Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

উৎসব ও উৎসবমুখর ভোট

উৎসব ও উৎসবমুখর ভোট
ছবি: বার্তা২৪
মুফতি এনায়েতুল্লাহ


  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা একাধিকবার বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে সারাদেশে সরকারি কর্মকর্তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন, রাজনীতিবিদরা প্রস্তুতি নিয়েছেন, ভোটাররাও তাদের প্রস্তুতি নিয়েছেন। দেশের মানুষ উৎসবমুখর নির্বাচন চায়। সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতির প্রত্যাশা।’

আমার মতো সাধারণ ভোটাররা বেশ উচ্ছ্বসিত একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আনন্দমুখর পরিবেশে, উৎসবের আমেজে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এমনিতে জাতি হিসেবে আমরা উৎসবপ্রিয়। কথায় আছে, ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ।’ যদিও আমাদের উৎসবগুলোর বেশিরভাগ ধর্মীয়, পারিবারিক ও গোষ্ঠীগত। সব বাঙালি মিলে পালন করতে পারেন এমন উৎসব বলতে ভোট উৎসবকেই বুঝি।

সময়ের হিসেবে আর মাত্র ৩ দিন। ৩ দিন পর পুরো বাংলাদেশ উৎসবে মাতবে। এটা ভোটের উৎসব। যদিও এখন পর্যন্ত অভিযোগ, ভোটের মাঠ একচেটিয়া আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে। প্রচার-প্রচারণায়ও  তাদের ধারেকাছে নেই বিরোধীরা। এ পরিস্থিতি থেকে কিছু আশঙ্কা ও অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে ভোটারদের মাঝে, যা ভোট উৎসবে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে, এখনও যেহেতু সময় আছে, আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি- এ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হবে। ভোটাররা উৎসবের আমেজেই ভোটকেন্দ্রে যাবে।

যেকোনো নির্বাচন আনন্দ ও উৎসবমুখর হবার কথা। অতীতে আমরা এমনটাই দেখেছি। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনতো আরও আনন্দ এবং উৎসবময় হবে এমন প্রত্যাশা থাকে ভোটার ও প্রার্থীদের। একসঙ্গে ২৯৯ আসনে নির্বাচন। বিরাট এক কর্মযজ্ঞ বটে। সারাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহ, উৎসাহ ও উদ্দীপনায় মেতে আছে। কেননা, এ নির্বাচন প্রতিদিন হয় না। সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে এ নির্বাচন ৫ বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করে সংসদে প্রেরণ করেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশপরিচালনার জন্য সংসদে আইন প্রণয়ন করেন। ওই আইন মোতাবেক দেশ পরিচালিত হয়।

সংসদের আইনপ্রণেতারা আজকাল যদিও তাদের এলাকার সবধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করেন। বলতে দ্বিধা নেই, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দাপটে আজকাল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চুপসে থাকেন। এমপিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের কিছু করার থাকে না। অপ্রিয় হলেও সত্য, এমন অলিখিত নিয়মে আমাদের দেশ চলে। সেটা অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ।

আসন্ন সংসদ নির্বাচন একটি নতুন কাঠামোর ভেতরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও পরিস্থিতি সংঘাতময়। বিরোধীপক্ষের অভিযোগ, ‘নির্বাচন পরিস্থিতি নৈরাশ্যজনক। তাদের প্রতি হামলা-মামলা হচ্ছে। তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।’ গণতন্ত্রের সংজ্ঞানুসারে এমন কিছু হওয়ার কথা নয়। আমরা চাই ভোটের উৎসব, নির্বাচনী আমেজ। এ উৎসবে মেতে উঠবে নতুন ভোটাররা। তারা লাইনে দাঁড়িয়ে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ব্যালট হাতে নিয়ে গোপন কক্ষে সিল মেরে, হাতের আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে সদর্পে বের হয়ে এসে বলবে, আমি নতুন ভোটার; আমি আমার নাগরিক অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করেছি। প্রথম ভোটার হিসেবে আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানোর স্মৃতি তার মানসপটে দীর্ঘদিন থাকবে। এই আনন্দের শিহরণ ও উপলক্ষ্য যেন কোনোভাবেই বিষাদে পর্যবেসিত না হয়- সেদিকে নির্বাচন পরিচালনা কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে।

