Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সড়কে মৃত্যুর মিছিল ও পরিবহন সিন্ডিকেটের শৃঙ্খল

সড়কে মৃত্যুর মিছিল ও পরিবহন সিন্ডিকেটের শৃঙ্খল
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান, ছবি: বার্তা২৪
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান


  • Font increase
  • Font Decrease

গত ১৯ মার্চ ২০১৯ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর ছাত্র আবরার রাজধানী ঢাকার নর্দ্দায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বাস চাপায় নিহত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ওঠার জন্য জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের অদক্ষ চালক তাকে চাপা দেয়। পুলিশের তথ্য মতে, শাহজাদপুরের বাঁশতলা এলাকায় এক পথচারী নারীকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর সময় বাসটি এই দুর্ঘটনা ঘটায়।

এছাড়া গত ২৯ জুলাই ২০১৮ শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া ও আর আগে গত ২১ জুলাই, ২০১৮ নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির আহত ছাত্র পায়েলকেও পানিতে নির্মমভাবে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পরিবহন শ্রমিক।

দুই

প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সবিহীন মানুষের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়া আর মানুষ খুন করার জন্য অস্ত্র তুলে দেওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। অথচ সেই কাজটিই অবলীলায় করে থাকে বেশ কিছু সিন্ডিকেটের সহায়তায় বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিকেরা। দালাল, অসাধু কর্মকর্তা, সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট মালিক-শ্রমিকের প্রভাব জেঁকে বসেছে বিআরটিএ’র ঘাড়ে।

৩০ জুন, ২০১৮ পর্যন্ত নিবন্ধিত ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬২০টি যানবাহনের বিপরীতে লাইসেন্সধারী চালক আছেন ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৬ জন। যার অর্থ দাঁড়ায় দেশের ১৬ লাখেরও বেশি চালকের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সই নেই (৯ আগস্ট ২০১৮, ভোরের কাগজ)। এ দায়ভার কার?

একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। সে কান্না একদিকে যেমন স্বজন হারানো পরিবারের তেমনি অন্যদিকে পরিবহন মালিকের। স্বাভাবিকভাবেই দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা যানবাহনটিকে ভেঙে ফেলে, পুড়িয়ে দেয়। কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয় পরিবহন মালিকের, রাষ্ট্রের। পরিবহন মালিক মানেই উচ্চবিত্ত কোটিপতি নন। বেশি সুদে ঋণ করে। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি-সম্পদ বিক্রি করে, স্ত্রী, পরিবারের স্বজনদের গহনা বিক্রি করে, বন্ধক রেখে কোটি টাকার পরিবহন রাস্তায় নামায় সংসার পরিচালনার জন্য।

অথচ প্রত্যেক দুর্ঘটনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যানবাহনটি বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মালিক সর্বস্বান্ত হন। সেই মালিকদের যেখানে অধিকমাত্রায় সচেতন থাকার কথা ছিল, তারাও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অদক্ষ একজনের হাতে গাড়ি তুলে দিয়ে নিজের জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনেন। সড়ক নিরাপদ হলে সবার আগে তো মালিক-শ্রমিকেরই লাভ। সেটা নতুন করে তাদেরকে ভাবতে হবে। অবাক করা বিষয় হলো, সারাদেশ জুড়ে পরিবহন সেক্টরের বহুমুখী ক্ষমতাশালী সিন্ডিকেটের কাছে রাষ্ট্রযন্ত্র যেন শৃঙ্খলিত বলে মনে হয়।

তিন

গত বছর নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সময় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দুইটি সংবাদ সম্মেলন থেকে বেশ কিছু অসাধারণ বিষয় উঠে এসেছে। যেমন:

(১) ঢাকা শহরের পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ৩০-৩৫ শতাংশ মাদকাসক্ত (যদিও বাস্তবে আরেও বেশি)।

(২) বাস ভাঙচুর করা ও সম্পূর্ণভাবে জ্বালিয়ে দেওয়ার ভয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে মালিকরা গাড়ি নামাতে নিষেধ করেন।

