Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ছড়িয়ে যাক ভালোবাসার বার্তা

ছড়িয়ে যাক ভালোবাসার বার্তা
ছড়িয়ে যাক ভালোবাসার বার্তা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এমন চাওয়া সবার, ছবি: তাসকিন আল আনাস, বার্তা২৪.কম
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গল্প বলতে অনেকেই ভালোবাসেন। মানুষ মাত্রই গল্পপ্রিয়। তবে কাজের মানুষ গল্পে বিশ্বাস করেন না, কাজই তাদের ধ্যান-জ্ঞান। কাজ করলে গল্প সৃষ্টি হবে, এটাই স্বাভাবিক, চিরায়ত পৃথিবীর রীতি। সফল মানুষের আজকের পথচলা আগামীর গল্প, ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা। এমনই একটি গল্পের অংশীদার হতে পেরে আমি গর্বিত। এ গল্প আমার একার নয়, অনেকের; আমার কাজের সারথিদের। যে গল্পের সূচনা ২০১৮ সালের ১৮ মে। এদিন পথচলা শুরু করে দেশের প্রথম অনলাইন মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম।

জ্ঞানীরা বলেন, ‘স্বপ্ন না থাকলে আপনি কখনও উন্নতি করতে পারবেন না, কারণ স্বপ্ন জীবনের জ্বালানী। নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখুন এবং তা পূরণের প্রতিজ্ঞা করুন। সমস্ত ঝুঁকি গ্রহণ করুন সাহসের সঙ্গে।’ এই আপ্তবাক্যকে ধারণ করে বার্তা২৪.কম এর এডিটর ইন চিফ শ্রদ্ধেয় আলমগীর হোসেন এর সারথি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগে, কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়। কোনো প্রশ্ন নয়, কোনো হতাশা নয়- লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করে বার্তার টিম। এক বছর পর First fighters of Barta বিশেষণ দেওয়া হয়েছে ওই টিমকে। প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা, কানকথা ও লোকনিন্দা মাড়িয়ে কীভাবে পথ চলতে হয়, এটা বার্তা টিমে যোগ না দিলে বুঝতাম না।

সমকাল হয়ে বাংলানিউজ। এখন বার্তা২৪.কম আমার ঠিকানা। কিন্তু গল্পটা আমার জন্য ভিন্ন ও শিহরণ জাগানিয়া। তাইতো শুরুতেই বলেছি, গল্প বলতে সবাই ভালোবাসে। আমার গল্পটাও তেমন। একটি নতুন ধারার নিউজ পোর্টালের সূচনালগ্নে ও এর পথচলার শুভক্ষণে আমি ছিলাম। বার্তার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছি কোনো না কোনোভাবে। এটা আমার জীবনের গল্প। অনেকেই উজির-নাজির মারার গল্প করতে পারবেন, আমি বলব এই গল্প।

এডিটর ইন চিফ আলমগীর হোসেন

বার্তা টিমে যোগ দিয়ে আমি বুঝেছি, বাস্তব স্বপ্ন ও চেষ্টা কখনও ব্যর্থ হয় না। স্বপ্নকে যদি কাজে ও বিশ্বাসে পরিণত করা যায় তাহলে তা অর্জন করা সহজ। আপনি কোথায় আছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আপনি কোথায় যেতে চান সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। বার্তার এক বছরের পথচলার ক্ষণে ক্ষণে এ কথাটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন এডিটর ইন চিফ।

প্রত্যেকের হৃদয়ে একজন মানুষ বসবাস করেন। আত্মনিমগ্ন হয়ে কান পাতলে ভেতরের সেই মানুষটির কথা শোনা যায়। সে অনুযায়ী কাজ করলে জীবনে সফল হওয়া যায়, বড় কিছু করা যায়; স্বপ্নপূরণ হয়। মনে রাখবেন, জীবনে আপনি কী করতে চান এটা আপনার পরিবার, বন্ধুমহল, সমাজ, রাষ্ট্র আপনাকে নির্ধারণ করে দিতে চাইবে তাদের মতো করে নানা শর্তের বেড়াজালে। কিন্তু এর বাইরে আপনার ভিন্ন কিছু করার ইচ্ছা থাকতে পারে, সেটা আগে উপলব্ধি করুন। কান পেতে শুনুন তার কথা। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে একটা উত্তর আসবেই। সেই পথটা অনুসরণ করুন। কখনও বিফল হবেন না। বার্তার টিমে যোগ দিয়ে আমার এ উপলব্ধি হয়েছে, আমাদের সংগ্রাম, সাধনা, চেষ্টা ও স্বপ্ন দেখা বিফল হয়নি। এক বছরের মাথায় বার্তার আজকের অবস্থান সে কথাই প্রমাণ করে।

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার কাছে সব মানুষ সমান। তাই তিনি সবাইকে বড় হওয়ার জন্য, জীবনে বড় কিছু অর্জন করার জন্য সামর্থ্য দেন। যারা তার নিজস্ব স্বপ্নটা উপলব্ধি করতে পারেন এবং স্বপ্নপূরণের জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা করেন; তাদের জীবনের স্বপ্নপূরণ হয়। মানুষ হোঁচট খেতে খেতে এগোয়, তবে গন্তব্য জানা থাকলে সে একদিন ঠিকই তার ঠিকানা খুঁজে পায়। বার্তা আজ ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে পাঠকের হৃদয়ে, সমালোচকদের মনে।

Barta

নবীন-প্রবীণের মিশেলে বার্তা টিমের পেশাগত দক্ষতা, সংবাদের সূত্র, খবর প্রকাশের ক্ষিপ্রতা, সংবাদ বিশ্লেষণ, খবরের ভেতরের খবর, সম-সাময়িক বিষয়গুলোকে ধারণ করে বার্তা এখন হাঁটছে আপন গতিতে। এ ধারায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আনছে বার্তা। এটাই বার্তার নতুনত্ব। নতুনত্ব সংযোজনে বার্তার লড়াই বার্তার সঙ্গে। নির্দিষ্ট সীমারেখা, ছন্দবদ্ধ প্রথা বার্তার চরিত্রের সঙ্গে বেমানান। এটা বার্তার গুণগ্রাহী থেকে শুরু করে সমালোচকরাও স্বীকার করেন। এটাই বার্তার শক্তি, পাঠকের ভালোবাসা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভক্ষণে আমাদের আরতিময় ভালোবাসার বার্তা এভাবে সবার হৃদয়ে ছড়িয়ে যাক- এই হোক আজকের চাওয়া।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র