নির্বাচনের আনন্দ-উৎসব শুধু আমাদের দেশে নয়, পুরো বিশ্বেই দেখা যায়। উৎসব তো নির্বাচনের অন্যতম অনুষঙ্গ। সে হিসেবে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক এবং আনন্দ ও উৎসবমুখর হবে বলে আমরা আশা করতে পারি। দেশের মানুষ এমনটাই প্রত্যাশা করেন। এটা অবশ্যই বড় কোনো চাওয়া নয়।

যেহেতু নির্বাচন, সেহেতু এখানে জয়-পরাজয় রয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক ভোটাররা। ভোটারদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ কাম্য নয়। সেই সঙ্গে ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন কিংবা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ, মানসিক ও প্রশাসনিক চাপ দেওয়া অনুচিত। এগুলো বিধিসম্মত নয়। তাহলে ভোট উৎসব হবে না, ভোট আতঙ্ক বয়ে আনবে, ভোটাররা আতঙ্কিত হবে। আর আতঙ্ক মনে রেখে কোনো উৎসব হয় না।

আগেই বলেছি, জাতি হিসেবে আমরা উৎসবপ্রিয়। নানা উপলক্ষে আমরা উৎসব করতে ভালোবাসি, উৎসব খুঁজে বেড়াই; উৎসবের উপলক্ষ্য তৈরি করি। ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক উৎসব ছাপিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যেও আমরা উৎসব খুঁজি। নানা ধরনের মেলা এর প্রমাণবহন করে।

দুই ঈদ, নবান্ন উৎসব, একুশের বইমেলা, বিয়ে, ফ্যামিলি ডে, শীতের পিকনিক ও আনন্দ ভ্রমণের মতো উৎসবগুলোর সঙ্গে প্রায় বাঙালিই একাত্ম। এই উৎসবের সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে- ভোট উৎসব। স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন, বিভিন্ন সংস্থা ও সমিতির নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের নানা পর্যায়ের নির্বাচনে আমরা যে পরিমাণ উৎসবের আমেজ দেখি- তাতে সহজেই এটা বুঝা যায়, বাঙালির নতুন উৎসবের নাম- ভোট উৎসব।

এ উৎসব সকল ধর্মাবলম্বীর, সব বয়সীর, সব গোষ্ঠীর। এখানে কোনো বৈষম্য নেই। কোনো গণ্ডি নেই। দেশবাসীর উৎসবে মেতে উঠার এ এক আশ্চর্য উপলক্ষ্য। এ উৎসবে যেন সবাই সম্মিলিতভাবে অংশ নিতে পারেন- সেটা নিশ্চিত করা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাজ। আমরা আশা করি, এ কাজে তারা তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।

মনে রাখতে হবে, দুর্ভাগ্যক্রমে সম্মিলিত উৎসবের উপলক্ষ্য বাঙালির জীবনে বলতে গেলে একেবারেই অনুপস্থিত। উৎসব অনেক আসে, কিন্তু সেগুলো একেকদিন একেক ধর্মের, ভিন্ন ভিন্ন সমাজের ও নানা গোষ্ঠীর। বিধি-নিষেধ আর নিয়মের বেড়াজালে সেসব উৎসবে সবার অংশগ্রহণ করা হয়ে উঠে না। সেখানে ভোট উৎসবকে একটি সার্বজনীন উৎসব হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। ভোটের দিন, ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া, মারামারি ও রক্তপাত যেন এ উৎসবেকে ম্লান না করে সেদিকে দায়িত্বশীল নাগরিকদের ভূমিকা প্রত্যাশা করি।

