Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

উপজেলা নির্বাচন এবং বিএনপির রণেভঙ্গ

উপজেলা নির্বাচন এবং বিএনপির রণেভঙ্গ
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদুল আলম


  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী মাস থেকে কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। একই সাথে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়েও ঢাকা মহানগরী নতুন করে নির্বাচনী আমেজে মেতেছে। গত ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফলের প্রেক্ষিতে বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে তারা আর কোনো নির্বাচনে যাচ্ছে না এবং তাদের ৬ জন নির্বাচিত সাংসদও শপথ নিচ্ছেন না।

এধরণের ঘোষণায় নির্বাচন নিয়ে যে উৎসাহ উদ্দীপনা থাকার কথা সেটায় স্বাভাবিকভাবেই ভাটা পড়েছে। এর ফলে অপরাপর দলসমূহ নির্বাচনে গেলেও যেহেতু মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির ভেতর তাই ক্ষমতাসীন দলকে মূলত সেরকম কোনো প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে না এবং এক কথায় তাদের মনোনীত প্রার্থীরা একতরফাভাবে বিজয়ী হয়ে স্থানীয় সরকারের নানা স্তরগুলোতে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

বিএনপির নেতাদের ঘোষণা অনুযায়ী এই নির্বাচনে না আশার সিদ্ধান্তকে নিয়ে দুটি ভাগে আলোচনা করা যেতে পারে; প্রথমত, তাদের এই সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকে কি না, এবং দ্বিতীয়ত, যদি এমন সিদ্ধান্তেই তারা অটল থাকেন তবে নিশ্চয়ই তারা সরকারকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে চান না এবং এক্ষেত্রে তারা নতুন কর্মকৌশল নিয়ে কাজ করবেন – এমনটাই ধারণা হওয়া স্বাভাবিক।

প্রথমেই আসি তাদের নির্বাচনে না আশার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায়। যতটুকু জানা যায় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত দলের সর্বস্তরে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। দলের হাইকমান্ড উদারপন্থী এবং কট্টরপন্থী এই দুইভাগে বিভক্ত। এখানে উদারপন্থী গ্রুপের অনেক সদস্য কট্টরপন্থীদের দ্বারা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রিত, কারণ এই গ্রুপের অনুসারীরা লন্ডন প্রবাসী দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুসারী বিধায় সেখানকার (লন্ডন) সিদ্ধান্তই তাদের কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত এবং এক্ষেত্রে উদারপন্থীদের কোনো মতই দলীয় ফোরামে গুরুত্ব পায় না, যদিনা সেগুলো তারেক রহমানের মতের সাথে মিলে যায়। এই অবস্থায় কিছুদিন আগে দলের উদারপন্থী হিসেবে বিবেচিত স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। 

সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাংসদদের শপথ না নেয়ার বিষয় নিয়ে দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্ত হতাশ হয়েছেন দল থেকে নির্বাচিত সাংসদগণ। তাদের বিবেচনায় বিগত নির্বাচনে একটি বিরুপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে অনেক কষ্ট করে তারা নিজেদের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। এই অবস্থায় সংসদে না গেলে জনগণের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে এবং ভবিষ্যতে তারা আবারও ভোট চাইতে গিয়ে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন। এই বিবেচনায় তারা তাদের নির্বাচনী এলাকার জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে চান না। বিষয়টি দলের উদারপন্থী গ্রুপের নেতৃবৃন্দ কর্তৃক সমর্থিত হলেও লন্ডনের সমর্থন না থাকায় এ নিয়ে একধরণের চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। ধারণা করা যায় নীতি নির্ধারনী মহল এক্ষেত্রে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হলে এটি যে কোনো সময় নেতিবাচক রূপ ধারণ করতে পারে।

একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়েও। দলের অনেক স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা নানাভাবেই নিজ এলাকায় তাদের প্রভাব রাখেন। বিগত নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাদের অনেকেই বিজয় অর্জন করেছেন। দলের এমন সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমান অনেক চেয়্যারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণে ব্যক্তিগতভাবে ইচ্ছুক হলেও দলের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজছেন অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার মাধ্যমে। ইতোমধ্যে অনেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এক্ষেত্রে দলের কেন্দ্রীয় ফোরামের মধ্যকার সিদ্ধান্তহীনতার ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছেন দলের তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। ফলে নানা উপায়ে দলের সিদ্ধান্ত না মানার একধরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, দল থেকে এধরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার নেপথ্য কারণ থাকলেও তাদের সিদ্ধান্তের স্বপক্ষ্যে তারা কোনো প্রকার দৃশ্যমান কর্মকৌশল এখন পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের উপহার দিতে পারেননি এবং অন্য কথায় দলের অবস্থান নিয়ে তৃনমূলে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এই অবস্থায় নেতাকরর্মীদের মধ্যে এখন দলীয় শৃংখলার চাইতে ব্যক্তিগত লাভালভ এবং বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার একধরণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দল কর্তৃক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন দলের সর্বস্তরের নেতাকরর্মীদের ভবিষ্যতের জন্য ভাল হলেও এই সমন্বয়হীনতার ফলে তৃনমূল পর্যায়ে শৃংখলাহীনতা দলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনছে।

ঐক্যফ্র্রন্টের ব্যানারে থেকে তারা বিগত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও ফ্রন্টের বর্তমান কর্মকাণ্ড বিএনপির রাজনীতির জন্য সহায়ক বলে মনে হচ্ছে না এবং তারা ফ্রন্টের ভেতর এবং বাইরে নিজেদের সিদ্ধান্তেই মূলত অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুজন সাংসদ দল এবং ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং ধারণা করা যায় তারা যেকোন সময় (গ্যাজেট প্রকাশের ৯০ দিন অতিক্রান্ত হবার আগে) শপথ নিয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগদান করতে পারেন। তাদের ক্ষেত্রেও বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাংসদদের মত একই উপলব্ধি কাজ করছে। তারাও তাদের নির্বাচনী এলাকার জনগণকে প্রতিনিধিত্বহীন রাখতে চান না।

বিদ্যমান অবস্থার আলোকে যে বিষয়টি বর্তমানে স্পষ্ট হয়ে গেছে তা হচ্ছে আবারও ঢাকার দুটি সিটি নির্বাচন এবং কয়েকশ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের মত আরেকটি বিশাল কর্মযজ্ঞ নির্বাচন কমিশন শুরু করেছে, যেখানে দেশের সরকারবিরোধী প্রধান দল মাঠ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। এর বিপরীতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকারের দিক থেকে কোন তাড়না না থাকার বিষয় থেকে এটুকু কারও আন্দাজ করতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে সরকারের দিক থেকে বিএনপি’র অংশগ্রহণবিহীন এই নির্বাচন অনুষ্ঠানে তেমন কোনো বড় ধরণের রাজনৈতিক বাঁধার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে কয়েকদফায় সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন যে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তাদের কিছুই করার নেই।

নিকট অতীতেও আমরা দেখেছি যে যখন দেশের বড় কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জনের মত সিদ্ধান্তে অটল থাকত তখন তা সরকারের জন্য বেশ বিব্রতকর বিষয় হয়ে দাঁড়াত এবং তারা যেকোন উপায়ে বিরোধী দলকে নির্বাচনমুখী করার জন্য চেষ্টা করত। অবস্থা দিনকে দিন এতটাই বেগতিক হয়ে দাঁড়াচ্ছে যে নির্বাচনের আমেজ এবং গুরুত্ব ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে এমন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আসলে কতটুকু গণতান্ত্রিক এবং টেকসই? আমরা যখন দেশের জন্য একটি টেকসই গণতন্ত্রের ভিত্তির স্বপ্ন দেখছি তখন প্রতিনিয়তই আমরা গণতন্ত্র থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছি বলে উপলব্ধি করছি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই অবস্থা থেকে কীভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি? আমার মনে যে সহজ উত্তরটি কাজ করে তা হচ্ছে আমাদের দেশের রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ দিনে দিনে অনেকটা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এই সংকোচন থেকে উদ্ধার করে রাজনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করা ব্যতীত অন্যকোন পথ নেই। আর রাজনৈতিক ক্রিয়াকাণ্ড প্রসারণের মূল দায়িত্ব বর্তায় দেশের ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর উপর। দলগুলো যখন যথেষ্ট রকমের ক্রিয়াশীল থাকে না তখন তাদের নির্বাচনে যাবার মত সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

