Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা জরুরি

নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা জরুরি
এরশাদুল আলম প্রিন্স, ছবি: বার্তা২৪.কম
এরশাদুল আলম প্রিন্স


  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির মাঠ এখন গরম। এই শীতে আসন্ন নির্বাচন বেশ উষ্ণতা ছড়াবে বলেই মনে হয়। আমাদের দেশে শীত ও নির্বাচনের সঙ্গে রয়েছে এক মধুর সম্পর্ক। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক আচরণবিধির মতো প্রকৃতিতে শীতও এখন তার চিরন্তন গতিবিধি পরিবর্তন করে ফেলেছে। প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণও এ থেকে ভিন্ন কিছু নয়।

নির্বাচনের আচরণবিধি পালনের ব্যাপারে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ শোনা গেছে। কিন্তু আচরণবিধিতেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবায়নে ততোটা নয়। দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ থেকেই শুরু হয়েছে বিধিমালা ভঙ্গের হিড়িক। গাড়ি, বাস, ট্রাকে করে এলাকা থেকে লোক ভাড়া করে ঢাকার পল্টন বা ধানমন্ডি এসে শোডাউন করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। কাচ্চি বিরিয়ানি-মোরগ পোলাও খাইয়ে আবার তাদের বাড়ি পৌঁছেও দেওয়া হয়েছে। এতে এক দশক পরে নির্বাচনের একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এটা যেমন ঠিক, তেমনি এ জাতীয় কর্মকাণ্ড সামগ্রীকভাবে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট করে সেটিও ঠিক। এবং শেষ পর্যন্ত এ রকম শোডাউনের পরিণতি আমাদের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসেনি। একজন মানুষের মৃত্যু অথবা পুলিশের গাড়িতে আগুন- কোনোটিই হওয়ার কথা নয়।

আইন শুধু কাগজে থাকলে হয় না, কাজেও থাকা চাই। আচরণবিধিমালা অনুযায়ী কোনো ট্রাক, বাস অথবা মোটরসাইকেল নিয়ে কোনো ধরনের শোডাউন করা যাবে না। কিন্তু আমরা দেখলাম শোডাউনের প্রতিযোগিতা। যেনো যে প্রার্থী যতো বড় শোডাউন করতে পারে তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ততো বেশি। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও এ জাতীয় শোডাউন করা নিষেধ। কিন্তু আমরা দেখলাম, অনেক জায়গায় মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও শোডাউন।

১০ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনের আসল প্রচারণা শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রার্থীরা বিগত দুই-তিন মাস আগ থেকেই নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। আজকাল প্রচার-প্রচারণা শুধু পোস্টার দিয়েই হয় না। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে আরও নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই বাস্তবতারোধ করা যাবে না। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে গণসংযোগতো চলছেই।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল মিডিয়ার আবির্ভাবের ফলে প্রচার-প্রচারণায়ও এসেছে রকমফের, চমক। কিন্তু এসবের অনেক কিছু সম্পর্কেই বিদ্যমান আচরণবিধিমালায় কিছু বলা নেই। আবার এটাও ঠিক যে সব কিছু অক্ষরে অক্ষরে বলে-কয়ে হবে না। কিন্তু সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা সম্পর্কেই নির্বাচন কমিশনকে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপও করতে হবে।

আইনে বলা আছে, ভোট গ্রহণের দিনের তিন সপ্তাহ আগে থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা যাবে। তার মানে বিধি অনুযায়ী এখন প্রচারণা চালানো নিষেধ। কিন্তু বাস্তবে সব প্রার্থীই তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় যেমন শোডাউন করা হয়েছে, অনেক প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়েও একই কাণ্ড করে বসেছেন।

নির্বাচনী আচরণবিধির তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের। আচরণবিধি লংঘনের দায়-দায়িত্বও কমিশনকে নিতে হবে। এর দায় রাজনৈতিক সরকার নেবে না। কারণ, নির্বাচনকালীন সরকার মূলত নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী সরকার কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। কিন্তু কমিশনকে সরকারের কাছে সে সহায়তা চাইতে হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘনের তদন্ত করার জন্য ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ গঠন করার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সারা দেশে ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠনও করেছে। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটির কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম আমাদের চোখে পড়েনি। শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করে চুপচাপ বসে থাকলেই কমিশনের কাজ শেষ হয়ে যায় না। তদন্ত কমিটির অস্তিত্ব সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা ও তাদেরকে স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়িত্ব পালনে তৎপর করাও কমিশনের কাজের মধ্যে পড়ে। সংবিধানের ১১৮ ও ১১৯ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। সংবিধানের ১১৮(৪) অনুচ্ছেদ বলছে, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন। এছাড়া ১১৯ (১) অনুযায়ী কমিশন রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকিবে এবং নির্বাচন কমিশন এই সংবিধান ও আইনানুযায়ী সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া আব্দুল মোমেন চৌধুরী ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ ( রিট পিটিশন নং ২৫৬১/২০০৫) মামলায় হাইকোর্ট বলনে, "From a close reading of Article 119 of the Constitution, it appears that the Election Commission has been given a plenary power of superintendence, direction and control of the preparation of the electoral rolls for elections and therefore whatever power is necessary for the purpose must be presumed to be there unless there is and ouster by express provision". সোজা কথায়, আইন বা বিধিমালায় কমিশনকে কোনো কাজের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা না হলে কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা প্রয়োজ তাই করতে পারবে। কাজেই আচরণবিধি লঙ্ঘনরোধে কমিশন তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে এগিয়ে আসবে এটাই কাম্য।

এরশাদুল আলম প্রিন্স: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, আইনজীবী ও কলামিস্ট

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র