Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

কলোনি, না বাড়িবর্তী শিল্প?

কলোনি, না বাড়িবর্তী শিল্প?
নাহিদ হাসান, ছবি: বার্তা২৪
নাহিদ হাসান


  • Font increase
  • Font Decrease

১.

গত ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কে এন্ড কো ব্রিক ফিল্ডের একটি ঘরে কয়লা ভর্তি একটি ট্রাক উল্টে ১৩ জন ঘুমন্ত শ্রমিক মারা যান ও বাকি ৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সহকর্মী সুজন চন্দ্র বলেন, 'ভোরে যখন কয়লা ভর্তি ট্রাকটি ইটভাটায় ঢোঁকে সে মুহূর্তে একটি ইট আমার গায়ে পড়লে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি দাঁড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকটি উল্টে ঘরের ওপর পড়ে। আমিও পড়ে যাই। তখন অন্য সহকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করে।'

এ প্রসঙ্গে ইট ভাটার মালিক হাজী আব্দুল রেজ্জাক বলেছেন, ইট ভাটায় শ্রমিকের প্রয়োজন হলে আমরা সর্দারের সঙ্গে কথা বলি। সে আমাদের শ্রমিক সংগ্রহ করে দেয়। কিন্তু তারা কোথায় কীভাবে থাকত সে বিষয়ে আমি জানি না।' আর সর্দার সাদ্দাম হোসেন বলেন, 'চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা ইট ভাটার কর্তৃপক্ষ করে থাকে। আমরা শ্রমিক হওয়ায় মালিকরা দায়সাড়াভাবে একটা ব্যবস্থা করে দেন।'

নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনই ছাত্র। জলঢাকা মীরগঞ্জ হাট বহুমুখি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে ৫ জন তার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। আর দুই জন শিমুলবাড়ি এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। আর বাকী ৩ জন এই বছর এসএসসি পাশ করেছেন। তারা কেন ইট ভাটায় কাজ করতে গেছেন, তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে সরকার বাহাদুর নিহতদের জন্য জনপ্রতি ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। বিমান দুর্ঘটনায় মরলে না হয় কথা ছিল! গ্রামের সেই গল্পের ৩ জন মানুষ আর ৫ জন জালুয়া মরার মত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/09/1549695806343.jpg

তার আগে ২৩ তারিখ সকাল ৬টায় গাজীপুরের হোতাপাড়ায় ফুয়াং মোড়ে আলিফ পরিবহণ ও শ্যামলী পরিবহণের প্রতিযোগিতার বলি হয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীর হাবিবুর রহমান ফেরদৌস শ্যামলীর ধাক্কায় নিহত হলেন, সে খবর তো কোনও পত্রিকাতেও আসেনি। উল্লেখ্য যে, ফেরদৌস সরকারের ২টি ছেলেও স্কুলে ছাত্র হয়েও মিস্ত্রি কাজ করেন।

মনে আছে লিমনের কথা? র‌্যাবের গুলিতে পা হারিয়েছিল যে। সেও কাজ করত ইট ভাটায়। সে যেমন গুলি না খেলে জানতাম না, তেমনি ১৩ জন শ্রমিক কয়লার ট্রাকে চাপা না পড়লে আমরা জানতামই না-মধ্য আয়ের দেশে কত শিক্ষার্থী শ্রমিকের জীবন যাপন করে!

বিবিসি জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে গত ৫ বছরে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে শুধু আনজুমান মফিদুল ইসলাম ৬হাজার ৭০০ জনের লাশ দাফন করেছে।

২.

