Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

মাতৃভাষা

মাতৃভাষা
ছবি: বার্তা২৪.কম
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাকৃতিক ভাবেই মাতৃভাষা ও মনের ভাব প্রকাশের মধ্যে রয়েছে অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক। মনের ভাব সবচেয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে প্রকাশিত হয় মাতৃভাষাতেই।

সাধারণত কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো মাতৃভাষা। মানুষ তার কল্পনা, স্বপ্ন, চিন্তা, মনোভাব নিজের মাতৃভাষায় যতটুকু সাবলীল ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে, অন্য ভাষায় সেটা পারে না।

এক্ষেত্রে পৃথিবীতে হাতে-গোনা কয়েকটি ব্যতিক্রম আছে। যেমন কখনো দেখা গেছে, কোনো বিশ্ব বরেণ্য লেখক নিজের মাতৃভাষায় না লিখে নতুন কোনও দেশে গিয়ে সে দেশের ভাষায় লিখেছেন। অনেক ইংরেজি, স্পেনিশ ও ফরাসি ভাষার লেখক আছেন, যা তাদের মাতৃভাষা নয়। এমন উদাহরণ আট-দশটির বেশি হবে না এবং তারা নতুন দেশটিতে বহু বছর বসবাস করছেন। ফলে ভাষাটি তাদের কাছে মাতৃভাষার মতোই হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু সাধারণ ও সর্বজনীন বিবেচনায় মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন অবশ্যই মাতৃভাষা। এই ভাষা প্রাকৃতিকভাবে প্রদত্ত এবং জন্মগত। শুধু মানুষই নয়, পশু-পাখি, জন্তু-জানোয়ার ইত্যাদিও নিজের জন্মগত ভাষাতেই মনের ভাব ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। সৃষ্টি জগতে এটাই একটি চিরায়ত নিয়ম।

ভাষা প্রকাশের জন্য কতিপয় ধ্বনি বা আওয়াজ প্রয়োজন হয়। যেসব মানুষ জন্মের পর পরেই শিখে ফেলে। প্রতিটি প্রাণীই নিজস্ব ধ্বনি ও ভাষায় অভ্যস্ত এবং একে অপরের সঙ্গে পার্থক্য বুঝতে পারে প্রধানত এই ভাষার মাধ্যমেই।

ভাষা বিজ্ঞানিরা লক্ষ্য করেছেন যে, ধ্বনি-তরঙ্গ বা প্রতিটি আওয়াজেরই একটি প্রবহমানতা ও বৈচিত্র্য থাকে। ধ্বনির প্রবহমানতার ফলে এক একটি শব্দের সৃষ্টি হয়। প্রতিটি প্রাণীর মধ্যেই এই নিজস্বতা রয়েছে। এখানেই ভাষাবৈচিত্র্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

প্রাণী জগতের মধ্যে মানুষের মুখ-নিঃসৃত ধ্বনির প্রবহমানতা ও বৈচিত্র্য সীমাহীন। মানুষের আবেগ ও অনুভূতি যেমন বিচিত্র, মানব সমাজের বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে ভাষা-বিচিত্রও তেমনি অসংখ্য। এক একটি ভাষার আবেগ, অনুভূতি, হর্ষ ও বিষাদ প্রকাশের ধরণ, ভঙ্গি ও ব্যঞ্জনাও পৃথক। এই প্রকাশ সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে মাতৃভাষায়।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, দেশে দেশে, অঞ্চলে অঞ্চলে ভাষাবৈচিত্র্য বিরাজমান। একই দেশে হয়ত একাধিক ভাষা রয়েছে। প্রতিটি দেশেই রয়েছে তার অধিবাসীদের জন্য নানারূপ ভাষা। তবে জন্মের সময় যে ভাষাটি তার সংস্কৃতির অংশ থাকে এবং যে ভাষাগত সংস্কৃতির উত্তরাধিকার পূর্ব-পুরুষগণ বহন করে আনেন, সেটাই নবজাতকের মাতৃভাষা।

সাধারণ বিবেচনায় মায়ের মুখের ভাষাটিকেই সন্তানের মাতৃভাষা নামে স্বীকার করা হয়। এ ভাষাতেই নবজাতক কথা বলে। কখনো রচনা করে দুঃখজড়িত ঘটনা। কখনো বা আনন্দের বাক্যমালা। তার জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে থাকে নিজস্ব মাতৃভাষা। তার সাংস্কৃতিক পরিচিতির মতোই ভাষিক পরিচিতিও অবিচ্ছেদ্য। তার জীবনের অন্তর্গত বহুবর্ণা-রূপটি এই মাতৃভাষার মতো অন্য কোনও ভাষায় মূর্ততা পায় না।

হয়ত মাতৃভাষায় ভাব প্রকাশের জন্য কেউ কেউ উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার লাভ করে নি। নানা কারণে ভাষাগত শিক্ষার ব্যাতয় ঘটলেও মাতৃভাষা মানুষের স্বাভাবিক মনোভাব প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। মাতৃভাষায় প্রমিত বা সর্বজন মান্য কাঠামো সম্পর্কে ধারণা না পেয়েও মানুষ তার স্বাভাবিক যোগাযোগটি সম্পন্ন করতে পারে। একজন নিরক্ষর লোকের আবেগ-অনুভূতি, চাহিদা, প্রত্যাশা জ্ঞাপন করার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দুর্বলতা মাতৃভাষার মাধ্যমে অতিক্রম করা যায়।

ভাষাগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ হলে লোকটি তার বক্তব্য ও মনোভাব আরো সূচারু রূপেই উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু মাতৃভাষা তাকে জীবন পরিচালনার মতো সামর্থ্য দান করে, যাতে মানুষটি নিজের নানা বিষয় প্রকাশে সক্ষম হয়।

মোদ্দা কথায়, মনের ভাবকে সঞ্চারিত করতে মাতৃভাষা প্রধান অবলম্বন। নিজেকে জানাতে, নিজের কথা ও মনোভাব প্রকাশ করতে মাতৃভাষাই পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষের ভরসা। ফলে মাতৃভাষা সংক্রান্ত সাধারণ জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাটি যদি ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে দেওয়া যায়, তাহলে মানুষের মধ্যে মতের আদান-প্রদান সহজ ও বোধগম্য হতে বাধ্য। অতএব, যে কোনো শিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রে মাতৃভাষাগত শিক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য।

একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মনোভাব কেমন, তারা কি চায়, কি পছন্দ বা অপছন্দ করে, এই ধরনের মনোভাব যতো স্পষ্ট হবে, সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোটিও ততই তথ্যসমৃদ্ধ হয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ফলে নাগরিকদের মৌলিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার পথে সুশাসনের পূর্বশর্ত স্বরূপ মাতৃভাষার শিক্ষা ও চর্চায় নিয়োজিত করা অবশ্য কর্তব্য।

এজন্য যে কোনো শিক্ষা পরিকল্পনা ও কর্মসূচির সর্বাগ্রে মাতৃভাষা শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। এ কাজ যতদ্রুত ও সফলভাবে করা যাবে, তত তাড়াতাড়িই ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য সুসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং সমাজে ঐক্য ও সংহতি নিশ্চিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র