Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

জোট-মহাজোটের সমীকরণ এবং মৌসুমী ব্যবসা

জোট-মহাজোটের সমীকরণ এবং মৌসুমী ব্যবসা
ফরিদুল আলম / ছবিঃ বার্তা২৪
ফরিদুল আলম


  • Font increase
  • Font Decrease

সবকিছু ঠিক থাকলে নতুন বছরের শুরুতেই দেশে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হবে। নতুনের আবেদন চিরন্তন, বলা যায় নতুনের প্রত্যাশা আমাদের প্রতিদিন নতুন করে বাঁচতে শেখায়। তারপরও আমাদের মনের কোনে থায় যেন সবসময় বিষাদের গোপন সুর বাজতে থাকে। আমাদের উন্নয়নের ধারার সাথে রাজনীতি যথাযথভাবে খাপ খাইয়ে সত্যিকার একটি গণতান্ত্রিক ধারার দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না- সচেতন মানুষের মনে সম্ভবত এই ভাবনাগুলো আজকাল প্রবলভাবে দোলা দেয়।

দেশে নির্বাচন আসছে। রাজনৈতিক দলগুলো তথা নেতাকর্মীদের দলীয় আদর্শের প্রতি আনুগত্যের এক অলিখিত পরীক্ষা দেখছি প্রতিদিন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তিকে বর্তমান দুই জোটে যোগদানে উদ্বুদ্ধ হতে দেখছি। এদের মধ্যে রয়েছে নানাবিধ সমীকরণ। কেউ এমপি হতে চান, কেউ নেতা আবার কেউবা তাদের বিদ্যমান অবস্থানকে সুসংহত রাখতে চান।

রাজনৈতিক দল বা জোটের আদর্শে সত্যিকারভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে এভাবে দলে দলে লোক ভিড় করছেন – একথা আমি মানতে নারাজ, কেননা আপাতঃ দৃষ্টিতে কোনো দল বা জোটের ভেতর আদর্শিক রাজনীতির কোনো অবস্থান নেই। যা আছে তা হচ্ছে নির্বাচনকালীন রাজনীতি। যে কোনো প্রকারে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করাই এখন মুখ্য বিষয়।

হয়ত নির্বাচন অতিক্রান্ত হবার পর আবারও আদর্শিক রাজনীতির বুলিতে মুখরিত হয়ে উঠবে রাজনৈতিক অঙ্গন। এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা কিছুদিন আগেও নিজ দলের আদর্শের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলেছেন, কিন্তু নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভে সেই আদর্শ সহসাই পরিবর্তন হয়ে নতুন আদর্শকে ধারণ করে বাকী জীবন পথ চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন। এইতো গত সোমবার আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ গোলাম মওলা রনি বিএনপিতে যোগ দিয়েই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নগদ পুরষ্কার হিসেবে মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়ে আজীবনের জন্য নিজেকে বিএনপির সেবাদাস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

অপর আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ যোগ দিলেন গণফোরামে। তাও কেন এইসময়ে? কারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনভাবে একটা মনোনয়ন ফরম দরকার। সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং এক এগারোর আলোচিত ব্যক্তি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি উভয় দল থেকেই মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জাতীয় পার্টি অত্যন্ত প্রীত হয়ে তাঁকে নগদে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে পুরস্কৃত করে মনোনয়নের নিশ্চয়তাও দিয়েছে। অর্থাৎ, দলের রাজনীতি নয়, এমপি হয়ে মনের খায়েস মেটানোই হচ্ছে বড় বিষয়।

তবে এত কিছুর পরেও কখনও কখনও কারও কারও দলের প্রতি আনুগত্য এবং আস্থা দেখলে ভাল লাগে। সাবেক ডেপুটি স্পীকার শওকত আলীর ছেলে ডাঃ খালেদ শওকত আলী দলের মনোনয়ন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরও তার বাসায় সমবেত ক্রন্দনরত মানুষকে সান্ত্বনা দিয়ে দলের আদর্শের জন্য কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলকে আবারও ক্ষমতাসীন করতে সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। রাজনীতিতে এধরণের আত্মত্যাগ আজকাল বিরল।