এক সময় স্কুল-কলেজে খাতা-কলমের দাম কমানোর দাবিতে আন্দোলন হত, মধ্য আয়ের দেশে এখন এই আন্দোলনকে ফকিন্নির আন্দোলন মনে করা হয়। ফলে কোচিং-প্রাইভেট বাণিজ্য অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেড়ে গিয়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ক্লাসই হয় না। ফলে মহৎ উদাহরণ (!) এর শিক্ষায় গরীবের বাচ্চারা ইটভাটায়, রিক্সা চালিয়ে টিউশনি-কোচিং এর খরচ যোগাড় করে। শিক্ষা যে সুযোগ নয় অধিকার, অন্যান্য অধিকারের মত এই অধিকারও উধাও হয়ে গেছে। ভিসিগণ এখন ১০ টাকায় চা-সিঙ্গারা পাওয়ার গর্ব করেন।

আমরা এখন বাস করছি সামাজিক ব্যবসার যুগে। আর বেকারির দেশে শিল্পের উচ্চপদগুলো দখল করে আছে। এখন শ্রমিকের সন্তানের শিক্ষার দায়িত্ব শুধুমাত্র শ্রমিকেরই। না রাষ্ট্র, না কারখানা মালিকের। স্বায়ত্বশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খরচের দিক দিয়ে একেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই। নেংটিপরা কৃষকেরা যখন একটি দেশ স্বাধীন করে ফেলে তখন তাদের একটা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার কায়েম হওয়ার মতো একটা দেশ দরকার ছিল হয়ত। আজ আর তার দরকার মনে করা হচ্ছে না।

৩.

কলোনি মানে উপনিবেশ। মানে উপনিবাস। উপ অর্থ নব রূপে উন্নয়ন বা বৈপ্লবিক পরিবর্তন পালন করে যে, মানে- যে নিবাস নবরূপে উন্নীত। রেল কলোনি, আদমজী কলোনি ছিল এমনি ধরনের নিবাস। ইউরোপে যন্ত্র প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুটির শিল্প শ্রমিকেরা যে নিরাপত্তা ভোগ করত, তার সব কিছুই বদলে গেল। বাজার দর নির্ধারিত হতে লাগল যন্ত্রের পণ্যের দ্বারা। আর এই দাম কমার সাথে কুটির শিল্পের শ্রমিকদেরও মজুরি কমতে লাগল। হয় শ্রমিকদের এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হয়, নয়ত নতুন কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। আর এই নতুন কাজের সন্ধানে বের হতে গেলে তাকে পুরোদস্তুর প্রলেতারিয়েতে পরিণত হতে হয়। আর তা হতে গেলে নিজের হোক বা ধার নেওয়া হোক -নিজের ঘর, উঠোন ও ছোট্ট ক্ষেতটুকু ছাড়তে হয়।

জার্মানিতে কলের তাঁতের বিরুদ্ধে হাতের তাঁতের লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনের কারণ গ্রামীণ তাঁতিদের এই উঠোন ও ছোট্ট ক্ষেত। আর এই লড়াইয়ের মধ্যদিয়েই ইউরোপে এই সত্য জানা গেল- উৎপাদনের উপায়ের ওপর শ্রমিকের নিজের মালিকানা; যা ছিল অতীতের স্বাচ্ছন্দ্যের ভিত্তি তাই এখন শেকল।https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/09/1549696012771.jpg

শিল্পক্ষেত্রে কলের তাঁতের কাছে হাতের তাঁত আর কৃষিতে বড় খামাড়ের কাছে ছোট্ট জোত পরাজিত হল। তবুও ভাঙা ঘরটি, উঠোনের বাগান ও হাতের তাঁতটি ব্যক্তিগত উৎপাদন-পদ্ধতিও। কায়িক শ্রমের সঙ্গে জুড়ে থাকছিল। চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতার তুলনায় বাড়ি-বাগানের মালিকানা অধিক অসুবিধাজনক হয়ে পড়ে। তবে বিশ্বজোড়া লুটের মাল প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে ইংল্যান্ড ও ফরাসি দেশে যে বিপুল ও অকল্পনীশ পুঁজি ও বাজার চলে আসে, তার জন্যও শ্রমিকদের নিকট থেকে সর্বোচ্চ শ্রম ঘন্টা শোষণ জরুরি হয়ে পড়ে। আর এর ফলে সৃষ্টি হয় শ্রমিক কলোনী। যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় শ্রম বিক্রি শেষে ঘরে উঠোনের সব্জি ক্ষেতেও শ্রম নিয়োগ করার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর এতে একজন শ্রমিকের আবাসন ও তরকারির জন্য যে মজুরিটুকু শ্রমিককে প্রদান করতে হত, তা থেকে কারখানা মালিক রেহাই পান, তেমনিভাবে তাকে একই কারখানায় বেঁধে রাখা সহজ হয়।

৪.

