Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

এমন ডাকসু কি আমরা চেয়েছিলাম?

এমন ডাকসু কি আমরা চেয়েছিলাম?
প্রভাষ আমিন/ ছবি: বার্তা২৪.কম
প্রভাষ আমিন


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় ২৯ বছর পর গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও ১৮টি হল সংসদ নির্বাচন। গোটা জাতির বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর প্রত্যাশা হতাশায় পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের পর চারদিকে একটা গেল গেল রব উঠেছে। অনেকেই বলছেন, এই ডাকসু আমরা চাইনি। এমন নির্বাচন হওয়ার চেয়ে না হওয়াই ভালো ছিল।

অনেকে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রের পরিচয় দিতেও লজ্জা পাচ্ছিলেন। অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলঙ্কগাঁথা লেখার জন্য যোগ্য কালি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশ তো বটেই পাকিস্তান আমলেও এত খারাপ নির্বাচন হয়নি। গণতন্ত্রের কফিনে নাকি শেষ পেরেক এই ডাকসু নির্বাচন। এমনকি অপরাজেয় বাংলাকে নিয়ে অশালীন কার্টুনও হয়েছে।

আমি নিজেও ‘জাতীয় নির্বাচনের ভূত ডাকসুতে?’ শিরোনামে লিখেছি। ডাকসু নির্বাচনে এমনিতে পর্যবেক্ষণের রেওয়াজ নেই। তবু বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা তাদের রিপোর্টে বলেছেন, নির্বাচন সর্বাঙ্গীন সুন্দর হয়নি। আমি তাদের এই পর্যবেক্ষণের সাথে পুরোপুরি একমত। ডাকসুর কাছে যে প্রত্যাশা, সেই মানের নির্বাচন হয়নি। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করলেও গণভবনে গিয়ে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, 'এই নির্বাচনে অনিয়ম ত্রুটি চোখে পড়েছে। সামনের নির্বাচনে যেন অনিয়ম ত্রুটি চোখে না পড়ে।

১০০ ভাগ পিউরিটি সব কাজে পাওয়া যায় না। কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকবেই। সেটা ধরে নিয়েই আমরা আগাই।' আমি তার কথার সাথেও একমত। ডাকসু নির্বাচন সর্বাঙ্গীন সুন্দর হয়নি, অনেক অনিয়ম-ত্রুটি ছিল; এটাই এখন বাস্তবতা। ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে একটি কমিটি হয়েছে। কমিটি যে রিপোর্টই দিক, ডাকসু নির্বাচন ভালো হয়নি, এ ধারনা বদলানোর কোনো সুযোগ নেই।

সর্বাঙ্গীন সুন্দর হয়নি, এটা ঠিক। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যেমন গেল গেল রব উঠেছে, নির্বাচন কি সত্যিই ততটা খারাপ হয়েছে? কুয়েত-মৈত্রী হলে যে ঘটেছে তাতে আমি জাতীয় নির্বাচনের ভুত দেখেছি। সেখানেও আগের রাতে ভোট দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটা স্বীকার করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে প্রভোস্টকে অপসারণ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি হয়েছে। তিন ঘণ্টা পর নতুন প্রভোস্টের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। পরের ভোট নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই।

শামসুন্নাহার হলের ছাত্রীরা রাত জেগে হল পাহাড়া দিয়েছেন। সেখানে ভোট নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও সতর্ক ছিলেন। সেখানে অভিযোগ করা হলেও পরে দেখা গেছে অভিযোগ ঠিক নয়। যা যা অভিযোগ। সব তো তাৎক্ষণিকভাবে মেটানো হয়েছে। আর কী অভিযোগ? এই প্রশ্ন আমি পুনর্নির্বাচনের দাবির প্রতি সংহতি জানানো ভিপি নুরুল হক নুরকেও করেছিলাম। আরো অনেককেই করেছি।

সব মিলিয়ে এর বাইরে মূল অভিযোগ ছেলেদের হলে ভোটারদের লাইনে জ্যাম লাগিয়ে রাখা, ভোটের গতি শ্লথ করে দেয়া। হতে পারে এটা ছাত্রলীগের একটা অপকৌশল। কিন্তু মেয়েরা যদি বিক্ষোভ করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভোস্ট বদলে ফেলতে পারে, ছেলেরা কেন লাইন ঠিক করতে পারলো না? এখন যারা পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছেন, তারা সেদিন লাইন ঠিক করতে পারলেন না কেন? কেন নেতারা হলের অনিয়ম প্রতিরোধ না করে নির্বাচন বর্জন করতে মধুর ক্যান্টিনে ছুটে এলেন কেন?