গত কিছুদিন ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং তাদের ১৮ দলের শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচন করা নিয়ে জটিলতার রেশ কাটেনি। এক্ষেত্রে ১৪ দলীয় অপর শরিকদের সাথে তাদের সমস্যা না হলেও জাতীয় পার্টির জন্য বরাদ্দ করা আসন নিয়ে এরশাদ খুশী হতে পারেননি। মঙ্গলবার রাতে জানা গেল পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ অসুস্থতাজনিত কারণে সিএমএইচ এ ভর্তি হয়েছেন। এর কয়েকদিন আগেও তিনি সেখানে ভর্তি ছিলেন। এমন একটা সময়ে তার এই অসুস্থতাকে সঙ্গত কারণেই অনেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনপূর্ব সময়ে সিএমএইচ এ অবস্থান করার সাথে তুলনা করছেন। এদিকে বনানীর পার্টি অফিসে দলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মহাসচিবের সাক্ষাত পাচ্ছেন না। শোনা যাচ্ছে মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকের সাথে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই অবস্থায় সোমবার রাতে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি তালিকা দেয়া হলেও বাস্তবে অন্ততপক্ষ্যে ১৫টিতে আওয়ামীলীগ তাদের নিজস্ব প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। কথিত আছে এর আগের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে যেসকল আসনে ছাড় পেয়েছিল সেগুলোতে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার নিরিখে নয়, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। জোটগত নির্বাচনের সুফল হিসেবে এদের অনেকেই সেইসময় বিজয়ী হয়ে আসেন।

কেবল ক্ষমতাসীন হওয়ার তাগিদে জোটগত রাজনীতি এখন এমন এক অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে যে এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো খুব শীঘ্রই চরম অস্তিত্বসংকটে ভুগবে সন্দেহ নেই। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আনুমানিক ৭০টি এবং বিএনপি ৬০টি আসন জোটভুক্ত অপরাপর দলগুলোকে ছেড়ে দিচ্ছে। উভয়ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে সকল আসনগুলোতে তাদের প্রার্থীদের স্থলে জোটের অপর শরিকদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে জ্বালাও পোড়াও করছে।

অনেক ক্ষেত্রে দলের ত্যাগী নেতাদের মনোননয়ন না দিয়ে ক্ষুদ্র দলগুলোকে পাশে রেখে নির্বাচনে যাওয়ার তাগিদ থেকে যেভাবে অনেক দলীয় নেতাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে এতে এবারের নির্বাচনে খেসারত কতটুকু দেয়া লাগতে পারে সেটা অস্পষ্ট হলেও ভবিষ্যতে এর অবশ্যম্ভাবী সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।

এক্ষেত্রে বিএনপির বিগত নির্বাচন বর্জন করার ফলে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক হতাশ নেতাকর্মীর এবারও মূল্যায়ন না হওয়াতে সাংগঠনিকভাবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোকে কঠিন করে তুলবে। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও অনেক নির্বাচনী আসনে বারবার নিজ দলের বাইরের দল বা প্রার্থীর জন্য আসন ছেড়ে দেয়ার ফলে তাদের ভোটব্যাংকে এর প্রভাব পড়বে। এক্ষেত্রে তাদের দুর্গ বলে খ্যাত এমন অনেক আসন রয়েছে যেখানে জোটের স্বার্থে এধরণের আত্মত্যাগ অনেকটা রাজনৈতিক আত্মহত্যার সামিল।

বর্তমান সংসদে বাম দলগুলোর যে কয়জন সাংসদ রয়েছেন এদের কেউই অতীতে তাদের দলগত বা ব্যক্তিগত ক্যারিসমার বলে সাংসদ হয়ে আসতে পারেননি; বরং বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অতীতে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এধরণের কিছু ব্যক্তির প্রতি আওয়ামী লীগের অসীম মমত্ববোধের ক্রমাগত খেসারত দিতে হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের। এছাড়াও সবমিলিয়ে মহাজোটের ব্যানারে অপর দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।

