Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ভালোবাসা কি লোকাল ট্রেন?

ভালোবাসা কি লোকাল ট্রেন?
ছবি: সংগৃহীত
মোকাম্মেল হোসেন


  • Font increase
  • Font Decrease

বাসের সিটে বসে আছি। চুপচাপ। সামনের সিটে বসা এক তরুণী মোবাইল ফোনে কথা বলছে। বিরামহীন। এক পর্যায়ে তাকে বলতে শুনলাম-
: বিশ্বাস কর দোস্ত, অনেস্টলি বলতেছি- আবিরের সঙ্গে এখন আমার ব্রেক-আপ চলতেছে; ইত্যাদি-ইত্যাদি।

আজকাল ব্রেক-আপ শব্দটা খুব শোনা যায়। অভিধানে ব্রেক-আপ শব্দের বাংলা করা হয়েছে অবসান, ছুটি, সাময়িক বিরতি ইত্যাদি। এ যুগের তরুণ-তরুণীরা যখন কারও সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের সর্বশেষ অবস্থা বোঝাতে এ শব্দটি উচ্চারণ করে তখন বুঝতে হবে, তার হৃদয়রাজ্যের বাগানটির পরিচর্যা করত যে মালি; তাকে আপাতত ছুটি দেয়া হয়েছে।

এটাকে বিরহ বলা যাবে কি? ভালোবাসার আগুন বুকে নিয়ে বিরহ পথ চলে। পথের শেষ হবে কখন সেই অপেক্ষায় উন্মুখ থাকে। এ তরুণীর কথা শুনে মনে হচ্ছে না, ব্রেক-আপ জিনিসটা যন্ত্রণাদায়ক কিছু।

বিরহ কতটা যন্ত্রণাদায়ক যারা এর সংস্পর্শে এসেছেন, তারা ভালো বলতে পারবেন। তবে লোককাহিনী, গল্প-কবিতা-উপন্যাসে, নাটক-সিনেমা-গানে বিরহকাতর নর-নারীর যন্ত্রণার যেসব রূপ মূর্ত হয়ে উঠেছে যুগে-যুগে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে; তা থেকে একটা ধারণা পাওয়া যায়। প্রচলিত কাহিনী এরকম--মক্তবে পড়ার সময় ধনীর দুলালী লাইলির প্রণয়াসক্ত হয় এক ছাত্র। লাইলির প্রতি আকর্ষণ ছাত্রটিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যে মানুষ তার প্রকৃত নাম বাদ দিয়ে তাকে মজনু নামে ডাকতে থাকে; যার অর্থ হচ্ছে প্রেমিক, পাগল ইত্যাদি।

জানা যায়, মজনুন থেকেই মজনু নামের উৎপত্তি, যাকে ছাড়া ভালোবাসার ইতিহাস অসম্পূর্ণ। পরবর্তী সময়ে মজনুর প্রেমের মূল্য না দিয়ে লাইলির পরিবার লাইলিকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ দিলে বিরহ-যাতনায় কাতর মজনু লোকালয় ছেড়ে নির্জনে চলে যান। এ সময় মরুভূমির বুকে পশু-পাখির সঙ্গে তার বিচরণ করার কথা লোকমুখে প্রচারিত হতে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550134157700.jpg
প্রেমিক-প্রেমিকার বিচ্ছেদ-বেদনাই কি বিরহের একমাত্র সংজ্ঞা? নজরুল প্রেমিক হৃদয়ের আকুতি নিয়ে নার্গিস-বিচ্ছেদগাথা সাহিত্যের ভাষায় প্রকাশ করেছেন। আবার প্রিয় সন্তানের অকালমৃত্যুজনিত বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা বাবার হৃদয় দিয়ে গানে রূপ দিয়েছেন। দুটি বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উৎস এক- ভালোবাসা। এই ভালোবাসা জিনিসটা আসলে কী? তার বাড়ি কোথায়?

হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টির প্রাক্কালে ফেরেশতাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হলে মানবের প্রতি ভালোবাসার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন আল্লাহপাক। কাজেই মানুষ সৃষ্টির মূলে রয়েছে স্রষ্টার প্রেম। এই প্রেম তিনি সব জীবের মধ্যেই অনুরণিত করেছেন। আল্লাহপাক তার সৃষ্ট জীবের ক্বলবে প্রেম-ভালোবাসার যে বীজ বপন করে দিয়েছেন, সেটাই প্রতিনিয়ত নানারূপে বিকশিত হয়ে হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার কাব্য তৈরি করছে।

জগতের জীবকূল একেক আঙ্গিকে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হলেও খুব অল্পসংখ্যক প্রাণীকেই ভালোবাসার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, বিবাহের কিছুকাল পরে স্বামীর মৃত্যু হলে মুসলিম রীতি অনুযায়ী ইদ্দত পালন শেষে লাইলি মজনুকে কাছে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হলেন। মজনুর খোঁজে লাইলি নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর শেষে একটা পন্থা অবলম্বন করলেন। লাইলি তার হাবেলির কাছাকাছি এক মিষ্টির দোকানদারের সঙ্গে চুক্তি করলেন। চুক্তি অনুযায়ী রাজ্যে মজনু নামে যত লোক আছে, সবাই দোকানে এসে বিনা পয়সায় মিষ্টি খেতে পারবে। এ কথা জানাজানি হওয়ার পর ওই মিষ্টির দোকানের সামনে লম্বা লাইন পড়ে গেল- সবাই মজনু। লাইলি দেখলেন, অবস্থা বেতাল। তার দরকার একজন মজনু; এত মজনু দিয়ে তিনি কী করবেন!

এভাবে চলতে থাকলে স্বামীর রেখে যাওয়া ধনভাণ্ডার অল্পদিনেই নিঃশেষ হবে, এটা বুঝতে পেরে লাইলি একটা বুদ্ধি বের করলেন। দোকানদারের কাছে একটা খঞ্জর সরবরাহ করে বললেন-
: এখন থেকে কেউ নিজেকে মজনু দাবি করে মিষ্টি খেতে চাইলে তাকে একটা শর্ত মানতে হবে।
দোকানদার হাসিমুখে জানতে চাইলো-
: কী শর্ত!
প্রত্যুত্তরে লাইলি বলল-
: শর্তটা হচ্ছে- আমার দেয়া খঞ্জর দিয়ে নিজের একটা চোখ উৎপাটন করে মজনুকে প্রথমে ভালোবাসার পরীক্ষা দিতে হবে। তারপর সে যত খুশি মিষ্টি খেতে পারবে।
লাইলির শর্ত শুনে সব মজনু হাওয়া। অনেকদিন পর রুগ্ন, জীর্ণ-শীর্ণ চেহারার এক যুবক মিষ্টির দোকানের সামনে এসে পানি খেতে চাইল। কৌতূহলবশত দোকানদার তার নাম জিজ্ঞেস করলে যুবক বলল-
: নাম মনে নাই।
দোকানদার আশ্চর্য হয়ে বলল-
: বাপ-মা যে নাম রাখছে, সেইটা মনে নাই তোমার!
: না। লোকজনের মুখে মজনুন-মজনুন ডাক শুনতে শুনতে আসল নাম ভুইল্যা গেছি।
: মজনুন! তার মানে মজনু?
: জি, জনাব।
দোকানদার অত্যাশ্চর্য হলেন। বললেন-
: যাক, অনেকদিন পরে একজন মজনুর দেখা পাওয়া গেল। কিন্তু তোমাকে তো পানি দিতে পারব না।
: আমার অপরাধ!
: তোমার কোনো অপরাধ নেই যুবক। লাইলির সঙ্গে আমার চুক্তি অনুযায়ী মজনু নামের কেউ এই দোকানের কিছু খেতে চাইলে তাকে নিজের হাতে তার একটা চোখ উপড়ে ফেলে প্রমাণ করতে হবে-সে সত্যিই মজনু।
যুবক একটুও ভয় না পেয়ে বলল-
: এই কথা লাইলি বলছে!
: শুধু বলে নাই, খঞ্জরও সাপ্লাই দিছে।

দোকানদার মজনুকে চকচকে খঞ্জর দেখাল। মজনু খঞ্জর হাতে নিলেন। তারপর একে একে নিজের দুটি চোখই উপড়ে ফেলে দোকানদারের উদ্দেশে বললেন-
: লাইলি তো একটা চোখ চাইছিল, তাই না! আমি দুইটাই দিয়া দিলাম...

