Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে করার আছে অনেক কিছু

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে করার আছে অনেক কিছু
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান/ছবি: বার্তা২৪
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান


  • Font increase
  • Font Decrease

বারবার জীবন্ত মানুষের আগুনে পুড়ে অঙ্গার হওয়া, কুণ্ডলী পাকানো কালো ধোঁয়া, প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া বা না থাকা এবং জীবন বাঁচানোর রুদ্ধশ্বাস প্রচেষ্টা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। তবে, উৎসুক জনতা ভিড় সৃষ্টি করে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা অপ্রত্যাশিত এবং অমানবিক। যদিও কিছু মানুষের (শিশুসহ) সহযোগিতা মানুষের হৃদয়ে মানবতাবোধ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষের আনাগোনা যে ভবনে সেখানে অগ্নি নিরাপত্তা ও জরুরি বহির্গমনের পথ ছিল না এটি মেনে নেওয়া কষ্টকর। রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে লোভী, স্বার্থপর, নিষ্ঠুর কিছু মানুষের কারণে রাষ্ট্রকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয় বারবার।

দুই.

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলী ট্র্যাজেডিতে ১১৯ জন মানুষ আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করেন। শত শত মানুষ অগ্নিদগ্ধ হন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে পুরান ঢাকার চকবাজারে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের ব্যাপারে বহুমত থাকলেও বিস্তৃতির ব্যাপারে প্লাস্টিক, সুগন্ধি, রং জাতীয় দ্রব্যসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদির ভূমিকা সবাই স্বীকার করেছেন।

তিন.

অপরিকল্পিত নগরায়ন, ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অকেজো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পাশকৃত নকশা অনুযায়ী ভবন তৈরি না করা, অনুমোদনহীন ভবন তৈরি করা, জরুরি বহির্গমনের পথ না থাকা, বিপজ্জনক বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিটের ব্যাপারে সচেতন না থাকা বিষয়গুলো আমাদেরকে বিপদের কঠিনতম দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, এক একটি গ্যাস সিলিণ্ডার যেন এক একটি বোমা। বাড়ি-গাড়িতে কত অনায়াসে এবং নিশ্চিন্তে গ্যাস সিলিণ্ডার আমরা ব্যবহার করি। কোনো সিলিণ্ডারের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ একজন শিক্ষিত মানুষও বোঝেন কি না সন্দেহ। এমন সাংকেতিক ভাষায় লেখা থাকে কারো পক্ষে তা বোঝার উপায় নেই। আবার মানুষের চোখকে ধুলা দিতে পুরাতন সিলিণ্ডারে নতুন করে রং করার কর্মযজ্ঞতো আছেই।

এক শ্রেণির মানুষের যোগসাজশে এগুলো যে হয় তা সকলে বোঝে, কিন্তু কেন যেন কিছু হয় না তাদের। আবাসিক এলাকায় কারখানা স্থাপনের অনুমোদন যারা দিয়েছে তারা দায় এড়াতে পারে না। কিংবা যারা অনুমোদন ছাড়াই কারখানা চালায়, তারা কীভাবে এবং কাদেরকে খুশি করে চালায় এগুলো জানার দরকার রয়েছে।

চার.

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া দরকার। যেমন:

(১) রাজউক; ঢাকা সিটি কপোরেশন (উত্তর-দক্ষিণ); পুরকৌশল, স্থাপত্য ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ; সামাজিক গবেষক এবং পরিবেশবিদের সমন্বয়ে কয়েকটি কমিটি করে ঢাকাসহ সকল শহরের সব এলাকা পরিদর্শন এবং তাদের ‘স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ’ মেয়াদী সুপারিশ অধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

(২) জনবসতি, বাণিজ্যিক ও অধিক সংবেদনশীল এলাকায় পানির আধারের সঙ্গে সংযুক্ত করে সমদূরত্বে লাল রঙ যুক্ত জরুরি পাইপলাইনের ব্যবস্থা করা দরকার, যেন প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া সম্ভব হয়। এলাকাভেদে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখার জন্য ব্যবস্থা রাখতে হবে। শহরের মধ্যে যে খাল বা পানির আধারগুলো আছে সেখানে নোংরা-ময়লা পানি যেন না জমে থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বন্ধ হয়ে গেলে তা পুন:খনন করতে হবে। প্রত্যেক ভবনের নিচে ‘রিজার্ভ ট্যাংক’ তৈরি করে আবশ্যকভাবে পানি ধরে রাখতে হবে।

 https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/08/1554701764971.gif

চীনের হাংঝৌ শহরে রাস্তার পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে (আনুমানিক ২০০ গজ) জরুরি পানি সরবরাহের পাইপ।