(৩) বাস মালিকেরা পরিবহন শ্রমিকদের কাছে একরকম জিম্মি।

(৪) বেশ কিছু মালিক পরিবহন শ্রমিকদের চুক্তিতে বাস চালাতে দেওয়ায় বেশি মুনাফার জন্য বাসগুলো সড়কে রেষারেষির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় (০৪ আগস্ট ২০১৮, প্রথম আলো)।

(৫) সড়ক পরিবহন আইনকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে মান্য করা ।

(৬) যে কোম্পানি চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো বন্ধ করবে না কিংবা আইন মানবে না সমিতির আওতায় হলে তার লাইসেন্স বাতিল করার জন্য সমিতি সুপারিশসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।

(৭) প্রতিটি বাস টার্মিনালে গাড়ি ফিটনেস সনদ, চালকের লাইসেন্স সমিতি অব্যাহত অভিযানের মাধ্যমে চেক করবে এবং কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে তাকে চলতে দেওয়া হবে না।

(৮) চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো বন্ধ করতে সড়কের পাশে টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থা রাখার জন্য সিটি করপোরেশনকে আহ্বান জানাবে (৮ আগস্ট ২০১৮, ভোরের কাগজ।)।

এগুলোর কোনোটিরই তারা নিজেরা বাস্তবায়ন করেছে বলে মনে হয় না।

চার

এখানে বেশ কিছু বিষয় ভেবে দেখা দরকার। যেমন:

(ক) অনেক দুর্নাম নিয়ে পরিচালিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কে সময়ের প্রয়োজনে গঠনমূলকভাবে আমূল পরিবর্তন করা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া জরুরি।

(খ) যানবাহনগুলোতে অতিরিক্ত যে ভাড়া আদায় করা হয় তা বন্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা ও তার সঠিক বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি।

(গ) গাড়ির চালক নির্বাচনে পরিবহন মালিককে অধিকমাত্রায় সচেতন হতে হবে।

(ঘ) বয়স্ক নাগরিক ও প্রতিবন্ধী জনগণকে সম্পূর্ণ ফ্রি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সারা বাংলাদেশে অর্ধেক ভাড়া নির্ধারণ করা জরুরি ।

(ঙ) পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকের সমন্বয়ে ‘বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ টিম’ ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় শহর এবং হাইওয়েগুলোতে কাজ করলে অনেক উপকার হবে।

(চ) সড়কের পাশে পথচারীদের জন্য দখলমুক্ত, পার্কিংমুক্ত উন্মুক্ত ফুটপাত দরকার।

(ছ) সড়কের ব্রিজগুলোতে টোল আদায়ের বিকল্প সম্মানজনক পথ বের করা জরুরি।

(জ) পথে পথে পরিবহনে চাঁদাবাজি, যাত্রী হয়রানি বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

(ঝ) চালকসহ অন্যান্য শ্রমিকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করাসহ পর্যাপ্ত বিশ্রামের মানবিক ব্যবস্থা করা এবং দূরপাল্লার যাত্রায় অবশ্যই দুইজন চালক রাখা দরকার।

চোখ বন্ধ করলে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক ছাড়া যানজট ও সড়ক পথের দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে আর তেমন কাউকে সরব হতে দেখা যায়নি কখনো। পারস্পরিক দোষারোপ না করে পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং যাত্রী হিসাবে জনগণকে নিজেদের ভুল-ক্রটি সম্পর্কে অবগত ও সচেতন হতে হবে।

অনেক সময় পরিবহন শ্রমিকও ‘ট্রাফিক সিগনাল’ এবং সড়ক আইন মান্য করে না । মান্য করলে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হওয়ার সময় আবরারকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হত না। ভুক্তভোগী পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া; নিরাপদ সড়ক, পরিবহন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা; সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা এবং সকলকে তা বাধ্যতামূলকভাবে মান্য করা সময়ের দাবি।

মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান: পি.এইচ.ডি গবেষক, ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি, চীন এবং শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বশেমুরবিপ্রবি, গোপালগঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র