মহানগর কলকাতার মধ্যে যেমন প্রশাসনিক দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা, বেশ্যালয়, শিল্পকারখানাসহ তাবৎ কিছু ঢু্ঁকিয়ে ফেলা হয়েছিল, তেমনিভাবে ঢাকা-চট্টগ্রামও গড়ে তোলা হয়। ফলে কর্মসংস্থানের জন্য এই শহরগুলিই ঠিকানা হয়ে ওঠে। কিন্তু সুলতানি আমলে বাংলা যে পৃথিবীর তাঁতঘর হয়ে উঠেছিল, আর বর্তমানে বাংলাদেশের গার্মেন্টস যে বিশ্ববাজারে উন্নত পণ্যের বদলে শরীর বেঁচে প্রতিযোগিতায় টিকে আছে পেছনের তরফের হয়ে, সেটাও ভালভাবে করতে গেলে উন্নত জনশক্তি ও আবাসন সমস্যার সমাধান করেই করতে হবে।

ইউরোপে যেখানে কুটির শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে একটির পর একটি কৃষক এলাকা আধুনিক শিল্প এলাকার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছিল, সেখানে বাংলাদেশে উল্টো কুটির শিল্প বিকাশ নয় ধ্বংসের মধ্যদিয়ে তা হয়েছে। ফলে জ্ঞানের ধারাবাহিকতাও লুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমান শিল্পপতিদের মুনাফার সবটাই হল মজুরি কেটে নেওয়া অংশ আর উদ্বৃত্ত মূল্যের সবটাই ক্রেতাকে উপঢৌকন দেওয়া হয়। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর গবেষণা অনুযায়ী রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আমদানী বাবদ দেয় কর অব্যাহতি পায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার, গার্মেন্ট খাতই এর মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার অব্যাহতি সুবিধা পায়। গত বছর ‘চাহিবামাত্র’ উৎসে কর কমানো হয়েছে যাতে রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযাযী তাঁরা আরও ৩ হাজার কোটি টাকার সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়াও কমানো হয়েছে কর্পোরেট কর। গার্মেন্টসসহ সকল রপ্তানি পণ্যের অসাধারণ সুলভ মূল্যের এই হল গূঢ় কারণ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/09/1549695988418.JPG

ইউরোপে, যেখানে একজন শ্রমিকের শ্রম ছাড়া বেচবার কিছুই নাই, তাদের যখন কারখানা মালিকের পক্ষ থেকে আবাসন ব্যবস্থা করা হয়, তখন তা শ্রমিকের বার্গেনিং ও স্বাধীনতার সামর্থকে কমিয়ে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে, কারিগর-কৃষকের দেশে ব্যাপারটা উল্টো। এখানে ভূমি থেকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ইওরোপের ধরনে হয়নি, ফলে শ্রমিকরা যদি বর্তমানের বাড়িটিতে অবস্থান করেই কারখানায় কাজ করতে পান, তাহলে এই বাসস্থানের নিশ্চয়তা তাকে বার্গেনিং ও স্বাধীনতার শক্তিকে বৃদ্ধিই করবে। এর ফলে, শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেত। কে না জানে, দেশীয় বাজার হচ্ছে শিল্পায়ণের পূর্ব শর্ত।

