Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

প্রাথমিক শিক্ষার দীপ্তি, উন্নত জীবনের ভিত্তি

প্রাথমিক শিক্ষার দীপ্তি, উন্নত জীবনের ভিত্তি
মাছুম বিল্লাহ/ছবি: বার্তা২৪
মাছুম বিল্লাহ


  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের দেশের বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ে খেলাধুলার সরঞ্জাম নেই, খেলাধুলার ব্যবস্থা নেই। কোথাও থাকলেও তা থাকে আলমারীতে তালাবদ্ধ। আর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের, কোথাও অনেক ভাল ব্যবস্থা আছে, আর অধিকাংশগুলোতে খেলার মাঠই নেই। বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। এটি কোনভাবেই শিশুবান্ধব নয়, শিশু শিক্ষার্থীদের উপযোগী কোনো প্রতিষ্ঠান নয়।

এসব বিদ্যালয়ে শিশুরা যা শেখে তা আন্তর্জাতিক মানের অনেক নীচে। আমাদের দেশের ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিত বুঝে, ৭৫ শতাংশ বুঝে না। ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংল দেখেও পড়তে পারে না। প্রাথমিক শিক্ষার এই বাস্তবতায় দেশে পালিত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ।

এবার প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ পালনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘প্রাথমিক শিক্ষার দীপ্তি, উন্নত জীবনের ভিত্তি’ । প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ পালনের উদ্বোধনী দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অভিভাবকদের ভাবনা, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে যেসব বাণী উচ্চারণ করেছেন সেগুলো শিশু শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “অনেক সময় আমরা দেখি প্রতিযোগিতাটা শিশুদের মধ্যে না হলেও মায়েদের মধ্যে বা বাবা-মায়ের মধ্যে একটু বেশি হয়ে যায়। এটি কিন্তু একটু অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে আমি মনে করি। কারণ সব শিক্ষার্থীর তো সমান মেধা থাকবে না। সবাই সমানভাবে করতে পারবে না। স্বভাবতই স্বাভাবিকভারে যার যতটুকু আসবে তাকে সেভাবে সহযোগিতা করতে হবে। শিক্ষাটাকে আপন করে নিয়ে সে যেন শিখতে পারে। শিশুরা কেবল ঘরে বসে শিখবে না, দেখেও শিখবে।’

শিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তোমরা আমাদের ভবিষ্যত। নিজেদের গড়ে তুলবে, লেখাপড়ায় মনোযোগ দেবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, যার যে গুণ আছে, সেটা যাতে বিকশিত হয়”। শিশুদের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভা যেন বিকশিত হয় সে জন্য আমাদের সবার কাজ করতে হবে। আজকের শিশুরাই ভবিষ্যত কর্ণধার। হয়তো এর মধ্যে থেকেই কেউ আমার মতোই প্রধানমন্ত্রী হবে। যাদের বিশেষ চাহিদা রয়েছে তাদের শেখাতে হবে। এরাও মানুষ। একই সাথে পাশাপাশি থাকবে। তাদের দেখাশুনার দায়িত্ব যারা সুস্থ শিশু তারাই নেবে, তারাই বন্ধু হবে, তারা একসাথে পড়াশুনা করবে।

শিশুদের পড়াশুনাটা যেন খেলতে খেলতে, হাসতে হাসতে সুন্দরভাবে নিজের মতো করে নিয়ে গড়তে পারে সেই ব্যবস্থাটাই করা উচিত। সেখানে অনবরত পড় পড় বলাটা বা ধমক দেয়াটা, আরো বেশি চাপ দিয়ে শিক্ষার ওপর তাদের আগ্রহটা কমানো ও ভীতি সৃষ্টি করা কোনভাবেই ঠিক নয়।

পৃথিবীর বহু দেশে বাচ্চাদের ছয় বছর এমনকি সাত বছর বয়সে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়, কিন্তু আমাদের দেশে অনেক কম বয়সে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। আমাদের দেশে চার বছর বয়স থেকেই বাচ্চাদের স্কুলিং চলছে বহুদিন যাবত, এটিকে এখন সাড়ে তিন বছর করার প্রস্তুতি চলছে। অভিভাবকদের বিষয়টি মনে রেখে সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যে উদ্দেশে বাচ্চাদের ইসিডি (আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট) সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়, অনেক বাবা-মা-ই তা বুঝতে চান না। তারা সিলেবাস দেখতে চান, ক্লাসরুটিন দেখতে চান, বিভিন্ন ধরনের বই দেখতে চান, পরীক্ষা চান।অথচ এতটুকু শিশুর ওগুলো কোনোভাবেই প্রয়োজন নেই। চাপ প্রয়োগ করে কোনো ধরনের শিক্ষা নয়।

