত কবি নাজিম হিকমতের চতুর্থ স্ত্রী ও জীবনের শেষ প্রেমিকার লেখা একটা বইয়ের কথা। এই লেখাটার মধ্যেই অদ্ভুত একটা শব্দ পেলাম। শব্দটি হচ্ছে, তুর্কিতৃষ্ণা। কথাটা খুব ভাল লাগল। এই তৃষ্ণায় পড়লে মানুষ বেপোরোয়া হয়। তুরস্ক দেশের কিছুটা গোয়াড় গোবিন্দ ধরণের জেদকেই তুর্কিতৃষ্ণা বলেছেন লেখক। এই ধরণের তৃষ্ণাময় প্রেমের সাথে মানিয়ে চলা সহজ কাজ নয়।

কবি নাজিম হিকমত শেষ জীবনে রাশিয়ার মেয়ে ভেরা তুলিয়াকোভা নামের এক নারীর প্রেমে পড়ে তাকেই বিয়ে করেছিলেন। সেই প্রেমও ছিল অন্ধ আবেগের জোয়ার টানা প্রেম। বয়সে ৩০ বছরের বেশি ব্যবধান থাকা সত্বেও কবির প্রেমিকার পক্ষে নাজিম হিকমতকে উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কবিকে বিয়ে করতে বাধ্য হন ভেরা।

কবি নাজিম হিকমতের জেলখানার চিঠি আমাদের জীবনে এক আবেগময় সময়কে যথেষ্ট রস্বাস্বাদিত করেছিল। রাজনীতি, প্রেম, তারুণ্যের মগ্নতা, দীর্ঘদিন জেল খাটার অভিজ্ঞাতসম্পন্ন নাজিম হিকমত তাই ছিলেন আমাদের যৌবনের এক আইকন। তাঁর জীবনব্যাপী তুর্কিতৃষ্ণা আমাদের সময়ের বহু তরুণ-তরুণীর ছিল আরাধ্য।

দুই.
এই লেখাতেই কবির জীবনের একটা গল্প পড়লাম। কবি নাজিম হিকমত তখন প্রেমিকা ভেরাকে বিয়ের জন্য উম্মত্ত। প্রেয়সীকে নিজের করে পাবার জন্য কবির তুর্কিতৃষ্ণায় কবি তখন পাগলপারা। বিয়ে রেজিষ্ট্রি করতে কবি চলেছেন ট্যাক্সিতে। রেজিষ্ট্রি অফিসে ট্যাক্সি থামলে ট্যাক্সিচালক ভাড়া নেবার সময় কবিকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি নাজিম হিকমত? কবি জানালেন, হ্যাঁ, আমিই নাজিম হিকমত। ট্যাক্সিচালকের কৌতুহল তখন আরও বাড়ল। জানতে চাইলেন কবির কাছে, ক্ষমা করবেন, আপনি কি বিয়ে করতে এসেছেন? কবি বললেন, হ্যাঁ ভাই। আমিই বিয়ে করতে এসেছি। এবার মুখ কালো করে ট্যাক্সিচালক বললেন, কমরেড হিকমত, আপনি এতগুলো বছর জেলখানায় ছিলেন, তারপরও বন্দিজীবনের প্রতি আগ্রহ আপনার। কবি হাসতে হাসতে বললেন, বন্দিজীবনটাই আমার অভ্যাস হয়ে গেছে, ভাই। কিছুই করার নেই।

তিন.
বিয়েজীবনেও প্রেমের অমৃত স্বাদ পেয়েছিলেন কবি। কবির শেষ স্ত্রী ও প্রেমিকা ভেরা তুলিয়াকোভা কবির মৃত্যুর একটা অসাধারণ বয়ানও লিখে রেখেছেন। আজ সেসব পড়তে বসে মনটা কিছুটা বিষণ্ন হয়ে উঠলো।

