Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

সভ্যতা, অসভ্যতা, উন্নতি

সভ্যতা, অসভ্যতা, উন্নতি
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আর্থ-সামাজিক- রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং সুসভ্য হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। অর্থনৈতিক উন্নতিই শুধু সভ্যতার মাপকাঠি নয়। বিশ্বের বহু ধনী দেশের উন্নতি দেখেও কেউ তাদেরকে সভ্য বলে না। এরা পরনির্ভরশীল ও অসভ্য। ধনী হলেও মানবিক মানদণ্ডে দেশগুলো কুখ্যাত।

একটা জাতি কতোটা সৎ, কতোটা বিনম্র, অন্যের প্রতি কতোটা শ্রদ্ধাশীল, কতোটা সহিষ্ণু, কতোটা ভদ্র, পরহিতকারী, অহিংস ইত্যাদি গুণাবলির নিরিখে কোনও জাতির সভ্যতা পরিমাপক করা হয় । টাকা-পয়সা, দালান দিয়ে নয়, সাংস্কৃতিক মান, শিষ্টাচার ও শোভন আচরণ দিয়ে একটি জাতির উচ্চতর অবস্থান নিরূপণ করা হয়ে থাকে।

আমাদের চেনা-জানা অভিজ্ঞতা থেকেই বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি। কথা-বার্তা, আচার-আচরণ দিয়ে কোনও দেশের মানুষের মান কেমন তা বোঝা যায়। দেশটি উন্নত না বর্বর, সেটাও জানা যায়। এই পদ্ধতিতে আমরা আমাদেরকেও পরিমাপ করতে পারি। আমরা মানুষ হিসাবে কতটুকু  উন্নত বা অবনত সেটাও টের পেতে পারি।

একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যেতে পারে। আমার এক পরিচিত জন ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি লন্ডনে নতুন চাকরি পেয়েছেন। কোম্পানির হেড অফিসে জয়েন করতে যাবেন তিনি। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছেন না । কিছুক্ষণ নিজে নিজে চেষ্টা করেও অফিস খুঁজে পেলেন না তিনি।

অবশেষে নিরুপায় হয়ে এক হোটেলের ফ্রন্ট ডোর সিকিউরিটিকে ঠিকানাটা কোথায় জিজ্ঞেস করলেন । একহারা গড়ন দশাসই চেহারার সিকিউরিটি বললেন, 'তুমি উলটো চলে এসেছো। পেছন ঘুরে সোজা হাঁটতে থাকবে, বাঁদিকে দুটো গলির পরের গলিতে ঠিকানা পেয়ে যাবে।'

আমার পরিচিত জন সিকিউরিটির হাত থেকে ঠিকানা লিখা চিঠিটা নিয়ে উলটো ঘুরে হন হন করে হাঁটতে লাগলেন। কয়েক কদম এগোতেই পেছন থেকে চিৎকার শুনলেন তিনি, 'এই যে শুনছো, দয়া করে দাঁড়াও।'

পেছন ফিরে তিনি দেখতে পেলেন, ওই সিকিউরিটি তার পেছন পেছন ছুটে আসছেন। অতএব তিনিও দাঁড়িয়ে গেলেন। সিকিউরিটি বিস্মিত চেহারায় তার সামনে এসে বলল, 'তোমাকে সাহায্য করার জন্যে তুমি তো আমাকে "ধন্যবাদ" জানালে না, দয়া করে "ধন্যবাদ" জানাও। আর শোন,  "ধন্যবাদ"  জানানোটা অভ্যাসে আনো।'

বিলাত প্রবাসী আমার পরিচিত ভদ্রলোক এ ঘটনার উল্লেখ করে নিজেই স্বীকার করেন, 'আমার মনে হচ্ছিলো, আমি ভুলে উলঙ্গ অবস্থায় বাথরুমের বাইরে বেরিয়ে গেছি আর হঠাৎ করেই একঝাক মানুষ আমার সামনে এসে পড়েছে।  আমি এতোটা লজ্জা বোধহয় আর কখনো পাইনি।'

সাধারণ ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের মধ্যে "ধন্যবাদ"  জানানো একটি অপরিহার্য বিষয়। বিষয়টি অতি সাধারণ ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে। কিন্তু পৃথিবীর সব দেশের মানুষ "ধন্যবাদ" জানানো অভ্যাসে পরিণত করতে পারে নি।

বাংলাদেশে এ অভ্যাসটি মানুষের মধ্যে নেই বললেই চলে। বরং এখানে "ধন্যবাদ" না বলাটা এক ধরণের বাহাদুরি। "ধন্যবাদ" না বলার উন্নাসিকতার মাধ্যমে নিজের গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্বরভাবে জাহির করতেই লোকজন পারঙ্গম। 

আমার আরেক বন্ধু মাসুম নোমান জার্মানি প্রবাসী একজন ব্যবসায়ী। সেদেশে ব্যবসা শুরুর দিকের একটি ঘটনা আমাকে বলেছিল। ঘটনাটি তার অফিস কাম ওয়্যারহাউসের। সেখানে এক কালো নাইজিরিয়ান লোডার হিসেবে যোগ দেয়, নাম স্যাম ।