সম্প্রতি বিএনপি নেতা ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ডঃ এমাজ উদ্দিনের মধ্যকার ফোনালাপের অডিও ফাঁস হয়, যেখানে তাদের ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন দল এবং নেতাদের নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করতে শোনা যায়। এই আলাপের মূল বিষয় ছিল এধরণের ঐক্য করে কি লাভ হল এবং এর ফলে অনেক জায়গায় তাদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এমন কিছু আসন নামসর্বস্ব দলের কিছু নেতাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে, যাদের অতীতে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই অথবা নির্বাচন করতে গিয়ে জামানত পর্যন্ত হারিয়েছেন।

আসলে এই জোট মহাজোটের সমীকরণের মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে এবং সরকার পরিচালনায় পর্যন্ত উঠে আসছে আমন কিছু ব্যক্তিত্ব, যারা রাজনীতিতে অনেকটাই অচ্ছুৎ। এদের কাছে রাজনীতি অনেকটা হয়ে উঠেছে মৌসুমী ব্যবসার মত। ব্যবসার হিসেব কষে যখন যে দিকে ঝোকা দরকার তখন সেদিকেই ঝুঁকছেন তারা। আমার মনে হয় এই সকল সুবিধাবাদী মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রাজনীতিকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠিত বড় দুই রাজনৈতিক দলের।

নির্বাচনকে উপলক্ষ করে জোট হবার চেয়ে সরকার গঠনের সময় এধরণের জোট হলে নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বীয় নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করতে পারেন। সবার মনে রাখার দরকার নির্বাচনের পূর্বে সাধারণ মানুষও অপেক্ষায় থাকেন তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের মূল্যায়ন হচ্ছে এটা দেখার জন্য। আমরা সচেতন মানুষ, যাদের বেশীরভাগই মূলত দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থক তারা কোনভাবেই যেনতেনভাবে দল রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হোক এটা দেখতে চাইনা। কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা জোটগত অপরাপর দলকে সাথে রাখার প্রয়োজনে নিজের দলের অস্তিত্ব এবং মূল আদর্শ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে কি না সেটা ভেবে দেখা জরুরি।

ফরিদুল আলম:  সহযোগী অধ্যাপকআন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানেবেইজিং এর ইউআইবিই-তে উচ্চশিক্ষারত

আপনার মতামত লিখুন :

২১ আগস্ট: বাংলাদেশের রাজনীতির স্থায়ী বিভক্তি রেখা

২১ আগস্ট: বাংলাদেশের রাজনীতির স্থায়ী বিভক্তি রেখা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশের রাজনীতির দুটি ধারা- আওয়ামী লীগ এবং এন্টি আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার আগে এন্টি আওয়ামী লীগ ধারার নেতৃত্ব ছিল মুসলিম লীগের হাতে, স্বাধীনতার পর এন্টি আওয়ামী লীগ ধারার নেতৃত্ব হাতে তুলে নেয় জাসদ। আর ৭৫এর পর থেকে এই ধারাটির নেতৃত্ব বিএনপির হাতে। রাজনীতিতে দুটি ধারা থাকা অস্বাভাবিক বা অভূতপূর্ব নয়। বরং এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই রাজনীতির একাধিক ধারা রয়েছে। তবে আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও সব দেশেই দুই ধারার রাজনীতির মধ্যে আলাপ-আলোচনা, স্বাভাবিক সৌজন্য, ক্ষমতার পালাবদল ইত্যাদি থাকে। আমাদের দেশেও ছিল, এখন আর নেই। নেই কেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুজতেই আজকের লেখা।

