Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ঊন মানুষ!

ঊন মানুষ!
তুষার আবদুল্লাহ/ছবি: বার্তা২৪
তুষার আবদুল্লাহ


  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা কে শ্বেত পূজারী নই? নিত্য প্রাত্যহিক জীবনে ফর্সার পেছনে আমাদের ছুটে চলা। সাদা’র প্রতি যে শুধু রং হিসেবেই আমাদের দুর্বলতা তাই নয়। আমরা ফর্সার অধীনে থাকাতে, তাদের সঙ্গে লেপ্টে থাকতে অহংবোধ করি। এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান শুধু বাংলাদেশসহ ককেশীয়, দ্রাবিড় অঞ্চলের মানুষদেরই নয়, ভূ-গোলকের যারা যখন শ্বেত আধিপত্যের দাস ছিল, তখন থেকেই রাজার রং পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাদের মধ্যে তৈরি হয়।

আফ্রিকার অধিবাসীদের রং আমাদের মতো তামাটে নয়, কালো রং ফর্সাকারী ক্রিম মেখেও তাদের ত্বকে ফর্সার আবহ আনা সম্ভব হবে না। তবু তাদের আকাঙ্ক্ষা যদি শ্বেত প্রভুদের রঙে রাঙা হওয়া যায়! তা হয়ে ওঠা হয় না। তামাটে-কালো রংকে ফর্সা বানানোর এতো যে ভেষজ এবং রাসায়নিক মাখন এবং গুঁড়ো, উৎপাদন ও বিপণনকারীরা কি তা খামোখাই বাজারে এনে ঢালছে, শুধুই কি বিজ্ঞাপনের মোহ? মোটেও তাই নয়।

এই যে শ্বেতরা লাখ লাখ কালো কালো দাস হত্যা করল, আফ্রিকার খনিজ এলাকায় এখনো চলছে আধিপত্য, সম্পদ সরিয়ে নেয়ার জন্য যুদ্ধ সাজিয়ে রাখা, আমাদের মতো দেশ গুলো শুষে নিয়ে যাওয়া, তারপরও আমরা সকাল সন্ধ্যে তো তাদের বীরগাঁথা শোনাই আমাদের সন্তানদের। তাদের শ্বেত ঘনিষ্ঠ হবার, প্রভুর কৃপা পাওয়ার সহজপাঠ ইংরেজি মাধ্যমে নিমজ্জিত করলাম আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে। অর্থাৎ একথা প্রমাণিত যে আমাদের নিজস্ব মগজে আমরা পূর্ণ মানুষ হতে পারিনি। গোটা মানুষ তারাই যারা শ্বেত। আমরা ঊণমানুষ।

মগজে নিজেরাই যখন ঊন মানুষ হয়ে আছি, সেখানে শ্বেত প্রভুরা উদ্বিগ্ন কেন? ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী এখন আর উড়োজাহাজের শ্লোগানে নেই। সত্যিই প্রযুক্তি পৃথিবীকে এক উঠোনে এনে ফেলেছে। এক উঠোনের বাজারে চলছে ভাগাভাগির খেলা। সেখানে আলসে শ্বেতাঙ্গরা পিছিয়ে পড়েছিল। বঞ্চিত, ক্ষুধার্ত দাসদের সঙ্গে তারা পেরে উঠছিল না। আড়মোড়া ভেঙ্গে দেখতে পায় বাজার আর খাবারের থালায় শরণার্থী মানুষেরা ভিড় করেছে। ধীরে ধীরে দখলে নিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর ক্ষমতা তামাটে, কালোরা দখলে নিচ্ছে আলগোছে। তখন কি আর বসে থাকা যায়। তারা ফিরতে শুরু করলো আদি রূপে। ধর্মের নামে রঙের দোষে যে হত্যার ইতিহাস তাদের আছে, সেখানেই ফিরতে শুরু করে তারা। হিটলারের উত্তরসূরি কি কোন কালে অনুপস্থিত ছিল? ছিল কেউ দৃশ্যমান, কেউ আড়ালে।

শ্বেত সম্রাট ট্রাম্প আড়ালে থাকতে চাননি। তিনি ড্রামের বাড়ি দিলেন প্রকাশ্যে। শ্বেতরা এক হও। চলো ফিরিয়ে আনি আমাদের একজোটের আধিপত্য। প্রতিহিংসার লড়াই কখনো থামেনি। এই ড্রাম বাদ্য শুধু তুঙ্গে তুলে দিলো আরকি। কোন কোন সুপ্ত আগ্নেয়গিরিকে জাগিয়ে দিলো। প্রতিহিংসার বিপরীতে প্রতিশোধ, প্রতিরোধও চলছে। জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে বর্ণ ও ধর্ম বিদ্বেষ।

এই প্রতিহিংসারও নানা রূপ। এই রূপ গুলো গণমাধ্যমে আসছে নিজ নিজ মতলব মতো। শ্বেতদের আধিপত্য থাকা গণমাধ্যমকে আমরা পূঁজো করতে ভালোবাসি। তাই নিশ্চিন্তে তাদের প্রপাগান্ডা বিশ্বাস করে যাই। সুতরাং তারা গণহত্যাকে যেচোখে দেখাতে চায় আমরা সেই ভাবেই দেখি। প্রশ্ন, সন্দেহ তৈরি হলেও আমরা তাকে নিজের মগজে রেখে দেই। শ্বেতের সঙ্গে আড়ি নেবার ইচ্ছে নেই। সম্পর্কটা বরং আরো গাঢ় হোক, তাই তার প্রচারিত বানীতেই আমাদের অন্ধ সম্মতি। ফলে আমাদের ভূ-খণ্ডসহ বিশ্ব জুড়ে মুসলমানদের সন্ত্রাসী এবং জঙ্গী প্রমাণে তারা সফল। আর আমরা তাদের হত্যাকারীদের মানসিক বিকারগ্রস্থ বলে, দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছি।

আসলে সমস্যাটি হলো আমাদের মগজে যতক্ষণ প্রভুত্ববাদের জলছাপ থেকে যাবে, ‘দাস’ অবস্থান থেকে চিন্তায় আমাদের উত্তরণ ঘটবে না, ততদিন আমাদের গোটা মানুষ হওয়া হয়ে উঠবে না। ‘ফর্সা’র খাদেম হওয়াই আমাদের জন্মলাভের উপলক্ষ্য।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র