সুতরাং যা দাঁড়াল তা হচ্ছে বর্তমানে বিএনপি যদি নির্বাচন বর্জন করার মত অবস্থায় এসে দাঁড়িয়ে থাকে তবে এখান থেকে দুটি বিষয় অনুমান করে নেয়া যেতে পারে; প্রথমত, তাদের ক্রিয়াশীলতার ধারাবাহিকতায় তারা নির্বাচন করার মত যথেষ্ট উপযোগীতা হারিয়ে অন্ধকারে পতিত হয়েছে, দ্বিতিয়ত, তারা এই নির্বাচন বর্জন করে আরও বৃহত্তর উপায়ে সংগঠিত হয়ে সরকার পতনের কার্যকর ক্ষেত্র প্রস্তুতের উপায় অন্বেষণ করছে। এখন কোন বিষয়টি কার কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হতে পারে সেটা পাঠকের বিবেচনার উপর ছেড়ে দিলাম। আপাততঃ আমাদের মধ্যে যে শঙ্কার বোধটুকু রয়েই গেল তা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন বিএনপি’র দলীয় অংশগ্রহণ ব্যতীত অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে – এটাই এই মুহূর্তের বাস্তবতা, এবং এই বাস্তবতায় এটাও আমার এই মূহুর্তের উপলব্ধি যে বিএনপি তাদের রণেভঙ্গ দিল।

ফরিদুল আলম: সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

বাংলাদেশ-ভারত: নাগরিকদের দূরত্ব কি বাড়ছে?

বাংলাদেশ-ভারত: নাগরিকদের দূরত্ব কি বাড়ছে?
শেখ আদনান ফাহাদ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

১৯৪৭ সালেই বর্তমান বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাঙালিদের নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মহান প্রয়াস চালিয়েছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের কয়েকজন প্রগতিশীল নেতা। কিন্তু দুই দলের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে পেরে উঠেননি তাঁরা। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, জহরলাল নেহেরু, সরদার বল্লভভাই প্যাটেল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখের ধূর্ত রাজনীতির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিলেন বাঙালির রাষ্ট্রকামী রাজনীতিবিদগণ। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের ৭৩ এবং ৭৪ নং পৃষ্ঠায় সে সময়ের ঘটনাবলীর বর্ণনা দেওয়া আছে। পূর্ববাংলার সম্পদ লুটে গড়া উঠা কলকাতা হারিয়ে বাঙালি দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সালে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা গেলে ১৯৭১ এর গণহত্যা সংঘটিত করার সুযোগই পেত না পাকিস্তানি হায়েনারা।

বাঙালি আজ দুইভাগে বিভক্ত- ভারতীয় বাঙালি আর বাংলাদেশি বাঙালি! বাঙালির একান্ত রাষ্ট্র একমাত্র বাংলাদেশ। হিন্দি আর ইংরেজির আগ্রাসনে ভারতে বাংলা আজ ধুঁকে ধুঁকে মরলেও বাংলাদেশে রাষ্ট্রের প্রধান ভাষা হিসেবে বাংলা এখানে টিকে আছে স্বমহিমায়। ইতিহাসের নানা খেলায় বাঙালি বিভক্ত হয়ে তার অতীত গৌরবের অনেকখানি হারিয়েছে। ভারতের পুরো ক্রিকেট টিমে আজ একজন বাঙালি খেলোয়াড় নেই; অদূর ভবিষ্যতে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট টিমে কোনো বাঙালি সন্তান খেলতে পারবে- এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে ১১ জন বাঙালি বিশ্ব ক্রিকেট আলোকিত করছে। বাঙালি অনেক হারিয়েও বুঝতে পারে না, কী তার ছিল আর কী তার আছে?