এসব প্রশ্নের উত্তরে অনেকে বলছেন, ছাত্রলীগের ভয়ে। ছাত্রলীগ নির্বাচনের দিন যতটা ভয়ঙ্কর ছিল, এখনও তো ততটাই আছে। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে এখন যে আন্দোলন করছেন, ছাত্রলীগের সভাপতিকে মুখের ওপর সন্ত্রাসী বলে দিচ্ছেন; এই সাহসটা নির্বাচনের দিন দেখালে হয়তো এখন আন্দোলন করতে হতো না। নাকি নির্বাচন বর্জন, আন্দোলন, আর নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে; এটা প্রমাণ করাই আপনাদের পূর্বনির্ধারিত মূল উদ্দেশ্য।

জাতীয় নির্বাচন খুব খারাপ হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন আরও খারাপ হয়েছে, উপজেলা নির্বাচন তো প্রহসন হচ্ছে। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন কি সেগুলোর সাথে এক পাল্লায় মাপার মত খারাপ হয়েছে? যারা নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে লজ্জা পাচ্ছেন, তারা একটু ভেবে দেখবেন। আচ্ছা সর্বাঙ্গীন সুন্দর নির্বাচন হলে কোটা আন্দোলনের প্যানেল ছাড়া আর কার কার জেতার সম্ভাবনা ছিল? ভোটের হিসাব কী বলে?

বিপ্লবীরা ভাই ও বোনেরা, পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছেন, ভালো কথা। আপনাদের আন্দোলন করার, প্রতিবাদ জানানোর উপর আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা। কিন্তু আন্দোলন যদি আপনাদের শোচনীয় পরাজয়ের লজ্জা ঢাকার জন্য হয়, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু আন্দোলন শেষ করে রাতে গিয়ে ভাবুন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আপনাদের এত দূরত্ব কেন? কেন তারা আপনাদের ভোট না দিয়ে কোটা আন্দোলনের নেতাদের দিল?

নির্বাচন ততটা লজ্জাজনক না হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের আচরণ সত্যি লজ্জাজনক ছিল। এরশাদ পতনের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্য থাকে। ছাত্ররাজনীতির এই অনুপস্থিতি পুষিয়ে দিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা এখন ছাত্রদের চেয়ে বেশি বিভক্ত, বেশি দলীয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দেশের সবচেয়ে মেধাবী, সবচেয়ে অগ্রসর, সবচেয়ে শ্রদ্ধেয়। তাদের কাছ থেকে আমরা নৈতিকতার উচ্চমান আশা করি। কিন্তু এবারের ডাকসু নির্বাচনে শ্রদ্ধার সে আসন টলে গেছে। অনেক শিক্ষার্থীই বলছেন, এই শিক্ষকদের তারা আর শ্রদ্ধা করতে পারবেন না। ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষকরাই নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা নির্বাচনটা সর্বাঙ্গীন সুন্দর করতে পারলেন না কেন?

কেন ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম-ত্রুটি সবার চোখে ধরা পড়লো? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তো আর মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তা নন, যে পুলিশের থমকেই ব্যালট পেপার দিয়ে দেবেন। শিক্ষকরা বাধা দিলে, চেষ্টা করলে একটা সর্বাঙ্গীন সুন্দর নির্বাচন করা অসম্ভব ছিল না। কিন্তু সেটা তারা করতে পারেননি বা করেননি। কেন পারেননি বা করেননি? এই প্রশ্নের দুটি উত্তর হতে পারে, ছাত্রলীগের ভয়ে বা দলীয় আনুগত্যের কারণে। আমার ধারনা দ্বিতীয়টি সত্যি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকেই রাব্বানীর চেয়ে বড় ছাত্রলীগ, শেখ হাসিনার চেয়ে বড় আওয়মী লীগ। অনিয়ম যা হয়েছে, সেগুলো শিক্ষকরা নিজ দায়িত্বেই করেছেন, কেউ তাদের বাধ্য করেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যুগ যুগ ধরে নীল, সাদা, গোলাপী রঙে বিভক্ত। তবে এখন দলীয় আনুগত্যটা তাদের নৈতিকতা, ন্যায্যতা জ্ঞানকেও গ্রাস করে নিচ্ছে; সেটাই শঙ্কার।