ভোট প্রদানে ধর্মীয় কোনো বিধি-নিষেধ নেই। তাই ভোট উৎসবে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সাড়ম্বর উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠবে বলে বিশ্বাস করি। আমরা চাই, ভোট উৎসব হোক সম্প্রীতির মেলা। এ মেলায় রাজনৈতিক ক্লৈশ মুছে যাবে, পরস্পরে শ্রদ্ধাবোধ অটুট রেখে সমাজ ও দেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। মনের উদার্য নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন প্রার্থীরা। তাদের ভালোবাসা ও মহানুভবতায় সমাজে আনন্দ সঞ্চারিত হবে। দেশের উন্নয়নে তাদের আত্মনিবেদন মুগ্ধতা ছড়াবে।

পরিবর্তনের ধারায় মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে নির্বাচনী লড়াইয়ের অবতীর্ণ দল ও প্রার্থীদের ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রতিশ্রুতি এবং আয়োজন চোখে পড়ার মতো। ভোটের মাঠের এই বিপুল আয়োজন যেনো কোনোভাবেই কলুষিত না হয় সেটা প্রতিটি নাগরিকের একান্ত চাওয়া।

মুফতি এনায়েতুল্লাহ: বিভাগীয় সম্পাদক, ইসলাম, বার্তা২৪.কম

আপনার মতামত লিখুন :

২১ আগস্ট: বাংলাদেশের রাজনীতির স্থায়ী বিভক্তি রেখা

২১ আগস্ট: বাংলাদেশের রাজনীতির স্থায়ী বিভক্তি রেখা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশের রাজনীতির দুটি ধারা- আওয়ামী লীগ এবং এন্টি আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার আগে এন্টি আওয়ামী লীগ ধারার নেতৃত্ব ছিল মুসলিম লীগের হাতে, স্বাধীনতার পর এন্টি আওয়ামী লীগ ধারার নেতৃত্ব হাতে তুলে নেয় জাসদ। আর ৭৫এর পর থেকে এই ধারাটির নেতৃত্ব বিএনপির হাতে। রাজনীতিতে দুটি ধারা থাকা অস্বাভাবিক বা অভূতপূর্ব নয়। বরং এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই রাজনীতির একাধিক ধারা রয়েছে। তবে আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও সব দেশেই দুই ধারার রাজনীতির মধ্যে আলাপ-আলোচনা, স্বাভাবিক সৌজন্য, ক্ষমতার পালাবদল ইত্যাদি থাকে। আমাদের দেশেও ছিল, এখন আর নেই। নেই কেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুজতেই আজকের লেখা।

বাংলাদেশের রাজনীতির সকল বিভক্তি আগস্টে। বিভক্তি রেখা দুটি- ১৫ আগস্ট আর ২১ আগস্ট। আগস্ট মানেই যেন শোক আর বেদনা। ৭৫এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ঘাতকরা। বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঘাতকরা তাদের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার মিশনে নেমেছিল। নেতারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবঢাল হয়ে শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে পেরেছেন। তবে আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা গেছেন নির্মম এই গ্রেনেড হামলায়। আগস্টের এই দুই নির্মম তারিখ আমাদের রাজনীতিতে স্থায়ী বিভক্তি রেখা টেনে দিয়েছে। যদিও ১৫ আগস্টের দায় চাইলে বিএনপি এড়াতে পারতো। কারণ ৭৫এর ১৫ আগস্ট বিএনপির জন্ম হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৫ আগস্টের মূল বেনিফিশিয়ারি জিয়াউর রহমানই বটে, তবুও বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। কর্নেল ফারুক ৭৫এ একবার উপসেনা প্রধান জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা করে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষের কথা বলেছিলেন। জিয়া তাকে, তোমরা জুনিয়র অফিসাররা কিছু করো, জাতীয় হালকা উস্তানি দিয়ে বিদায় করেছিলেন এবং সতর্ক জিয়া পরে আর ফারুক গংকে অ্যালাউ করেননি। জিয়াউর রহমান চাইলে জুনিয়র অফিসারদের অসন্তোষের কথা সিনিয়রদের জানাতে পারতেন। তা না করে তিনি সুযোগের অপেক্ষায় থাকলেন। সুযোগটা তিনি পেয়েও গেলেন। নানা ঘটনার পর ৭৫এর ৭ নভেম্বর ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন জিয়াউর রহমান।

