Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘ভাত পেলেই খেতে নেই, জায়গা পেলেই বসতে নেই’

‘ভাত পেলেই খেতে নেই, জায়গা পেলেই বসতে নেই’
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান, ছবি: বার্তা২৪
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান


  • Font increase
  • Font Decrease

এক.
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে-পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে দল, নীতি-আদর্শ বদল, ডিগবাজি ও ভেলকিবাজির রাজনৈতিক অনেক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। জনগণ যা প্রত্যাশা করেনি, কল্পনা করেনি তার অনেক কিছুই বাস্তবে রূপ নেওয়ায় বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রাজনীতির রূপরেখা ও গতিপথ নতুন পথের বাঁকে মোড় নিয়ে নতুন ঐক্যজোট, সংলাপ, নির্বাচন প্রস্তুতি, তফশিল ঘোষণা, মনোনয়ন, দল বদলের স্রোত প্রভৃতি মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিএনপি'র সঙ্গে ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম রবের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন; বি. চৌধুরীর মহাজোটে যোগদান; প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা'র ভাগ্নে এস এম শাহজাদার পটুয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তি; আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদের গণফোরামে এবং গোলাম মাওলা রনি'র বিএনপিতে যোগদান; রাজপথের নির্যাতিত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া চায়ের কাপে ঝড়সহ তৃণমুলে আলোচনা-সমালোচনার রসদও জুগিয়েছে।

দুই.
সম্প্রতি টকশো’র আলোচনায় গোলাম মাওলা রনি এক মন্তব্যে বলেছিলেন, তারেক রহমান লাদেনের মতো গুহা থেকে দল পরিচালনা করে। অথচ সেই রনি এখন বিএনপি’র মনোনয়ন নিশ্চিত করে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ত্যাগ করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে আজীবন সম্পৃক্ত থাকার শপথ নিয়েছেন। বাবা হত্যার বিচার না পাওয়া, দেশ পরিচালনায় সরকারের আদর্শের সাথে ব্যক্তিগত আদর্শের মিল না থাকার কারণ দেখিয়ে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার (২০০৫ সালে গ্রেনেড হামলায় নিহত) ছেলে অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে প্রার্থী হতে গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে আদর্শের এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথা বললেও রেজা কিবরিয়া হিসাবের খাতা মিলিয়ে দেখেননি স্বয়ং বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের এবং বারবার গ্রেনেড দিয়ে শেখ হাসিনা হত্যচেষ্টার বিচারই চলমান অথচ টানা দুই মেয়াদে দশ বছর শেখ হাসিনা নিজেও যেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তিন.
একদিন টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে দেখতে পাই। মাজারের দিকে ফিরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা-কর্মীসহ বঙ্গবীর খুবই নীরবতার সাথে বসে হয়ত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন। ভাবছিলেন বঙ্গবন্ধুর কথা, স্মৃতিময় সাহচর্য। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা প্রমাণিত ও প্রশ্নাতীত। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বঙ্গবীরের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের মূল্যায়ন না পাওয়ায় অথবা মূল্যায়িত হওয়ার মত যোগ্যতা হারানোয় কাদের সিদ্দিকী ড. কামাল হোসেনের কারণেই জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টে যোগ দিয়েছেন। অথচ রাজশাহীর জনসভায় বঙ্গবীর তার বক্তব্যে বললেন, ‘ক্ষমতায় গেলে তিনি বঙ্গবন্ধু ও জিয়া সম্পর্কিত মানুষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তা ঘোচাতে চান, তার নিজ দলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নারী কর্মী থাকলে তিন দিনের মধ্যে হাসিনাকে সরকার থেকে ফেলে দিতে পারতেন, বাংলাদেশের রাজনীতি বলতে খালেদা জিয়া-ইত্যাদি!

