Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সব মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই

সব মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই
প্রভাষ আমিন, ছবি: বার্তা২৪
প্রভাষ আমিন


  • Font increase
  • Font Decrease

পরপর দুদিনের দুটি ঘটনা আমাদের ভয় পাইয়ে দিয়েছে। মুক্তচিন্তার দুজন মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একজন কবি, একজন আইনজীবী। মঙ্গলবার (১৪ মে) বরিশালের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় কবি হেনরি স্বপনকে। আর বুধবার (১৫ মে) ঢাকার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় অ্যাডভোকেট ইমতিয়াজ মাহমুদকে। আদালত জামিন আবেদন বাতিল করে দুজনকেই কারাগারে পাঠিয়েছেন। ইতোমধ্যে দুজনেরই আবার জামিন হয়েছে। তবে তাদের জামিন হওয়াটা যতটা স্বস্তির, গ্রেফতার হওয়া তারচেয়ে অনেক বেশি শঙ্কার। যম যে বাড়ি চিনে গেল সেটা বেশি ভয়ঙ্কর।

কবি হেনরি স্বপনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। আর ইমতিয়াজ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি আইনের বহুল বিতর্কিত ৫৭ ধারায়। কবি হেনরি স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার। আর ইমতিয়াজ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাম্প্রদায়িক উস্কানির।

এটা ঠিক এখন সময় বদলে গেছে, বদলেছে অপরাধের ধরনও। সাইবার অপরাধ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাথাব্যথার কারণ। নতুন অপরাধ দমনে পুরনো আইনে কাজ হচ্ছিল না। তাই এসেছে নতুন নতুন আইন। কিন্তু শঙ্কাটা হলো এসব আইন অপরাধ দমনের চেয়ে মানুষের কণ্ঠ দমনেই যেন বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। সাংবাদিকরা বরাবরই আইনের এই কালো ধারা এবং এর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। নতুন আইনে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস থাকলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও কণ্ঠরোধের ব্যবস্থা রেখেই করা হয়।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেকগুলো ধারায় ছড়িয়ে দেয়া হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই সব কালো ধারার বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন সাংবাদিকরা। কিন্তু লাভ হয়নি। তাদের প্রবল আপত্তি সত্বেও আইনটি পাশ হয়ে যায়। তখন আইনমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই আইন ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু সাংবাদিকদের একক অধিকার নয়। সমাজের সব মানুষের যৌক্তিক বিধিনিষেধ সাপেক্ষে মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা সমান্তরাল। একটা ছাড়া আরেকটা অর্থহীন।

সংবিধানে একই অনুচ্ছেদে বিধিনিষেধ সাপেক্ষে দুটি অধিকারই নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে...

(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং

(খ) সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।’

কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের প্রাথমিক আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু স্বাধীনতা মানেই যা ইচ্ছা তাই বলা নয়। সংবিধানেও মতপ্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা দেয়া হয়নি।

স্বাধীনতার সাথে অবশ্যই দায়িত্বশীলতার ব্যাপারটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আইন প্রণয়ন করা হয় সমাজে শৃঙ্খলা আনার জন্য। কিন্তু আমাদের সমস্যা হলো, শৃঙ্খলা আনার চেয়ে শৃঙ্খলিত করার ব্যাপারেই আমাদের আগ্রহ বেশি।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকেও সম্প্রতি বাংলাদেশের চার ধাপ অবনমন ঘটেছে। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাহীনতার ব্যাপারে সরকারের দায় যতটা, আমি মনে করি সাংবাদিকদের দায় তারচেয়ে কম নয়। সরকার তো চাইবেই গণমাধ্যম তাদের পক্ষে থাকুক। কিন্তু সরকারের এই চাওয়া পূরণে সাংবাদিকদের আগ্রহই বেশি। আড়ালে-আবডালে সরকার যতটুকু ভয় দেখায়, সাংবাদিকরা ভয় পায় তারচেয়ে বেশি।