কবির স্ত্রী লিখছেন, সেদিন সকালে অন্য দিনের তুলনায় একটু আগেই ঘুম ভেঙে গিয়েছিল আমার। ঘুম ভেঙে গিয়েছিল পর্দাহীন জানালা দিয়ে সূর্যের আলো এসে সরাসরি আমার চোখে পড়ছিল বলে। ঘর ছিল নিস্তব্ধ। সকাল ৭টা ২০ বেজে গেছে। মিনিট পাঁচেক পর তুমি (কবি নাজিম হিকমত) হঠাৎ সটান উঠে পড়লে এবং দ্রুত দৌড়ে গেলে দরজার দিকে। আমি তোমাকে ডাকতে চাইলাম, কিন্তু ভাবলাম, আরেকটু ঘুমিয়ে নিই। তুমি আর ফিরে এলে না।

এক মিনিট পার হলো, দুই মিনিট পার হলো, কিন্তু দরজায় তোমাকে দেখা গেল না। আরও খানিকক্ষণ আমি শুয়ে থাকলাম। কিন্তু কী যেন কী হয়ে গেল আমার, এরপর আমি উঠে তোমাকে খুঁজতে লাগলাম। কোথায় লুকালে তুমি? ভাবলাম, হয়তো পানির তেষ্টা পেয়েছে, কিংবা সিগারেট খাচ্ছ। আমি খুব তাড়াতাড়ি রান্নাঘরে এসে তোমাকে খুঁজলাম। না, সেখানে তুমি নেই। আমি স্নানের ঘরে খুঁজলাম, টয়লেটে খুঁজলাম। হঠাৎ আমার ভয় করতে লাগল, এমন ভয় করতে লাগল, মনে হতে থাকল, পেছন থেকে গরম বাতাস এসে আমাকে জড়িয়ে ধরছে। আমি দৌড়ে গেলাম হলঘরে, সেখানে দেখলাম তোমাকে। তুমি বসে ছিলে, দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে, হাত দুটো ঠেকে ছিল মেঝেয়, এক পা তুর্কি কায়দায় ভাঁজ করা, অন্য পা প্রসারিত সামনের দিকে। তোমার স্বভাবের সঙ্গে বেমানান শান্ত চেহারাটা দেখেই আমার মনে হলো, তুমি মরে গেছ। মুহূর্তের মধ্যে আমাকে ছেড়ে দিল পৃথিবী। পৃথিবী বোবা-কালা হয়ে গেল। আমি তোমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম, তুমি উত্তর দিলে না। আমি বুঝলাম, সব শেষ।

ভেরা তুলিয়াকোভার লেখা রুশ ভাষায় নাজিমের সঙ্গে শেষ কথোপকথন নামের বইটির কিছু অংশ বাংলা অনুবাদ করে প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায় এ নিয়ে লিখেছেন জাহিদ রেজা নূর। লেখাটি পড়ে তাঁর ওপর কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গেলো। যদিও একরাশ বিষণ্নতা তখনও আমার সঙ্গী।

চার.
এই বিষণ্ণতা খুব দীর্ঘস্থায়ী হলো না বাংলাদেশের হালের রাজনীতি নিয়ে ১৪ দলের সমন্বয়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের একটা উক্তি চোখে পড়ার পর। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হত্যা মামলার রায়ের বিষয়ে কথা বলতে যেয়েই উক্তিটি করেছেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বিএনপির নেতাদের প্রতি ইংগিত করে বলেছেন, ২১ আগষ্ট হামলার পর আপনারা (বিএনপি) তিন বছর ক্ষমতায় ছিলেন, কেন বিচার করেন নাই? তদন্ত করেন নাই কেন? কেন বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন? কেন জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিলেন? এর জবাব কে দেবে? এই কারণে আপনাদের পাপের ফল ভোগ করতে হচ্ছে।