আটজন শিক্ষক নিজের বিবেকের তাড়নায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সবারই সেটা করা উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যদি আদর্শিক কারণে দলের প্রতি ভালোবাসা সত্ত্বে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতেন; তাহলে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এমন ছি ছিক্কার পড়ে যেতো না। সৎসাহস থাকলে শিক্ষকরা বলতে পারতেন, আমরা নির্বাচন পরিচালনা করেছি।

আমরা জানি নির্বাচন বাতিল করে দেওয়ার মতো খারাপ হয়নি। কিন্তু সেটা তারা পারেননি। বরং সেই আট শিক্ষক সারাদিন ঘুরে সততার সাথে নিজেরা যা দেখেছেন, তাই তুলে ধরেছেন। তারা অনেকের মত ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপও বলেননি, ভালোও বলেননি। তারা বলেছেন, সর্বাঙ্গীন সুন্দর হয়নি। এটাই ডাকসু নির্বাচনের সঠিক মূল্যায়ন। সেই আট শিক্ষকও নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। অনিয়মের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে বিনষ্ট করেছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তারা।

আমি ভেবেছিলাম এই আট শিক্ষকের দায়িত্বশীলতা, সততা, সাহসকে ঢাল করে বাকি শিক্ষকরা এবার পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু আমি বিস্ময়ের সাথে দেখলাম, ঘটনা ঘটেছে উল্টো। গত সোমবার অনুষ্ঠিত প্রাধ্যক্ষদের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ এনে এই আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রভোস্টদের চোখে সেই আট শিক্ষকের তৎপরতাকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নিন্দনীয়' বলে অভিহিত করেছেন। এবার লজ্জায় আমাদের মাখা হেট হওয়ার জোগার। তার মানে প্রভোস্টরা কি দাবি করছেন, নির্বাচন সর্বাঙ্গীন সুন্দর হয়েছে? এরপর এই শিক্ষকেরা কিভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্মান আর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শ্রদ্ধা আশা করবেন।

প্রায় ২৯ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচন সর্বাঙ্গীন সুন্দর হয়নি। শিক্ষকরা চাইলে আরও ভালো নির্বাচন হতে পারতো। তবু আমি ডাকসু আবার সচল হচ্ছে, এটাকেই আমি প্রাপ্তি বলে মানি। আমিও ডাকসুর ভিপি নুরের মত সামনে আগাতে চাই। দুইটা দাবি, ডাকসু নির্বাচন যেন নিয়মিত হয় এবং আগামী নির্বাচন যেন সর্বাঙ্গীন সুন্দর হয়।

শনিবার বসছে ডাকসুর প্রথম বৈঠক। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আকাঙক্ষাকে ধারন করে পুরনো আবর্জনা ফেলে, সব গ্লানি মুছে ডাকসু শুরু করুক নতুন যাত্রা। আর যেন জোর করে মিছিলে নেওয়া, গেস্টরুমে নির্যাতনের অভিযোগ শুনতে না হয়। ডাকসুর জন্য শুভকামনা

প্রভাষ আমিন:হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।

আপনার মতামত লিখুন :

শিক্ষায় শিশুশিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান

শিক্ষায় শিশুশিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান
মুত্তাকিন হাসান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাধারণ অর্থে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনই শিক্ষা। ব্যাপক অর্থে ব্যক্তির গুণাবলীর পূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে পদ্ধতিগতভাবে জ্ঞান লাভের প্রক্রিয়াকে শিক্ষা বলে। বাংলায় শিক্ষা শব্দটি এসেছে ‘শাস’ ধাতু থেকে যার অর্থ শাসন করা বা উপদেশ দেওয়া। শিক্ষার ইংরেজি প্রতিশব্দ education; যা এসেছে ল্যাটিন শব্দ educare বা educatum যার অর্থ হলো to lead out অর্থাৎ ভেতরের সম্ভাবনাকে বাহিরে বের করে আনা বা বিকশিত করা।