যারা বলে- ভালোবাসার জন্য নারী যতটা আত্মত্যাগ করে, পুরুষ ততটা করে না; তারা মজনুর উৎপাটিত চোখ দুটির কথা ভাবুন। সেখান থেকে গড়িয়ে পড়া রক্তধারার কথা কল্পনা করুন। ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে গিয়ে মজনু চোখ উৎসর্গ করেছেন, তবে জীবন উসর্গের কথা ভাবেননি- এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই।

তাহলে ভালোবাসার জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হয় না- কে আছে এমন? একদিন টেলিভিশন দেখার সময় এ প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম। ভালোবাসার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত যে, সে কোনো মানব-মানবী নয়; স্রেফ একটা পশু। নাম ওয়াইল্ডবিস্ট। তৃণভোজী ওয়াইল্ডবিস্টরা যাযাবর প্রকৃতির প্রাণী। সাধারণত খাবারের সন্ধানে তাদের স্থানান্তর ঘটে। স্থানান্তরের সবচেয়ে বিপদসংকুল একটি পথ হচ্ছে- আফ্রিকার বিপদসংকুল মরা নদী। নদীটি কুমির দ্বারা পরিপূর্ণ। স্থানান্তরের উদ্দেশে এ নদীর পানিতে যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে অজস্র ওয়াইল্ডবিস্ট ও জেব্রা, তখন তারা জীবন ও মৃত্যু এত কাছকাছি অবস্থান করে; যিনি এ দৃশ্য দেখেননি, তার পক্ষে এটা অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550134185222.jpg

বাঁচা-মরার এ লড়াই চলাকালে এক ওয়াইল্ডবিস্ট মা তার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিল। মাঝনদীতে কুমিরের তাড়া খেয়ে মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেল তার শাবক এবং দিকভ্রস্ট হয়ে আগের জায়গায় ফিরে গেল। মৃত্যুর ঘ্রাণ নিতে নিতে নদী পার হওয়ার পর মা ওয়াইল্ডবিস্ট তার শাবককে কোথাও দেখতে পেল না। পরে মা বুঝতে পারল, তার শাবক ওপারে রয়ে গেছে। সে আবার দাঁড়াল মৃত্যুর সামনে। নদীতে হাজার হাজার পশু যখন একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখনকার পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি অবশ্যই একরকম নয়। একটা মাত্র ওয়াইল্ডবিস্ট নদীর জলে পড়লে, তার কুমিরের পেটে যাওয়ার আশঙ্কা ৯৯.৯ ভাগ। বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র শূন্য দশমিক এক ভাগ। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও বাৎসল্য মা ওয়াইল্ডবিস্টকে শূন্য দশমিক এক ভাগের দিকেই টেনে নিয়ে গেল! সে ঝাঁপ দিল নদীর জলে। নিঃশ্বাস বন্ধ করে টেলিভিশনের সামনে বসে আছি। দেখলাম, মা ওয়াইল্ডবিস্টটা শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেল। সাক্ষাৎ যমপুরী থেকে তার বেঁচে যাওয়াটা একটা অলৌকিক ঘটনা। অবশ্যই অলৌকিক ঘটনা।