সেলফ সেন্সরশিপের আবরণে ঢাকা পড়ে গেছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। এই সেলফ সেন্সরশিপের ব্যাপারেও সরকারের আইনের চেয়ে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক আনুগত্যের ভূমিকা বেশি।

গণমাধ্যম নিয়ে সরকার নিশ্চিন্ত হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে ততটা নিশ্চিন্ত হতে পারছে না। গণমাধ্যম চুপ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক বেশি সরব। এখানে প্রতিবাদ হয় তাৎক্ষণিক, জনমত গড়ে ওঠেও তাৎক্ষণিকভাবেই। তাই সরকারের নজর এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকেই বেশি। আমিও মনে করি গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নজর রাখা দরকার। গণমাধ্যমের তবু কিছু শৃঙ্খলা আছে, নীতিমালা আছে, এথিকস আছে; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসবের কোনো বালাই নেই।

কিন্তু সরকার মনে হয় ভুল জায়গায় নজর দিচ্ছে। ইউটিউবে শত শত ওয়াজের ভিডিও পাওয়া যায়। যেগুলো বিদ্বেষ ছড়ায়, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ভুল বার্তা ছড়ায়। অনেকগুলো ওয়াজ আছে, যা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মত। কিন্তু সেই ওয়াজ নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা নেই, উদ্যোগ নেই। ফেসবুক প্রতিদিন কত লোক ঘৃণা ছড়ায়, হিংসা ছড়ায়, গাল দেয়, হুমকি দেয় তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

অথচ বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে সরকারের রাগ মুক্তচিন্তার মানুষদের ওপর। এবার ইস্টার সানডের প্রার্থনার সময় শ্রীলঙ্কার গির্জা ও ফাইভ স্টার হোটেলে বোমা হামলা চালায়। কিন্তু বোমা হামলার পরও বরিশালের গির্জায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কবি হেনরি স্বপন ‘রোম যখন পুড়ছে বিশপ সুব্রত তখন বাঁশি বাজাচ্ছে’ শিরোনামে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বরিশালের যাজকদের সমালোচনা করেছিলেন।

এ ঘটনায় প্রথমে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়। যে মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্ট্যাটাসটি আমি পড়েছি। সেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার মত কিছু পাইনি। কবি হেনরি স্বপন নিজেও একজন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। বরং শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার পর গোটা বিশ্ব যখন শোকস্তব্ধ, তখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান একজন নাগরিক হিসেবে আমার অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে। আগে জানলে আমি আরও কড়া ভাষায় লিখতাম।

বরিশালের যে যাজক মামলা করেছেন, তার তো শোকের সময় গান বাজনা করায় লজ্জায় নিজেকে লুকিয়ে রাখার কথা ছিল। তিনি তা না করে চোরের মায়ের বড় গলা করে মামলা করতে গেছেন। ধর্মযাজকরা সমাজের পথপ্রদর্শক। তাদের দেখে মানুষ শিখবে। মানুষ তাদের অনুসরণ করবে। এটা সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সত্যি।

তাই ধর্মীয় গুরুদের আরও বেশি সহনশীল হওয়া উচিত। তাদের অনুভূতিও আরও শক্ত হয়। এত অল্পে অনুভূতিতে আঘাত লাগলে তো মুশকিল।

কবি হেনরি স্বপনের মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোচ্চার, তখনই অ্যাডভোকেট ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেফতারের খবর আসে। ২০১৭ সালে খাগড়াছড়িতে দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা ছিল। পুলিশ সেটা তামিল করেছে মাত্র। একসময় ছাত্র ইউনিয়ন করা ইমতিয়াজ মাহমুদ ইদানীং ফেসবুকে খুব সরব। তিনি মানবাধিকার ইস্যু, নারী অধিকার নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।