তার মত একজন মানুষ কীভাবে এ তুলনা করতে পারেন তা শুধু অবাক করার বিষয়ই নয়, বরং তার বক্তব্য ১৯৭৫ পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর খুনী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের পুরস্কৃত করা, শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যাচেষ্টা, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার তথাকথিত জন্মদিন পালন ও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে জিয়া ও তার পরিবারের অবদান নতুন করে বাংলার মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে।

চার.
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্নার সাথে তৎকালীন আমেরিকায় অবস্থানরত বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোন কথোপকথন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যেখানে তিনি সরকার উৎখাতে সামরিক হস্তক্ষেপে আগ্রহ প্রকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিনটি হল দখল এবং ক্যাম্পাসে মিছিলে হামলা করে দুই-তিনটি লাশ ফেলে দেওয়ার কথা বলেন (যদিও তিনি পরবর্তীতে অস্বীকার করেন)। ভাবতে বড় কষ্ট হয়, জনাব মান্না এক সময় বড় দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা ছিলেন। অথচ ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছিলেন। টেলিফোন কথোপকথন সংবাদ মাধ্যমে দ্রুত প্রকাশ না পেলে না জানি কি হতো!

পাঁচ.
ক্ষমতার ভারসাম্য ও জামায়াত প্রশ্নে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান না করে আদর্শগত কারণে মহাজোটে যোগদান করেছে। শেষ মুহুর্তে বিকল্পধারার পিছুটান আমার দাদা’র (পিতামহ) ‘ভাত পেলেই খেতে নেই, জায়গা পেলেই বসতে নেই’উপদেশটির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। জীবনদর্শন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে কথাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয় এখন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সদস্য জনাব বি. চৌধুরী যে দলের উন্নয়নের জন্য জীবনের বড় একটি সময় ব্যয় করেছেন, তাকে এক রকম অপমান ও বড় কষ্ট নিয়ে সেই দল থেকে বিতাড়িত ও রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তার এই বেদনাময় ইতিহাসের পেছনে ছিল ‘রাষ্ট্রপতি একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি’ কারণ দেখিয়ে মৃত্যুবার্ষিকীতে জিয়ার মাজারে রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর ফুল দিতে না যাওয়া, ইতিবাচক রাজনীতিমনস্ক মাহী বি. চৌধুরীর স্ব-স্ত্রীক মিডিয়ায় উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তা, বিএনপির রাজনীতিতে মাহী বি. চৌধুরীর রাজকীয় আগমন এবং ২০০১ সালে শেখ হাসিনা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় মুন্সিগঞ্জ গেলে তাকে তোরণ নির্মাণসহ বিভিন্ন ভাবে মাহী বি. চৌধুরী কর্তৃক সম্মানিত করা। সম্মানিত কাউকে শ্রদ্ধা-সম্মান করলে প্রতিদান পাওয়া যায়, মাহী ও পেয়েছেন। সময়ের প্রেক্ষাপটে মাহী বি. চৌধুরীর একাদশতম সংসদ নির্বাচনের প্রতীক আজ ‘নৌকা’।

ছয়.
বঙ্গবন্ধুর উদারতায় ও স্নেহধন্যে তারই ছেড়ে দেয়া আসনে ড. কামাল হোসেন ১৯৭০ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জাসদের শাহজাহান সিরাজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী হিসেবে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সর্বস্ব হারানো বঙ্গবন্ধুর এতিম দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ড. কামাল হোসেনকে রাজনৈতিক ও পারিবারিক অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। বিএনপির প্রার্থী বিচারপতি সাত্তারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিলেও ড. কামাল জিততে পারেননি। স্ব-পরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, যুদ্ধাপরাধ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং কমপক্ষে ২২ বার শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা প্রসঙ্গে তার নীরবতা জাতির সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর তাই, বর্তমানে অত্যন্ত আস্থাভাজন, পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত মহীরূহে পরিণত হওয়ায় বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ‘চাচা’ড. কামাল বিএনপিতে ‘কামাল সাহেব’সম্ভাষণ পেয়েছেন।

তিনি বঙ্গবন্ধুর স্নেহ-মমতা ও তার এতিম দুই কন্যার পরম আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান যেভাবে অতীতে দিয়েছেন আর বর্তমানে ‘যুক্তফ্রণ্ট’ ও ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ মাধ্যমে যেভাবে দেওয়ার বাসনায় সম্পৃক্ত হয়েছেন তা ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