বাংলাদেশের রাজনীতির সকল বিভক্তি আগস্টে। বিভক্তি রেখা দুটি- ১৫ আগস্ট আর ২১ আগস্ট। আগস্ট মানেই যেন শোক আর বেদনা। ৭৫এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ঘাতকরা। বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঘাতকরা তাদের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার মিশনে নেমেছিল। নেতারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবঢাল হয়ে শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে পেরেছেন। তবে আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা গেছেন নির্মম এই গ্রেনেড হামলায়। আগস্টের এই দুই নির্মম তারিখ আমাদের রাজনীতিতে স্থায়ী বিভক্তি রেখা টেনে দিয়েছে। যদিও ১৫ আগস্টের দায় চাইলে বিএনপি এড়াতে পারতো। কারণ ৭৫এর ১৫ আগস্ট বিএনপির জন্ম হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৫ আগস্টের মূল বেনিফিশিয়ারি জিয়াউর রহমানই বটে, তবুও বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। কর্নেল ফারুক ৭৫এ একবার উপসেনা প্রধান জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা করে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষের কথা বলেছিলেন। জিয়া তাকে, তোমরা জুনিয়র অফিসাররা কিছু করো, জাতীয় হালকা উস্তানি দিয়ে বিদায় করেছিলেন এবং সতর্ক জিয়া পরে আর ফারুক গংকে অ্যালাউ করেননি। জিয়াউর রহমান চাইলে জুনিয়র অফিসারদের অসন্তোষের কথা সিনিয়রদের জানাতে পারতেন। তা না করে তিনি সুযোগের অপেক্ষায় থাকলেন। সুযোগটা তিনি পেয়েও গেলেন। নানা ঘটনার পর ৭৫এর ৭ নভেম্বর ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন জিয়াউর রহমান।

১৫ আগস্ট সকালে রাষ্ট্রপতি হত্যার খবর শুনে শেভ করতে করতে নির্বিকার কণ্ঠে জিয়া বলোছিলেন, 'সো হোয়াট। ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আপহোল্ড দ্যা কনস্টিটিউশন।' জিয়ার প্রতিপক্ষের লোকজন বলেন, রাষ্ট্রপতির হত্যার খবর শুনে উপসেনা প্রধান হিসেবে তার যা দায়িত্ব ছিল তা পালন করেননি। অন্য সবাই যখন খবর শুনে রাতের পোশাকে সেনা সদরে গেছেন। জিয়াউর রহমান তখন শেভ করে, চালক নিয়ে ইউনিফর্ম পড়ে গেছেন। তার মানে তিনি ঘটনা জানতেন এবং অপেক্ষা করছিলেন। আর জিয়ার পক্ষের লোকজনের যুক্তি হলো, তিনি তো সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলেছিলেন; ক্যু বা বিশৃঙ্খলা নয়। আর সেনা প্রধান থেকে শুরু করে সবাই যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তখন উপসেনা প্রধান কী করবেন। আর পেশাদার সৈনিক হিসেবে দ্রুত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিজেকে তৈরি করে ফেলাটা তো কৃতিত্বের। ১৫ আগস্টে জিয়াউর রহমানের যেটুকু ভূমিকা বা অবস্থান; চাইলে তিনি সেটা এড়াতে পারতেন। কিন্তু ১৫ আগস্টের খুনীদের পুনর্বাসন করে, চাকরি দিয়ে, খন্দকার মোশতাকের করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বহাল রেখে জিয়াউর রহমান বুঝিয়ে দিলেন; পরিস্থিতি যাই হোক, ১৫ আগস্টই বিএনপির রাজনৈতিক জন্ম। জিয়াউর রহমান যাই হোক, চাইলে বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টের দায় এড়াতে পারতেন, রাজনীতিকে রাজনীতির জায়গা ফিরিয়ে আনতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা তো করেনইনি, উল্টো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৫ আগস্ট জন্মদিন আবিষ্কার ও ঘটা করে পালন করে বুঝিয়ে দিলেন ১৫ আগস্টই তার এবং তার দলের রাজনৈতিক জন্ম। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করেছিল। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার পুরো বিচার প্রক্রিয়া ডিপ ফ্রিজে পাঠিয়ে দেয়। ১৫ আগস্টের দায় এড়ানোর সুযোগ থাকলেও জিয়া, খালেদা, বিএনপি বারবার নানাভাবে সে দায় নিজেদের কাঁধে টেনে নিয়েছে, যা আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির রাজনৈতিক দূরত্ব আরো বাড়িয়েছে শুধু। তারপরও ১৫ আগস্টের বিভক্তি রেখাটা অলঙ্ঘনীয় ছিল না।

তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে স্থায়ী ও অলঙ্ঘনীয় বিভক্তি রেখা টেনে দিয়েছে ২১ আগস্ট, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। সবকিছুরই একটা নিয়ম থাকে। কিন্তু ২১ আগস্ট রাজনীতির সকল নিয়ম কানুন ভুলুণ্ঠিত করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। দেশের বাইরে থাকায় ১৫ আগস্টের নির্মমতা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর থেকে বারবার তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। ১৯টি হত্যাচেষ্টা থেকে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে অন্য সব হত্যাচেষ্টার সাথে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার একটা পার্থক্য রয়েছে। ২১ আগস্টের চেষ্টাটি ছিল বেপরোয়া, মরিয়া, নিষ্ঠুর ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রযন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বিরোধী দলীয় হত্যার চেষ্টা নজিরবিহীন। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো হত্যা পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত থাকতে পারেন, এটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। তারচেয়ে বড় কথা হলো, ২১ আগস্ট হত্যা পরিকল্পনা হয়েছিল তখনকার বিকল্প ক্ষমতা কেন্দ্র হাওয়া ভবনে এবং মূল পরিকল্পনাটা ছিল তখনকার প্রধানমন্ত্রীপুত্র তারেক রহমানের। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও, এসব এখন আদালতে প্রমাণিত সত্য।

আমরা রাজনীতিতে সমঝোতার কথা বলি, আলোচনার কথা বলি। কিন্তু যখন জানি, শেখ হাসিনাকে মারতে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনায় ছিলেন তারেক রহমানও, তখন বুঝি কাজটা কত কঠিন। ১৫ আগস্ট যে বিভক্তির শুরু, ২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতির সেই বিভক্তিকে যেন স্থায়ী রূপ দিয়েছে। এই গত ১১ বছর ধরে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে, তার উৎসও কিন্তু ২১ আগস্ট। আপনি যথন রাজনীতির নিয়ম ভাঙবেন, তখন আপনিও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে নিয়ম আশা করতে পারবেন না। জানি প্রায় অসম্ভব, তবু চাই রাজনীতিটা আবার নিয়মে ফিরুক। প্রতিহিংসার জবাব প্রতিহিংসায় না হোক। রাজনীতির লড়াইটা, বিভেদটা হোক আদর্শের।

ঐতিহাসিক ভুলের খণ্ডন নাকি অন্য কিছু?

ঐতিহাসিক ভুলের খণ্ডন নাকি অন্য কিছু?
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপের পর পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও ভারতের সঙ্গে সকল প্রকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছে। ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় তারা ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনারকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি নয়াদিল্লীতে নিযুক্ত তাদের সকল কূটনীতিককে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর বাইরে তারা ভারতের সঙ্গে সকল প্রকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোকে স্থগিত করেছে।

আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় তারা বিষয়টিকে আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এখানে সঙ্গত কারণেই বলে রাখা ভাল যে, পাকিস্তানের তরফ থেকে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া আসবে জেনেই কিন্তু ভারত অনেক ভেবেচিন্তে কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি এখন একদিকে যেমন ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়, অন্যদিকে মুক্তিকামী মানুষের আত্মমর্যাদার প্রশ্নে বড় বাধা বিবেচনায় একটি আন্তর্জাতিক সংকটেও রূপ নিয়েছে। তবে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতার বিবেচনায় এমনটা আশা করার সুযোগ নেই যে ভারতের ওপর কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হতে পারে।