শিক্ষা মানুষের মনকে আলোকিত করে, উম্মোচিত করে নতুন নতুন জানালা। আর তাই শিক্ষার কোনো শেষ নেই। শিক্ষা শুরুর পথটা শিশুশিক্ষা দিয়েই, আর তাই বলা হয় আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই ভবিষৎকে শুরু থেকেই সঠিকভাবে লালন-পালন না করলে কোনো কিছুই প্রত্যাশা করা যায় না।

শিশুশিক্ষার হাতেখড়ি পারিবারিকভাবে পিতামাতার মাধ্যমে হলেও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের যে পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হয়, তা শিশুদের বেলায় বাঞ্ছনীয় নয়। শিশুদের জন্য দরকার শিশুবান্ধব মানসম্মত শিক্ষা।

মানসম্মত শিশুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন শিশুর মনোজগত বোঝা। একটি বেসরকারি জরিপে দেখা গেছে, আমাদের দেশের শতকরা ৭০ ভাগের বেশি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শিশুমনোবিজ্ঞান সম্পর্কে কোনো ধারণা বা জ্ঞান নেই। শিশুর মন না বুঝে ভয়ভীতি দিয়ে শিক্ষাদান করা শুধু তোতা পাখি বানানো ছাড়া আর কিছু নয়। শিশুশিক্ষা বা প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষকদের অবশ্যই শিক্ষকদের মনোজগত সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের বর্তমান বেশিরভাগ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিক না হয়ে, নিজেরা শিক্ষা বাণিজ্যে মত্ত থাকেন। ক্ষণে ক্ষণে শিক্ষার্থীর বাবা-মার সাথে শিক্ষকদের পরম আলাপচারিতা মানেই মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নয়। শিশুশিক্ষায় শিশুদের মনের বিকাশে মনোবিজ্ঞানের ক্ষীণ প্রভাবের কারণেই শিশুরা জীবনের শুরুতেই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

বিদ্যমান শিক্ষার পরিবেশ তাদের মেধা বিকাশের অন্তরায়। শিক্ষক আর অভিভাবকের কড়া নিয়মশাসনে ভালো পড়তে বা লিখতে পারছে ঠিকই তবে চিন্তাশীল বা উদ্ভাবনী হয়ে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে। আসলে তাদের এ শিক্ষা মানব বিকাশে সহায়ক নয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো- পরিপূর্ণ মানবিক গুণে মানুষ হয়ে উঠা। পিতামাতা তার সন্তানকে দিয়ে ভালো রেজাল্ট করাচ্ছে ঠিকই কিন্তু সত্যিকারের শিক্ষিত হয়ে উঠছে না। শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের যথোপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তারা বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে করে টালমাটাল হচ্ছে পুরো সমাজ।

বিখ্যাত কবি মিল্টন বলেছেন- Education is the harmonious development of body, mind and soul…শিক্ষকরা যেহেতু প্রকৃত অভিভাবক এবং শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান প্রদান করে থাকেন, তাই শিক্ষকদের হতে হবে প্রকৃত মানুষ। শিক্ষদের নিজেদের মধ্যেই যদি মানবিক গুণাবলীর ঘাটতি থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীর মনে কখনোই মানবিক গুণাবলী জাগ্রত হবে না।

শিক্ষাদানের জন্য বিদ্যালয়ের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যত উপকরণই ব্যবহার করা হোক না কেন শিক্ষকরা নিজেরাই সবচেয়ে বড় উপকরণ। শিক্ষাকে পেশার পাশাপাশি সেবা হিসেবে গ্রহণ করতে পারলেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে উঠবে নিবিড়, সৌহার্দ ও স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক। কোমলমতি শিশুদের বকাঝকা না করে সকল শিক্ষকদের উচিত সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করা। হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা যেন প্রত্যেক শিক্ষার্থীই প্রথম স্থান অর্জন করবে। শিশুদের পাশাপাশি যেন পিতামাতারাও এমন প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে জ্ঞান বিকাশের প্রথম স্তর মাত্র। তাদের জন্য আরও বহু পথ বাকি।