একটা পশু যদি সন্তানের প্রতি তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এভাবে, তাহলে মানুষের ক্ষেত্রে তার রূপ কেমন হবে? গল্পটা মায়ের মুখে শোনা। এক ছেলে বৃদ্ধা মাকে জঙ্গলে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছে, এমন সময় আকাশে মেঘের গর্জন শোনা গেলে বৃদ্ধা মা বলে উঠলেন-
: দেওয়া রে! ডাইক্যা-ডুইক্যা ঘর ল। আমার নয়নের পুত্তলি ঘরে ফিরুক, তারপরে নামিস। (হে আকাশের মেঘ! গর্জন শেষ করে আবার তুই আকাশে ফিরে যা; আমার আদরের সন্তান আগে বাড়ি যাক, এরপর তুই নেমে আসিস মাটিতে)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550134211446.jpg

একজন নারী প্রেমিকা হিসেবে কিংবা স্ত্রী হিসেবে ভালোবাসার প্রতিদান হয়তো প্রত্যাশা করেন। কিন্তু সেই নারী যখন মা হন; তখন মাতৃত্বের মহিমা তিনি অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। আজ আমরা এতটাই আধুনিক- পরকীয়ার আকর্ষণে নিজের গর্ভজাত সন্তানের মৃত্যু নিশ্চিত করতেও দ্বিধা করছি না। এখন আমরা এতটাই সুসভ্য- বিচ্ছেদকে বলছি ব্রেক-আপ! ভালোবাসায় আবার ব্রেক কী? ভালোবাসা কি লোকাল ট্রেন- প্রতিটি স্টেশনে ব্রেক মারতে মারতে সামনে অগ্রসর হবে?

মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

 

আপনার মতামত লিখুন :

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, পুরনো ছবি

৮৯ বছরের এক বিশাল কর্মজীবন পেছনে ফেলে সব আলোচনা-সমালোচনার ওপারে চলে গেছেন এরশাদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরশাদ একাই একটি অধ্যায়। এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) হয়তো আরও বহুদিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়েই থাকবে, তবে এরশাদবিহীন জাপা ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে বলেই মনে হয়।

তার দীর্ঘ পেশাগত ও রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য তিনি দলকেও ছাড়িয়ে গেছেন বহুমাত্রায়। তার অনুপস্থিতিতে জাপা হয়তো এখন সেটিই অনুভব করবে। ক্ষমতার সিঁড়ির কাছাকাছি যেতে এরশাদের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিপরীতে একটি শক্ত প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবেও তার জুড়ি নেই। তাই জাপার মতো একটি সমর্থক শক্তি রাজনীতিতে প্রয়োজন ছিল বৈকি। অপর দলের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় এরশাদবিহীন জাপা আগামীতে কতটা শক্তি জোগাতে পারে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে পার্টির গুরুত্ব থাকা না থাকা নির্ভর করে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ওপর। দলের ভেতরে সামরিক বেসামরিক ক্যারিয়ারিস্ট নির্বিশেষে এরশাদের মতো হাই-প্রোফাইল রাজনীতিক আর নেই। এক সময় জাপা করেছেন দেশের অনেক হাই প্রোফাইল রাজনীতিক। মিজানুর রহমান চৌধুরী, কাজী জাফর, শাহ মোয়াজ্জেম, মওদুদ আহমেদসহ দেশের প্রথিতযশা অনেক রাজনীতিকরা এরশাদের জাপাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা বামপন্থী রাজনীতি থেকে এসেছেন। ডিগবাজীর এই রাজনীতি শুরু হয় জিয়ার আমলে। সামরিক, বেসামরিক আমলা ও পেশাজীবীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেন জিয়া।