শিক্ষাকে আকর্ষণীয় করতে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। লেখাপড়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কঠোর শৃংখলে আবদ্ধ করা এক ধরনের মানসিক অত্যাচার যা শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বুঝতে হবে।

শিশুদের যথাযথভাবে শিক্ষা দেওয়ার স্বার্থে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া স্কুলে ভর্তি হওয়াকে শিশুদের অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, শিশুরা যাতে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। এ কথা বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়কে যাতে ফুলের বাগান সদৃশ মনে করে এবং সেখানে আনন্দ ফুর্তির মধ্যে দিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। শিশুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ধমক দিয়ে কিংবা শাস্তি প্রদান করে শেখানোর চেষ্টা করা হয়।

ফলে শিক্ষা জীবনের শুরুতেই পড়াশুনার প্রতি তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, এমনকি শিক্ষাকে তারা ভয়ের চোখে দেখতে শুরু করে। এর ফলে তাদের শিক্ষা জীবনের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। শাস্তি, রাগ ও ভয়ে শিশুর মস্তিস্কে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয় যা তার মস্তিস্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ক্ষণিকের জন্য বাধাগ্রস্ত করে। এই হরমোন তার মস্তিস্কের চিন্তাশক্তির ক্ষেত্রটিতে মেঘের মতো ছায়া ফেলে ঢেকে দেয়।

শিশুরা যখন অতিরিক্ত মানসিক দুংখ, ভয়, ক্রোধ বা মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকে, তখন অতি সাধারণ কথা বা তথ্যও তারা মনে করতে পারেনা। আরো দেখা য়ায়, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও আকৃতিতে স্থায়ী পরিবর্তন বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে বলা হয়েছে যে, শিশুরা খুবই আনন্দপ্রিয়। তারা আনন্দময় পরিবেশেই বেশি শেখে।

পক্ষান্তরে, ভীতিকর বা আনন্দহীন পরিবেশে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অনেক কম শেখে। শ্রেণিভিত্তিক যোগ্যতা অর্জনের দিক থেকে শিশুরা অনেক পিছিয়ে পড়ে। শিশুরা শিক্ষককে দেখে পরোক্ষভাবে শাস্তি বা মারামারি করা শেখে। স্বাভাবিকভাবে শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও সরাসরি শিক্ষক থেকে অনুকরণও করে।

শ্রেণিকক্ষে তারা যে আচরণ পায়, সেটা শিখে ফেলে। ঠিক একইভাবে, শাস্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শিশুরা অবচেতনভাবে শিখে ফেলে যা পরবর্তী জীবনে যখন বড় হয় তখন সে শিক্ষকের মতো শাসনের প্রক্রিয়া হিসেবে শাস্তির প্রয়োগ করে থাকে। এসব কারণে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের শিশু মনোবিজ্ঞান সম্পর্কে, শিশু শিক্ষাবিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা থাকতেই হয়। তাদের জন্য এসব বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ না পেলেও নিজেদেরকেই এগুলো শিখতে হবে।

একটি শিশু স্কুলে যাওয়ার উপযুক্ত হলে তাকে স্কুলে যেতে হবে, এটি তার জন্মগত অধিকার। অথচ শিশুকে স্কুলে পাঠানোর বয়স হলেই অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার আর শেষ থাকে না। কথিত ভালো স্কুলে সন্তানদের পড়ানোর জন্য অভিভাবকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন আর তাই এক দৃষ্টিকটু ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে যা বাচ্চাদের শেখার স্বাভাবিকতা নষ্ট করে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রথম শ্রেণিতে যদি ছাপানো প্রশ্নপত্র দিয়েই পরীক্ষা দিতে হয় তাহলে শিশু বিদ্যালয়ে গিয়ে কী শিখবে?

মাছুম বিল্লাহ: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, বর্তমানে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিকে কর্মরত সাবেক ক্যাডেট কলেজ ও রাজউক কলেজ শিক্ষক।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র