শিক্ষক আর পিতামাতার চাপে শিশুরা যেন দিশেহারা। ভোরবেলায় চোখ কচলাতে কচলাতে ঘুম থেকে উঠা, বিদ্যালয় থেকে ফিরে যতটুকু সময় তাতে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয় শ্রেণীতে দেওয়া পড়ালেখা নিয়ে। শিশুরা তাদের চিন্তা চেতনা প্রকাশ করার কোন সুযোগই পাচ্ছে না। গ্রামের শিশুদের চেয়ে শহরের শিশুদের বেলায় এ অবস্থা বেশি পরিলক্ষিত হয়। কারণ শহরের বিদ্যালয়ে নেই খেলার উন্মুক্ত মাঠ। অথচ খোলামেলা মাঠ শিশুদের মনোবিকাশের অন্যতম উপাদান। শিশুরা দুরন্ত হরিণের মতো খেলাধুলা করবে এটাই স্বাভাবিক।

বিখ্যাত সাহিত্যিক আবুল ফজল বলেছেন ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতির প্রাণশক্তি তৈরির কারখানা আর রাষ্ট্র ও সমাজ সব চাহিদার সরবরাহ কেন্দ্র। এখানে ত্রুটি ঘটলে দুর্বল আর পঙ্গু না করে ছাড়বে না।’ যে স্থানেই হোক না কেন আমাদের উচিত শিক্ষার সঠিক সংজ্ঞার প্রতি খেয়াল রাখা। নচেৎ পুরো সমাজকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে এবং যার প্রভাব সুদূরপ্রসারি। শিশুশিক্ষার বর্তমান ধারা সংশোধন করে মনোবিজ্ঞান ভিত্তিক পড়ালেখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য শিশু-মনোবিজ্ঞান বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিক্ষকদের পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু ভালো পড়ালেখার আশায় পিতামাতারা তাদের শিশু সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে ইচ্ছুক বেশি, তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে শিক্ষকদের বড় একটি অংশ উচ্চ-মাধ্যমিকের বেশি পড়ালেখা করেননি এবং তাদের বেশিরভাগের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। যাদের প্রশিক্ষণ আছে তা আবার স্বল্পকালীন। সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষকদের মনেও নেই কোনো আনন্দ, তারা যেন কোনোমতে নিজেদেরকে ঠেলা দিয়ে চালাচ্ছে। শিক্ষকরা নিজেরাই নিজেদের মনোবিকাশে ব্যর্থ। শিশু শিক্ষার্থীর মনোবিকাশ এখানে বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়।

মুত্তাকিন হাসান: কবি, প্রাবন্ধিক ও মানব সম্পদ পেশাজীবী

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, পুরনো ছবি

৮৯ বছরের এক বিশাল কর্মজীবন পেছনে ফেলে সব আলোচনা-সমালোচনার ওপারে চলে গেছেন এরশাদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরশাদ একাই একটি অধ্যায়। এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) হয়তো আরও বহুদিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়েই থাকবে, তবে এরশাদবিহীন জাপা ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে বলেই মনে হয়।

তার দীর্ঘ পেশাগত ও রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য তিনি দলকেও ছাড়িয়ে গেছেন বহুমাত্রায়। তার অনুপস্থিতিতে জাপা হয়তো এখন সেটিই অনুভব করবে। ক্ষমতার সিঁড়ির কাছাকাছি যেতে এরশাদের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিপরীতে একটি শক্ত প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবেও তার জুড়ি নেই। তাই জাপার মতো একটি সমর্থক শক্তি রাজনীতিতে প্রয়োজন ছিল বৈকি। অপর দলের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় এরশাদবিহীন জাপা আগামীতে কতটা শক্তি জোগাতে পারে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে পার্টির গুরুত্ব থাকা না থাকা নির্ভর করে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ওপর। দলের ভেতরে সামরিক বেসামরিক ক্যারিয়ারিস্ট নির্বিশেষে এরশাদের মতো হাই-প্রোফাইল রাজনীতিক আর নেই। এক সময় জাপা করেছেন দেশের অনেক হাই প্রোফাইল রাজনীতিক। মিজানুর রহমান চৌধুরী, কাজী জাফর, শাহ মোয়াজ্জেম, মওদুদ আহমেদসহ দেশের প্রথিতযশা অনেক রাজনীতিকরা এরশাদের জাপাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা বামপন্থী রাজনীতি থেকে এসেছেন। ডিগবাজীর এই রাজনীতি শুরু হয় জিয়ার আমলে। সামরিক, বেসামরিক আমলা ও পেশাজীবীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেন জিয়া।