পরাধীন পূর্ব আমলে জ্ঞান ছিল পরম্পরা ভিত্তিক। তাই বাংলাদেশের শিল্পকেন্দ্রগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামে আবদ্ধ না রেখে, সুলতানি আমলের মত একেকটি শহরে একেক ধরনের শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে ওইসব অঞ্চলের অধিবাসীরা বংশ পরাম্পরার সূত্রে দক্ষ হয়ে উঠবেন। কর্মক্ষেত্র নিয়ে, মজুরি নিয়ে বার্গেনিংএ সমাজ মুখ্য ভূমিকায় চলে আসত, স্থানান্তর সীমিত হয়ে আসায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হত। তখনই কেবল কর্মক্ষেত্রের মৃত্যুস্রোত রোধ করা সম্ভব হবে। অধিক কথার কি দরকার, উত্তরবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর হারই তো সাবুদ হিসেবে যথেষ্ট। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জোরে শিল্প মালিকরা দানব হয়ে ওঠার বদলে আত্মীয় হয়ে, সমাজের একজন হয়ে ওঠার পরিস্থিতি গড়ে উঠত। এই ভূখণ্ডের শিল্প গড়ে উঠেছে জমির আলের পাশে, এখনও তার ভবিষ্যত বাড়িবর্তী শিল্পের মাঝেই।

নাহিদ হাসান: সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি।

 

আপনার মতামত লিখুন :

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

বাংলাদেশ-ভারত: নাগরিকদের দূরত্ব কি বাড়ছে?

বাংলাদেশ-ভারত: নাগরিকদের দূরত্ব কি বাড়ছে?
শেখ আদনান ফাহাদ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

১৯৪৭ সালেই বর্তমান বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাঙালিদের নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মহান প্রয়াস চালিয়েছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের কয়েকজন প্রগতিশীল নেতা। কিন্তু দুই দলের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে পেরে উঠেননি তাঁরা। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, জহরলাল নেহেরু, সরদার বল্লভভাই প্যাটেল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখের ধূর্ত রাজনীতির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিলেন বাঙালির রাষ্ট্রকামী রাজনীতিবিদগণ। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের ৭৩ এবং ৭৪ নং পৃষ্ঠায় সে সময়ের ঘটনাবলীর বর্ণনা দেওয়া আছে। পূর্ববাংলার সম্পদ লুটে গড়া উঠা কলকাতা হারিয়ে বাঙালি দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সালে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা গেলে ১৯৭১ এর গণহত্যা সংঘটিত করার সুযোগই পেত না পাকিস্তানি হায়েনারা।

বাঙালি আজ দুইভাগে বিভক্ত- ভারতীয় বাঙালি আর বাংলাদেশি বাঙালি! বাঙালির একান্ত রাষ্ট্র একমাত্র বাংলাদেশ। হিন্দি আর ইংরেজির আগ্রাসনে ভারতে বাংলা আজ ধুঁকে ধুঁকে মরলেও বাংলাদেশে রাষ্ট্রের প্রধান ভাষা হিসেবে বাংলা এখানে টিকে আছে স্বমহিমায়। ইতিহাসের নানা খেলায় বাঙালি বিভক্ত হয়ে তার অতীত গৌরবের অনেকখানি হারিয়েছে। ভারতের পুরো ক্রিকেট টিমে আজ একজন বাঙালি খেলোয়াড় নেই; অদূর ভবিষ্যতে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট টিমে কোনো বাঙালি সন্তান খেলতে পারবে- এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে ১১ জন বাঙালি বিশ্ব ক্রিকেট আলোকিত করছে। বাঙালি অনেক হারিয়েও বুঝতে পারে না, কী তার ছিল আর কী তার আছে?