আইনগতভাবে কাশ্মীর এখন আর রাজ্য নয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি বিশেষ অঞ্চল। ১৯৫০ সালে প্রণীত ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্র- এই তিনটি বিষয় বাদে বাদবাকি সকল বিষয়ে কাশ্মীরের সরকারকে দেওয়া সকল ক্ষমতা বাতিল হয়ে গেল গত ৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের এক স্বাক্ষরে। প্রশ্ন হচ্ছে সংবিধানের একটি বিশেষ ধারা কীভাবে কেবল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে বাতিল হয়ে গেল। এর উত্তর হচ্ছে যখন এই বিশেষ ধারাটি সংযোজন করা হয় তখনই এর সঙ্গে এটিকে একটি অস্থায়ী প্রভিশন হিসেবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রপতি যখনই চাইবেন তখনই তা বিলুপ্ত করতে পারবেন বলে শর্ত দেয়া হয়েছিল। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ৬৯ বছর পর রাষ্ট্রপতি তা বাতিল করলেন মাত্র। তবে বিষয়টিকে যেভাবে সরল অংকের মতো করে বর্ণনা করা হল, বাস্তবে এটি এমন সরল ছিল না কখনো। বিগত প্রায় ৭০ বছর এমনকি স্বাধীনতা উত্তর সময়ে ভারতের কোনো সরকার কখনো কাশ্মীরকে একীভূত করাতো দূরে থাক সেখানকার স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল জনদাবি সামাল দিতেই সবসময় ব্যস্ত সময় অতিক্রম করেছে।

বিজেপি তথা ভারত সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং এর পরবর্তী দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া থেকে বিষয়টি অনুমান করা কঠিন নয় যে তাদের বহু প্রতীক্ষিত একটি চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে। সেই সঙ্গে বিগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আগের চাইতেও ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের বিষয়টি এখন অনেকটা স্পষ্ট। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে তারা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছিল যে জয়লাভ করে আবার সরকার গঠন করতে পারলে তারা বিতর্কিত ৩৭০ ধারা অবলুপ্তি করবে। এখানে আমাদের মনে রাখতে হবে যে এই ৩৭০ ধারাটি এখানে ভারতে রাজনীতিবিদদের অনেকের কাছেই ‘বিতর্কিত’ হিসেবে চিহ্নিত। এর সঙ্গে ৩৫ উপধারার সন্নিবেশের মধ্য দিয়ে অপরাপর রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে যা নেই কাশ্মীরের ক্ষেত্রে এসবের সন্নিবেশন, যেমন আলাদা পতাকা, নিজস্ব আইন, অপরাপর অঞ্চলের অধিবাসীদের সেখানে স্থায়ী বাসিন্দা হবার ক্ষেত্রে বাধা, চাকরির ক্ষেত্রে অন্যান্যদের প্রবেশাধিকারে প্রতিবন্ধকতা ইত্যাকার সকল বিষয় আসলে কাশ্মীরকে সকলের কাছেই চক্ষুশূল করে রেখেছিল। তবে দিন দিন ধরে বিষয়টি এভাবে চলতে থাকা এবং কাশ্মীর নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সিদ্ধান্তহীনতা বিষয়টিকে এমন এক জটিলতার আবর্তে বন্দি করে রেখেছে যে এটা নিয়ে সহজে কোন যুক্তিগ্রাহ্য সমাধান পাওয়া দুরূহ।

এ কথা ঠিক যে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কাশ্মীরের মুক্তিকামী মানুষের জন্য বুমেরাং হবে এবং তাদের মুক্তির সংগ্রামকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে, একই সঙ্গে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে যুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে অর্থাৎ এই বিশেষ মর্যাদার সঠিক ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে কাশ্মীর, সেটাকেও কি একেবারে অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দেয়া যায়। আবার এই প্রশ্নও এসে যায়, এই ব্যর্থতার আসল কারণগুলো কি? এসব কিছুর মূলে ভারত সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণ, মহারাজা হরি সিং এর সাথে সম্পাদিত চুক্তির প্রতিশ্রুতির যথাযথ বাস্তবায়ন না করা ইত্যাকার বিষয় এবং পরবর্তীতে এসবের মধ্যে পাকিস্তানের ঢুকে পড়া, কাশ্মীর নিয়ে ভরত এবং পাকিস্তানের মধ্যে দুবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, এর বাইরেও বিভিন্ন সময় ছোটখাট সংঘাত- এই সব কিছু মিলে জল এতটা ঘোলা হয়েছে যে দিন যতই গেছে, পরিস্থিতি ততই জটিল আকার ধারণ করেছে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে তবে কি হতে পারত সর্বজনগ্রাহ্য সমাধান? এক্ষেত্রে এতসব ঘটনার ব্যাপকতায় এমন কোন গ্রহণযোগ্য সমাধান কেউ দিতে পারেননি।