এরশাদও একই কায়দায় সামরিক-বেসামরিক আমলা, পেশাজীবীদের দলে ভেড়ান। কিন্তু ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ার পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তাদের বেশির ভাগই আজ আর জাপায় নেই। যেমন নেই বিএনপিতে। সময় বুঝে আজ জিয়ার উপদেষ্টা, কাল এরশাদের উপদেষ্টা বা মন্ত্রী হয়েছেন অনেকে। নগদ ইনামের আশায় এরকম রাজপন্ডিতের (উপদেষ্টা) নজির আজও বিরল নয়। ক্ষমতার লোভে যারা ডিগবাজী দিয়ে জাপায় এসেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে তারাই সবার আগে উল্টো ডিগবাজী দিয়েছেন। কেউ বা মৃত্যৃ বরণ করেছেন, অবসর নিয়েছেন। ফলে জাপায় আজ ক্যারিয়ার পলিটিশিয়ান যাকে বলে সে রকম কেউ নেই বললেই চলে। ক্যারিশম্যার কথা বাদই দিলাম। ফলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বই জাপার জন্য আজ বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার রাজনীতিতে একইভাবে দলের গুরুত্ব বহাল রাখা।

Ershad
১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এরশাদকে নিয়ে আলোচনা আছে, আছে সমালোচনা। কোনোটাই ভিত্তিহীন নয়। তিনি একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেছেন। বিদ্যমান দলগুলোর অদূরদর্শীতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে নিজেই ৯ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেছেন। সব সামরিক শাসক যা করেন এরশাদও তাই করেছেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি করেছেন, এরশাদ করেছেন জাতীয় পার্টি। নয় বছর ক্ষমতায় থেকে বিদায় নিয়েছেন সত্য, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে এরশাদের গুরুত্ব কমেনি মোটেও। বরং ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজের পাল্লা ভারি করতে এরশাদের বিকল্প শুধুই এরশাদ। আগামী দিনের ক্ষমতার রাজনীতিতে জাপা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারবে কিনা জাপা’র জন্য আপাতত এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য অন্তত আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে ‘ক্ষমতা’, ‘রাজনীতি’ ও ‘কৌশলের’ সঙ্গে ভোটের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর বিষয়টি অনেকাংশেই নির্ভর করে। এ সম্পর্ক যেভাবে শিথীলতার দিকে যাচ্ছে তাতে তৃতীয় কোনো সহায়ক শক্তির রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাও হয়তো ফুরিয়ে যাবে। তবে সে রাজনীতি আমাদের হিসাবের বাইরে। আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি, এরশাদ জাপায় যেমন অপরিহার্য ছিলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতেও ছিলেন একই রকম অপরিহার্য।

Ershad
একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য। এই উপমহাদেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলই বেশি বিকাশ লাভ করেছে। ভারতে যেমন কংগ্রেস, পাকিস্তানে মুসলিম লীগ, পিপলস পার্টি, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা। ভারতের বিজেপি অথবা বাংলাদেশের জামায়াত একটি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ চর্চা করে। কাজেই প্রচলিত রাজনীতি থেকে তাদের রাজনীতি ভিন্ন, নেতৃত্বের বিষয়টিও ব্যক্তি বা পরিবার নির্ভর নয়। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যদিও ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বিকাশ লাভ করেছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দলের প্রয়োজনেই বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতেই দলের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়। সেই থেকে প্রায় চার দশক আওয়ামী লীগও ব্যক্তি কেন্দ্রিক দলীয় রাজনীতির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