এরশাদও একই কায়দায় সামরিক-বেসামরিক আমলা, পেশাজীবীদের দলে ভেড়ান। কিন্তু ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ার পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তাদের বেশির ভাগই আজ আর জাপায় নেই। যেমন নেই বিএনপিতে। সময় বুঝে আজ জিয়ার উপদেষ্টা, কাল এরশাদের উপদেষ্টা বা মন্ত্রী হয়েছেন অনেকে। নগদ ইনামের আশায় এরকম রাজপন্ডিতের (উপদেষ্টা) নজির আজও বিরল নয়। ক্ষমতার লোভে যারা ডিগবাজী দিয়ে জাপায় এসেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে তারাই সবার আগে উল্টো ডিগবাজী দিয়েছেন। কেউ বা মৃত্যৃ বরণ করেছেন, অবসর নিয়েছেন। ফলে জাপায় আজ ক্যারিয়ার পলিটিশিয়ান যাকে বলে সে রকম কেউ নেই বললেই চলে। ক্যারিশম্যার কথা বাদই দিলাম। ফলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বই জাপার জন্য আজ বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার রাজনীতিতে একইভাবে দলের গুরুত্ব বহাল রাখা।

Ershad
১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এরশাদকে নিয়ে আলোচনা আছে, আছে সমালোচনা। কোনোটাই ভিত্তিহীন নয়। তিনি একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেছেন। বিদ্যমান দলগুলোর অদূরদর্শীতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে নিজেই ৯ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেছেন। সব সামরিক শাসক যা করেন এরশাদও তাই করেছেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি করেছেন, এরশাদ করেছেন জাতীয় পার্টি। নয় বছর ক্ষমতায় থেকে বিদায় নিয়েছেন সত্য, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে এরশাদের গুরুত্ব কমেনি মোটেও। বরং ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজের পাল্লা ভারি করতে এরশাদের বিকল্প শুধুই এরশাদ। আগামী দিনের ক্ষমতার রাজনীতিতে জাপা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারবে কিনা জাপা’র জন্য আপাতত এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য অন্তত আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে ‘ক্ষমতা’, ‘রাজনীতি’ ও ‘কৌশলের’ সঙ্গে ভোটের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর বিষয়টি অনেকাংশেই নির্ভর করে। এ সম্পর্ক যেভাবে শিথীলতার দিকে যাচ্ছে তাতে তৃতীয় কোনো সহায়ক শক্তির রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাও হয়তো ফুরিয়ে যাবে। তবে সে রাজনীতি আমাদের হিসাবের বাইরে। আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি, এরশাদ জাপায় যেমন অপরিহার্য ছিলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতেও ছিলেন একই রকম অপরিহার্য।

Ershad
একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য। এই উপমহাদেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলই বেশি বিকাশ লাভ করেছে। ভারতে যেমন কংগ্রেস, পাকিস্তানে মুসলিম লীগ, পিপলস পার্টি, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা। ভারতের বিজেপি অথবা বাংলাদেশের জামায়াত একটি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ চর্চা করে। কাজেই প্রচলিত রাজনীতি থেকে তাদের রাজনীতি ভিন্ন, নেতৃত্বের বিষয়টিও ব্যক্তি বা পরিবার নির্ভর নয়। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যদিও ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বিকাশ লাভ করেছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দলের প্রয়োজনেই বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতেই দলের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়। সেই থেকে প্রায় চার দশক আওয়ামী লীগও ব্যক্তি কেন্দ্রিক দলীয় রাজনীতির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

দলের ভবিষ্যৎ পারিবারিক সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর বিএনপি ও জাপার শুরুই হয়েছে একজন ব্যক্তি বিশেষের রাজনৈতিক খায়েস মেটানোর জন্য। জিয়া ও এরশাদ যদি ধরেও নিই যে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ক্ষমতা দখল করেছেন (ডকট্রিন অব নেসিসিটি), না হলে দেশ গোল্লায় যেতো ইত্যাদি, ইত্যাদি... তারপরও বাস্তবতা হলো তারা কেউ দেশের সেই কথিত ক্রান্তিলগ্ন পার হওয়ার পর ব্যারাকে ফিরে যাননি। গদি আঁকড়ে ধরে থেকেছেন। জিয়া নিহত হওয়ার পর বিচারপতি সাত্তার ও পরে খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন। সেই থেকে আজও ব্যক্তি ও পারিবারিক দখলমুক্ত হতে পারেনি বিএনপি।

