Alexa

বিএনপির ডিফিকাল্ট থেকে ক্রিটিকাল রাজনীতি

বিএনপির ডিফিকাল্ট থেকে ক্রিটিকাল রাজনীতি

মো. জাকির হোসেন, ছবি: বার্তা২৪

বিএনপির পাঁচ সংসদ সদস্যের (এমপি) শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে তোলপাড় করা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ তো রীতিমতো টাসকি খেয়েছেন। এটা কী হলো? গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর চার মাস ধরে সংসদে না যাওয়ার ব্যাপারে দলটির কট্টর অবস্থান ছিল। সংসদে না যাওয়ার শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে এমনকি উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করল। ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। কী এমন ঘটলো যে চার সংসদ সদস্যের শপথ নিতে তড়িঘড়ি করে বিএনপি তার অবস্থান অনেকটা ডিগবাজির মতো পাল্টাতে বাধ্য হলো?

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা অতীতে বলেছিলাম যে, আমরা সংসদে যাব না, ওই মুহূর্তে আমাদের সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। এটা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।’ সংসদে যাওয়ার পক্ষে রাতারাতি নতুন যুক্তির আড়ালে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে বিএনপি। কিন্তু কেন? উত্তরটা মোটেও কঠিন নয়।

শপথের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে দলে সংকট আরও ভয়াবহ হতো। বিএনপির ভাঙন না ধরলেও বিভেদ ঠেকানো দুরূহ হতো। বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি দলটির নেতাদের একাংশের আস্থাহীনতার প্রকাশ দৃশ্যমান হতো। সম্প্রতি বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি রাখঢাক না করেই বলেছেন, ‘বিএনপি ভেঙে যাচ্ছিল। ভেঙে যাওয়াটা ঠেকানো হয়েছে। যতদূর জানি, তারেক রহমান দলের ভাঙন রোধ করতে পেরেছেন। দল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো থাকে, আছে। এই মুহূর্তে তা তিনি বন্ধ করতে পেরেছেন।’ শপথের আগে কয়েকদিন ধরে বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের কথা-বার্তায় এটা স্পষ্টই প্রকাশ পাচ্ছিল যে, মির্জা ফখরুল বাদে বিএনপির অন্য সংসদ সদস্যরা সংসদে যেতে এক পায়ে খাড়া ছিল। দল শপথের পক্ষে সিদ্ধান্ত না নিলেও চারজন শপথ নিতেনই। এটা প্রকাশ্যেই চলে এসেছিল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে নির্বাচিত এমপি এবং বিএনপির অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশীদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেছেন তার সংসদে যাওয়া উচিত। জাহিদুর রহমান ২৫ এপ্রিল শপথ নেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে বড় কোনো প্রতিরোধ দেখা না যাওয়ায় ও কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় কর্মীদের ক্ষোভ সেভাবে দৃশ্যমান না হওয়ায় অন্য চার সংসদ সদস্যও শপথ নিতে সাহসী হয়ে ওঠেন। তাদের বিশ্বাস ছিল- শপথ নিলে বিএনপির মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে না। বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। আর দলীয় সিদ্ধান্তেই মহাসচিব শপথ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। এটা বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে প্রচার করা হচ্ছে। এটি কৌশল না অপকৌশল তা সময়ই বলে দিবে। তবে ‘ডাল ম্যা কুছ কালা হ্যায়’ এটি ঠাহর করতে খুব বেগ পেতে হয় না। বিএনপির আকস্মিক সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে সরকারের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হিসেবে কেউ কেউ বিবেচনা করছেন। যারা এটিকে সমঝোতা হিসেবে বিচেনা করছেন তাদের যুক্তি হলো, ক্ষমতাসীনরা হয়তো চাচ্ছে নির্বিঘ্নে সরকার পরিচালনা করতে, আর বিএনপি চাচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মামলা-হুলিয়া-জেল-জুলুম থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে সীমিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে।