আপাতত বিএনপির দুর্দশার একটা কারণ পাওয়া গেল স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বরাতে। বোঝা গেল ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতাসীনদের জন্য অনেক পাপ করার সুযোগ আসে। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতার জোরে সেই পাপ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন না। কেননা তখন মনে হয় তাদের থামানোর কোথাও কেউ নেই। তাদের জবাবদিহি নেবার কেউ নেই। মনে হয় কোনোদিন তাদের অপকর্ম বিচারের আওতায় আসার সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতাসীনরা যেহেতু চেক এন্ড ব্যালেন্সের আওতায় থাকেন না, ফলে যা ইচ্ছা তাই করেন। বিএনপিও ঠিক তাই করেছিল।

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়েও আদালতের বিচারক সেরকমই ইংগিত দিয়েছেন। এই মামলার রায়ে আদালতের একটি পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, বিরোধীদলকে নিঃশেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আর্জেস গ্রেনেডের মতো যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে ২১ আগষ্টের মতো নৃশংস ঘটনা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে একেবারে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিরোধিদলীয় নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়। সাধারণ জনগণ এই রাজনীতি চায় না।

পাঁচ.
লেখাটা কবি নাজিম হিকমতের কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। বিশেষ করে তার অন্ধআবেগের শক্তিজোড় তুর্কিতৃষ্ণার কথা উল্লেখ করতেই তার প্রেম ও মৃত্যুর কথা পেড়েছিলাম। আমাদের রাজনীতিবিদরাও ক্ষমতার প্রেমে এরকম তুর্কিতৃষ্ণায় মত্ত থাকেন। ফলে তাদের ক্ষমতাকালীন পাপকেও পূণ্য বলে মনে হয়। শুধু তাই নয় ক্ষমতাকালীন সময়ে মনে হয় তারা যে পাপ করছেন সেটাও জনগণের জন্য পূণ্যেই বয়ে আনবে।

এখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কথা অনুসারে বিএনপির বর্তমান দুর্দশার কারণ যদি হয়ে থাকে ক্ষমতায় থাকাকালীন তাদের পাপের ফল, তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে এখনকার ক্ষমতাসীনরা কি সেই প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকবেন? কিংবা অতীতে যখন তারা দুর্দশায় পড়েছিলেন সেটাও কি ছিল তাদের কর্মফল?

আমাদের বিবদমান, প্রতিহিংসাপ্রবণ রাজনীতি কি এই পাপ আর পাপের ফল থেকে কখনো মুক্ত থেকেছে? যদি আমরা আমাদের এই রাজনীতি না বদলাই তবে নিকট ভবিষ্যতে আমাদের রাজনীতি কি এই হিংসার পাপ থেকে আর পাপের ফলভোগ থেকে মুক্ত থাকবে?

শুভ কিবরিয়া: নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক।

 

আপনার মতামত লিখুন :

শিক্ষায় শিশুশিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান

শিক্ষায় শিশুশিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান
মুত্তাকিন হাসান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাধারণ অর্থে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনই শিক্ষা। ব্যাপক অর্থে ব্যক্তির গুণাবলীর পূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে পদ্ধতিগতভাবে জ্ঞান লাভের প্রক্রিয়াকে শিক্ষা বলে। বাংলায় শিক্ষা শব্দটি এসেছে ‘শাস’ ধাতু থেকে যার অর্থ শাসন করা বা উপদেশ দেওয়া। শিক্ষার ইংরেজি প্রতিশব্দ education; যা এসেছে ল্যাটিন শব্দ educare বা educatum যার অর্থ হলো to lead out অর্থাৎ ভেতরের সম্ভাবনাকে বাহিরে বের করে আনা বা বিকশিত করা।

শিক্ষা মানুষের মনকে আলোকিত করে, উম্মোচিত করে নতুন নতুন জানালা। আর তাই শিক্ষার কোনো শেষ নেই। শিক্ষা শুরুর পথটা শিশুশিক্ষা দিয়েই, আর তাই বলা হয় আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই ভবিষৎকে শুরু থেকেই সঠিকভাবে লালন-পালন না করলে কোনো কিছুই প্রত্যাশা করা যায় না।