ডেলিভারি বা কাস্টমার সার্ভিস-এর সময়টা ছাড়া বাকী সময়টাতে সে টয়লেট পরিষ্কার করে,  কার্পেট হুবার করে, মাঝে সাঝে চা চাইলেও দেয় । একদিন সকালে বৃষ্টি হচ্ছিলো। মাসুম গাড়ি থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে দৌড়ে অফিসে ঢুকে পড়ে। অফিসে ঢুকেই টের পায়, তাড়াহুড়োতে সে গাড়িতেই মোবাইল ফেলে এসেছে।

সে সময় স্যাম ওয়্যারহাউসে একটি ডেলিভারি রেডি করছিলো। মাসুম ওকে বললো,  'স্যাম, গাড়ি থেকে আমার মোবাইলটা নিয়ে এসো তো।'

স্যাম কিছুটা বিরক্তি চাহনিতে বলল, 'তুমি তো দেখতেই পাচ্ছো আমি ব্যস্ত। তুমি নিজেই গাড়ি থেকে মোবাইলটা নিয়ে এসো না কেন। আর অনুগ্রহ করে "প্লিজ" বলাটা শেখো। এটা সাধারণ শিষ্টাচার। এমনকি তোমার স্ত্রী-সন্তানদের সাথেও তাই বলবে।'

মাসুম বাঙালি মালিক। বাঙালিদের অহমের মাত্রা একটু বেশিই। , স্যামের কথাটা তার অহমে ভীষণ লাগলো। কিন্তু সে দেশের বাস্তবতা ও সাংস্কৃতিক নিয়মের কথা ভেবে সে থমকে গিয়ে বরল লজ্জা পেলো। তার মনে হলো, নিজের জন্মসমাজে "প্লিজ" বা "দয়া করে" বলাটা কখনো নিজে বলে নি, অন্য কাউকে বলতেও শুনে নি।

আসলে বাস্তবতা হলো, স্যামতো তার চাকরি সংশ্লিষ্ট কাজই করছে। এজন্যেই সে পারিশ্রমিক পায়। তাকে ব্যক্তিগত কাজে লিপ্ত করা যায় না। আর বিশেষ প্রয়োজনে তা করাতে চাইলেও বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো উচিত। মালিক বা প্রভুসুলভ ব্যবহার করে হুকুম করার সুযোগ নেওয়া চরম বর্বরতা ও ভদ্রতা-শিষ্টাচারের মারাত্মক খেলাফ।

ছোটবেলায় পড়া "কাজের মর্যাদা" শীর্ষক রচনার মূলকথা আমরা কতটুকু মমনে রাখি! পরীক্ষা পাসের জন্য আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি বটে। কিন্তু শিক্ষাটাকে বাস্তব ব্যবহারিক জীবনে শিক্ষণে পরিণত করি না।  শিক্ষাকে শিক্ষণে উন্নীত করতে চর্চার প্রয়োজন। এ চর্চাটারই প্রচণ্ড অভাব আমাদের মধ্যে রয়েছে । স্যাম কিন্তু সাদা ইউরোপীয় নয়,  নাইজেরিয়ান। কিন্তু শিক্ষাটাকে শিক্ষণে পরিণত করেছে বলে আত্মমর্যাদা নিয়ে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

আমেরিকার আরেকটি ঘটনা। বরফ শীতল বৃষ্টির জলে ভিজে ঠাণ্ডা লেগে একদিন আমার সে দেশে প্রবাসী বন্ধু আজহারের প্রচণ্ড কাশি হচ্ছিলো। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরারর পথে সে ভাবলো, এক বোতল কফ সিরাপ কিনে বাড়ি ফিরি। সে হাইস্ট্রিটে পার্কিং পাচ্ছিলো না। এক ফার্মেসির সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দৌড়ে ভেতরে ঢুকে সোজা কাউন্টারে গিয়ে টিলের মেয়েটিকে বললো,  'আমায় এক বোতল কফ সিরাপ দাও তো।'

টিলের মেয়েটি মহা বিরক্তিতে আজহারের দিকে তাকালো। একই সাথে  আজহারের পাশ থেকে এক বৃদ্ধা বললেন, 'মাফ করবে, মেয়েটি আমাকে সার্ভ করছে, আর আমাকে সার্ভ করা শেষ না হওয়া অবধি তুমি আমার পেছনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে পারো।'

আজহার ভীষণ ভাবে বিব্রত ও লজ্জিত হলো। দ্রুততার কারণে সে নিয়ম ভেঙেছে ও শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ করেছে, তা টের পেলো। সুরসুর করে সে বৃদ্ধার পেছনে দাঁড়িয়ে তাকে সার্ভ করা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকলো।