৪৭ এ বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা না গেলেও পরবর্তী ২৪ বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার মানুষকে প্রস্তুত করেছেন স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। আর এ যাত্রায় সাথে নিয়েছেন তৎকালীন সুপার পাওয়ার সোভিয়েত ইউনিয়ন আর প্রতিবেশী ভারতকে। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে ভারত সরাসরি যুদ্ধে জড়ালেও সীমান্ত খোলা রেখেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক চালানো গণহত্যার শুরু থেকেই। বাঙালি অধ্যুষিত আগরতলা আর কলকাতার মানুষ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। বাংলাদেশের পাশে ছিল পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী ভারত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ অর্জন করেছিল স্বাধীনতা আর ভারত পেয়েছিল এই অঞ্চলে তার একমাত্র নিরাপদ এবং বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রে তৎকালীন সামরিক বাহিনীর কিছু বখাটে কর্মকর্তার হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতি বঙ্গবন্ধুকে না হারালে, বাংলাদেশই হত বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ পথ হারিয়ে ফেলে। জাতির পিতাকে হারিয়ে বাংলাদেশ যেন মাঝিবিহীন নৌকায় পরিণত হয়। রাষ্ট্র চলে যায় সামরিক আর বেসামরিক আমলাতন্ত্রের দখলে। বাংলাদেশ মূলত উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আমল থেকে।

তবে পণ্য উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ফলে বাংলাদেশ মূলত ভারত আর চীনের নানা পণ্যের বিশাল বাজারে পরিণত হয়েছে। সিপিডির এক রিপোর্ট মতে, বাংলাদেশ হচ্ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস। বাংলাদেশে চাকুরি ও ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ হয় হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিকের। এক তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রায় অর্ধলক্ষ ভারতীয় চাকুরি করে। অথচ ভারতে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজের অনুমতি দেয়া হয় না। হাজার হাজার বাংলাদেশি ভারতের বিভিন্ন স্থানে পর্যটক হিসেবে ঘুরতে যায়; তাছাড়া মেডিক্যাল সেবা পেতে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ফলে বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি লাভজনক রাষ্ট্র। এমন একটি লাভজনক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ভারতের নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে বাঙালিদের সম্পর্ক দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে!

ফেসবুক ও ইউটিউবের দুনিয়ায় দুই পারের বাঙালিদের মধ্যে ভয়ানক কথাযুদ্ধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন সব বাজে শব্দ বলা হচ্ছে যা মুখে আনা যায় না। বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে কিছু বলা হলেই ওপার থেকে শুরু হয় পুরো বাংলাদেশকে অপমান করে নানাবিধ অশ্রাব্য বাক্যবান। অনেক ফেইক আইডি থেকেও বিতর্ক উসকে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাস না জেনেই, অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে না বুঝেই পুরো দেশকে নিয়ে অনেককে আপত্তিকর কথা বলতে দেখা যায়। ফেসবুকে আনন্দবাজার কিংবা প্রথম আলোর পেইজে ঢুকলেই দুই বাংলার মানুষের মধ্যকার কথাযুদ্ধের নমুনা পাওয়া যায়। কাশ্মীর সমস্যা হোক, কিংবা ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলা হোক কিংবা হোক সাকিব আল হাসানের উপর হওয়া কোনো নিউজ, ফেসবুকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু হয় বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে।

ইন্টারনেট পুরো বিশ্বকে এখন আমাদের ধরাছোঁয়ার আওতায় এনে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কোনো বিষয়ে নিজের মত, অমত, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ মিথস্ক্রিয়ার দুনিয়াকে করেছে ব্যস্ত। মানুষ আগের যে কোনো সময়ের চাইতে যোগাযোগপ্রবণ এবং একইসাথে প্রতিক্রিয়া-প্রবণও। অনলাইন নিউজপেপার এবং প্রিন্ট নিউজপেপারগুলোর অনলাইন ভার্সন এবং ফেসবুক পেইজে বাংলাদেশ এবং ভারতের বাঙালিদের আনাগোনা অহরহ। ইন্টারনেট এবং ভাষার শক্তিকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগাতে পারত ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালিরা। কিন্তু কাজের চেয়ে যে অকাজই বেশী হচ্ছে।

