Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ছাত্রলীগের মাথায় বাড়ি দেবেন না

ছাত্রলীগের মাথায় বাড়ি দেবেন না
এরশাদুল আলম প্রিন্স, ছবি: বার্তা২৪
এরশাদুল আলম প্রিন্স


  • Font increase
  • Font Decrease

গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিন বছর পর ওই সম্মেলন হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর পরপর ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা। কিন্তু শুধু ছাত্রলীগ কেন, কোনো ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনই নিয়মিত হয় না।

সম্মেলন হওয়ার এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হল। কমিটি গঠন নিয়ে ১৩ মে যে তুলকালাম কাণ্ড হয়ে গেল, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছাত্রলীগের মতো বড় একটি সংগঠনে পদ-পদবির জন্য প্রতিযোগিতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনে পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ আরও বেশি হবে, সেটাই স্বাভাবিক। পদের সংখ্যা সীমিত। তাই সবাই পদ পাবে, সেটি সম্ভব না।

পদ না পেয়ে বঞ্চিতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ করেছেন। পদ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু পদবঞ্চিতদের ওপর পদপ্রাপ্তরা হামলা চালিয়েছেন, চেয়ার টেবিল ছুড়ে মেরেছেন, মারধর করেছেন, মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। ঘটনার পর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন। সেখানে আরেক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পদবঞ্চিতরা নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন। তারা বিতর্কিত এই কমিটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে শোভন-রাব্বানী সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আহতদের মধ্যে আগের কমিটির অনেক নেতাও আছেন, আছেন ডাকসুর নির্বাচিত নেতারাও। পুরো ঘটনাটাই আমাদের ব্যথিত করে।

বর্তমান কমিটিতে ৩০১ জনকে পদ দেওয়া হয়েছে। তারপরও অনেকে এখনও পদের দাবি করে যাচ্ছেন। বর্তমান কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে আছেন ৬১ জন ও সাংগঠনিক পদে আছেন ১১ জন। এছাড়া অন্য সব পদেই বহু সংখ্যক সদস্য রাখা হয়েছে। নেতাকর্মীদের খুশি করতে পদের সংখ্যা বাড়াতে হয়েছে, নতুন পদও সৃষ্টি করা হয়েছে, যা আগে ছাত্রলীগে ছিল না। যেমন- এবার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সচিবের পদ বানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটি গঠনের। তিনি কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। প্রধানমন্ত্রী শোভন ও রাব্বানীকেও একই নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেল, আগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তালিকা থেকে কাউকেই রাখা হয়নি।

অভিযোগ আছে, এবার নাকি কমিটিতে রেকর্ড সংখ্যক বিবাহিতদের রাখা হয়েছে। বান্ধবীসহ ছবি ভাইরাল হয়েছে সভাপতি শোভনের। বান্ধবী থাকা গঠনতন্ত্রবিরোধী না। কিন্তু বিবাহিতরা ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকতে পারেন না। এক সহ-সভাপতি নাকি দুই বিয়ে করেছেন। জানা যায়, নতুন কমিটিতে মোট ছয়জন বিবাহিত। রাব্বানী তার নিজ জেলার ২২ জনকে বিভিন্ন পদ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। এছাড়া অস্ত্র নিয়ে সংবাদের শিরোনাম হওয়া ব্যক্তিও পদ পেয়েছেন। পহেলা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত অন্তত ২০ জন গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। নতুন কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত, মাদক ও হত্যা মামলার আসামিরাও আছেন। এছাড়া আরো নানা অভিযোগ আছে পদপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে।

শোভন-রাব্বাবী ছাত্রলীগের ক্লিন ইমেজ অনেকটাই পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন। নব্বই দশক থেকে ছাত্র রাজনীতি ও ডাকসুতে খড়া চলছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর যখন বেহাল দশা এমনই এক সময়ে শোভন-রাব্বানীর হাতে ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া নিঃসন্দেহে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সাহসী একটি পদক্ষেপ। প্রকৃত ছাত্র ও তরুণদের হাতে ছাত্রলীগের দায়িত্ব দিয়ে তিনি দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। ঢাবির আইন বিভাগের এই দুই শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ যদি সত্য হয় তবে শোভন-রাব্বানীর ভূমিকা ও প্রধানমন্ত্রী যাদের কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তাদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সাহসী যে উদ্যোগ নিয়ে প্রকৃত ছাত্রদের হাতে ছাত্রলীগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, এখন অছাত্র ও বিতর্কিতরা ছাত্রলীগে এলে ছাত্রলীগ আবার সেই পুরনো পথেই হাঁটবে।

পদপ্রাপ্তরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পদবঞ্চিতদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে এ কমিটি করা হয়েছে। কোন পক্ষ ঠিক, তা হয়তো আমরা জানতে পারব না। জানা জরুরিও না। কিন্তু কার নির্দেশে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলা করা হল, সেটি জানা জরুরি। দলের মাঝে অনেকের ক্ষোভ থাকতেই পারে, প্রতিবাদও করতে পারেন। আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যারই সমাধান হতে পারে। সংক্ষুব্ধদের ওপর হামলা চালিয়ে সমস্যার সমাধান কোনো কাজের কথা নয়। এতে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হয় না। শুধু ছাই চাপা দেওয়া যায় মাত্র।

ছাত্র সংগঠনে কোন্দল নতুন কিছু নয়। রাজনীতির মধ্যেও রাজনীতি থাকে। অন্তর্কোন্দলের সেই রাজনীতির কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে কেউ পদ পায়, কেউ পায় না। কথায় আছে, অপর দলের বিরুদ্ধে রাজনীতির চেয়ে নিজ দলের ভেতরের রাজনীতি আরও কঠিন। এই আন্তঃকলহ ও অন্তর্কোন্দল অনেক সময় হিংসাত্মক রূপ ধারণ করে। সেটি কাম্য নয়। রাজনীতি বড় কঠিন। সত্তর দশকে বিরোধের জেরে ঢাবির মুহসীন হলে ছাত্রলীগের সাত কর্মী খুন হন। বিরোধের জেরে এক সময় ছাত্রলীগ কাদের-চুন্নু নামে দুই ভাগে ভাগ হয়েও যায়। এরও আগে আওয়ামী লীগ ও জাসদের উত্থানের কথাও আমাদের জানা আছে। বিরোধীতার শান্তিপূর্ণ সমাধান জরুরি। হিংসাত্মক ও রক্তাক্ত পথ কাম্য নয়।

আশার কথা, যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে তার সত্যতা যাচাই বাছাই করতে ২৪ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন শোভন-রাব্বানী। হয়তো শুক্রবার (১৭ মে) নাগাদ আমরা এসব অভিযোগের একটি সুরাহা প্রত্যাশা করতে পারি।

মূল কথা হলো সংগঠনের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তাকে কমিটিতে রাখা গঠনতন্ত্রবিরোধী। ছাত্রলীগ ঐতিহ্যবাহী একটি ছাত্র সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য ছাত্র ও তরুণদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কাজেই কোনো অছাত্র, মাদকাসক্ত, হত্যামামলার আসামি, বিবাহিত, অস্ত্রমামলার আসামি বা বিতর্কিতকে নতুন কমিটিতে রাখা, ছাত্রলীগের জন্যই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। একবার নষ্টদের হাতে চলে গেলে তা থেকে বের হয়ে আসতে বহু বছর, এমনকি যুগও লেগে যেতে পারে। এমন নজির আমাদের দেশেই আছে। এজন্য ছাত্রলীগকেও কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। কাজেই, পদবঞ্চিতদের মাথা না ফাটিয়ে, পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তরা ঠাণ্ডা মাথায় বসে সমস্যার সমাধান করুন, যাতে ছাত্রলীগের মাথা উঁচু থাকে।

এরশাদুল আলম প্রিন্স: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র