সুলভ মনোনয়নপত্র!

তুষার আবদুল্লাহ
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

মনোনয়নপত্র সুলভে পাওয়া যাচ্ছে? মোটেও তা নয়। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকায়। বিএনপির মনোনয়নপত্রের মোট মূল্যও ৩০ হাজার টাকা। উত্তোলনের সময় ৫ হাজার টাকা। জমা দেয়ার সময় ২৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। জাতীয় পার্টি প্রথমে ৩০ হাজার টাকা ফরমের দাম ঠিক করলেও পরে দশ হাজার টাকা ছাড় দিয়েছে। বিকল্পধারার ফরম ২১ হাজার টাকা। জাসদ বিক্রি করছে ২ হাজার টাকায়। তবে মনোনয়নপত্রের ফরমের জন্য ভিড় ধানমন্ডি এবং পল্টনে।

আওয়ামী লীগ তৃতীয় দিনে এসে শেষ করেছে ফরম বিক্রি। বিএনপির শুরু রোববার। শেষ সোমবার। আওয়ামী লীগের হয়ে যারা মনোনয়ন তুলেছেন-তাদের সকলকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী মনে হয়নি। নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই, দলের কোনো অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন, এলাকায় যাতায়াত নেই এমন অসংখ্য মানুষকে মনোনয়নপত্র তুলতে দেখা গেছে। একই আসনে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়নপত্র। যেমন বরগুনা-১ আসনে ৪৮ জন, বরগুনা- আসনে ৩২ জন, নারায়নগঞ্জ- ১ আসনে ৩২ জন মনোনয়নপত্র তুলেছেন।

এমন গণহারে একেক আসন থেকে মনোনয়নপত্র তোলার নজির নেই। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রির পরিমাণ প্রায় চার হাজার। খুব কম সংখ্যকই আছেন যারা মনোনয়নপত্র জমা দেননি। বিএনপি থেকে শুরুর দিনও মনোনয়নপত্র তোলার হিরিক পড়েছে। মনোনয়নপত্র তোলা যেন নেশা এবং হুজুগের বিষয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ নিজেই কর্মীদের প্ররোচিত করেছেন-যতো পারো মনোনয়নপত্র তুলো। আওয়ামী লীগের মতোই মনোনয়নপত্র তোলার হিরিক পড়েছে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টিতেও। দলগুলো থেকে সাংগঠনিক ভাবেও বলা হচ্ছে-মনোনেয়ন তোলার এমন জোয়ার এর আগে দেখা যায়নি কখনও।

মনোনয়নপত্র তোলার হুজুগে মিছিলে আছেন যারা, তাদের একটি বড় অংশ তরুণ। তারা বলছেন- আমরা বাংলাদেশকে আমাদের মতো গড়তে চাই, তাই আসতে চাই প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে। আমরা সংসদে না গেলে আমাদের কথা বলবে কে? এই উত্তর দেয়া তরুণের সংখ্যা কম। তাও এই উত্তর পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপির মনোয়নপত্র উত্তোলকদের কাছ থেকে। বাকিদের কাছে কোনো উত্তর নেই। তারা এলাকায় আলোচনায় আসতে। বা যে পেশার সঙ্গে আছেন সেই পেশায় একটু বিশেষ নজর নেয়া। তবে বড় একটি অংশকে দেখা গেছে ফেসবুকে সরব হতে এবং মিডিয়ার বিশেষ করে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে আসতেই যেন তারা মনোনয়নপত্র তুলছেন।

এই হিরিককে আবার এভাবেও দেখা যায়- দীর্ঘদিন রাজনীতিতে গুমোট হাওয়া বিরাজ করছিল। আপাতত যে স্বত:স্ফুর্ত নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ততোটুকু ভোটের আবহাওয়া বহুদিন পর পাওয়া গেছে। তারই স্বস্তির প্রকাশ মনোনয়ন নিয়ে এই হুরোহুরি।

এই হুরুহুরি একটি সত্যের প্রমাণ দেয়। আমরা যতোই তৃণমূল বলে জপ করিনা কেন, আপাদের সেই জপমালায় বিশ্বাস এবং আন্তরিকতা নেই। কেন্দ্র এবং তৃণমূলের মতো দূরত্ব রয়ে গেছে এখনও। রাজনীতির বাইরের মানুষের কাছে পাত্তা নেই তৃণমূলের। মোটকথা তৃণমূল শক্তিশালী নয়। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে শৃংখলা আসেনি। যদি শৃংখলা থাকতো তাহলে কোনো একটি আসনের জন্য ৪৮টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয় না। ৪/৫ টিকে তাও স্বাভাবিক ভাবা যেতে পারে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট উৎসবে দু:খজনক হলেও, আমাদের তৃণমূলের রাজনীতির পুষ্টিহীনতার প্রকাশ ঘটলো।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন।