সাব্বিরেই সমাধান সূত্র: সুখ দেবে না অসুখ ছড়াবে?

এম. এম. কায়সার
এম. এম. কায়সার, ছবি: বার্তা২৪.কম

এম. এম. কায়সার, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রথম প্রশ্ন সাব্বির রহমানকে নিয়ে।
দ্বিতীয় প্রশ্নেও বিষয় সাব্বির রহমান।
তৃতীয় প্রশ্নেও প্রসঙ্গ সেই একই; সাব্বির রহমান।


এভাবেই চললো... চতুর্থ প্রশ্ন... পঞ্চম প্রশ্ন এবং শেষ পর্যন্ত সাব্বির রহমানই হয়ে রইলেন সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন এবং আলোচনার একমাত্র খোরাক!

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু একসময় বিরক্তি প্রকাশ করে বলেই ফেললেন-‘একজন ক্রিকেটারকে নিয়েই শুধু এত বেশি প্রশ্ন কেন? আরো তো ক্রিকেটার আছে!’

মাঝসারি থেকে একজন প্রশ্ন তোলার জন্য হাত তোলার পর অনুমতি পেতেই ডায়াস থেকে মিনহাজুল আবেদিন আগেভাগে বলে দিলেন-‘সাব্বির বিষয়ক আর কোনো প্রশ্ন নয়, প্লিজ!’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচকের সেই অনুরোধ রাখা সম্ভব হয়নি। কারণ যে প্রক্রিয়ায় সাব্বির রহমান এবার জাতীয় দলে ফিরলেন সেটা আসলে কোন ক্রাইটেরিয়া বা নিয়মনীতির মধ্যে যে পড়ে না! আর এই সত্যতা অন্য সবার চেয়ে বেশি ভালো জানা নির্বাচকরদেরই। সম্ভবত সে কারণেই কোন ঝুঁকি না নিয়ে সাব্বির প্রসঙ্গে প্রথমেই প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলে দিলেন-‘একটা ব্যাপার আমি পরিস্কার করে দেই, সাব্বির দলে এটা সম্পূর্নভাবে আমাদের অধিনায়কের পছন্দে। ও জোরালো ভাবে আমাদের কাছে দাবি (সাব্বিরকে দলভুক্ত করতে) জানিয়েছে। এবং আমরা দুজন নির্বাচকই তাতে সম্মতও হয়েছি। অধিনায়ক দলে এমন একজনকে চাচ্ছে যে লোয়ার মিডল অর্ডারে ফাস্ট বোলারদের সামলাতে পারবে। বিশ্বকাপের প্ল্যান করে, নিউজিল্যান্ডের প্ল্যান করেই ওকে দলে নেয়া হয়েছে। অধিনায়ক যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তার ব্যাপারে। আমিও আশাবাদি সে ফিরে আসবে।’

নির্বাচকদের এই সংবাদ সম্মেলনেই জানা গেলো সাব্বিরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তিও কমিয়ে দিয়েছে বিসিবি। ২৮ ফে্ব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়, তার নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ৩১ জানুয়ারি। গত বছর ১ সেপ্টেম্বর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিসিবি সাব্বির রহমানকে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে ছয়মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। সেদিন বিসিবির পরিস্কারভাবে যা জানাতে চেয়েছিলো-শৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তবে নিজেদের তৈরি করা নিয়ম থেকে নিজেরাই সরে এলো বিসিবি!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/24/1548311476113.jpg

শাস্তির সময়টায় সাব্বির রহমান ব্যাট হাতে ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন কিছু করেননি যে তাকে ওয়ানডে দলে ফিরিয়ে আনাটা আবশ্যিক শর্ত হয়ে দাড়ায়। সমস্যা হলো এই সময়টায় সাব্বিরের বিকল্প হিসেবেও কাউকে বিসিবি খুঁজে বের করতে পারেনি। সাব্বিরকে নিষিদ্ধ করার পর বাংলাদেশ সবমিলিয়ে একটি টুর্নামেন্ট এবং দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে। এই ম্যাচগুলোতে সাব্বিরের জায়গায় বিকল্প হিসেবে যাদের খেলানো হয় তারা কেউ টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা অর্জন করতে পারেননি; এটা পরিস্কার।
মুলত এই কারণেই সাব্বিরকে আবার অপরিহার্য মনে হলো বিসিবির কাছে। একটু শুনে বা জেনে হয়তো অনেকের কাছে মনে হতে পারে সাব্বির রহমান বাংলাদেশের অনেক ম্যাচ জয়ের কারিগর! যারা এই ভাবনায় আছেন তারা একবার সাব্বির রহমানের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন; ৫৪ ম্যাচে মাত্র পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি। অধিনায়ক মাশরাফি কি জানেন না, আজ পর্যন্ত সাব্বিরের ব্যাট বাংলাদেশকে কোন ম্যাচ জেতাতে পারেনি!

সাব্বির গত বছরের এশিয়া কাপে ছিলেন না; বাংলাদেশ তো সেই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলেছে।

সাব্বির দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে সিরিজেও ছিলেন না; সেই দুই সিরিজের সবকটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশ তো জিতেছে।
সাব্বিরের অনুপস্থিতি কি তখন বোধ হয়েছে? নাহ্, মোটেও না। তাহলে নিউজিল্যান্ড সফরে সাব্বিরকে ছাড়া বাংলাদেশের চলবে না। বা বিশ্বকাপে সাব্বিরকে ছাড়া বাংলাদেশ কিছু করতে পারবে না; হঠাৎ এমন চিন্তায় কেন সীমিত হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় চিন্তার জগত?

নিষিদ্ধ ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথের শাস্তি কি কমিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া? নাকি সাব্বির রহমান অস্ট্রেলীয় স্মিথ-ওয়ার্নারের চেয়ে বড় কিছু হয়ে গেলেন?
যে খেলোয়াড় জাতীয় দলে ফেরার জন্য ব্যাট হাতে প্রায় কিছুই করলেন না। সেই তিনি আবার তখন নিষেধাজ্ঞার শাস্তিও কাটাচ্ছেন। এমন একজনকে যখন দলে জায়গা দেয়া হয়, তখন সেই সিদ্ধান্ত ভাল কোনোকিছুর বার্তা দেয় না।

বার্তা দেয়, এটি অন্যায়! আর তারচেয়েও বড় অন্যায় হলো যে প্রক্রিয়ায় ইমরুল কায়েস ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়লেন! মানছি সর্বশেষ দুই ওয়ানডেতে তার ব্যাটে রান ছিলো না। কিন্তু তার আগের তিন ম্যাচের সিরিজে তিনি যা করেছেন সেটা যে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানই করেননি। তিন ম্যাচে তার রান ৩৪৯। যার দুটি সেঞ্চুরি। একটি ছিলো ৯০। এই ইমরুলকেই এশিয়া কাপে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় হঠাৎ করে। নামিয়ে দেয়া হয় ছয় নম্বরে। সেখানেও তিনি সফল। ম্যাচ উইনার।
এক সিরিজে দেখার পরই ইমরুল বাদ পড়লেন। আর কোথাও কোনোকিছু না করে শুধু ভবিষৎতে কিছু একটা করে দেখাতে পারেন-এই অদ্ভুত চিন্তায় সাব্বিরকে দলে নেয়া হলো। তাও নিষেধাজ্ঞার শাস্তি কমিয়ে।

আশায় থাকছি, সাব্বির হয়তো ক্রিকেটে আর নতুন কোনো সমস্যা তৈরি করবেন না। হয়তো আরো বিশুদ্ধ হয়ে উঠবেন। সাব্বির সুবোধ হবেন। কিন্তু ওয়ানডে দলের লোয়ার মিডলঅর্ডার ব্যাটিংয়ের সমাধান খুঁজতে এভাবে সাব্বিরের কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্যে সুখ খোঁজার কিছু নেই। বরং এই টোটকায় অসুখই বেশি ছড়াবে!

এমএম কায়সার: ক্রীড়া সম্পাদক, বার্তা২৪.কম

আপনার মতামত লিখুন :