১৫ আগস্ট সকালে রাষ্ট্রপতি হত্যার খবর শুনে শেভ করতে করতে নির্বিকার কণ্ঠে জিয়া বলোছিলেন, 'সো হোয়াট। ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আপহোল্ড দ্যা কনস্টিটিউশন।' জিয়ার প্রতিপক্ষের লোকজন বলেন, রাষ্ট্রপতির হত্যার খবর শুনে উপসেনা প্রধান হিসেবে তার যা দায়িত্ব ছিল তা পালন করেননি। অন্য সবাই যখন খবর শুনে রাতের পোশাকে সেনা সদরে গেছেন। জিয়াউর রহমান তখন শেভ করে, চালক নিয়ে ইউনিফর্ম পড়ে গেছেন। তার মানে তিনি ঘটনা জানতেন এবং অপেক্ষা করছিলেন। আর জিয়ার পক্ষের লোকজনের যুক্তি হলো, তিনি তো সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলেছিলেন; ক্যু বা বিশৃঙ্খলা নয়। আর সেনা প্রধান থেকে শুরু করে সবাই যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তখন উপসেনা প্রধান কী করবেন। আর পেশাদার সৈনিক হিসেবে দ্রুত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিজেকে তৈরি করে ফেলাটা তো কৃতিত্বের। ১৫ আগস্টে জিয়াউর রহমানের যেটুকু ভূমিকা বা অবস্থান; চাইলে তিনি সেটা এড়াতে পারতেন। কিন্তু ১৫ আগস্টের খুনীদের পুনর্বাসন করে, চাকরি দিয়ে, খন্দকার মোশতাকের করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বহাল রেখে জিয়াউর রহমান বুঝিয়ে দিলেন; পরিস্থিতি যাই হোক, ১৫ আগস্টই বিএনপির রাজনৈতিক জন্ম। জিয়াউর রহমান যাই হোক, চাইলে বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টের দায় এড়াতে পারতেন, রাজনীতিকে রাজনীতির জায়গা ফিরিয়ে আনতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা তো করেনইনি, উল্টো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৫ আগস্ট জন্মদিন আবিষ্কার ও ঘটা করে পালন করে বুঝিয়ে দিলেন ১৫ আগস্টই তার এবং তার দলের রাজনৈতিক জন্ম। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করেছিল। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার পুরো বিচার প্রক্রিয়া ডিপ ফ্রিজে পাঠিয়ে দেয়। ১৫ আগস্টের দায় এড়ানোর সুযোগ থাকলেও জিয়া, খালেদা, বিএনপি বারবার নানাভাবে সে দায় নিজেদের কাঁধে টেনে নিয়েছে, যা আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির রাজনৈতিক দূরত্ব আরো বাড়িয়েছে শুধু। তারপরও ১৫ আগস্টের বিভক্তি রেখাটা অলঙ্ঘনীয় ছিল না।

তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে স্থায়ী ও অলঙ্ঘনীয় বিভক্তি রেখা টেনে দিয়েছে ২১ আগস্ট, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। সবকিছুরই একটা নিয়ম থাকে। কিন্তু ২১ আগস্ট রাজনীতির সকল নিয়ম কানুন ভুলুণ্ঠিত করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। দেশের বাইরে থাকায় ১৫ আগস্টের নির্মমতা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর থেকে বারবার তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। ১৯টি হত্যাচেষ্টা থেকে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে অন্য সব হত্যাচেষ্টার সাথে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার একটা পার্থক্য রয়েছে। ২১ আগস্টের চেষ্টাটি ছিল বেপরোয়া, মরিয়া, নিষ্ঠুর ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রযন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বিরোধী দলীয় হত্যার চেষ্টা নজিরবিহীন। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো হত্যা পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত থাকতে পারেন, এটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। তারচেয়ে বড় কথা হলো, ২১ আগস্ট হত্যা পরিকল্পনা হয়েছিল তখনকার বিকল্প ক্ষমতা কেন্দ্র হাওয়া ভবনে এবং মূল পরিকল্পনাটা ছিল তখনকার প্রধানমন্ত্রীপুত্র তারেক রহমানের। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও, এসব এখন আদালতে প্রমাণিত সত্য।

আমরা রাজনীতিতে সমঝোতার কথা বলি, আলোচনার কথা বলি। কিন্তু যখন জানি, শেখ হাসিনাকে মারতে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনায় ছিলেন তারেক রহমানও, তখন বুঝি কাজটা কত কঠিন। ১৫ আগস্ট যে বিভক্তির শুরু, ২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতির সেই বিভক্তিকে যেন স্থায়ী রূপ দিয়েছে। এই গত ১১ বছর ধরে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে, তার উৎসও কিন্তু ২১ আগস্ট। আপনি যথন রাজনীতির নিয়ম ভাঙবেন, তখন আপনিও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে নিয়ম আশা করতে পারবেন না। জানি প্রায় অসম্ভব, তবু চাই রাজনীতিটা আবার নিয়মে ফিরুক। প্রতিহিংসার জবাব প্রতিহিংসায় না হোক। রাজনীতির লড়াইটা, বিভেদটা হোক আদর্শের।

ঐতিহাসিক ভুলের খণ্ডন নাকি অন্য কিছু?

ঐতিহাসিক ভুলের খণ্ডন নাকি অন্য কিছু?
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপের পর পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও ভারতের সঙ্গে সকল প্রকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছে। ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় তারা ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনারকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি নয়াদিল্লীতে নিযুক্ত তাদের সকল কূটনীতিককে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর বাইরে তারা ভারতের সঙ্গে সকল প্রকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোকে স্থগিত করেছে।

আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় তারা বিষয়টিকে আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এখানে সঙ্গত কারণেই বলে রাখা ভাল যে, পাকিস্তানের তরফ থেকে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া আসবে জেনেই কিন্তু ভারত অনেক ভেবেচিন্তে কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি এখন একদিকে যেমন ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়, অন্যদিকে মুক্তিকামী মানুষের আত্মমর্যাদার প্রশ্নে বড় বাধা বিবেচনায় একটি আন্তর্জাতিক সংকটেও রূপ নিয়েছে। তবে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতার বিবেচনায় এমনটা আশা করার সুযোগ নেই যে ভারতের ওপর কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হতে পারে।

আইনগতভাবে কাশ্মীর এখন আর রাজ্য নয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি বিশেষ অঞ্চল। ১৯৫০ সালে প্রণীত ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্র- এই তিনটি বিষয় বাদে বাদবাকি সকল বিষয়ে কাশ্মীরের সরকারকে দেওয়া সকল ক্ষমতা বাতিল হয়ে গেল গত ৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের এক স্বাক্ষরে। প্রশ্ন হচ্ছে সংবিধানের একটি বিশেষ ধারা কীভাবে কেবল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে বাতিল হয়ে গেল। এর উত্তর হচ্ছে যখন এই বিশেষ ধারাটি সংযোজন করা হয় তখনই এর সঙ্গে এটিকে একটি অস্থায়ী প্রভিশন হিসেবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রপতি যখনই চাইবেন তখনই তা বিলুপ্ত করতে পারবেন বলে শর্ত দেয়া হয়েছিল। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ৬৯ বছর পর রাষ্ট্রপতি তা বাতিল করলেন মাত্র। তবে বিষয়টিকে যেভাবে সরল অংকের মতো করে বর্ণনা করা হল, বাস্তবে এটি এমন সরল ছিল না কখনো। বিগত প্রায় ৭০ বছর এমনকি স্বাধীনতা উত্তর সময়ে ভারতের কোনো সরকার কখনো কাশ্মীরকে একীভূত করাতো দূরে থাক সেখানকার স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল জনদাবি সামাল দিতেই সবসময় ব্যস্ত সময় অতিক্রম করেছে।