একই কায়দায় এরশাদ নয় বছর ক্ষমতায় থাকার পরও জাপা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তি এরশাদ থেকে জাতীয় পার্টি মুক্ত হতে পারেনি চার দশকেও। পতিত সামরিক ও স্বৈরশাসকরা ‘মরিবার পূর্বে মরিতে চান না’। তাই নিরাপদ ও স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করতেই তারা দলের সভাপতি বা উপদেষ্টার পদ আজীবন আঁকড়ে থাকেন। এরশাদের হয়তো এক্সিটওয়ে ছিল, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে তার প্রয়োজন ছিল এবং তিনিও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তা উপভোগ করে গেছেন। ক্ষমতার প্রতিটি কোনায়ই তিনি বিচরণ করেছেন।

সেনাপ্রধান, সিএমএলএ, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিরোধী দলের নেতা সব ক্ষেত্রেই তার সরব উপস্থিতি আমরা দেখি। সবকিছু যে তার প্রয়োজন ও ইচ্ছায় হয়েছে হয়তো সেরকমটি নয়। অনেকটা রাজনীতি ও ‘ক্ষমতা’র প্রয়োজনেই তার এই এদিক ওদিক, কখনো নিজের কখনো অপরের প্রয়োজনে। এখানেই এরশাদের অপরিহার্যতা। আর এজন্যই আমরা তাকে বলি ‘রাজনীতির দুষ্টু বালক’।

Ershad

সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংসদ টিভি 

 

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের তিনটি বড় দলের মধ্যে জাপা আপাত একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব থেকে মুক্ত হলো বটে। কিন্তু ব্যক্তি কেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে নতুন করে পরিবারভূক্ত হলো বলেই মনে হচ্ছে। এতে আপতত হয়তো জাপা প্রাথমিক ধাক্কাটি সামলাতে পারবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পার্টির নিয়তি নির্ধারণে তা কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে তা সময়ই বলবে।

এরশাদের সমালোচনা আছে অনেক। কিন্তু নির্মোহ দৃষ্টিতে বললে এ সমালোচনা থেকে সবাই-ই কি মুক্ত? রাজনীতিতে এরশাদ একটি সিনড্রোম। এ সিনড্রোমে সব রাজনৈতিক দলই আক্রান্ত। এমনকি নাগরিক হিসেবে আমরাও কি সুবিধাবাদী নই? এরশাদ আমাদের সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী, ভোগবিলাসী ও ডিগবাজীর রাজনীতির আইকন। কিন্তু এরশাদ সিনড্রোম কি আমাদের মাঝেও নেই? এরশাদকে গালি দেওয়া সহজ, কারণ তিনি ক্ষমতাহীন এক ‘দুষ্টু বালক’। এরশাদের বিদায়ের পর রাজনীতিতে হয়তো সহসা সমালোচনা করার মতো লোকটি বিদায় নিলেন। কিন্তু তাতে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে কি? এরশাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ভাড়ামি হয়তো কিছুটা কমবে, কিন্তু রাজনৈতিক দুষ্টামি বন্ধ হবে কি?

এরশাদুল আলম প্রিন্স: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম।

‘সেই এরশাদ’, ‘এই এরশাদ’

‘সেই এরশাদ’, ‘এই এরশাদ’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পুরনো ও সাম্প্রতিক ছবি

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, যিনি এক সময়ের সেনাপ্রধান আর বর্তমানে 'প্রধান বিরোধী দলের নেতা', তার জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন করা একই সঙ্গে সহজ এবং কঠিন।

সহজ এ কারণে যে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থান স্পষ্ট। এরশাদের ক্ষমতা দখল ও দশ বছরের স্বৈরশাসনের 'সেই' সময় সবার কাছেই প্রতিভাত। এ ব্যাপারে বিতর্ক বা তাকে বৈধতা বা ন্যায্যতা দেওয়া অসম্ভব।