রাজনীতির খেলা কিংবা খেলার রাজনীতি বড় বৈচিত্র্যময় হলেও সব দলের, নেতার রাজনীতি হোক নীতিগতভাবে আদর্শময় যা আমাদের মত আমজনতার প্রত্যাশা। যারা রাজনীতিবিদ তারা রাজনীতির মধ্যে না থাকতে পারলে বিকল্প পথে হাঁটবেন সেটাই স্বাভাবিক। অন্যের কাছে যেটা আদর্শহীনতা, সেটাই তাদের কাছে আদর্শ হবে বৈকি। তবে, রাজনীতির মাঠ আদর্শ, নীতিবান ও পেশাদার রাজনীতিবিদের হাতেই থাকুক সেটাই প্রত্যাশিত।

গত ৬ অক্টোবর, ২০১৮, শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ রাজনীতি, নির্বাচন ও মনোনয়ন নিয়ে হাস্যোরসের মাধ্যমে যা ইঙ্গিত করেছেন তাতে এক কঠিন বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে যা অলংঘনীয়ভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া দরকার। রাজনৈতিক সহচর কে বা কারা জনগণ তা বিচক্ষণতার সাথে অবলোকন ও বিবেচনা করে থাকে। তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে হাত মিলিয়ে যারা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেন তেমন অপেশাদার রাজনীতিবিদকে না বলুন। যারা শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিতদের পাশে সব সময় থাকেন তাদের জন্যই রাজনীতি।

মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান: পি.এইচ.ডি গবেষক, জেঝিয়াং ইউনিভার্সিটি, চীন এবং শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বশেমুরবিপ্রবি, গোপালগঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন :

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

বাংলাদেশ-ভারত: নাগরিকদের দূরত্ব কি বাড়ছে?

বাংলাদেশ-ভারত: নাগরিকদের দূরত্ব কি বাড়ছে?
শেখ আদনান ফাহাদ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

১৯৪৭ সালেই বর্তমান বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাঙালিদের নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মহান প্রয়াস চালিয়েছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের কয়েকজন প্রগতিশীল নেতা। কিন্তু দুই দলের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে পেরে উঠেননি তাঁরা। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, জহরলাল নেহেরু, সরদার বল্লভভাই প্যাটেল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখের ধূর্ত রাজনীতির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিলেন বাঙালির রাষ্ট্রকামী রাজনীতিবিদগণ। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের ৭৩ এবং ৭৪ নং পৃষ্ঠায় সে সময়ের ঘটনাবলীর বর্ণনা দেওয়া আছে। পূর্ববাংলার সম্পদ লুটে গড়া উঠা কলকাতা হারিয়ে বাঙালি দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সালে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা গেলে ১৯৭১ এর গণহত্যা সংঘটিত করার সুযোগই পেত না পাকিস্তানি হায়েনারা।

বাঙালি আজ দুইভাগে বিভক্ত- ভারতীয় বাঙালি আর বাংলাদেশি বাঙালি! বাঙালির একান্ত রাষ্ট্র একমাত্র বাংলাদেশ। হিন্দি আর ইংরেজির আগ্রাসনে ভারতে বাংলা আজ ধুঁকে ধুঁকে মরলেও বাংলাদেশে রাষ্ট্রের প্রধান ভাষা হিসেবে বাংলা এখানে টিকে আছে স্বমহিমায়। ইতিহাসের নানা খেলায় বাঙালি বিভক্ত হয়ে তার অতীত গৌরবের অনেকখানি হারিয়েছে। ভারতের পুরো ক্রিকেট টিমে আজ একজন বাঙালি খেলোয়াড় নেই; অদূর ভবিষ্যতে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট টিমে কোনো বাঙালি সন্তান খেলতে পারবে- এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে ১১ জন বাঙালি বিশ্ব ক্রিকেট আলোকিত করছে। বাঙালি অনেক হারিয়েও বুঝতে পারে না, কী তার ছিল আর কী তার আছে?