বিজেপি তথা ভারত সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং এর পরবর্তী দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া থেকে বিষয়টি অনুমান করা কঠিন নয় যে তাদের বহু প্রতীক্ষিত একটি চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে। সেই সঙ্গে বিগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আগের চাইতেও ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের বিষয়টি এখন অনেকটা স্পষ্ট। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে তারা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছিল যে জয়লাভ করে আবার সরকার গঠন করতে পারলে তারা বিতর্কিত ৩৭০ ধারা অবলুপ্তি করবে। এখানে আমাদের মনে রাখতে হবে যে এই ৩৭০ ধারাটি এখানে ভারতে রাজনীতিবিদদের অনেকের কাছেই ‘বিতর্কিত’ হিসেবে চিহ্নিত। এর সঙ্গে ৩৫ উপধারার সন্নিবেশের মধ্য দিয়ে অপরাপর রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে যা নেই কাশ্মীরের ক্ষেত্রে এসবের সন্নিবেশন, যেমন আলাদা পতাকা, নিজস্ব আইন, অপরাপর অঞ্চলের অধিবাসীদের সেখানে স্থায়ী বাসিন্দা হবার ক্ষেত্রে বাধা, চাকরির ক্ষেত্রে অন্যান্যদের প্রবেশাধিকারে প্রতিবন্ধকতা ইত্যাকার সকল বিষয় আসলে কাশ্মীরকে সকলের কাছেই চক্ষুশূল করে রেখেছিল। তবে দিন দিন ধরে বিষয়টি এভাবে চলতে থাকা এবং কাশ্মীর নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সিদ্ধান্তহীনতা বিষয়টিকে এমন এক জটিলতার আবর্তে বন্দি করে রেখেছে যে এটা নিয়ে সহজে কোন যুক্তিগ্রাহ্য সমাধান পাওয়া দুরূহ।

এ কথা ঠিক যে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কাশ্মীরের মুক্তিকামী মানুষের জন্য বুমেরাং হবে এবং তাদের মুক্তির সংগ্রামকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে, একই সঙ্গে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে যুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে অর্থাৎ এই বিশেষ মর্যাদার সঠিক ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে কাশ্মীর, সেটাকেও কি একেবারে অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দেয়া যায়। আবার এই প্রশ্নও এসে যায়, এই ব্যর্থতার আসল কারণগুলো কি? এসব কিছুর মূলে ভারত সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণ, মহারাজা হরি সিং এর সাথে সম্পাদিত চুক্তির প্রতিশ্রুতির যথাযথ বাস্তবায়ন না করা ইত্যাকার বিষয় এবং পরবর্তীতে এসবের মধ্যে পাকিস্তানের ঢুকে পড়া, কাশ্মীর নিয়ে ভরত এবং পাকিস্তানের মধ্যে দুবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, এর বাইরেও বিভিন্ন সময় ছোটখাট সংঘাত- এই সব কিছু মিলে জল এতটা ঘোলা হয়েছে যে দিন যতই গেছে, পরিস্থিতি ততই জটিল আকার ধারণ করেছে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে তবে কি হতে পারত সর্বজনগ্রাহ্য সমাধান? এক্ষেত্রে এতসব ঘটনার ব্যাপকতায় এমন কোন গ্রহণযোগ্য সমাধান কেউ দিতে পারেননি।