আজহার দেখলো, টিলের মেয়েটি তখনো তার দিকে বিরক্তি ভরে তাকিয়ে আছে। ফ্রি হওয়ার পর মেয়েটি তাকে  বললো, 'দেখো, একে তো তুমি খুব রুক্ষভাবে আমার কাছে কফ সিরাপ চেয়েছো, সামান্য "প্লিজ"  বলার সৌজন্যটুকু তুমি দেখাও নি, সেটা না হয় আমি ভুলে গেলাম। দ্বিতীয়ত তুমি অভদ্রোচিতভাবে বৃদ্ধাকে ঠেলে সামনে এসে তোমাকে সার্ভ করতে বলেছো, আর এ জন্যে তুমি এখনো ওনাকে "দুঃখিত"  বলোনি, এ খুবই অন্যায়।'

পুরো ঘটনার জন্যে আজহার দুঃখবোধ করছিল। তার মনে হলো, "প্লিজ", "সরি" ইত্যাদি ভদ্রতাসূচক শব্দ ও আচরণ রপ্ত না করলে ভদ্র সমাজে বসবাস করা যায় না। এ গল্পটি দেশে এলে প্রায়ই সে বলে। দোকানে, ব্যাঙ্কে ঠেলাঠেলি করে একজনকে গুঁতিয়ে আরেক জনের সামনের যাওয়ার প্রবণতা দেখে বিস্মিত হয়ে ঘটনাটি জানায় সে পরিচিতদের।

বছর দশেক আগের ঘটনা। ইস্ট লন্ডনে বসবাসকারী আমার বন্ধু ব্যাংক থেকে তেরো হাজার পাউন্ড ক্যাশ তুলে গাড়িতে করে বাড়ি আসার সময় তার গাড়ির ড্যাশ বোর্ড থেকে পুরো টাকাটা খোয়া যায়। এক পূর্ব ইউরোপিয়ান টাকার এনভেলপটি  নিয়ে পালিয়ে যায়। লন্ডন পুলিশকে ব্যাপারটা জানানো হয়। ওরা দীর্ঘদিন ইনভেস্টিগেশন চালায়। লন্ডন পুলিশ মাঝে সাঝে তাকে ফোন করে এটা সেটা জেনে নিত।

পূর্ব ইউরোপের বাসিন্দাদের লন্ডনে ধরা কিছুটা দুঃসাধ্য ব্যাপার। কারণ, চুরি শেষে সামান্য চল্লিশ-পঞ্চাশ পাউন্ডের টিকেট কিনে প্লেনে চেপে সোজা নিজের দেশে গিয়ে কিছুদিনের জন্যে ঘাপটি মারে তারা। উপরন্তু,  যে রোডে চুরি হয়েছিলো, সে রোডে সিসি ক্যামেরা ছিল না। ফলে বিশেষ ফল পাওয়া গেলো না।

বছর খানে ইনভেস্টিগেশন চালানোর পর একদিন লন্ডন পুলিশ থেকে জনা চারেক অফিসার আমার ভোক্তভোগী বন্ধুটির বাসায় এলেন।  চা পানে আপ্যায়িত করার ইচ্ছে প্রকাশ করতেই তারা বললেন, 'এটা পুলিশ বাহিনীর নীতি বিবর্জিত। অফিসিয়াল কাজে এসেছেন তারা। চা খেতে আসেন নি।'

পরের ঘটনাটি ছিল আরও আশ্চর্যের ও অনভিপ্রেত। একজন অফিসার আমার বন্ধুর হাতে একটি চিঠি ধরিয়ে দিলেন। তাতে লিখা ছিল, 'লন্ডন পুলিশ টাকা উদ্ধারে সাহায্য করতে না পারা জন্যে ক্ষমাপ্রার্থী।' পুলিশ অফিসার নিজেও বিনীতভাবে অক্ষমতার জন্যে "ক্ষমা" চাইলেন ।

টাকা ফিরে না পেলেও রীতিমত বিস্মিত ও হতবাক হয়েছিল আমার বন্ধু। এ ধরণের "ক্ষমা" চাওয়ার সংস্কৃতি ও আচরণের কথা সে কল্পনাও করতে পারে নি! সে ভেবেছে, কবে আমরা আমাদের ব্যর্থতা, গর্হিত কাজ, অপরাধ বা অক্ষমতার জন্যে আন্তরিকভাবে "ক্ষমা" চাইতে শিখবো? 

আসলেই তো আমরা এখনো "দয়া করে", "ধন্যবাদ" আর "দুঃখিত"  বলতে শিখলাম না। যাদিও বা বলি, বাধ্য হয়ে বলি। যেদিন মন  ও মনন থেকে "দয়া করে", "ধন্যবাদ" বা " দুঃখিত"  বলতে শিখবো, সেদিন আমাদের দুরবস্থা অনেক বদলে যাবে। আমাদের ব্যর্থতা, গর্হিত কাজ বা অক্ষমতার জন্যে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে শিখলে মানুষ হিসাবে আমরাই উন্নত হবো। সত্যিকার অর্থে ভেতর থেকে এমন আচরণ করতে পারলে আমরা সভ্য হওয়ার দিকে অনেকটাই এগিয়ে যাবো।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র