ভারত-বিদ্বেষী বাংলাদেশি আর বাংলাদেশ-বিদ্বেষী ভারতীয়রা দুই রাষ্ট্রের নাম বিকৃত করেছেন। যে গালি মুখে আনা যায় না, সেসব কথা লেখা থাকে কমেন্ট আকারে। বাংলাদেশের কেউ ভারতের কারও কথার প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় ১৯৭১ সালের রেফারেন্স দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা। ৭১ কে ভারতীয় প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদান, ৩০ লাখ মানুষের প্রাণহানি, মুক্তিবাহিনীর বীরত্ব ইত্যাদি বিষয়কে খাটো করে দেখার একটা প্রবণতা ভারতীয় বাঙালিদের মধ্যে দেখা যায়। কোনো বাংলাদেশি ভারতের দিক থেকে করা কোনো কাজের সমালোচনা করলেই ৭১ এর কথা বলে খোটা দেয়ার চেষ্টা হয়। ভারতীয়রা একাত্তরকে দেখে থাকে তাঁদের নিজস্ব প্রেক্ষিত থেকে। বাংলাদেশ যে ভারতের কত উপকারে আসে কিংবা আসছে, সেটি ফেসবুকের জগতে খুব কম ভারতীয়ই স্বীকার করেন।

বাংলাদেশিদের একটা ছোট অংশ ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আনন্দবাজারসহ নানা পত্রিকার ফেসবুক পেইজের নিউজে কমেন্ট করে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয়রা ক্ষিপ্ত হয়। ক্ষিপ্ত হওয়ার অধিকার তাঁদের আছে, কিন্তু গুটি কয়েক বাংলাদেশির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এই ভারতীয়রা পুরো বাংলাদেশ নিয়ে অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য করে। এই মন্তব্য কোনো সচেতন বাংলাদেশির পক্ষে হজম করা মুশকিল। ভারতীয়দের বড় একটা অংশ বাংলাদেশ সম্পর্কে জানেই না। তারা শুধু জানে, ১৯৭১ এ ভারত পাকিস্তানকে যুদ্ধে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে?

বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিশালত্ব, জাতি সংগঠনে আওয়ামী লীগ এর অবদান, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে দীর্ঘ সামরিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি, বিশ্ব রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর প্রভাব, বাঙালি আর্মি, নেভি ও বিমান সেনা, মুক্তিবাহিনী, মুজিববাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী কিংবা ক্র্যাক প্লাটুন এর বীরত্ব ইত্যাদি কিছুই না জেনে ৭১ কে শুধু ভারতীয় প্রেক্ষিত থেকে দেখতে অভ্যস্ত এসব ভারতীয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের সহযোগিতা আদায় করেছেন। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের যে কোনো বিশ্লেষণে প্রধান চরিত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শাহাদাত বরণ করা বীর বাঙালিরা। ৭১ প্রশ্নে ভারতীয়দের উচিত হবে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। মূলত বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর বীরত্বেই ৭১ সালে পাকিস্তানকে পরাজিত করার গৌরবের ভাগীদার হতে পেরেছিল ভারত।

বাংলাদেশকে ‘কাঙ্গালের’ দেশ বলে মন্তব্য করে কিছু ভারতীয়। বাংলাদেশ অর্থনীতিতে কোথায় চলে গেছে এবং যাচ্ছে সেটি এসব ভারতীয় বন্ধুরা জানেন না। সামাজিক উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলেছে বহু আগেই। মাথাপিছু আয়ের হিসেবেও আর কয়েক বছর পরে পেছনে পড়বে ভারত। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বহু বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন। গুগলে সার্চ করলেই সব লিংক পাওয়া যাবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ নানা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকলেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির দলিল মিলবে। ভারতীয়দের উচিত হবে সিনেমার জগতে শুধু না থেকে বাস্তবতাকে জানার চেষ্টা করা।

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, ভারতের চলচ্চিত্র জগতে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি, সংবাদ মাধ্যমগুলোতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ইত্যাদি কয়েকটি কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত-প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় একই সভ্যতা ও সংস্কৃতির দুটো প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এমন বাস্তবতা নিশ্চয় কারও কাম্য নয়।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র