ইতিহাসবিদ ড: কিংশুক চ্যাটার্জি বলছেন, 'ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাক্সেশনের মাধ্যমে কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ঠিকই,কিন্তু যে শর্তে হয়েছিল কালক্রমে ভারত তা থেকে অনেকটা সরে এসেছে। পাকিস্তানও কতকটা জোর করেই এই অ্যারেঞ্জমেন্টের মধ্যে প্রবেশ করেছে। ফলে সাতচল্লিশে এই সমস্যার শুরু হলেও এখন সেই সমস্যা অনেক বেশি জটিল আকার নিয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'এখন কাশ্মীর সমস্যার এমন কোনো পর্ব নেই যেখানে ফিরে গিয়ে আমরা বলতে পারি এখান থেকে সমস্যাটা আবার 'রিসেট' করা যাক! আজ যদি কাশ্মীরে গণভোট হয় কিংবা পাকিস্তান তাদের দিকের কাশ্মীর থেকে সরে যায় - তাতে কোনও সমস্যার আদৌ সমাধান হবে বলে মনে হয় না।'

দীর্ঘদিনের এই সমস্যার জন্য কাশ্মীরের শেষ যুবরাজ করণ সিং অনেকটাই দোষ চাপিয়েছেন ভারত সরকারের ওপর। তার মতে, 'যেদিন আমার বাবা সেই চুক্তিতে সই করেন সেদিন থেকেই জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ২৭ অক্টোবর তারিখে সেদিন আমি নিজেও ওই ঘরে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মহারাজা হরি সিং কিন্তু প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ও বৈদেশিক সম্পর্ক - শুধু এই তিনটি ক্ষেত্রে ভারতভুক্তি স্বীকার করেছিলেন,নিজের রাজ্যকে ভারতের সঙ্গে পুরোপুরি মিশিয়ে দেননি। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরকে যে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।'

সঙ্গত কারণেই ভারতের এই হঠাৎ আচরণ শান্তিপ্রিয় মানুষকে হতাশ করলেও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহের দিকে লক্ষ্য করলে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে কি খুব একটা অপ্রাসঙ্গিক বলার সুযোগ রয়েছে? বিশেষ মর্যাদার নামে কাশ্মীরে যে ধরণের অচলাবস্থা বিরাজ করছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে যেভাবে প্রতিনিয়ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এবং এর থেকে প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় যেভাবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো কাশ্মীরের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে জড়িয়ে পড়ছে এই সবকিছুই কিন্তু দিনে দিনে ভারতের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। কাশ্মীরের এই অচলাবস্থার পথ ধরে ভারতের অপরাপর অঞ্চলগুলোতেও অস্থিরতার বিস্তার যেন রোধ করা যায় সেসব বিবেচনায় নরেন্দ্র মোদির এই পদক্ষেপ। এখানে এটাও সত্য হিসেবে মানতে হবে যে এই পদক্ষেপ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি নিজেকে সত্যিকার অর্থে এক কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি যদি জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে যথার্থভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হন তবে যেমন ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করবেন, আবার অন্যদিকে কাশ্মীরের জনরোষ এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া এবং সন্ত্রাসবাদের হুমকি যদি নতুন মাত্রায় আবির্ভূত হয় তবে তা একপর্যায়ে বড় ধরণের সংঘাত এমনকি পাক ভারত উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। শুরু হয়ে যেতে পারে আরেকটি বড় যুদ্ধ, যার ভয়াবহতা অতীতের যে কোন সময়কে অতিক্রম করে যেতে পারে। আর এমনটা হলে এর সকল দায়ভারও কিন্তু মোদির ঘাড়েই পড়বে।

লেখক: ফরিদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র