কিন্তু 'এই' সময়ের এরশাদ বিশ্লেষকদের কাছে সহজে ব্যাখ্যা করার ব্যক্তি নন। তার কারাভোগ, রাজনীতিতে লেগে থাকার আগ্রহ এবং ক্রমশ প্রকাশিত বিভিন্ন মানবিক গুণাবলীর কারণে এক অন্য মাত্রার এরশাদকে দেখতে পাওয়া যায়।

এরশাদের মৃত্যুতে সবচেয়ে বিপদে যারা

অবশ্য এ কথাও পরিষ্কারভাবে বলা দরকার যে, এরশাদের ভালো কিছু কাজ থাকলেও তার খারাপ কাজগুলো জায়েজ হয়ে যায় না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তা মনে করি না এবং লিখিতভাবেই তা উল্লেখ করেছি।

তারপরও বিস্ময় জাগে। নানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিশেষত আমরা যারা রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যয়ন ও চর্চায় ব্যাপৃত আছি, তাদেরকে রাজনৈতিক প্রপঞ্চ ও ব্যক্তিত্বের গতিশীলতার ওপর লক্ষ্য রাখতে হয়। তরুণ মার্কস আর পরিণত মার্কসের মধ্যে পার্থক্য রেখা টানতে হয়। একদার কট্টর সাম্প্রদায়িক নেতার জাতীয়তাবাদী-মানবতাবাদীতে রূপান্তরের কার্যকারণ নিরূপণ করতে হয়। আবার বাম, প্রগতিশীল, কমিউনিস্ট নেতার মৌলবাদী স্খলনের ব্যাখ্যাও দাঁড় করাতে হয়।

এরশাদকে এমন তুলনায় আনা হলে আমরা কেমন চিত্র পাব? স্বৈরাচার হয়েও তার কঠোরতার পাশাপাশি মানবিক উন্নয়নমূলক কিছু পদক্ষেপও আড়ালে থাকে না। সমালোচনার পরেও ওষুধ নীতি, ভূমি সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ, ধর্মীয় বিষয়ের গুরুত্ব তাকে অনেক মানুষের প্রিয়ভাজন করেছে।

যদিও এরশাদের রাজনীতির ৪০ বছরের পুরো সময়ই ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ আর বিএনপির অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে তিনি দশ বছর ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলেন এবং এখনও বিএনপির রাজনৈতিক ভুলের সুযোগ নিয়ে সামনে চলে আসতে পেরেছেন। দ্বিদলীয় রাজনীতির প্রকৃত বিকাশ হলে তার রাজনৈতিক জীবন এতদূর প্রলম্বিত হয়ে আসতে পারতো কি-না, সন্দেহ।

একজন এরশাদ

যেভাবেই হোক তিনি ক্ষমতার দশ বছর পর আরও তিরিশ বছর রাজনীতিতে থেকেছেন। এ সময়কালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সাথেই ছিলেন। ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে ছিলেন। এবং সংসদীয় রাজনীতির কাঠামোর মধ্যেই থেকেছেন, যদিও সেই সংসদ ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে।

আপত্তি বা সমালোচনা যাই থাকুক, 'স্বৈরাচারী' এরশাদ গণতান্ত্রিক নির্বাচন, সংসদীয় ব্যবস্থা ইত্যাদিকে পাশ কাটিয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছেন, এমন দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারবে না। নিজের এবং দলের স্বার্থে তিনি রাজনীতি করেছেন, এমনটি সবাই করে। ফলে এ বিষয়ে সমালোচনার কিছু থাকতে পারে না। তিনি তার ও তার দলের স্বার্থে রাজনীতি করে মহাভারত অশুদ্ধ করেননি।

আর যে কাজটি তিনি সন্তর্পণে করেছেন, তা হলো মানব কল্যাণ ও মানবসেবা। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম এবং অন্যান্য গণমাধ্যমেও খবরগুলো প্রকাশ পেয়েছে, যাতে দান, সাহায্য ছাড়াও সম্পত্তি বিলি-বণ্টনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। এরশাদ ব্যক্তিস্বার্থ সামনে রেখে রাজনীতি করলেও ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড়ের স্তূপ করেননি। ক্ষমতালোভী স্বৈরাচারের মধ্যে তাকে দেখা যাচ্ছে বিরল ব্যতিক্রম স্বরূপ।