তবে তিনি সবচেয়ে বেশি সোচ্চার পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে। সংবিধানে যাদের ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ বলা হয়, আরও অনেকের মত ইমতিয়াজ মাহমুদও তাদেরকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন পার্বত্য এলাকায় সমস্যার জন্য সমতল থেকে যাওয়া সেটেলাররাই দায়ী। তার বক্তব্যের সাথে আপনার দ্বিমত থাকতে পারে। আপনি তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে পাল্টা যুক্তি দিয়ে লিখতে পারেন। কিন্তু মতে না মিললেই মামলা-গ্রেপ্তার সংবিধানে দেয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সমান্তরাল নয়।

আমরা স্বাধীনভাবে আমাদের মতপ্রকাশ করতে চাই। তাই চাই মতপ্রকাশের প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাতিল করা হোক। ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই ধারা ব্যবহার করা হবে না’ এইটুকু আশ্বাসে আমি আশ্বস্ত নই। আমি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন চাই, সব মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও চাই। যুগোপযোগী আইন চাই, তবে তা যেন শৃঙ্খলা আনে, শৃঙ্খলিত না করে; আমাদের মুক্ত মতকে রুদ্ধ না করে।

প্রভাষ আমিন: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

আপনার মতামত লিখুন :

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, পুরনো ছবি

৮৯ বছরের এক বিশাল কর্মজীবন পেছনে ফেলে সব আলোচনা-সমালোচনার ওপারে চলে গেছেন এরশাদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরশাদ একাই একটি অধ্যায়। এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) হয়তো আরও বহুদিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়েই থাকবে, তবে এরশাদবিহীন জাপা ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে বলেই মনে হয়।

তার দীর্ঘ পেশাগত ও রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য তিনি দলকেও ছাড়িয়ে গেছেন বহুমাত্রায়। তার অনুপস্থিতিতে জাপা হয়তো এখন সেটিই অনুভব করবে। ক্ষমতার সিঁড়ির কাছাকাছি যেতে এরশাদের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিপরীতে একটি শক্ত প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবেও তার জুড়ি নেই। তাই জাপার মতো একটি সমর্থক শক্তি রাজনীতিতে প্রয়োজন ছিল বৈকি। অপর দলের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় এরশাদবিহীন জাপা আগামীতে কতটা শক্তি জোগাতে পারে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে পার্টির গুরুত্ব থাকা না থাকা নির্ভর করে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ওপর। দলের ভেতরে সামরিক বেসামরিক ক্যারিয়ারিস্ট নির্বিশেষে এরশাদের মতো হাই-প্রোফাইল রাজনীতিক আর নেই। এক সময় জাপা করেছেন দেশের অনেক হাই প্রোফাইল রাজনীতিক। মিজানুর রহমান চৌধুরী, কাজী জাফর, শাহ মোয়াজ্জেম, মওদুদ আহমেদসহ দেশের প্রথিতযশা অনেক রাজনীতিকরা এরশাদের জাপাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা বামপন্থী রাজনীতি থেকে এসেছেন। ডিগবাজীর এই রাজনীতি শুরু হয় জিয়ার আমলে। সামরিক, বেসামরিক আমলা ও পেশাজীবীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেন জিয়া।

এরশাদও একই কায়দায় সামরিক-বেসামরিক আমলা, পেশাজীবীদের দলে ভেড়ান। কিন্তু ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ার পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তাদের বেশির ভাগই আজ আর জাপায় নেই। যেমন নেই বিএনপিতে। সময় বুঝে আজ জিয়ার উপদেষ্টা, কাল এরশাদের উপদেষ্টা বা মন্ত্রী হয়েছেন অনেকে। নগদ ইনামের আশায় এরকম রাজপন্ডিতের (উপদেষ্টা) নজির আজও বিরল নয়। ক্ষমতার লোভে যারা ডিগবাজী দিয়ে জাপায় এসেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে তারাই সবার আগে উল্টো ডিগবাজী দিয়েছেন। কেউ বা মৃত্যৃ বরণ করেছেন, অবসর নিয়েছেন। ফলে জাপায় আজ ক্যারিয়ার পলিটিশিয়ান যাকে বলে সে রকম কেউ নেই বললেই চলে। ক্যারিশম্যার কথা বাদই দিলাম। ফলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বই জাপার জন্য আজ বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার রাজনীতিতে একইভাবে দলের গুরুত্ব বহাল রাখা।

Ershad
১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এরশাদকে নিয়ে আলোচনা আছে, আছে সমালোচনা। কোনোটাই ভিত্তিহীন নয়। তিনি একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেছেন। বিদ্যমান দলগুলোর অদূরদর্শীতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে নিজেই ৯ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেছেন। সব সামরিক শাসক যা করেন এরশাদও তাই করেছেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি করেছেন, এরশাদ করেছেন জাতীয় পার্টি। নয় বছর ক্ষমতায় থেকে বিদায় নিয়েছেন সত্য, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে এরশাদের গুরুত্ব কমেনি মোটেও। বরং ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজের পাল্লা ভারি করতে এরশাদের বিকল্প শুধুই এরশাদ। আগামী দিনের ক্ষমতার রাজনীতিতে জাপা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারবে কিনা জাপা’র জন্য আপাতত এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য অন্তত আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে ‘ক্ষমতা’, ‘রাজনীতি’ ও ‘কৌশলের’ সঙ্গে ভোটের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর বিষয়টি অনেকাংশেই নির্ভর করে। এ সম্পর্ক যেভাবে শিথীলতার দিকে যাচ্ছে তাতে তৃতীয় কোনো সহায়ক শক্তির রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাও হয়তো ফুরিয়ে যাবে। তবে সে রাজনীতি আমাদের হিসাবের বাইরে। আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি, এরশাদ জাপায় যেমন অপরিহার্য ছিলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতেও ছিলেন একই রকম অপরিহার্য।

Ershad
একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য। এই উপমহাদেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলই বেশি বিকাশ লাভ করেছে। ভারতে যেমন কংগ্রেস, পাকিস্তানে মুসলিম লীগ, পিপলস পার্টি, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা। ভারতের বিজেপি অথবা বাংলাদেশের জামায়াত একটি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ চর্চা করে। কাজেই প্রচলিত রাজনীতি থেকে তাদের রাজনীতি ভিন্ন, নেতৃত্বের বিষয়টিও ব্যক্তি বা পরিবার নির্ভর নয়। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যদিও ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বিকাশ লাভ করেছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দলের প্রয়োজনেই বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতেই দলের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়। সেই থেকে প্রায় চার দশক আওয়ামী লীগও ব্যক্তি কেন্দ্রিক দলীয় রাজনীতির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

দলের ভবিষ্যৎ পারিবারিক সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর বিএনপি ও জাপার শুরুই হয়েছে একজন ব্যক্তি বিশেষের রাজনৈতিক খায়েস মেটানোর জন্য। জিয়া ও এরশাদ যদি ধরেও নিই যে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ক্ষমতা দখল করেছেন (ডকট্রিন অব নেসিসিটি), না হলে দেশ গোল্লায় যেতো ইত্যাদি, ইত্যাদি... তারপরও বাস্তবতা হলো তারা কেউ দেশের সেই কথিত ক্রান্তিলগ্ন পার হওয়ার পর ব্যারাকে ফিরে যাননি। গদি আঁকড়ে ধরে থেকেছেন। জিয়া নিহত হওয়ার পর বিচারপতি সাত্তার ও পরে খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন। সেই থেকে আজও ব্যক্তি ও পারিবারিক দখলমুক্ত হতে পারেনি বিএনপি।

একই কায়দায় এরশাদ নয় বছর ক্ষমতায় থাকার পরও জাপা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তি এরশাদ থেকে জাতীয় পার্টি মুক্ত হতে পারেনি চার দশকেও। পতিত সামরিক ও স্বৈরশাসকরা ‘মরিবার পূর্বে মরিতে চান না’। তাই নিরাপদ ও স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করতেই তারা দলের সভাপতি বা উপদেষ্টার পদ আজীবন আঁকড়ে থাকেন। এরশাদের হয়তো এক্সিটওয়ে ছিল, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে তার প্রয়োজন ছিল এবং তিনিও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তা উপভোগ করে গেছেন। ক্ষমতার প্রতিটি কোনায়ই তিনি বিচরণ করেছেন।

সেনাপ্রধান, সিএমএলএ, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিরোধী দলের নেতা সব ক্ষেত্রেই তার সরব উপস্থিতি আমরা দেখি। সবকিছু যে তার প্রয়োজন ও ইচ্ছায় হয়েছে হয়তো সেরকমটি নয়। অনেকটা রাজনীতি ও ‘ক্ষমতা’র প্রয়োজনেই তার এই এদিক ওদিক, কখনো নিজের কখনো অপরের প্রয়োজনে। এখানেই এরশাদের অপরিহার্যতা। আর এজন্যই আমরা তাকে বলি ‘রাজনীতির দুষ্টু বালক’।

Ershad

সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংসদ টিভি 

 

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের তিনটি বড় দলের মধ্যে জাপা আপাত একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব থেকে মুক্ত হলো বটে। কিন্তু ব্যক্তি কেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে নতুন করে পরিবারভূক্ত হলো বলেই মনে হচ্ছে। এতে আপতত হয়তো জাপা প্রাথমিক ধাক্কাটি সামলাতে পারবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পার্টির নিয়তি নির্ধারণে তা কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে তা সময়ই বলবে।

এরশাদের সমালোচনা আছে অনেক। কিন্তু নির্মোহ দৃষ্টিতে বললে এ সমালোচনা থেকে সবাই-ই কি মুক্ত? রাজনীতিতে এরশাদ একটি সিনড্রোম। এ সিনড্রোমে সব রাজনৈতিক দলই আক্রান্ত। এমনকি নাগরিক হিসেবে আমরাও কি সুবিধাবাদী নই? এরশাদ আমাদের সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী, ভোগবিলাসী ও ডিগবাজীর রাজনীতির আইকন। কিন্তু এরশাদ সিনড্রোম কি আমাদের মাঝেও নেই? এরশাদকে গালি দেওয়া সহজ, কারণ তিনি ক্ষমতাহীন এক ‘দুষ্টু বালক’। এরশাদের বিদায়ের পর রাজনীতিতে হয়তো সহসা সমালোচনা করার মতো লোকটি বিদায় নিলেন। কিন্তু তাতে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে কি? এরশাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ভাড়ামি হয়তো কিছুটা কমবে, কিন্তু রাজনৈতিক দুষ্টামি বন্ধ হবে কি?

এরশাদুল আলম প্রিন্স: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম।

‘সেই এরশাদ’, ‘এই এরশাদ’

‘সেই এরশাদ’, ‘এই এরশাদ’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পুরনো ও সাম্প্রতিক ছবি

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, যিনি এক সময়ের সেনাপ্রধান আর বর্তমানে 'প্রধান বিরোধী দলের নেতা', তার জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন করা একই সঙ্গে সহজ এবং কঠিন।

সহজ এ কারণে যে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থান স্পষ্ট। এরশাদের ক্ষমতা দখল ও দশ বছরের স্বৈরশাসনের 'সেই' সময় সবার কাছেই প্রতিভাত। এ ব্যাপারে বিতর্ক বা তাকে বৈধতা বা ন্যায্যতা দেওয়া অসম্ভব।