৪৭ এ বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা না গেলেও পরবর্তী ২৪ বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার মানুষকে প্রস্তুত করেছেন স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। আর এ যাত্রায় সাথে নিয়েছেন তৎকালীন সুপার পাওয়ার সোভিয়েত ইউনিয়ন আর প্রতিবেশী ভারতকে। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে ভারত সরাসরি যুদ্ধে জড়ালেও সীমান্ত খোলা রেখেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক চালানো গণহত্যার শুরু থেকেই। বাঙালি অধ্যুষিত আগরতলা আর কলকাতার মানুষ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। বাংলাদেশের পাশে ছিল পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী ভারত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ অর্জন করেছিল স্বাধীনতা আর ভারত পেয়েছিল এই অঞ্চলে তার একমাত্র নিরাপদ এবং বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রে তৎকালীন সামরিক বাহিনীর কিছু বখাটে কর্মকর্তার হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতি বঙ্গবন্ধুকে না হারালে, বাংলাদেশই হত বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ পথ হারিয়ে ফেলে। জাতির পিতাকে হারিয়ে বাংলাদেশ যেন মাঝিবিহীন নৌকায় পরিণত হয়। রাষ্ট্র চলে যায় সামরিক আর বেসামরিক আমলাতন্ত্রের দখলে। বাংলাদেশ মূলত উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আমল থেকে।

তবে পণ্য উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ফলে বাংলাদেশ মূলত ভারত আর চীনের নানা পণ্যের বিশাল বাজারে পরিণত হয়েছে। সিপিডির এক রিপোর্ট মতে, বাংলাদেশ হচ্ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস। বাংলাদেশে চাকুরি ও ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ হয় হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিকের। এক তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রায় অর্ধলক্ষ ভারতীয় চাকুরি করে। অথচ ভারতে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজের অনুমতি দেয়া হয় না। হাজার হাজার বাংলাদেশি ভারতের বিভিন্ন স্থানে পর্যটক হিসেবে ঘুরতে যায়; তাছাড়া মেডিক্যাল সেবা পেতে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ফলে বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি লাভজনক রাষ্ট্র। এমন একটি লাভজনক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ভারতের নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে বাঙালিদের সম্পর্ক দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে!

ফেসবুক ও ইউটিউবের দুনিয়ায় দুই পারের বাঙালিদের মধ্যে ভয়ানক কথাযুদ্ধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন সব বাজে শব্দ বলা হচ্ছে যা মুখে আনা যায় না। বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে কিছু বলা হলেই ওপার থেকে শুরু হয় পুরো বাংলাদেশকে অপমান করে নানাবিধ অশ্রাব্য বাক্যবান। অনেক ফেইক আইডি থেকেও বিতর্ক উসকে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাস না জেনেই, অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে না বুঝেই পুরো দেশকে নিয়ে অনেককে আপত্তিকর কথা বলতে দেখা যায়। ফেসবুকে আনন্দবাজার কিংবা প্রথম আলোর পেইজে ঢুকলেই দুই বাংলার মানুষের মধ্যকার কথাযুদ্ধের নমুনা পাওয়া যায়। কাশ্মীর সমস্যা হোক, কিংবা ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলা হোক কিংবা হোক সাকিব আল হাসানের উপর হওয়া কোনো নিউজ, ফেসবুকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু হয় বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে।

ইন্টারনেট পুরো বিশ্বকে এখন আমাদের ধরাছোঁয়ার আওতায় এনে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কোনো বিষয়ে নিজের মত, অমত, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ মিথস্ক্রিয়ার দুনিয়াকে করেছে ব্যস্ত। মানুষ আগের যে কোনো সময়ের চাইতে যোগাযোগপ্রবণ এবং একইসাথে প্রতিক্রিয়া-প্রবণও। অনলাইন নিউজপেপার এবং প্রিন্ট নিউজপেপারগুলোর অনলাইন ভার্সন এবং ফেসবুক পেইজে বাংলাদেশ এবং ভারতের বাঙালিদের আনাগোনা অহরহ। ইন্টারনেট এবং ভাষার শক্তিকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগাতে পারত ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালিরা। কিন্তু কাজের চেয়ে যে অকাজই বেশী হচ্ছে।