শিশুশিক্ষার হাতেখড়ি পারিবারিকভাবে পিতামাতার মাধ্যমে হলেও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের যে পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হয়, তা শিশুদের বেলায় বাঞ্ছনীয় নয়। শিশুদের জন্য দরকার শিশুবান্ধব মানসম্মত শিক্ষা।

মানসম্মত শিশুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন শিশুর মনোজগত বোঝা। একটি বেসরকারি জরিপে দেখা গেছে, আমাদের দেশের শতকরা ৭০ ভাগের বেশি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শিশুমনোবিজ্ঞান সম্পর্কে কোনো ধারণা বা জ্ঞান নেই। শিশুর মন না বুঝে ভয়ভীতি দিয়ে শিক্ষাদান করা শুধু তোতা পাখি বানানো ছাড়া আর কিছু নয়। শিশুশিক্ষা বা প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষকদের অবশ্যই শিক্ষকদের মনোজগত সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের বর্তমান বেশিরভাগ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিক না হয়ে, নিজেরা শিক্ষা বাণিজ্যে মত্ত থাকেন। ক্ষণে ক্ষণে শিক্ষার্থীর বাবা-মার সাথে শিক্ষকদের পরম আলাপচারিতা মানেই মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নয়। শিশুশিক্ষায় শিশুদের মনের বিকাশে মনোবিজ্ঞানের ক্ষীণ প্রভাবের কারণেই শিশুরা জীবনের শুরুতেই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

বিদ্যমান শিক্ষার পরিবেশ তাদের মেধা বিকাশের অন্তরায়। শিক্ষক আর অভিভাবকের কড়া নিয়মশাসনে ভালো পড়তে বা লিখতে পারছে ঠিকই তবে চিন্তাশীল বা উদ্ভাবনী হয়ে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে। আসলে তাদের এ শিক্ষা মানব বিকাশে সহায়ক নয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো- পরিপূর্ণ মানবিক গুণে মানুষ হয়ে উঠা। পিতামাতা তার সন্তানকে দিয়ে ভালো রেজাল্ট করাচ্ছে ঠিকই কিন্তু সত্যিকারের শিক্ষিত হয়ে উঠছে না। শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের যথোপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তারা বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে করে টালমাটাল হচ্ছে পুরো সমাজ।

বিখ্যাত কবি মিল্টন বলেছেন- Education is the harmonious development of body, mind and soul…শিক্ষকরা যেহেতু প্রকৃত অভিভাবক এবং শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান প্রদান করে থাকেন, তাই শিক্ষকদের হতে হবে প্রকৃত মানুষ। শিক্ষদের নিজেদের মধ্যেই যদি মানবিক গুণাবলীর ঘাটতি থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীর মনে কখনোই মানবিক গুণাবলী জাগ্রত হবে না।

শিক্ষাদানের জন্য বিদ্যালয়ের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যত উপকরণই ব্যবহার করা হোক না কেন শিক্ষকরা নিজেরাই সবচেয়ে বড় উপকরণ। শিক্ষাকে পেশার পাশাপাশি সেবা হিসেবে গ্রহণ করতে পারলেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে উঠবে নিবিড়, সৌহার্দ ও স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক। কোমলমতি শিশুদের বকাঝকা না করে সকল শিক্ষকদের উচিত সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করা। হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা যেন প্রত্যেক শিক্ষার্থীই প্রথম স্থান অর্জন করবে। শিশুদের পাশাপাশি যেন পিতামাতারাও এমন প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে জ্ঞান বিকাশের প্রথম স্তর মাত্র। তাদের জন্য আরও বহু পথ বাকি।