(৩) অধিক বিপদ ও দুর্যোগের সময় মানুষ উপর থেকে লাফ দেওয়ার সময় নিচে ধরা যায় এমন সংবেদনশীল সুতায় তৈরি বড় বড় জাল (নেট) তৈরি করে প্রত্যেক এলাকার মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাবে সংরক্ষণ করা দরকার যেন বিপদের সময় ব্যবহার করা যায়।

(৪) ‘আবাসিক এলাকায় কোনো কারখানা নয়’ বিষয়টি সামনে রেখে অতি দ্রুত রাসায়নিক কারখানা ও দ্রব্যাদি স্থানান্তরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলে সুফল আসতে পারে।

(৫) পুড়ে যাওয়া এবং অধিক পুরাতন ভবনগুলো পরীক্ষাপূর্বক অচিরেই ভেঙে ফেলা জরুরি।

(৬) সরু রাস্তা বা গলি প্রশস্ত করতে হবে। যেন কমপক্ষে এ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারে।

(৭) পুরান ঢাকার এলাকাগুলোকে সেক্টরের মত ভাগ করে উন্নয়নে নজর দেওয়া যেতে পারে।

(৮) পর্যাপ্ত পানি, আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকার মত পরিবেশ গড়ে তোলায় বিশেষ নজর দিতে হবে।

(৯) খাল, পুকুর, খেলার মাঠ, পার্ক কিংবা ফাঁকা জায়গাগুলো সংরক্ষণ করতে হবে এবং না থাকলে এগুলো তৈরিতে বিশেষ নজর দিতে হবে।

(১০) নগরায়নে পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য যা আমরা একেবারেই গুরুত্ব দেইনা। পরিকল্পনা ছাড়া নগরায়ন ঘটতে দেওয়া উচিত নয়।

(১১) শহরের সকল এলাকায় বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচ দিয়ে নিতে হবে। ক্রমান্বয়ে গ্রামেও মাটির নিচ দিয়ে লাইন নিতে হবে।

(১২) ফায়ার সার্ভিসের একটি ‘টিম’ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত অবস্থায় নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও এলাকা চিহ্নিত করতে পারে।

(১৩) বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসারে নিজ বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে অত্যন্ত দক্ষ ও আধুনিক ‘ফায়ার সার্ভিস’ ও ‘রেসকিউ টিম’ গড়ে তুলতে হবে।

(১৪) গ্যাস সিলিণ্ডার ব্যবহারের বিকল্প ভাবতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিণ্ডারে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এমনভাবে লেখার ব্যবস্থা করতে হবে যেন যে কেউ দেখা মাত্রই বুঝতে পারে।

(১৫) ওয়াসা, তিতাস, সিটি কর্পোরেশন, বিটিআরসি, সওজ, পিডিবিসহ সকলের মধ্যে রাস্তা খনন-মেরামত, বিদ্যুত-গ্যাস লাইন সংযোগ ও প্রতিস্থাপনে সমন্বয় থাকা জরুরি।

(১৬) নিরাপদ ও আধুনিক জরুরি বর্হিগমন পথ থাকা আবশ্যক।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড রোধে কমিটি করা হয়। কিন্তু কমিটির সুপারিশ আর বাস্তবায়ন হয় না বা হলেও ধীরগতির কারণে অনেক সময় একই ঘটনার পুনারবৃত্তি ঘটে। অনেকের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যে রাষ্ট্রকে সমালোচনার মুখে ফেলে দেয়, সরকারকে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারকে বুঝতে হবে কাদের জন্য রাষ্ট্র ও সরকার বিব্রত হয়। কারা সরকারি নিয়ম ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে ফায়দা লুটে দেশকে ও সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত প্রত্যেকটি কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। তা না হলে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে বারবার।

মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান: পি.এইচ.ডি গবেষক, জেঝিয়াং ইউনিভার্সিটি, চীন এবং শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বশেমুরবিপ্রবি, গোপালগঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র