ভারত-বিদ্বেষী বাংলাদেশি আর বাংলাদেশ-বিদ্বেষী ভারতীয়রা দুই রাষ্ট্রের নাম বিকৃত করেছেন। যে গালি মুখে আনা যায় না, সেসব কথা লেখা থাকে কমেন্ট আকারে। বাংলাদেশের কেউ ভারতের কারও কথার প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় ১৯৭১ সালের রেফারেন্স দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা। ৭১ কে ভারতীয় প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদান, ৩০ লাখ মানুষের প্রাণহানি, মুক্তিবাহিনীর বীরত্ব ইত্যাদি বিষয়কে খাটো করে দেখার একটা প্রবণতা ভারতীয় বাঙালিদের মধ্যে দেখা যায়। কোনো বাংলাদেশি ভারতের দিক থেকে করা কোনো কাজের সমালোচনা করলেই ৭১ এর কথা বলে খোটা দেয়ার চেষ্টা হয়। ভারতীয়রা একাত্তরকে দেখে থাকে তাঁদের নিজস্ব প্রেক্ষিত থেকে। বাংলাদেশ যে ভারতের কত উপকারে আসে কিংবা আসছে, সেটি ফেসবুকের জগতে খুব কম ভারতীয়ই স্বীকার করেন।

বাংলাদেশিদের একটা ছোট অংশ ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আনন্দবাজারসহ নানা পত্রিকার ফেসবুক পেইজের নিউজে কমেন্ট করে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয়রা ক্ষিপ্ত হয়। ক্ষিপ্ত হওয়ার অধিকার তাঁদের আছে, কিন্তু গুটি কয়েক বাংলাদেশির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এই ভারতীয়রা পুরো বাংলাদেশ নিয়ে অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য করে। এই মন্তব্য কোনো সচেতন বাংলাদেশির পক্ষে হজম করা মুশকিল। ভারতীয়দের বড় একটা অংশ বাংলাদেশ সম্পর্কে জানেই না। তারা শুধু জানে, ১৯৭১ এ ভারত পাকিস্তানকে যুদ্ধে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে?

বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিশালত্ব, জাতি সংগঠনে আওয়ামী লীগ এর অবদান, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে দীর্ঘ সামরিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি, বিশ্ব রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর প্রভাব, বাঙালি আর্মি, নেভি ও বিমান সেনা, মুক্তিবাহিনী, মুজিববাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী কিংবা ক্র্যাক প্লাটুন এর বীরত্ব ইত্যাদি কিছুই না জেনে ৭১ কে শুধু ভারতীয় প্রেক্ষিত থেকে দেখতে অভ্যস্ত এসব ভারতীয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের সহযোগিতা আদায় করেছেন। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের যে কোনো বিশ্লেষণে প্রধান চরিত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শাহাদাত বরণ করা বীর বাঙালিরা। ৭১ প্রশ্নে ভারতীয়দের উচিত হবে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। মূলত বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর বীরত্বেই ৭১ সালে পাকিস্তানকে পরাজিত করার গৌরবের ভাগীদার হতে পেরেছিল ভারত।

বাংলাদেশকে ‘কাঙ্গালের’ দেশ বলে মন্তব্য করে কিছু ভারতীয়। বাংলাদেশ অর্থনীতিতে কোথায় চলে গেছে এবং যাচ্ছে সেটি এসব ভারতীয় বন্ধুরা জানেন না। সামাজিক উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলেছে বহু আগেই। মাথাপিছু আয়ের হিসেবেও আর কয়েক বছর পরে পেছনে পড়বে ভারত। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বহু বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন। গুগলে সার্চ করলেই সব লিংক পাওয়া যাবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ নানা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকলেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির দলিল মিলবে। ভারতীয়দের উচিত হবে সিনেমার জগতে শুধু না থেকে বাস্তবতাকে জানার চেষ্টা করা।

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, ভারতের চলচ্চিত্র জগতে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি, সংবাদ মাধ্যমগুলোতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ইত্যাদি কয়েকটি কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত-প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় একই সভ্যতা ও সংস্কৃতির দুটো প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এমন বাস্তবতা নিশ্চয় কারও কাম্য নয়।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র