Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান

মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান
মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান প্রশংসার দাবিদার, ছবি: সংগৃহীত
কণা ইসলাম
অতিথি লেখক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রবাসে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান নিয়ে আমরা সব সময় আলাপ-আলোচনা করি, তা হলো মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে শেখ হাসিনার যুগান্তকারী অবদান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ হলো- কওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থার সরকারি স্বীকৃতি। স্বীকৃতি প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার যথাযথ মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন। এ লক্ষে কাজও শুরু হয়েছে।

কওমি মাদরাসা ও ইসলামি শিক্ষা মনোভাবাপন্ন সব মানুষ এতে ভীষণভাবে প্রীত হয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত ও অনন্য মহত উদ্যোগ হিসেবে বিষয়টিকে সবাই প্রশংসা করেছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বিদেশের অনেকের মুখেই বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর এই মহত উদ্যোগের ভুল ব্যাখ্যা দিতে শুনেছি।

এমনিতেই আমরা ভালো কিছুকে বাঁকা চোখে দেখতে ওস্তাদ। ধারণা ও কল্পনা করে কাউকে নানা কথা বলে ফেলতেও আমাদের আটকায় না। অথচ ভালো একটি সিদ্ধান্তের ভুল ধারণা পোষণ করা বা ব্যাখ্যা দেওয়া কি ঠিক? এই প্রশ্নটি তাদের বিবেকের কাছে করা দরকার।

অনেকের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র জনসমর্থন বাড়াতে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কতটা উপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের বিরাট একটি অংশ মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাসী এবং নির্ভরশীল। এদেরকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে রাখা যায় না।

কারণ, কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারিভাবে বলা চলে এ যাবৎকাল অবহেলিতই ছিল। এ পর্যন্ত কোনো সরকারকেই কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি তেমন গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। ফলে কওমি শিক্ষাধারর সংশ্লিষ্টরা বলতে গেলে ছিলেন অনেকেটাই অবহেলিত, সামাজিকভাবে বঞ্চিত।

সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এমন উদার সিদ্ধান্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের জন্য কতটা মঙ্গলময় এবং গুরুত্বপূর্ণ তা যে কোনো সচেতন মানুষ একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন। একজন উদার ও বড় মনের নেতা হওয়ার কারণে তিনি সব ধরনের বাধা-বিঘ্ন উপেক্ষা করে কওমি শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়ে সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে এসেছেন। এসব সম্ভব হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহী ছিলেন বলেই।

এ কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকলে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়া অসম্ভব নয়। দেশের জনসাধারণের একটি বড় অংশ সঠিক ও সুশিক্ষার সুযোগ সুবিধা না পেলে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এমনটি কোনো দায়িত্বশীল, যোগ্য, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা মেনে নিতে পারেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনাও মেনে নেননি। তাই কওমি সনদের স্বীকৃতির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

অতএব একে ভুল বোঝার কোনো অবকাশ নেই। বরং মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমাদের সার্বিক মনোযোগ কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তথা দেশের জন্য সার্বিক মঙ্গলে দিকে থাকা দরকার।

কারণ, ইসলাম শান্তি ও পবিত্রতার ধর্ম। কোনো রকম অন্যায় কাজ ইসলাম পরিপন্থী। কিছু মানুষের খারাপ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ইসলামকে পুঁজি করে বিভিন্ন স্থানে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে পবিত্র ধর্মের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা অবহেলিত হলে সমাজের মানুষ ধর্মের অপব্যবহারকারীদের প্ররোচণায় পড়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে হতেও দেখা যাচ্ছে। তাই মাদরাসা শিক্ষাকে শিক্ষা ব্যবস্থার মূলস্রোতে এনে বাংলাদেশে শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রকে আলোকিত ও বিকশিত করাই সকলের কাম্য হওয়া উচিত, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপের মূলকথা।

কণা ইসলাম: জার্মানি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেত্রী

আপনার মতামত লিখুন :

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা কোথায়?

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা কোথায়?
ফরিদুল আলম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

টানা দ্বিতীয়িবারের মত হোঁচট খেল বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। গত বছর ১৫ নভেম্বর প্রথমবারের মত প্রত্যাবাসনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রত্যাবাসনের দিন বেঁকে বসেন রোহিঙ্গারা। সে দফায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থেমে গেলে আবার মিয়ানমার সরকারের সম্মতিতে ২২ আগস্ট ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ফলাফল একই, কারণ প্রত্যাবাসনের এই প্রক্রিয়াটি নেওয়া হয় অনেকটা বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার সরকারেরে মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে।

আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন মোতাবেক শরণার্থীর মর্যাদা পাওয়া কাউকে যে তার সম্মতি ব্যতিরেকে প্রত্যাবাসন করা যায় না সে কথা বোধ হয় আমরা বারবার ভুলে যাচ্ছি। আরেকটি কথা, শরণার্থী জীবন অভিশাপের শামিল জানা সত্ত্বেও এদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কেন নিজ দেশে ফিরতে চান না সেটা রহস্যে ঘেরা। এখানে একটি যৌক্তিক বিষয় হচ্ছে, নিজ দেশে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ফেরত যাবার ব্যাপারে আগ্রহী না হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর আমরা এটাও জানি যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নাগরিকত্ব বাতিল করলেও বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক চাপ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবার বিষয়েই আশ্বস্ত করে এসেছে। কিন্তু এই প্রত্যাবাসনের পথে বড় সমস্যা হিসেবে দেখানো হয়েছে সেখানে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সম্পত্তি, বসতভিটে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হবার বিষয়টি।

তাদের বরাবরের আশ্বাসের পর দুবার এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে যাবার পেছনে আরেকটি বড় কারণ এদেশে কর্মরত বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলো। গত ২২ জুন দ্বিতিয়বারের মত এই প্রক্রিয়া ভন্ডুল হবার পর জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত সব সাহায্য সংস্থার কার্যক্রম মনিটর করার সুপারিশ জানানো হয়।

কথিত রয়েছে যে এদেশে কর্মরত এনজিওগুলো বারবার এই প্রত্যাবাসনের পথে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। এর আগেরবারও যখন এই প্রত্যাবাসন বাঁধাগ্রস্ত হয়েছিল সেদিনও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু এর পরও এসব এনজিওর কার্যক্রমের যথাযথ মনিটরিং সম্ভব হয়নি। কিছুদিন আগে সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, এনজিওগুলো ‘ইল মোটিভ’ নিয়ে কাজ করছে।

পরপর দ্বিতীয়বারের মত এই প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হবার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আবারও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আশাবাদ জানানো হলেও পরিস্থিতি এখন কিন্তু আসলে জটিল আকার ধারণ করছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে ষড়যন্ত্রের ডালপালা বিস্তৃত হচ্ছে। আর এই ষড়যন্ত্রের মূল হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা। আর এক্ষেত্রে যতটুকু না আন্তর্জাতিক মহল যুক্ত তার চেয়ে বেশি যুক্ত আভ্যন্তরীণ কর্মকগুলো। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে এক সমূহ দুর্যোগের সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ।

কিছুদিন আগে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে মিয়ানমার সরকার যদি প্রতিদিন ৩০০ জন করে রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়, তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে ৭ বছর, আর এই সময়ে খরচ হবে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্প তৈরি করতে ৬ হাজার একর বনভূমি উজার করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৭৪১ কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের ফলে বনভূমি এবং জীব বৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েই চলছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশি এবং বিদেশি এনজিওগুলো কর্তৃক রোহিঙ্গাদের এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করার কারণে। এক কথায় সরকারের বর্তমান তৎপরতায় এক ধরনের অসহায়ত্ব প্রকাশ পাচ্ছে, যা আমাদেরও দারুণভাবে চিন্তিত করে তুলছে।

অবস্থা এখন যা দাঁড়িয়েছে তা থেকে মনে হচ্ছে, এই সমস্যা সহজে মেটার নয়। আপাতদৃষ্টিতে বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত ত্রাণ সহায়তা দিলেও এই সহায়তা দীর্ঘকালীন সময় ধরে চলবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইতোমধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক সঙ্কট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহের কাজটি বিশ্ব খাদ্য সংস্থা করে থাকে এবং এই খাতে তাদের প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার।

এই অবস্থায় আমরা যদি নিকট ভবিষ্যতে এসব দাতাগোষ্ঠীকে পিছু হটে যেতে দেখি তবে অবাক হবার কিছু থাকবে না। তাই দ্রুত এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এখানে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার সরকারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে বলেও মনে হচ্ছে না, কারণ মিয়ানমার নামমাত্র সংখ্যক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাজি হলেও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি। দরকার তাই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সেইফ হোম’ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমন্বয়ে যৌথ নজরদারী এবং সেই সঙ্গে এনজিওগুলোর ওপর কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে প্রত্যাবাসনের স্বার্থে জাতিসংঘ ব্যতীত অপরাপর এনজিওগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাব বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যক্তিত্ববানরা শ্রদ্ধার পাত্র হবেন-এটাই স্বাভাবিক 

ব্যক্তিত্ববানরা শ্রদ্ধার পাত্র হবেন-এটাই স্বাভাবিক 
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা ভাবি না বিধায় পরিবার থেকে আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়। নিজের কাজগুলোকে ভালোভাবে উপভোগ করাটাকেই আমি মুখ্যভাবে দেখি। পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটে বলে আমি মনে করি।

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন কর্মকর্তা হিসেবে অনেকের সাথে মেলামেশা করতে হয়।মানুষের সাথে মেলামেশা করতে ভালোই লাগে। যদিও মানুষের সঙ্গে মেশা ও মানুষকে জানার আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। খুব সহজেই পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গেই মিশতে পারি, সেজন্য বন্ধুর সংখ্যাও কম নয়।

পারিবারিক হোক আর পেশাগত হোক আমরা মাঝে মাঝে কিছু মানুষকে দেখতে পাই যাদের ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্যে আমরা আটকে যাই-বিমোহিত হই। মানুষের চলাফেরা, কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি এবং তার চিন্তাধারায় ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। আচরণই যেহেতু ব্যক্তিত্ব, তাই আমরা চাইলেই আমাদের ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারি। বেহুদা যুক্তিতর্ক না করে ব্যক্তিত্ব উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন নিজের কথার সাথে কাজের মিল রাখা। সময় ও অবস্থান বুঝে আচরণ করা। উদাহরণ স্বরূপ-পরিবারের মানুষের সঙ্গে একরকম আচরণ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে একরকম, বয়সভেদে একরকম এবং পরিচিতদের সঙ্গে একরকম ও অপরিচিতদের সঙ্গে একরকমের আচরণ হওয়া উচিত।

কোন সমস্যার সন্মুখীন হলে অভিযোগ করার পরিবর্তে কীভাবে সমাধান করা যায় তার চেষ্টা করা দরকার। যিনি নিজের সমস্যা নিজে সমাধান করতে পারেন, তিনি শুধু নিয়োগকর্তা কর্তৃক নয় পারিবারিকভাবেও প্রশংসিত হোন। সমস্যার সন্মুখীন হয়ে যদি কেউ তা কোন অভিযোগ ছাড়াই উতরানোর চেষ্টা করেছেন-যদি তিনি সমাধান করতে ব্যর্থও হোন তবুও তাতে তার জানার আগ্রহ প্রকাশ পায়।

প্রখর বাস্তব বুদ্ধি, চতুরতা ও সহিষ্ণুতা থাকলে পুঁথিগত বিদ্যা না থাকা সত্ত্বেও উন্নত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়া যায়।

তাই কারো করুণার পাত্র না হয়ে নিরপেক্ষভাবে বুদ্ধিমত্তার সাথে কথা বলার অভ্যাস করতে হবে। ব্যক্তিত্ব বিকাশের মূল উৎস হচ্ছে মানসিকতা আর বিবেক ও আবেগ দ্বারাই মানসিকতা গড়ে ওঠে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বেরিয়েছে পৃথিবীর ৮৭% লোক তাদের অ্যাটিচুডের কারণে সফল হয়। আর এই অ্যাটিচুড দুই প্রকার। যথা:- ১.রি-অ্যাক্টিভ Vs ২.প্রো-অ্যাক্টিভ।

দেয়াশলাই এর একটি কাঠি দিয়ে যেমন ঘর পোড়া যায় আবার আলোকিত হয় তেমনি একটি গ্লাস দিয়ে মদ খাওয়া যায় আবার দুধ খাওয়া যায়। একইভাবে একটি সেলফোন দিয়ে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক তৈরি করা যায় আবার প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা যায়। তাই প্রো-অ্যাক্টিভ হওয়ার জন্য পাঁচটি জিনিস অন্যকে দিতে হবে। যথা:- ১.Respect (সম্মান) ২.Influence (উৎসাহ) ৩.Help (সহযোগিতা) ৪.Gratitude (কৃতজ্ঞতা) ৫.Experience (অভিজ্ঞতা)।

ব্যক্তিত্বের অনুভূতি অন্য রকম। আমরা বলে থাকি-তিনি চমৎকার কথা বলেন, তার চমৎকার ধৈর্য, মানুষকে সহজেই মেনে নিতে পারে। আহা! তার মতো যদি হতে পারতাম...।  

ব্যক্তিত্ববানরা সকল ভয়, হীনম্যনতা ও অসুখীর মায়াজাল থেকে মুক্ত থাকতে পারে বিধায় তারা সফল এবং সন্মানের যোগ্য। জীবনে সফল হওয়া সহজতর না হলেও ব্যক্তিত্ববানরা এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন। কেবল সুন্দর পোশাক আর বিলাসিতায় মজে থাকলে ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে না, প্রয়োজন শুধু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

ব্যক্তিত্ববানরা অনেক সাধারণ পোশাক যেমন সুন্দরভাবে পরিধান করে, আবার অনেক সাধারণ কথাও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে। তাদের তাকালেই শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছে করে। ব্যক্তিত্ববান মানুষ ধনী-গরীব, জাত-কুল নির্বিশেষে মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র হয়। তাই ব্যক্তিত্ববানরা আমাদের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেন। যে মানুষগুলো এত সংযম রেখে চলেন-তারা আমাদের ওপর প্রভাব ফেলবেন এবং শ্রদ্ধার পাত্র হবেন এটাই স্বাভাবিক। 

মুত্তাকিন হাসান: কবি, প্রাবন্ধিক ও মানব সম্পদ পেশাজীবী   

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র