Alexa

বিএনপির ৬ সদস্যের সংসদীয় গ্রুপে ভাঙন!

বিএনপির ৬ সদস্যের সংসদীয় গ্রুপে ভাঙন!

প্রভাষ আমিন, ছবি: বার্তা২৪.কম

গত ২ এপ্রিল গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সাংসদ মোকাব্বির খান শপথ নেয়ার পর 'হারাধনের আটটি ছেলে, রইলো বাকি ছয়' শিরোনামে লেখায় লিখেছিলাম, 'হারাধনের ৮টি ছেলের মধ্যে দুটি ছেলেই সংসদে চলে যাচ্ছে। রইলো বাকি ছয়।' আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ না নিলে আসন শূন্য হয়ে যাবে। আমার ধারণা, বিএনপির ৬ সংসদ সদস্যের সবাই শেষ পর্যন্ত শপথ নেবেন। ৬ জন না নিলে তবু দলীয়ভাবে কোনো একটি যুক্তি দিয়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তেমন না হলে বিএনপির ৬ সংসদ সদস্যের মধ্যেও ভাঙন ধরতে পারে।'

আমি চাইনি আমার আশঙ্কাটি এভাবে সত্যি হোক। কিন্তু মাত্র ২৩ দিনের মাথায় এমন নির্লজ্জভাবে ঘটনাটি ঘটবে, আমি ভাবিইনি। আমি ভেবেছিলাম, বিএনপির ৬ সাংসদ সংসদে যাওয়ার বিনিময়ে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বা প্যারোল কিছু একটা অন্তত আদায় করে নেবে বিএনপি। কিন্তু বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপির কোনো এমপি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেবেন, এটা আমি চাইওনি, ভাবিওনি।

সবচেয়ে খারাপটা ভেবেছিলাম, নির্বাচনের মতো আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা দলীয় সিদ্ধান্তে এক সঙ্গে সংসদে যাবেন। এখন আমার শঙ্কা মির্জা ফখরুল ছাড়া বাকি ৪ জনও ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই শপথ নিয়ে সংসদে যাবেন। মির্জা ফখরুল হয়তো সেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত আসরের শ্রোতার মত পাটির আশায় শেষ পর্যন্ত বসে থাকবেন। বিএনপির মতো একটা বড় ও জনপ্রিয় দলের এই দুরবস্থা আমাকে বেদনাহত করেছে।

বিএনপির দাবি, দেশের ৯০ ভাগ মানুষ তাদের পক্ষে। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায়। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১৫ মাস ধরে কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ১০ বছর ধরে নির্বাসনে। কিন্তু সেই ৯০ ভাগ মানুষ রাস্তায় নামেনি, প্রতিবাদ করেনি। বিএনপির অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার আগের রাতে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। এত বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধেও কিন্তু সেই ৯০ ভাগ মানুষ প্রতিবাদ করেনি।

আন্দোলনের কথা বললেই, বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় আন্দোলন দমন করে, রাস্তায় নামতে দেয় না, গুম-ক্রসফায়ার দিয়ে আন্দোলন মোকাবিলা। তাই বিএনপির সাহসী নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে পারেন না। যতই সাহসী হোন, জানের মায়া সবারই আছে।

কিন্তু ৬ জন সংসদ সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নিশ্চয়ই অত সাহস লাগে না। যে দলে এইটুকু ঐক্য নেই; সেই দল কঠোর আন্দোলন করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করবে, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাবে; আমার অন্তত বিশ্বাস হয় না। আসল সমস্যা হলো, বিএনপির আদর্শিক শূন্যতা। বিএনপির মধ্যে এমন কোনো আদর্শিক টান নেই, যা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে।

ইদানীং অনেকে বিএনপি প্রসঙ্গে মুসলিম লীগের উদাহরণ টানেন। আমি দ্বিমত করতাম। এত বড় একটা দল, এতদিন ক্ষমতায় ছিল; তারা এত তাড়াতাড়ি মুসলিম লীগ হয়ে যাবে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে ঠাকুরগাও-৩ আসনের সাংসদ জাহিদুর রহমান জাহিদের শপথের পর বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি সত্যি শঙ্কিত।

প্রভাষ আমিন: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।

আরও পড়ুন: ঐক্যফ্রন্টে ঐক্য নাই!

আপনার মতামত লিখুন :