এরশাদ আমলে আমরা যখন কিছুটা লেখালেখি ও সাংবাদিকতা করেছি, তখন তার কাছের লোকদের বরাতে জেনেছি, তিনি পারতপক্ষে কাউকে না করতে বা ফিরিয়ে দিতে পারেন না। তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছে গেলে কার্যোদ্ধার সম্ভব, এমন একটি ভাষ্যও তখন ঢাকায় প্রচলিত ছিল। এ সুযোগে বহুজন চাকরি-বাকরি, প্লট, প্রমোশন নিয়েছেন। অনেক নারীও এরশাদের এই নমনীয়তার সুযোগ নিয়েছেন।

এরশাদ: জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে

শাসক হিসেবে এসব পক্ষপাত অবশ্যই মানবীয় দুর্বলতা ও নৈব্যক্তিকতার অভাব হিসেবে বিবেচনার যোগ্য। রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক বিষয় ব্যক্তিগত তোষামোদির মাধ্যমে বিলি-বণ্টন করা ঘোরতর অন্যায় এবং সুশাসনের বিপরীত ও স্বৈরমানসিকতার পরিচায়ক।

কিন্তু এরশাদ যখন ক্ষমতায় নেই, তখন নিজের সম্পত্তি বিলিয়ে দিলে তাকে কেউ সমালোচনা করতে পারে না। তিনি যে দিতে জানেন, দিতে চান, তা আগে ও বর্তমানে তিনি প্রমাণ করেছেন। এই এরশাদকে মানুষ অস্বীকার করবে কেমন করে?

ব্যক্তিগতভাবে এরশাদের সঙ্গে ক্ষমতাকালে ও ক্ষমতার পরে একাধিকবার আমার সাক্ষাত হয়েছে। সেটা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, বঙ্গভবন, ধানমণ্ডির কবিতা কেন্দ্র, কারও বাসা, অফিস বা কোনও বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে হলেও আমি তার নিপাট ভদ্রতা, সৌজন্যবোধ ও সম্মানজনক আচরণের চাক্ষুষ সাক্ষী। পরে যখন তিনি জানলেন, ‘সাপ্তাহিক রোববার’ -এ তাকে স্বৈরাচার বলে আমি স্বনামে নিয়মিত লিখেছি, তখনও তার আচরণের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি।

বিশ্ব বেহায়া
এরশাদকে নিয়ে কামরুল হাসানের ব্যাঙ্গচিত্র/ সংগৃহীত

 

এরশাদকে স্বৈরাচার বলে আমরা আন্দোলন করেছি, তার বিরুদ্ধে লিখেছি, পটুয়া কামরুল হাসানের বিখ্যাত ব্যাঙ্গচিত্র 'বিশ্ব বেহায়া'র পোস্টার সেঁটেছি ক্যাম্পাসের দেওয়ালে দেওয়ালে। তার মৃত্যুর পর চট করে তার সম্পর্কে বিদ্যমান ধারণা ভেঙে যায় না।

শুধু মনের মধ্যে অলক্ষ্যে একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়, 'সেই এরশাদ’ আর 'এই এরশাদ’ কি একজনই? ক্ষমতা দখলকারী এরশাদ আর রাজনীতি শেষে চিরবিদায় নিয়ে চিরদিনের মতো চলে যাওয়া এরশাদ কি একজনই? সহজেই এসব প্রশ্নের উত্তর মেলে না।

ব্যক্তি ও রাজনীতিক এরশাদের প্রকৃত তুলনামূলক মূল্যায়ন করতে পারবে ইতিহাস। ইতিহাসের সেই রায় জানার জন্য আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে মহাকালের দিকে।

ড. মাহফুজ পারভেজ: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র