দলের ভবিষ্যৎ পারিবারিক সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর বিএনপি ও জাপার শুরুই হয়েছে একজন ব্যক্তি বিশেষের রাজনৈতিক খায়েস মেটানোর জন্য। জিয়া ও এরশাদ যদি ধরেও নিই যে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ক্ষমতা দখল করেছেন (ডকট্রিন অব নেসিসিটি), না হলে দেশ গোল্লায় যেতো ইত্যাদি, ইত্যাদি... তারপরও বাস্তবতা হলো তারা কেউ দেশের সেই কথিত ক্রান্তিলগ্ন পার হওয়ার পর ব্যারাকে ফিরে যাননি। গদি আঁকড়ে ধরে থেকেছেন। জিয়া নিহত হওয়ার পর বিচারপতি সাত্তার ও পরে খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন। সেই থেকে আজও ব্যক্তি ও পারিবারিক দখলমুক্ত হতে পারেনি বিএনপি।

একই কায়দায় এরশাদ নয় বছর ক্ষমতায় থাকার পরও জাপা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তি এরশাদ থেকে জাতীয় পার্টি মুক্ত হতে পারেনি চার দশকেও। পতিত সামরিক ও স্বৈরশাসকরা ‘মরিবার পূর্বে মরিতে চান না’। তাই নিরাপদ ও স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করতেই তারা দলের সভাপতি বা উপদেষ্টার পদ আজীবন আঁকড়ে থাকেন। এরশাদের হয়তো এক্সিটওয়ে ছিল, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে তার প্রয়োজন ছিল এবং তিনিও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তা উপভোগ করে গেছেন। ক্ষমতার প্রতিটি কোনায়ই তিনি বিচরণ করেছেন।

সেনাপ্রধান, সিএমএলএ, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিরোধী দলের নেতা সব ক্ষেত্রেই তার সরব উপস্থিতি আমরা দেখি। সবকিছু যে তার প্রয়োজন ও ইচ্ছায় হয়েছে হয়তো সেরকমটি নয়। অনেকটা রাজনীতি ও ‘ক্ষমতা’র প্রয়োজনেই তার এই এদিক ওদিক, কখনো নিজের কখনো অপরের প্রয়োজনে। এখানেই এরশাদের অপরিহার্যতা। আর এজন্যই আমরা তাকে বলি ‘রাজনীতির দুষ্টু বালক’।

Ershad

সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংসদ টিভি 

 

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের তিনটি বড় দলের মধ্যে জাপা আপাত একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব থেকে মুক্ত হলো বটে। কিন্তু ব্যক্তি কেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে নতুন করে পরিবারভূক্ত হলো বলেই মনে হচ্ছে। এতে আপতত হয়তো জাপা প্রাথমিক ধাক্কাটি সামলাতে পারবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পার্টির নিয়তি নির্ধারণে তা কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে তা সময়ই বলবে।

এরশাদের সমালোচনা আছে অনেক। কিন্তু নির্মোহ দৃষ্টিতে বললে এ সমালোচনা থেকে সবাই-ই কি মুক্ত? রাজনীতিতে এরশাদ একটি সিনড্রোম। এ সিনড্রোমে সব রাজনৈতিক দলই আক্রান্ত। এমনকি নাগরিক হিসেবে আমরাও কি সুবিধাবাদী নই? এরশাদ আমাদের সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী, ভোগবিলাসী ও ডিগবাজীর রাজনীতির আইকন। কিন্তু এরশাদ সিনড্রোম কি আমাদের মাঝেও নেই? এরশাদকে গালি দেওয়া সহজ, কারণ তিনি ক্ষমতাহীন এক ‘দুষ্টু বালক’। এরশাদের বিদায়ের পর রাজনীতিতে হয়তো সহসা সমালোচনা করার মতো লোকটি বিদায় নিলেন। কিন্তু তাতে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে কি? এরশাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ভাড়ামি হয়তো কিছুটা কমবে, কিন্তু রাজনৈতিক দুষ্টামি বন্ধ হবে কি?

এরশাদুল আলম প্রিন্স: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র