নির্বাচনের পর কে থাকবে, কে পালাবে!

ড. মাহফুজ পারভেজ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

কথাগুলো খুব উচ্চস্বরে বলা হচ্ছে। হুমকির ভাষায় ঘোষণা করা হচ্ছে, 'নির্বাচনের পর পালানোর পথ পাবেন না'। শক্তি যার যতই থাকুক না কেন, ধমক দিয়ে কথা বলতে কোনো পক্ষই কসুর করছে না। 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন হুমকি, পাল্টা হুমকি নতুন নয়। শক্তির রণ হুঙ্কার এ দেশের রাজনীতির মাঠ-ময়দানের অংশ। শুধু কথার শক্তিই নয়, যেখানে যার দাপট বেশি, সেখানে তা বাস্তবে দেখানোও হয়। প্রতিপক্ষকে রক্তাক্ত করতে কেউ কারো চেয়ে কম যায় না।

এবারও তেমন কথা-বার্তা শোনা যাচ্ছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, নেতাদের কথার ধরন বদলে যাচ্ছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে একই ধরনের শক্তির ভাষায় কথা বলছে। এসব উগ্র কথায় পক্ষসমূহের কিছু না হলেও তাতে সাধারণ মানুষের মনে নিশ্চিতভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। 

নির্বাচন বা রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে কারো থাকার বা পালানোর সম্পর্ক থাকতে পারে না। বিষয়টি এমন নয় যে, জনগণ জয়ীকে থাকার আর পরাজিতকে পালিয়ে যাবার ম্যান্ডেট দিচ্ছে। জনগণ শাসনের জন্য কিছু লোককে বেছে নেওয়ার জন্য ভোট দেন। কাউকে থাকার ইজারা বা কাউকে পালিয়ে যাওয়ার ভিসা দেন না।

গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার এই মৌলিক সত্যকে অবজ্ঞা করে কোনো কোনো পক্ষ যখন শক্তির ভাষায় কথা বলে এবং দেশে কে থাকবে আর কে থাকবে না, তার নীতি নির্ধারণ করে, তখন তা শুধু শ্রবণ অশোভনই নয়, নিন্দনীয় ও পরিত্যাজ্য। 

শক্তি বা হিংসা যে শেষ পর্যন্ত শক্তি ও হিংসার পথই প্রশস্ত করে, তা কারো অজানা নয়। তা জেনেও যারা শক্তি ও হিংসার পথ অনুসরণ করে, তারা প্রকারান্তরে নিজেরই সর্বনাশের কবর রচনা করে। শান্তি ও স্থিতিশীলতার মাধ্যমে যে অর্জন সম্ভব, তা শক্তি ও হিংসার পথে সম্ভব নয়। শক্তি ও হিংসার পথে কিছু পাওয়া গেলেও তা সম্মানজনক বা স্থায়ী হয় না।

বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের সম্মুখীন। শত সমস্যার পরেও আশার কথা এটাই যে, এবারের নির্বাচনে সকল দলই অংশ নিচ্ছে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেমন সহায়ক, তেমনিভাবে গণতান্ত্রিক বিকাশের জন্যেও উপযোগী।

প্রসঙ্গত যে বাস্তবতা মনে রাখা দরকার, তা হলো, উন্নয়নশীল দেশসমূহে নানা রকমের সীমাবদ্ধতার মধ্যে গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে চলতে হয়। গণতন্ত্র এসব দেশে ভেতরের ও বাইরের নানা আঘাত ও ষড়যন্ত্রের মুখে থাকে সব সময়ই। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যে দলেরই হোন না কেন, তাদেরকে অতীব সতর্কতার সঙ্গে গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার স্থিতির কাজে ব্যাপৃত থাকতে হয়। অরাজনৈতিক, হিংসাত্মক বা শক্তিকলার অনুসরণ তাদের মানায় না। তাদের অপরিণামদর্শী কথা ও আচরণের ফলে তারা আসলে নিজেদেরই ক্ষতি ডেকে আনেন।

রাজনীতিতে বা নির্বাচনে এমন কথা ও আচরণই কাম্য, যাতে কাউকে থাকতে আর কাউকে পালাতে না হয়। রাজনীতিবিদদেরও উচিত এমনই কথা বলা ও আচরণ করা। সকলে মিলেমিশে থাকার মানসিকতা নিয়ে কাজ করলেই সকলের জন্য মঙ্গল। নচেৎ অপরের ক্ষতির চিন্তা নিজের বিপদ ডেকে আনতে পারে। 

অতএব, সাধু সাবধান!

যুক্তিতর্ক এর আরও খবর

//election count down