৪৭ এ বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা না গেলেও পরবর্তী ২৪ বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার মানুষকে প্রস্তুত করেছেন স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। আর এ যাত্রায় সাথে নিয়েছেন তৎকালীন সুপার পাওয়ার সোভিয়েত ইউনিয়ন আর প্রতিবেশী ভারতকে। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে ভারত সরাসরি যুদ্ধে জড়ালেও সীমান্ত খোলা রেখেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক চালানো গণহত্যার শুরু থেকেই। বাঙালি অধ্যুষিত আগরতলা আর কলকাতার মানুষ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। বাংলাদেশের পাশে ছিল পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী ভারত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ অর্জন করেছিল স্বাধীনতা আর ভারত পেয়েছিল এই অঞ্চলে তার একমাত্র নিরাপদ এবং বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রে তৎকালীন সামরিক বাহিনীর কিছু বখাটে কর্মকর্তার হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতি বঙ্গবন্ধুকে না হারালে, বাংলাদেশই হত বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ পথ হারিয়ে ফেলে। জাতির পিতাকে হারিয়ে বাংলাদেশ যেন মাঝিবিহীন নৌকায় পরিণত হয়। রাষ্ট্র চলে যায় সামরিক আর বেসামরিক আমলাতন্ত্রের দখলে। বাংলাদেশ মূলত উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আমল থেকে।

তবে পণ্য উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ফলে বাংলাদেশ মূলত ভারত আর চীনের নানা পণ্যের বিশাল বাজারে পরিণত হয়েছে। সিপিডির এক রিপোর্ট মতে, বাংলাদেশ হচ্ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস। বাংলাদেশে চাকুরি ও ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ হয় হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিকের। এক তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রায় অর্ধলক্ষ ভারতীয় চাকুরি করে। অথচ ভারতে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজের অনুমতি দেয়া হয় না। হাজার হাজার বাংলাদেশি ভারতের বিভিন্ন স্থানে পর্যটক হিসেবে ঘুরতে যায়; তাছাড়া মেডিক্যাল সেবা পেতে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ফলে বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি লাভজনক রাষ্ট্র। এমন একটি লাভজনক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ভারতের নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে বাঙালিদের সম্পর্ক দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে!

ফেসবুক ও ইউটিউবের দুনিয়ায় দুই পারের বাঙালিদের মধ্যে ভয়ানক কথাযুদ্ধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন সব বাজে শব্দ বলা হচ্ছে যা মুখে আনা যায় না। বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে কিছু বলা হলেই ওপার থেকে শুরু হয় পুরো বাংলাদেশকে অপমান করে নানাবিধ অশ্রাব্য বাক্যবান। অনেক ফেইক আইডি থেকেও বিতর্ক উসকে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাস না জেনেই, অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে না বুঝেই পুরো দেশকে নিয়ে অনেককে আপত্তিকর কথা বলতে দেখা যায়। ফেসবুকে আনন্দবাজার কিংবা প্রথম আলোর পেইজে ঢুকলেই দুই বাংলার মানুষের মধ্যকার কথাযুদ্ধের নমুনা পাওয়া যায়। কাশ্মীর সমস্যা হোক, কিংবা ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলা হোক কিংবা হোক সাকিব আল হাসানের উপর হওয়া কোনো নিউজ, ফেসবুকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু হয় বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে।

ইন্টারনেট পুরো বিশ্বকে এখন আমাদের ধরাছোঁয়ার আওতায় এনে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কোনো বিষয়ে নিজের মত, অমত, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ মিথস্ক্রিয়ার দুনিয়াকে করেছে ব্যস্ত। মানুষ আগের যে কোনো সময়ের চাইতে যোগাযোগপ্রবণ এবং একইসাথে প্রতিক্রিয়া-প্রবণও। অনলাইন নিউজপেপার এবং প্রিন্ট নিউজপেপারগুলোর অনলাইন ভার্সন এবং ফেসবুক পেইজে বাংলাদেশ এবং ভারতের বাঙালিদের আনাগোনা অহরহ। ইন্টারনেট এবং ভাষার শক্তিকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগাতে পারত ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালিরা। কিন্তু কাজের চেয়ে যে অকাজই বেশী হচ্ছে।