ইতিহাসবিদ ড: কিংশুক চ্যাটার্জি বলছেন, 'ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাক্সেশনের মাধ্যমে কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ঠিকই,কিন্তু যে শর্তে হয়েছিল কালক্রমে ভারত তা থেকে অনেকটা সরে এসেছে। পাকিস্তানও কতকটা জোর করেই এই অ্যারেঞ্জমেন্টের মধ্যে প্রবেশ করেছে। ফলে সাতচল্লিশে এই সমস্যার শুরু হলেও এখন সেই সমস্যা অনেক বেশি জটিল আকার নিয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'এখন কাশ্মীর সমস্যার এমন কোনো পর্ব নেই যেখানে ফিরে গিয়ে আমরা বলতে পারি এখান থেকে সমস্যাটা আবার 'রিসেট' করা যাক! আজ যদি কাশ্মীরে গণভোট হয় কিংবা পাকিস্তান তাদের দিকের কাশ্মীর থেকে সরে যায় - তাতে কোনও সমস্যার আদৌ সমাধান হবে বলে মনে হয় না।'

দীর্ঘদিনের এই সমস্যার জন্য কাশ্মীরের শেষ যুবরাজ করণ সিং অনেকটাই দোষ চাপিয়েছেন ভারত সরকারের ওপর। তার মতে, 'যেদিন আমার বাবা সেই চুক্তিতে সই করেন সেদিন থেকেই জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ২৭ অক্টোবর তারিখে সেদিন আমি নিজেও ওই ঘরে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মহারাজা হরি সিং কিন্তু প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ও বৈদেশিক সম্পর্ক - শুধু এই তিনটি ক্ষেত্রে ভারতভুক্তি স্বীকার করেছিলেন,নিজের রাজ্যকে ভারতের সঙ্গে পুরোপুরি মিশিয়ে দেননি। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরকে যে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।'

সঙ্গত কারণেই ভারতের এই হঠাৎ আচরণ শান্তিপ্রিয় মানুষকে হতাশ করলেও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহের দিকে লক্ষ্য করলে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে কি খুব একটা অপ্রাসঙ্গিক বলার সুযোগ রয়েছে? বিশেষ মর্যাদার নামে কাশ্মীরে যে ধরণের অচলাবস্থা বিরাজ করছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে যেভাবে প্রতিনিয়ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এবং এর থেকে প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় যেভাবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো কাশ্মীরের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে জড়িয়ে পড়ছে এই সবকিছুই কিন্তু দিনে দিনে ভারতের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। কাশ্মীরের এই অচলাবস্থার পথ ধরে ভারতের অপরাপর অঞ্চলগুলোতেও অস্থিরতার বিস্তার যেন রোধ করা যায় সেসব বিবেচনায় নরেন্দ্র মোদির এই পদক্ষেপ। এখানে এটাও সত্য হিসেবে মানতে হবে যে এই পদক্ষেপ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি নিজেকে সত্যিকার অর্থে এক কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি যদি জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে যথার্থভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হন তবে যেমন ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করবেন, আবার অন্যদিকে কাশ্মীরের জনরোষ এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া এবং সন্ত্রাসবাদের হুমকি যদি নতুন মাত্রায় আবির্ভূত হয় তবে তা একপর্যায়ে বড় ধরণের সংঘাত এমনকি পাক ভারত উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। শুরু হয়ে যেতে পারে আরেকটি বড় যুদ্ধ, যার ভয়াবহতা অতীতের যে কোন সময়কে অতিক্রম করে যেতে পারে। আর এমনটা হলে এর সকল দায়ভারও কিন্তু মোদির ঘাড়েই পড়বে।

লেখক: ফরিদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র