শিক্ষক আর পিতামাতার চাপে শিশুরা যেন দিশেহারা। ভোরবেলায় চোখ কচলাতে কচলাতে ঘুম থেকে উঠা, বিদ্যালয় থেকে ফিরে যতটুকু সময় তাতে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয় শ্রেণীতে দেওয়া পড়ালেখা নিয়ে। শিশুরা তাদের চিন্তা চেতনা প্রকাশ করার কোন সুযোগই পাচ্ছে না। গ্রামের শিশুদের চেয়ে শহরের শিশুদের বেলায় এ অবস্থা বেশি পরিলক্ষিত হয়। কারণ শহরের বিদ্যালয়ে নেই খেলার উন্মুক্ত মাঠ। অথচ খোলামেলা মাঠ শিশুদের মনোবিকাশের অন্যতম উপাদান। শিশুরা দুরন্ত হরিণের মতো খেলাধুলা করবে এটাই স্বাভাবিক।

বিখ্যাত সাহিত্যিক আবুল ফজল বলেছেন ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতির প্রাণশক্তি তৈরির কারখানা আর রাষ্ট্র ও সমাজ সব চাহিদার সরবরাহ কেন্দ্র। এখানে ত্রুটি ঘটলে দুর্বল আর পঙ্গু না করে ছাড়বে না।’ যে স্থানেই হোক না কেন আমাদের উচিত শিক্ষার সঠিক সংজ্ঞার প্রতি খেয়াল রাখা। নচেৎ পুরো সমাজকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে এবং যার প্রভাব সুদূরপ্রসারি। শিশুশিক্ষার বর্তমান ধারা সংশোধন করে মনোবিজ্ঞান ভিত্তিক পড়ালেখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য শিশু-মনোবিজ্ঞান বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিক্ষকদের পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু ভালো পড়ালেখার আশায় পিতামাতারা তাদের শিশু সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে ইচ্ছুক বেশি, তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে শিক্ষকদের বড় একটি অংশ উচ্চ-মাধ্যমিকের বেশি পড়ালেখা করেননি এবং তাদের বেশিরভাগের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। যাদের প্রশিক্ষণ আছে তা আবার স্বল্পকালীন। সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষকদের মনেও নেই কোনো আনন্দ, তারা যেন কোনোমতে নিজেদেরকে ঠেলা দিয়ে চালাচ্ছে। শিক্ষকরা নিজেরাই নিজেদের মনোবিকাশে ব্যর্থ। শিশু শিক্ষার্থীর মনোবিকাশ এখানে বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়।

মুত্তাকিন হাসান: কবি, প্রাবন্ধিক ও মানব সম্পদ পেশাজীবী

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, পুরনো ছবি

৮৯ বছরের এক বিশাল কর্মজীবন পেছনে ফেলে সব আলোচনা-সমালোচনার ওপারে চলে গেছেন এরশাদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরশাদ একাই একটি অধ্যায়। এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) হয়তো আরও বহুদিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়েই থাকবে, তবে এরশাদবিহীন জাপা ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে বলেই মনে হয়।

তার দীর্ঘ পেশাগত ও রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য তিনি দলকেও ছাড়িয়ে গেছেন বহুমাত্রায়। তার অনুপস্থিতিতে জাপা হয়তো এখন সেটিই অনুভব করবে। ক্ষমতার সিঁড়ির কাছাকাছি যেতে এরশাদের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিপরীতে একটি শক্ত প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবেও তার জুড়ি নেই। তাই জাপার মতো একটি সমর্থক শক্তি রাজনীতিতে প্রয়োজন ছিল বৈকি। অপর দলের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় এরশাদবিহীন জাপা আগামীতে কতটা শক্তি জোগাতে পারে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে পার্টির গুরুত্ব থাকা না থাকা নির্ভর করে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ওপর। দলের ভেতরে সামরিক বেসামরিক ক্যারিয়ারিস্ট নির্বিশেষে এরশাদের মতো হাই-প্রোফাইল রাজনীতিক আর নেই। এক সময় জাপা করেছেন দেশের অনেক হাই প্রোফাইল রাজনীতিক। মিজানুর রহমান চৌধুরী, কাজী জাফর, শাহ মোয়াজ্জেম, মওদুদ আহমেদসহ দেশের প্রথিতযশা অনেক রাজনীতিকরা এরশাদের জাপাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা বামপন্থী রাজনীতি থেকে এসেছেন। ডিগবাজীর এই রাজনীতি শুরু হয় জিয়ার আমলে। সামরিক, বেসামরিক আমলা ও পেশাজীবীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেন জিয়া।

এরশাদও একই কায়দায় সামরিক-বেসামরিক আমলা, পেশাজীবীদের দলে ভেড়ান। কিন্তু ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ার পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তাদের বেশির ভাগই আজ আর জাপায় নেই। যেমন নেই বিএনপিতে। সময় বুঝে আজ জিয়ার উপদেষ্টা, কাল এরশাদের উপদেষ্টা বা মন্ত্রী হয়েছেন অনেকে। নগদ ইনামের আশায় এরকম রাজপন্ডিতের (উপদেষ্টা) নজির আজও বিরল নয়। ক্ষমতার লোভে যারা ডিগবাজী দিয়ে জাপায় এসেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে তারাই সবার আগে উল্টো ডিগবাজী দিয়েছেন। কেউ বা মৃত্যৃ বরণ করেছেন, অবসর নিয়েছেন। ফলে জাপায় আজ ক্যারিয়ার পলিটিশিয়ান যাকে বলে সে রকম কেউ নেই বললেই চলে। ক্যারিশম্যার কথা বাদই দিলাম। ফলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বই জাপার জন্য আজ বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার রাজনীতিতে একইভাবে দলের গুরুত্ব বহাল রাখা।

Ershad
১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এরশাদকে নিয়ে আলোচনা আছে, আছে সমালোচনা। কোনোটাই ভিত্তিহীন নয়। তিনি একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেছেন। বিদ্যমান দলগুলোর অদূরদর্শীতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে নিজেই ৯ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেছেন। সব সামরিক শাসক যা করেন এরশাদও তাই করেছেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি করেছেন, এরশাদ করেছেন জাতীয় পার্টি। নয় বছর ক্ষমতায় থেকে বিদায় নিয়েছেন সত্য, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে এরশাদের গুরুত্ব কমেনি মোটেও। বরং ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজের পাল্লা ভারি করতে এরশাদের বিকল্প শুধুই এরশাদ। আগামী দিনের ক্ষমতার রাজনীতিতে জাপা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারবে কিনা জাপা’র জন্য আপাতত এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য অন্তত আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে ‘ক্ষমতা’, ‘রাজনীতি’ ও ‘কৌশলের’ সঙ্গে ভোটের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর বিষয়টি অনেকাংশেই নির্ভর করে। এ সম্পর্ক যেভাবে শিথীলতার দিকে যাচ্ছে তাতে তৃতীয় কোনো সহায়ক শক্তির রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাও হয়তো ফুরিয়ে যাবে। তবে সে রাজনীতি আমাদের হিসাবের বাইরে। আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি, এরশাদ জাপায় যেমন অপরিহার্য ছিলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতেও ছিলেন একই রকম অপরিহার্য।

Ershad
একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য। এই উপমহাদেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলই বেশি বিকাশ লাভ করেছে। ভারতে যেমন কংগ্রেস, পাকিস্তানে মুসলিম লীগ, পিপলস পার্টি, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা। ভারতের বিজেপি অথবা বাংলাদেশের জামায়াত একটি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ চর্চা করে। কাজেই প্রচলিত রাজনীতি থেকে তাদের রাজনীতি ভিন্ন, নেতৃত্বের বিষয়টিও ব্যক্তি বা পরিবার নির্ভর নয়। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যদিও ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বিকাশ লাভ করেছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দলের প্রয়োজনেই বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতেই দলের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়। সেই থেকে প্রায় চার দশক আওয়ামী লীগও ব্যক্তি কেন্দ্রিক দলীয় রাজনীতির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

দলের ভবিষ্যৎ পারিবারিক সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর বিএনপি ও জাপার শুরুই হয়েছে একজন ব্যক্তি বিশেষের রাজনৈতিক খায়েস মেটানোর জন্য। জিয়া ও এরশাদ যদি ধরেও নিই যে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ক্ষমতা দখল করেছেন (ডকট্রিন অব নেসিসিটি), না হলে দেশ গোল্লায় যেতো ইত্যাদি, ইত্যাদি... তারপরও বাস্তবতা হলো তারা কেউ দেশের সেই কথিত ক্রান্তিলগ্ন পার হওয়ার পর ব্যারাকে ফিরে যাননি। গদি আঁকড়ে ধরে থেকেছেন। জিয়া নিহত হওয়ার পর বিচারপতি সাত্তার ও পরে খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন। সেই থেকে আজও ব্যক্তি ও পারিবারিক দখলমুক্ত হতে পারেনি বিএনপি।

একই কায়দায় এরশাদ নয় বছর ক্ষমতায় থাকার পরও জাপা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তি এরশাদ থেকে জাতীয় পার্টি মুক্ত হতে পারেনি চার দশকেও। পতিত সামরিক ও স্বৈরশাসকরা ‘মরিবার পূর্বে মরিতে চান না’। তাই নিরাপদ ও স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করতেই তারা দলের সভাপতি বা উপদেষ্টার পদ আজীবন আঁকড়ে থাকেন। এরশাদের হয়তো এক্সিটওয়ে ছিল, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে তার প্রয়োজন ছিল এবং তিনিও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তা উপভোগ করে গেছেন। ক্ষমতার প্রতিটি কোনায়ই তিনি বিচরণ করেছেন।

সেনাপ্রধান, সিএমএলএ, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিরোধী দলের নেতা সব ক্ষেত্রেই তার সরব উপস্থিতি আমরা দেখি। সবকিছু যে তার প্রয়োজন ও ইচ্ছায় হয়েছে হয়তো সেরকমটি নয়। অনেকটা রাজনীতি ও ‘ক্ষমতা’র প্রয়োজনেই তার এই এদিক ওদিক, কখনো নিজের কখনো অপরের প্রয়োজনে। এখানেই এরশাদের অপরিহার্যতা। আর এজন্যই আমরা তাকে বলি ‘রাজনীতির দুষ্টু বালক’।

Ershad

সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংসদ টিভি 

 

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের তিনটি বড় দলের মধ্যে জাপা আপাত একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব থেকে মুক্ত হলো বটে। কিন্তু ব্যক্তি কেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে নতুন করে পরিবারভূক্ত হলো বলেই মনে হচ্ছে। এতে আপতত হয়তো জাপা প্রাথমিক ধাক্কাটি সামলাতে পারবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পার্টির নিয়তি নির্ধারণে তা কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে তা সময়ই বলবে।

এরশাদের সমালোচনা আছে অনেক। কিন্তু নির্মোহ দৃষ্টিতে বললে এ সমালোচনা থেকে সবাই-ই কি মুক্ত? রাজনীতিতে এরশাদ একটি সিনড্রোম। এ সিনড্রোমে সব রাজনৈতিক দলই আক্রান্ত। এমনকি নাগরিক হিসেবে আমরাও কি সুবিধাবাদী নই? এরশাদ আমাদের সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী, ভোগবিলাসী ও ডিগবাজীর রাজনীতির আইকন। কিন্তু এরশাদ সিনড্রোম কি আমাদের মাঝেও নেই? এরশাদকে গালি দেওয়া সহজ, কারণ তিনি ক্ষমতাহীন এক ‘দুষ্টু বালক’। এরশাদের বিদায়ের পর রাজনীতিতে হয়তো সহসা সমালোচনা করার মতো লোকটি বিদায় নিলেন। কিন্তু তাতে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে কি? এরশাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ভাড়ামি হয়তো কিছুটা কমবে, কিন্তু রাজনৈতিক দুষ্টামি বন্ধ হবে কি?

এরশাদুল আলম প্রিন্স: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র