Alexa

বাংলাদেশ ২০১৯

বাংলাদেশ ২০১৯

ছবি: বার্তা২৪

অনেক আশঙ্কার মধ্যে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে নতুন বছর ২০১৯ সালে। সকলের অংশ গ্রহণের একটি নির্বাচন নিয়ে উত্তাপ-উত্তেজনা থাকলেও শেষ পযন্ত ‍নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে বিরোধী পক্ষের নানা অভিযোগ থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বের প্রায় সকল দেশ। দেশের দলীয় ফোরাম ছাড়া আম জনতার মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তীব্র কোনো অসন্তোষ সঞ্চারিত হতে দেখা যায় নি। পুরো পরিস্থিত ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে।

নতুন বছর শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। এ সদস্যরা নতুন একটি সংসদ গঠন করে সামনের দিনগুলোকে বাংলাদেশকে পরিচালনা করবেন এবং তাদের সময়কালে বাংলাদেশ ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল সময়কালকে স্পর্শ করবে। মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত রণাঙ্গনের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলোদেশের রাজনৈতিক জীবনে এ ঘটনা বিশেষ উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

বিগত নির্বাচন নিয়ে বহু বিশ্লেষণ চলছে এবং আগামীর বাংলাদেশের সামনের সম্ভাবনাময় দিনগুলোর কর্তব্য নিয়েও ব্যাপক আলাপ-আলোচনা চলছে। নিঃসন্দেহে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন সম্পন্ন করার প্রয়োজন আছে। দলগতভাবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং অন্যান্য দলের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার তাগিদ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদমুক্ত, উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গঠনের বিঘোষিত নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সম্ভবত সবচেয়ে গতিশীল অবস্থানে রয়েছে। দেশে ও বিদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সুসংহত অবস্থান সুস্পষ্ট। এখন দেখার বিষয় হরো, দল ও সরকারে থেকে আওয়ামী লীগ যেসব ভিশন ও মিশন জানিয়েছে, সেগুলো কত দ্রুত এবং কত সঠিকভাবে পালন করতে পারে।

বস্তুত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে একাত্তরের মূল চেতনার ফিরিয়ে এনে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা নিয়ে কাজ করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মুক্তিযুদ্ধের শক্তিসমূহকে ঐক্যবদ্ধকরণ, দেশে-বিদেশে মতাদর্শিক বন্ধুদের মধ্যে মৈত্রী গঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেসব কাজ সাহসের সঙ্গে, দ্রুততার সঙ্গে এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে সম্পন্ন করে এগিয়ে চলেছে। এবারের নির্বাচনের রায় সরকার ও দলীয় কাজের প্রতি জনসমর্থন হিসাবে দলটি ব্যবহার করতে এবং ভবিষ্যতের কাজগুলো করার ক্ষেত্রে সমর্থন হিসাবে প্রয়োগ করতে পিছপা হবে না।

আওয়ামী লীগের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার, অবস্থান ও পদক্ষেপের বিপরীতে বিএনপির সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, মতাদর্শিক অবস্থান তুলনা করা করে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যায়। ভঙ্গুর সংগঠন, দুর্বল ও দ্বিধান্বিত নেতৃত্ব, অস্পষ্ট মতার্দশ বিএনপিকে জনগণের বিশেষ কোনো অংশের পছন্দের জায়গায় নিতে পারছে না। ডান ও ধর্মপন্থীদের পূর্ণ সমর্থন যেমন বিএনপির পক্ষে দেখা যাচ্ছে না, তেমনি ড. কামালদের মোটামুটি উদারপন্থী সমর্থনও বিএনপি পুরোটা পায় নি। দেশের নারী সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের আস্থার জায়গা থেকে বিএনপি যে ক্রমে সরে যাচ্ছে, তা দল অনুভব করতে পারছে বলে মনে হয় না। কিছু কোটারি ও ব্যক্তির কবল থেকে দলের আর্দম ও সংগঠনকে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় কাজ।

এসব নানামুখী দলীয় কাজ ও চ্যালেঞ্জের পর বাংলাদেশে সামনে রয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব। নতুন বছরে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চলমান ধারাকে অব্যাহত রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে নতুন সরকারকে। শান্তি, স্থিতি, নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে যে কোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার বিরুদ্ধে যে কোনো আঘাত মোকাবেলা করতে হবে সরকারকে। উন্নত জীবন ও পরিবেশের স্বপ্ন সফল করার ক্ষেত্রে সরকারকে দেখাতে হবে সর্বোচ্চ দক্ষতা। দুর্নীতি, অপচয়, অন্যায়, অসাম্য, মানবাধিকারের লঙ্ঘনের হার কমাতে হবে। মানুষের মানবিক অধিকার ও সুযোগের দিগন্তকে বিস্তৃত করতে হবে।

স্বাধীনতার ৫০ বছরের ঐতিহাসিক দিনগুলোতে একটি উজ্জ্বল, উন্নত, মানবিক, সুদৃঢ় বাংলাদেশ গঠনের কাজগুলো ২০১৯ সালে তীব্রভাবে শুরু করতে হবে। ২০১৯ সাল আওয়ামী লীগের অর্জনকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও স্থায়ীত্ব দেওয়ার সূচনা বছর। ২০১৯ বিএনপির জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। ২০১৯ বাংলাদেশের জন্য আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ার বছর। সকলের পজিটিভ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ২০১৯ সালে সুখী, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত হোক।

আপনার মতামত লিখুন :