আমার ব্যক্তিগত ধারণা এ ধরনের ফর্মুলা হয়তো একেবারেই কল্পনাপ্রসূত। এই তো সেদিনও চক্ষু অপারেশনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে গেলে সেখানে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাঁর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে হোক, আর দলের ভাঙনরোধ করার জন্যই হোক, বিএনপির এমপিদের একাংশের আকস্মিক সংসদে যোগদান দল ও বিএনপির রাজনীতিতে টালমাটাল অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। বিএনপি গঠিত হওয়ার পর চার দশক অতিবাহিত হয়েছে। এ চার দশকে ৪৭ বছর বয়সী বাংলাদেশে তিন দফায় ১৬ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়েও বিএনপি রাজনৈতিক সাবালকত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। কেন সক্ষম হয়নি এর কারণ খুঁজতে আমাদের পেছন ফিরে দেখতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ক্ষমতার মসনদে আরোহন করেই জিয়াউর রহমান অনুভব করলেন নিজের রাজনৈতিক একটি দল না থাকলে ক্ষমতা স্থায়ীও হবে না, নিজের মতো করে চালানোও যাবে না। তাই বিলম্ব নয়, রাজনৈতিক দল গঠন করতে হবে। সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে যেভাবে দল গঠন করে, বিএনপির জন্ম কাহিনীও তা থেকে ভিন্ন নয়। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল’ বা ‘জাগদল’ নামে একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করা হয়। জাগদল রাজনীতিতে তেমন ঢেউ তুলতে পারেনি। এরপর আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১ মে জিয়াকে চেয়ারম্যান করে 'জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট' ঘোষণা করা হয়। এটি ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গ্রুপের একটা প্লাটফর্ম।

তাদের একতার একটাই ভিত্তি ছিল, তারা সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এককাট্টা। নানা মত ও পথের এ ফ্রন্ট নিয়ে জিয়াউর রহমান স্বস্তিতে ছিলেন না। তিনি ‘একমনা’ লোকদের নিয়ে আলাদা দল তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন। তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী দলের নাম ‘জাস্টিস পার্টি’ রাখার প্রস্তাব করেন। কিন্তু এটি গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ও দলের নামের সাথে জাতীয়তাবাদী থাকাটা আবশ্যিক হওয়ায় শেষমেশ দলের নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’। ১৯৭৮ সালের ২৮ আগষ্ট ‘জাগদল’ বিলুপ্তির ঘোষণা করা হয় ও ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রধান হিসেবে দলের নাম, গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। রাজনীতিতে এসেই জিয়া ঘোষণা দিলেন, ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর পলিটিশিয়িানস’। যেই কথা, সেই কাজ। বিভিন্ন দলের লোভী দলছুট নেতাদের নানা সুযোগ-সুবিধা ও পদ-পদবির লোভ দেখিয়ে ভাগিয়ে এনে নতুন দলে স্থান করে দিলেন। চূড়ান্ত ডানের পাশাপাশি চূড়ান্ত বামদের মিলন হলো। ফলে নানা মতাদর্শের মানুষ মিলে এক হরিচ্ছত্রের মেলা হয়ে উঠল বিএনপি। আর রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে ওঠা হলো সুদূরপরাহত।

সময়ের বিবর্তনে বিএনপির ডিফিকাল্ট (কঠিন) রাজনীতি আজ বিএনপির নিজের জন্যই ক্রিটিকাল (সংকটপূর্ণ) রূপধারণ করেছে। শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে পারস্পারিক আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস প্রবল হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ‘রাতের ভোট’ বলে গলা ফাটালেও নির্বাচন প্রতিরোধ করতে কিংবা নির্বাচন পরবর্তী কোনো আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে বিএনপির ভিতর কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। বরং নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ণ বণিজ্যসহ নানা অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাইরে এসেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কিংবা সরকারের ব্যর্থতা কোনো ক্ষেত্রেই ন্যূনতম আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারা, আন্দোলনের ডাক দিয়েও নেতাদের মাঠে না নামা, সকাল-বিকাল বিদেশি কূটনীতিকদের দ্বারস্থ হয়েও আশানুরূপ সাড়া না পাওয়া, বিএনপির রাজনীতির ক্রিটিকাল অবস্থারই জানান দেয়।