কিন্তু 'এই' সময়ের এরশাদ বিশ্লেষকদের কাছে সহজে ব্যাখ্যা করার ব্যক্তি নন। তার কারাভোগ, রাজনীতিতে লেগে থাকার আগ্রহ এবং ক্রমশ প্রকাশিত বিভিন্ন মানবিক গুণাবলীর কারণে এক অন্য মাত্রার এরশাদকে দেখতে পাওয়া যায়।

এরশাদের মৃত্যুতে সবচেয়ে বিপদে যারা

অবশ্য এ কথাও পরিষ্কারভাবে বলা দরকার যে, এরশাদের ভালো কিছু কাজ থাকলেও তার খারাপ কাজগুলো জায়েজ হয়ে যায় না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তা মনে করি না এবং লিখিতভাবেই তা উল্লেখ করেছি।

তারপরও বিস্ময় জাগে। নানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিশেষত আমরা যারা রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যয়ন ও চর্চায় ব্যাপৃত আছি, তাদেরকে রাজনৈতিক প্রপঞ্চ ও ব্যক্তিত্বের গতিশীলতার ওপর লক্ষ্য রাখতে হয়। তরুণ মার্কস আর পরিণত মার্কসের মধ্যে পার্থক্য রেখা টানতে হয়। একদার কট্টর সাম্প্রদায়িক নেতার জাতীয়তাবাদী-মানবতাবাদীতে রূপান্তরের কার্যকারণ নিরূপণ করতে হয়। আবার বাম, প্রগতিশীল, কমিউনিস্ট নেতার মৌলবাদী স্খলনের ব্যাখ্যাও দাঁড় করাতে হয়।

এরশাদকে এমন তুলনায় আনা হলে আমরা কেমন চিত্র পাব? স্বৈরাচার হয়েও তার কঠোরতার পাশাপাশি মানবিক উন্নয়নমূলক কিছু পদক্ষেপও আড়ালে থাকে না। সমালোচনার পরেও ওষুধ নীতি, ভূমি সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ, ধর্মীয় বিষয়ের গুরুত্ব তাকে অনেক মানুষের প্রিয়ভাজন করেছে।

যদিও এরশাদের রাজনীতির ৪০ বছরের পুরো সময়ই ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ আর বিএনপির অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে তিনি দশ বছর ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলেন এবং এখনও বিএনপির রাজনৈতিক ভুলের সুযোগ নিয়ে সামনে চলে আসতে পেরেছেন। দ্বিদলীয় রাজনীতির প্রকৃত বিকাশ হলে তার রাজনৈতিক জীবন এতদূর প্রলম্বিত হয়ে আসতে পারতো কি-না, সন্দেহ।

একজন এরশাদ

যেভাবেই হোক তিনি ক্ষমতার দশ বছর পর আরও তিরিশ বছর রাজনীতিতে থেকেছেন। এ সময়কালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সাথেই ছিলেন। ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে ছিলেন। এবং সংসদীয় রাজনীতির কাঠামোর মধ্যেই থেকেছেন, যদিও সেই সংসদ ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে।

আপত্তি বা সমালোচনা যাই থাকুক, 'স্বৈরাচারী' এরশাদ গণতান্ত্রিক নির্বাচন, সংসদীয় ব্যবস্থা ইত্যাদিকে পাশ কাটিয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছেন, এমন দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারবে না। নিজের এবং দলের স্বার্থে তিনি রাজনীতি করেছেন, এমনটি সবাই করে। ফলে এ বিষয়ে সমালোচনার কিছু থাকতে পারে না। তিনি তার ও তার দলের স্বার্থে রাজনীতি করে মহাভারত অশুদ্ধ করেননি।

আর যে কাজটি তিনি সন্তর্পণে করেছেন, তা হলো মানব কল্যাণ ও মানবসেবা। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম এবং অন্যান্য গণমাধ্যমেও খবরগুলো প্রকাশ পেয়েছে, যাতে দান, সাহায্য ছাড়াও সম্পত্তি বিলি-বণ্টনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। এরশাদ ব্যক্তিস্বার্থ সামনে রেখে রাজনীতি করলেও ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড়ের স্তূপ করেননি। ক্ষমতালোভী স্বৈরাচারের মধ্যে তাকে দেখা যাচ্ছে বিরল ব্যতিক্রম স্বরূপ।

এরশাদ আমলে আমরা যখন কিছুটা লেখালেখি ও সাংবাদিকতা করেছি, তখন তার কাছের লোকদের বরাতে জেনেছি, তিনি পারতপক্ষে কাউকে না করতে বা ফিরিয়ে দিতে পারেন না। তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছে গেলে কার্যোদ্ধার সম্ভব, এমন একটি ভাষ্যও তখন ঢাকায় প্রচলিত ছিল। এ সুযোগে বহুজন চাকরি-বাকরি, প্লট, প্রমোশন নিয়েছেন। অনেক নারীও এরশাদের এই নমনীয়তার সুযোগ নিয়েছেন।

এরশাদ: জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে

শাসক হিসেবে এসব পক্ষপাত অবশ্যই মানবীয় দুর্বলতা ও নৈব্যক্তিকতার অভাব হিসেবে বিবেচনার যোগ্য। রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক বিষয় ব্যক্তিগত তোষামোদির মাধ্যমে বিলি-বণ্টন করা ঘোরতর অন্যায় এবং সুশাসনের বিপরীত ও স্বৈরমানসিকতার পরিচায়ক।

কিন্তু এরশাদ যখন ক্ষমতায় নেই, তখন নিজের সম্পত্তি বিলিয়ে দিলে তাকে কেউ সমালোচনা করতে পারে না। তিনি যে দিতে জানেন, দিতে চান, তা আগে ও বর্তমানে তিনি প্রমাণ করেছেন। এই এরশাদকে মানুষ অস্বীকার করবে কেমন করে?

ব্যক্তিগতভাবে এরশাদের সঙ্গে ক্ষমতাকালে ও ক্ষমতার পরে একাধিকবার আমার সাক্ষাত হয়েছে। সেটা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, বঙ্গভবন, ধানমণ্ডির কবিতা কেন্দ্র, কারও বাসা, অফিস বা কোনও বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে হলেও আমি তার নিপাট ভদ্রতা, সৌজন্যবোধ ও সম্মানজনক আচরণের চাক্ষুষ সাক্ষী। পরে যখন তিনি জানলেন, ‘সাপ্তাহিক রোববার’ -এ তাকে স্বৈরাচার বলে আমি স্বনামে নিয়মিত লিখেছি, তখনও তার আচরণের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি।

বিশ্ব বেহায়া
এরশাদকে নিয়ে কামরুল হাসানের ব্যাঙ্গচিত্র/ সংগৃহীত

 

এরশাদকে স্বৈরাচার বলে আমরা আন্দোলন করেছি, তার বিরুদ্ধে লিখেছি, পটুয়া কামরুল হাসানের বিখ্যাত ব্যাঙ্গচিত্র 'বিশ্ব বেহায়া'র পোস্টার সেঁটেছি ক্যাম্পাসের দেওয়ালে দেওয়ালে। তার মৃত্যুর পর চট করে তার সম্পর্কে বিদ্যমান ধারণা ভেঙে যায় না।

শুধু মনের মধ্যে অলক্ষ্যে একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়, 'সেই এরশাদ’ আর 'এই এরশাদ’ কি একজনই? ক্ষমতা দখলকারী এরশাদ আর রাজনীতি শেষে চিরবিদায় নিয়ে চিরদিনের মতো চলে যাওয়া এরশাদ কি একজনই? সহজেই এসব প্রশ্নের উত্তর মেলে না।

ব্যক্তি ও রাজনীতিক এরশাদের প্রকৃত তুলনামূলক মূল্যায়ন করতে পারবে ইতিহাস। ইতিহাসের সেই রায় জানার জন্য আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে মহাকালের দিকে।

ড. মাহফুজ পারভেজ: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র