ভারত-বিদ্বেষী বাংলাদেশি আর বাংলাদেশ-বিদ্বেষী ভারতীয়রা দুই রাষ্ট্রের নাম বিকৃত করেছেন। যে গালি মুখে আনা যায় না, সেসব কথা লেখা থাকে কমেন্ট আকারে। বাংলাদেশের কেউ ভারতের কারও কথার প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় ১৯৭১ সালের রেফারেন্স দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা। ৭১ কে ভারতীয় প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদান, ৩০ লাখ মানুষের প্রাণহানি, মুক্তিবাহিনীর বীরত্ব ইত্যাদি বিষয়কে খাটো করে দেখার একটা প্রবণতা ভারতীয় বাঙালিদের মধ্যে দেখা যায়। কোনো বাংলাদেশি ভারতের দিক থেকে করা কোনো কাজের সমালোচনা করলেই ৭১ এর কথা বলে খোটা দেয়ার চেষ্টা হয়। ভারতীয়রা একাত্তরকে দেখে থাকে তাঁদের নিজস্ব প্রেক্ষিত থেকে। বাংলাদেশ যে ভারতের কত উপকারে আসে কিংবা আসছে, সেটি ফেসবুকের জগতে খুব কম ভারতীয়ই স্বীকার করেন।

বাংলাদেশিদের একটা ছোট অংশ ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আনন্দবাজারসহ নানা পত্রিকার ফেসবুক পেইজের নিউজে কমেন্ট করে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয়রা ক্ষিপ্ত হয়। ক্ষিপ্ত হওয়ার অধিকার তাঁদের আছে, কিন্তু গুটি কয়েক বাংলাদেশির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এই ভারতীয়রা পুরো বাংলাদেশ নিয়ে অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য করে। এই মন্তব্য কোনো সচেতন বাংলাদেশির পক্ষে হজম করা মুশকিল। ভারতীয়দের বড় একটা অংশ বাংলাদেশ সম্পর্কে জানেই না। তারা শুধু জানে, ১৯৭১ এ ভারত পাকিস্তানকে যুদ্ধে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে?

বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিশালত্ব, জাতি সংগঠনে আওয়ামী লীগ এর অবদান, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে দীর্ঘ সামরিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি, বিশ্ব রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর প্রভাব, বাঙালি আর্মি, নেভি ও বিমান সেনা, মুক্তিবাহিনী, মুজিববাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী কিংবা ক্র্যাক প্লাটুন এর বীরত্ব ইত্যাদি কিছুই না জেনে ৭১ কে শুধু ভারতীয় প্রেক্ষিত থেকে দেখতে অভ্যস্ত এসব ভারতীয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের সহযোগিতা আদায় করেছেন। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের যে কোনো বিশ্লেষণে প্রধান চরিত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শাহাদাত বরণ করা বীর বাঙালিরা। ৭১ প্রশ্নে ভারতীয়দের উচিত হবে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। মূলত বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর বীরত্বেই ৭১ সালে পাকিস্তানকে পরাজিত করার গৌরবের ভাগীদার হতে পেরেছিল ভারত।

বাংলাদেশকে ‘কাঙ্গালের’ দেশ বলে মন্তব্য করে কিছু ভারতীয়। বাংলাদেশ অর্থনীতিতে কোথায় চলে গেছে এবং যাচ্ছে সেটি এসব ভারতীয় বন্ধুরা জানেন না। সামাজিক উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলেছে বহু আগেই। মাথাপিছু আয়ের হিসেবেও আর কয়েক বছর পরে পেছনে পড়বে ভারত। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বহু বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন। গুগলে সার্চ করলেই সব লিংক পাওয়া যাবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ নানা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকলেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির দলিল মিলবে। ভারতীয়দের উচিত হবে সিনেমার জগতে শুধু না থেকে বাস্তবতাকে জানার চেষ্টা করা।

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, ভারতের চলচ্চিত্র জগতে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি, সংবাদ মাধ্যমগুলোতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ইত্যাদি কয়েকটি কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত-প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় একই সভ্যতা ও সংস্কৃতির দুটো প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এমন বাস্তবতা নিশ্চয় কারও কাম্য নয়।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র