বিএনপির রাজনৈতিক এ দেউলিয়াত্ব একদিনে সৃষ্টি হয়নি। অনেকগুলো ভুলের সমষ্টি দল ও রাজনীতিতে বিএনপির জন্য এমন ক্রিটিকাল অবস্থা সৃষ্টি করেছে। অতি পাকিস্তান প্রীতি, কট্ট্রর ভারতবিরোধীতা, স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে গাঁটছড়া বাঁধা, বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার-অপমান করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করতে সহিংসতার পথ বেছে নেয়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, জঙ্গিবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে আড়াল করতে বিকৃত ইতিহাস রচনা করা, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে অরাজকতার মাধ্যমে সরকার হঠানোর পরিকল্পনা, দল ও সরকার পরিচালনার মধ্যে ক্ষমতার একাধিক কেন্দ্র তৈরি করা ইত্যাদি বড় ‍ভুলগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিছু ভুল তো একেবারে নিজের গলায় ছুরি চালানোর মতো।

উদাহরণস্বরুপ, বিএনপি মুজিবনগর সরকারকে স্বীকার করে না। জিয়া মুজিবনগর সরকারের অধীন একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। মুজিবনগর সরকারকে অস্বীকার করলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া মুক্তিযোদ্ধা থাকেন কীভাবে? অন্যদিকে, মুজিবনগর সরকারকে স্বীকার করলে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করা অবৈধ, অসাংবিধানিক। কেননা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রণীত মুজিবনগর সরকারের অন্তবর্তীকালীন সংবিধান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাকে অইনানুগ ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে, অন্য কারও ঘোষণা বা ঘোষণাপাঠ অনুমোদিত হয়নি। ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বিষয়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে বর্ণিত আছে- ‘যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করার পরিবর্তে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনাকালে ন্যায়নীতি বহির্ভূত এবং বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ ঘোষণা করেন; এবং যেহেতু উল্লিখিত বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান;’।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাকে অন্তবর্তীকালীন সংবিধান নিম্নরুপে অনুমোদন করেছে - ‘সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি;এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্ণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি;’।

ছোট ভুলের ছোট মাশুল, বড় ভুলের বড়। শুধু আওয়ামী বিরোধীতা একটি রাজনৈতিক দলের ভিশন ও মিশন হলে রাজনীতি পথচ্যুত হতে বাধ্য। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে মানুষকে বোকা বানানোর দিন শেষ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিটা ধারণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করার অর্থ মুক্তিযুদ্ধ তথা বাংলাদেশকে অস্বীকার করা।

সংবিধান-ইতিহাসকে অস্বীকার করে জিয়াকে কৃত্রিমভাবে স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও অপরিপক্কতারই প্রমাণ। বিএনপির বর্তমান ক্রিটিকাল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে খালেদা জিয়া-কে হাল ধরতে হবে। তার জন্য দরকার খালেদা জিয়ার মুক্তি। আইনি যুদ্ধ করে মামলা থেকে মুক্তি দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দু’টি পথ খোলা আছে – এক. অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতি বরাবরে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং খালেদা জিয়ার আবেদনে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ক্ষমা ঘোষণা করা। এটি খালেদা জিয়া করবেন না বলেই প্রতীয়মান হয়। দুই. খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তিলাভ। খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তিলাভের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অনমনীয় বলেই মনে হচ্ছে। জামিনের বিরোধীতা থেকে সরকার আপাতত সরে আসবেন বলে মনে হয় না। আমার বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধের সত্যিটাকে মেনে নিয়ে বিএনপি বঙ্গবন্ধুকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলে, জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করা থেকে সরে আসলে ও ১৫ আগস্টকে শোক দিবস হিসেবে গ্রহন করলেই খালেদা জিয়ার জামিনলাভের ক্ষেত্রে নাটকীয় অগ্রগতি হবে। সরকার জামিনের বিরোধীতায় কট্টর অবস্থান থেকে নমনীয় হবেন বলে আশা করা যায়। বিএনপিকে ভুলগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংশোধনের দিকে নজর দিতে হবে। নইলে লঞ্চ ও পঞ্চ দু’টোই হারাতে হতে পারে।

মো. জাকির হোসেন: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন :