Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

নিঃশব্দ আততায়ী ও আমাদের ভঙ্গুর 'নিরাপদ খাদ্য'

নিঃশব্দ আততায়ী ও আমাদের ভঙ্গুর 'নিরাপদ খাদ্য'
ড. মাহফুজ পারভেজ/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ড. মাহফুজ পারভেজ


  • Font increase
  • Font Decrease

অফিস শেষে কামাল সাহেব প্রচণ্ড গরমে ঢাকার কুখ্যাত যানজট পেরিয়ে ঘামতে ঘামতে বাসায় পৌঁছান। 'বাবা', 'বাবা' বলে ছোট দুটি ছেলে মেয়ে ড্রয়িংরুমে তার কাছ ঘেঁষে বসে। কামাল সাহেব ব্যাগ থেকে দু'টি চিপসের প্যাকেট বাচ্চাদের হাতে তুলে দেন।

কাড়াকাড়ি করে প্রিয় সন্তানদের চিপস খাওয়া দেখতে দেখতে কামাল সাহেবের সারাদিনের ক্লান্তি উবে যায়। শান্তিতে তার পরিশ্রান্ত মুখে দেখা দেয় তৃপ্তির হাসি।

কামাল সাহেব জানেন না, তার হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে কান্না। যে চিপস তিনি তুলে দিয়েছেন সন্তানের মুখে, তা ভেজাল ও মানহীন। স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর বিপজ্জনক উপাদান রয়েছে এসব খাদ্যে। তিনি আনন্দ ও তৃপ্তি নয়, বাসায় ডেকে এনেছেন নিঃশব্দ এক আততায়ীকে!

শুধু কামাল সাহেব নন, আপনি, আমি, সবাই প্রতিদিন বাজার থেকে যে খাদ্য সামগ্রী কিনে খাচ্ছি, সেসবের অধিকাংশই ভেজাল ও মানহীন। নামীদামি কোম্পানির উৎপাদিত বহু সামগ্রী রয়েছে বিপজ্জনক খাবারের তালিকায়। অন্যদিকে, অনামা প্রতিষ্ঠানের পণ্য মানের তো কোনও বালাই নেই!

আরও পড়ুন: ৭ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল, ১৮ পণ্যের উৎপাদন স্থগিত

কী নেই বিপজ্জনক তালিকায়? প্রতিদিনের নিত্য ব্যবহার্য লবণ, চিনি, তেল, মশলা থেকে শুরু করে সেমাই, লাচ্ছা, দুধ, দই, বিস্কুট, চানাচুর পর্যন্ত কিছুই রেহাই পাচ্ছে না ভেজাল, মানহীন, বিপজ্জনক তালিকা থেকে। নিঃশব্দ-নীরব ঘাতকের মতো এসব খাবার নামের বিষ আমাদেরকে গোপনে হনন করছে।

নিরাপদ খাদ্য বলে যে একটি বিষয় আছে, বাংলাদেশে তা গ্রাহ্যই করা হচ্ছে না। নোংরা পা দিয়ে মাড়িয়ে বানানো হচ্ছে চানাচুর, বিস্কুট, পাউরুটি। কেমিকেল মিশেয়ে দেওয়া হচ্ছে চিনি ও লবণে। হলুদ, মরিচ, জিরায় ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। আটা, ময়দা, দুধে বিপজ্জনক উপাদান মেশানো হচ্ছে। মাছ, মাংস, সবজিতে ক্ষতিকর কেমিকেল ও মারাত্মক কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে।

শুধুমাত্র দেশে উৎপাদিত পণ্যগুলো ভেজাল, মানহীন, বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত হচ্ছে না। বিদেশ থেকে যা আনা হচ্ছে, সেসবও মেয়াদোত্তীর্ণ। কখনও পশু খাদ্য হিসাবে অতি কম দামে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী আমদানি করে বাহারী মোড়কে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বেশি দাম দিয়ে নামী কোম্পানী ও রঙিন প্যাকেট দেখে সেসব কিনছেও।

ঘূণাক্ষরেও কেউ টের পাচ্ছেন না যে টাকা খরচ করে নিজেরই অজ্ঞাতে নিঃশব্দ আততায়ীকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তিনি। স্ত্রী, সন্তানের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ঠেলে দিচ্ছেন চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বিপদের গহ্বরে। দীর্ঘ মেয়াদে যা ক্রমে ক্রমে লিভার, কিডনি, হার্ট নষ্ট করে তাকে ও তার পরিবার-পরিজনকে মৃত্যু মুখে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: খাদ্য নিরাপত্তা: নামীদামি কোম্পানিও আস্থাহীন! 

এইসব মানহীন, ভেজাল ও বিপজ্জনক খাদ্য সামগ্রীর কারণে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত কিডনি রোগী বাড়ছে। লিভারজনিত রোগের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। বাজে তেলের কারণে অল্প বয়সেই হার্টে ব্লক ধরা পড়ছে। দেশ-বিদেশের বড় বড় ডাক্তাররা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও দেখেশুনে খাওয়ার ব্যাপারে বার বার তাগিদ দিচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষজনকে।

তারপরও আমরা সচেতন হচ্ছি না। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের ব্যাপারে সরকার শতভাগ সাফল্য দেখাতে পারছে না। খাদ্যের উৎপাদন ও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক মহাশক্তিশালী সিন্ডিকেট গ্রাস করে রেখেছে বাজার ও পণ্য-সামগ্রীর উৎপাদন-সরবরাহ-বিপণন ব্যবস্থাকে।

ব্যক্তিগত ও সামাজিক দিক দিয়েও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছি আমরা। কী খাচ্ছি, তা খেয়াল করছি না। খাদ্যের মান, গুণ ও মেয়াদ দেখছি না। সরকার, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও মান নিরীক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর হতে চাপ দিচ্ছি না। মানুষের সম্মিলিত সচেতন শক্তি দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীদের চিহ্নিত ও ভীত করতে পারছি না।

বরং আমরা বিশাল জনতা জিম্মি হয়ে আছি মানহীন, ভেজাল, বিপজ্জনক খাদ্যের চক্করে। প্রতিদিন কষ্টার্জিত অর্থে বিষ ও বিপদ কিনছি। প্রতিমুহূর্তে খাদ্যের নামে ঘরে আনছি নিঃশব্দ আততায়ীকে।

কেউ জানে না, কবে অবসান হবে ভঙ্গুর ও অনিরাপদ খাদ্যজনিত এই বিপদ ও বিড়ম্বনা।

ড. মাহফুজ পারভেজ: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র